somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সোনারগাঁ ও বাংলার ''টাইলস'' মহল

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৩রা ফেব্রুয়ারি ছিল আমার পিচ্চিকালের বন্ধু দিতু'র জন্মদিন। গত চার বছর এই দিনটিতে সাধারনত সেমিস্টার ফাইনাল থাকত। এবার সেই ঝামেলা না থাকায় এক সাথে সেলিব্রেট করলাম। দিতুর বান্ধবিটি খুবই উচ্ছল আর হাসিখুশি প্রকৃতির। কিছুটা ভ্রমন প্রিয়ও বটে। সে বলল এবারে আমরা কয়েকজন মিলে সোনারগাঁ যাব। আমি আগে কখনও ওদিকে যাইনি। তাই আমিও খুশি হয়ে গেলাম।
রওনা দেয়ার কথা ছিল ১১ টায়। কিন্তু দিতুর বান্ধবি এলই ১টার পর। যথারীতি দিতুর সাথে ১ দফা ঝগড়া হয়ে গেল। মনে মনে ভাবলাম,শোকর আলহামদুলিল্লাহ! একা আছি ভালো আছি।
যাইহোক,গুলিস্তান থেকে বোরাক বাসে আমরা ৫ জন উঠলাম। জ্যাম-ট্যাম মিলিয়ে মোটামোটি দেড় ঘন্টার মত লাগল সোনারগাঁ পৌছাতে।
ভেবেছিলাম সোনারগাঁ প্রাচীন নগরী টাইপ কিছু হবে,কিন্তু কল্পনার সাথে কিছুতেই বাস্তব মেলাতে পারলাম না। একটা পিকনিক স্পটের মত লাগল। সব গুলো ভবনই সম্ভবত সংস্কার করা হয়েছে।কিন্তু এতে এর প্রাচীন প্রাচীন ভাবটা পুরাটাই চলে গেছে। একদিকে গরুর গাড়ির ভাস্কর্য,আরেকদিকে ঘোড়ার ভাস্কর্য। প্রথম ভবনটার আঙ্গিনায় পালকি,গ্রাম বাংলা, বাউল-এসবের পুতুল সাজানো। বলতে গেলে ভবন গুলোর আকৃতি ছাড়া সব কিছুই নতুন। প্রবেশের পরেই বঙ্গবন্ধুর বানী ঝোলানো দেখতে পেলাম। ভেতরে আরও কয়েক জায়গাতেও আছে। তবে তার কোনো প্রতিকৃতি পেলাম না। তার জায়গায় শেখ রাসেলের প্রতিকৃতি দেখতে পেলাম।

ছবিতে পুকুর পাড়ে ঘোড়ার ভাস্কর্‍্য।।
পুকুর পাড়ে আমরা দিতুর জন্মদিনের কেক কাটা শুরু করলাম। কেক কাটার পর দিতুর বান্ধবিটি একের পর এক সারপ্রাইজ দিতে লাগল। সবচেয়ে মুগ্ধ হলাম তার শেষ গিফটটি দেখে। দুজনের বিভিন্ন ছবি নিয়ে আর ক্যাপশন দিয়ে এত সুন্দর একটা লগ বুক তৈরি করেছে! পাতায় পাতায় তাদের বিভিন্ন স্মৃতি আর স্বপ্ন। মনে মনে বললাম- ইয়া আল্লাহ!! ক্যান তুমি আমাকে একটা গার্লফ্রেন্ড দিলা না!!

সোনারগাঁ থেকে আমরা রওনা দিলাম বাংলার তাজমহলের উদ্দেশ্যা। ১২০ টাকা সিএনজি ভাড়া দিয়ে বেশ খানিকটা ভেতরে ;''বাংলার তাজমহল''। ৫০টাকা পার হেড প্রবেশ ফি দিয়ে ঢুকে মনটা খারাপ হয়ে গেলো। রুচিহীন একটি সৃষ্টি।তাজমহল বলাটা অন্যায় হয়ে যাবে। ঢুকতেই চোখে পড়ে হাস্যকর কয়েকটা ছবি।যেমন- একদল মানুষ গোলাপ ফুল হাতে দাঁড়িয়ে আছে! নিচের ছবিতে আমার পেছনে দেখুন :

প্রবেশের পর ডানে বায়ে দুইদিকেই ''টয়লেটের'' মত অবয়ব। কিন্তু আসলে ওগুলো নাকি অফিস কক্ষ। সবচেয়ে হতাশাজনক, তাজমহল স্ট্রাকচারটি। নিন্মমানের টাইলস দিয়ে মোড়ানো-কি আর বলব। এর চেয়ে বসুন্ধরা সিটির টাইলসও ঢের ভালো মানের। ফোয়াড়ার পানি ময়লায় ভরা। পুরা এলাকা যেন মশাদের গুদাম। কখনই সম্ভবত মশার ওষুধ দেয়া হয় না। মশার জ্বালায় টিকতে না পেরে ''বাংলার টাইল মহল'' ত্যাগে বাধ্য হলাম। সি এন জি নিয়ে মদনপুর বাস স্ট্যান্ড,সেখান থেকে আবার বোরাক হয়ে ঢাকায়।
আরেকটি কথা,টাইলসমহলে গিয়ে কেউ আশে পাশের দোকান থেকে কিছু কিনে খেতে যাবেন না। একেবারে গলা কেটে রেখে দেবে!!


সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০১১ রাত ৩:৩৩
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×