অশালিন ভাষায় গালি দেয়ার সাথে সাথে
মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন এক শিক্ষিকা
শিক্ষকদের সভা বর্জন
শিক্ষকদের প্রকাশ্য সভায় জেলায় ৪ বার জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে পুরস্কৃত এক প্রধান শিক্ষিকাকে `বেশ্যা' বলে গালি দিয়ে নারীত্বের এ চরম অবমাননা করেছেন কুড়িগ্রামের সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ। নারীত্বের অপমান সহ্য করতে না পেরে ওই শিক্ষিকা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পড়ে তাকে সজ্ঞাহীন অবস্থায় সদর হাসপাতালে পৌছে দেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খলিলুর রহমান। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলা হলরুমে উপবৃত্তি বিষয়ক সভায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে সকল শিক্ষক উক্ত সভা বর্জন করেন।
সদর উপজেলা হলরুমে মিটিং চলার সময় দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ সকল নারী শিক্ষিকাকে আগামী দিন থেকে স্কুলে স্কার্ফ পরে যেতে নির্দেশ দেন। এ সময় উপস্থিত প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষিকা প্রতিবাদ করে উঠে দাঁড়ান। তখন সামনে থাকা আত্মারাম বিশ্বেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুলতানা আরজুমান হককে উদ্দেশ্য করে শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ বলেন 'তুমি একটা বেয়াদপ। বেশ্যাকে বেশ্যা বললে আকাশ পানে চায়, ভদ্রকে বেশ্যা বললে মাটির দিকে চায়'-তার এ কথায় সকল শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করতে থাকে। অপরদিকে অপমানের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে ওই প্রধান শিক্ষিকা সাথে সাথেই অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যান।
অবস্থা বেগতিক দেখে সভায় অংশ নেয়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খলিলুর রহমান তাৎক্ষণিকভাবে নিজের গাড়িতে করে ঐ শিক্ষিকাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পৌছে দেন।
সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন ওই শিক্ষিকা কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, `চারবার জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে পুরস্কার পেয়েছি। ১৯ বছরের চাকুরী জীবনে এ রকম অশালীন বক্তব্য শুনিনি'। তিনি আরো জানান, তার স্কুলের ৮ জন শিক্ষকের মধ্যে একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে, একজন হজ্বে যাবেন, একজন ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণে রয়েছেন। এরপরও আরো একজনকে পিটিআই ট্রেনিংয়ের জন্য ডেপুটেশন দিয়েছেন। শিক্ষক সল্পতার কথা বুধবার সকালে অফিসে গিয়ে শিক্ষা অফিসার আরিফ আহমেদকে জানালে তিনি অকথ্য ভায়ায় গালিগালাজ করেন এবং সরকারী কাজে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ এনে ওই দিনই তাকে শোকজ করা হয়। এতেও তার রাগ না কমায় বৃহস্পতিবারের সভায় তাকে অশালীন ভাষায় আক্রমণ করেন। খোঁজ নিয়ে ও শিক্ষকরা জানিয়েছেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি। তিনি নিয়মিত ফেনসিডিল সেবন করেন এবং ফেনসিডিল সেবী একদল তরুণের সাথে সব সময় তার ওঠা বসা। দালাল চক্রের মাধ্যমে বদলী ও পোষ্টিংয়ে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ শিক্ষিকা সুলতানা আরজুমান হককে গালি দেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, `বেয়াদবি করার কারণে তাকে গালি দিয়েছি। আপনারা কত লিখতে পারেন লেখেন'।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খলিলুর রহমান শিক্ষিকাকে গালি দেয়ার কথা স্বীকার করে জানান `আমি নিজেই তাকে হাসপাতালে পৌছে দিয়েছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে'।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



