বাংলাদেশের জন্য হুমকির কারণ চীনের
৪০ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ প্রকল্প
ভারতের টিপাইমুখ বাঁধের পর এবার বাংলাদেশের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে চীনের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। ৪০ হাজার মেগাওয়াটের ওই প্রকল্প বাস্তবায়নে এরই মধ্যে চীন ব্রহ্ম¥পুত্র নদের উৎসস্থলে বাঁধ তৈরির কাজ শুরু করেছে। চীনের এ উদ্যোগ নিয়ে স¤প্রতি প্রশ্ন উঠেছে। বলা হচ্ছে- আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুযায়ী একতরফা বাঁধ নির্মাণের কোনো অধিকার চীনের নেই। বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ জানা সত্ত্বেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। উল্টো বলা হয়েছে, চীনের ওই প্রকল্পের কারণে বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের চলমান অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙে পড়বে। এছাড়া দেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলোর প্রবাহ নষ্ট হবে এবং এক সময় এসব নদী বিধৌত অঞ্চলগুলো মরুভূমিতে পরিণত হবে। সরকারের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ করে কৃষির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে মৎস্য খাত, পরিবেশের ভারসাম্য, নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থাও দারুন ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
গত সোমবার সংসদে এ নিয়ে নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান লিখিত উত্তর দিলেও তিনি বিষয়টি জানেন না বলে উল্লেখ করেন। এক সাক্ষাকারে তিনি বলেন, চীন কি করতে যাচ্ছে তা আমার স্পষ্ট জানা নেই। মাত্র দুই মাস হলো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছি। এখনো সবকিছু গুছিয়ে উঠতে পারিনি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে নওগাঁ-৬ আসনের এমপি ইসরাফিল আলম সংসদে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদীর উৎসস্থলে গণচীনের প্রকল্প সফল হলে নদীটি শুকিয়ে যাবে। দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা মরুভুমিতে পরিণত হবে। তিনি এ বিষয়ে সরকারের কাছে বক্তব্য ও অবস্থান জানতে চান। তবে সরকার ওই প্রকল্পের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরলেও অবস্থান নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এ প্রসঙ্গে ইসরাফিল আলম বলেন, চীন ৪০ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুতের জন্য যে বাঁধ নির্মাণ করছে তা শেষ হলে দেশের দুই হাজার নয়শ’ কিলোমিটার জলধারার অপমৃত্যু হবে। একইসঙ্গে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা স্বাভাবিক গতিপথ হারাবে। এদিকে সংসদে বলা হয়, বেইজিংয়ের বিজ্ঞান একাডেমি জানিয়েছে, এ বাঁধ নির্মাণ হলে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে তা ভারত ও বাংলাদেশ কিনতে পারবে। এছাড়া বাংলাদেশ এ নদীর কারণে বন্যার প্রকোপ থেকে রক্ষা পাবে। প্রশ্ন তোলা হয়েছে, চীন এ প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে এটা বাস্তবায়ন করতে উদ্যোগ নিয়েছে তারা। এটা আন্তর্জাতিক নদী আইনের পরিপন্থি।
বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় ক্ষতিকর দিক তুলে ধরার পাশাপাশি ব্রহ্মপুত্রের ইতিহাস তুলে ধরেছে। তবে এ নিয়ে দেশের অবস্থান কি সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তিনি বলেছেন, হিমালয় পর্বতের তিব্বতের অংশ কৈলাসটিলা পর্বত হতে উৎপন্ন হয়ে ইয়ারলংসাংপো নামে জিমা-ইয়াংজং হিমশৈল উত্তর হিমালয় হতে পূর্ব দিকে প্রায় এক হাজার সাতশ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়েছে। পরে তা বিশ্বের সর্বোচ্চ নদী নামচা বারওয়া পর্বত-এর কাছে বাঁকা হয়ে গতিপথ পরিবর্তন করে দক্ষিণ দিকে ইয়াংলংসাংপো গিরিখাত ভারতের অরুণাচল প্রদেশে প্রবেশ করে সিয়াং নামক স্থানে হঠাৎ উচ্চতা কমে যায়। পরে তা সমভূমিতে প্রবেশ করে যেখানে এর নাম হয় দিহং। তারা আরো জানিয়েছে, এখান থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার প্রবাহিত হওয়ার পর দিহং রুহিত নামে দুইটি প্রধান নদীর সঙ্গে মিলিত হয়। এই সংযোগস্থল হতেই নদীটি খুব প্রশস্ত হয়। এটি সম্পূর্ণ আসাম রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মাঝে মাঝে এর প্রশস্ততা ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত পরিলক্ষিত হয়। দিবরুগড় ও লহ্মীপুর-এর মাঝামাঝি এসে নদীটি দুইটি চ্যানেলে বিভক্ত হয়ে একটি উত্তরাঞ্চলের খেরকুটিয়া চ্যানেল এবং অপরটি দক্ষিণাঞ্চলে ব্রহ্মপুত্র চ্যানেল নাম ধারণ করে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই দুটি চ্যানেল আবার একশ কিলোমিটার ভাটিতে গিয়ে মাজুলি দ্বীপের কাছে এক হয়। গৌহাটিতে পুরাতন হাজু তীর্থ কেন্দ্রের কাছে এসে ব্রহ্মপুত্র শিলং মালভূমির শিলা পাথর দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়ে একেবারে সরু হয়ে মাত্র এক কিলোমিটার প্রশস্ত হয়ে যায়। সংস্কৃত ভাষায় এর নাম লৌহিত্য। পরবর্তীসময়ে এর নাম দেয়া হয় ব্রহ্মপুত্র। ব্রহ্মার পুত্র হতে ব্রহ্মপুত্র। তারা আরও জানায়, এজন্য এটি পুংলিঙ্গে নদ হিসেবেও পরিচিতি। ভারতের ধুবরী নামক স্থানে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার ভেতর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। প্রায় দুইশ বছর আগে ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্র নদী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে একটি যমুনা নাম ধারণ করে গোয়ালন্দের নিকট পদ্মা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়। বলা হয়, বর্তমানে যমুনা নদীতে শুষ্ক মৌসুমে নাব্যতা সংকট রয়েছে। অপর শাখাটি বাহাদুরাবাদের উজানে হরিনধরা নামক স্থানে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে বর্তমানে জামালপুর, ময়মনসিংহ এবং কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব বাজার নামক স্থানে মেঘনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়। বর্তমানে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ নাব্যতা সংকটের কারণে নদীর অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
সুত্র:
Click This Link
আরও জানতে:
Click This Link
আলোচিত ব্লগ
চলতি পথের গল্পঃ দুই

‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।
এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক
‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন
Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ
![]()
প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাকি রইলো; কাঁচা কলা

স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।