সকাল থেকেই মেজাজটা সপ্তমে। ঘুম না হলে মেজাজ গরম থাকে। কিন্তু আজকে মেজাজ গরম অন্য আরেকটা কারণে। চারপাশের সবার বুদ্ধি শুদ্ধি যে খুব দ্রুত লোপ পাচ্ছে তা না বললেও হয়। না, বাইরের কাওকে বলছি না। ঘরের লোকদের উপরই মেজাজ খারাপ। তাও যাদের বয়স কম, তাদের বোধহয় গতরে বৃদ্ধি হচ্ছে কোন রকম বুদ্ধি শুদ্ধি ছাড়া। তা বাইরের লোকজনকে বলে কি হবে? নিজের ঘরেই তো বিভীষণ।
কাক ডাকা সকালে বেড রুমের দরজার উপর ধুমধাম বাড়ি। প্রথমে ভাবলাম, ডাকাত পড়েছে। তারপর ভাবলাম, না এসময়ে ডাকাত আসবে কোতথেকে? বোধ হয় যৌথ বাহিনী চুমু দিতে এসেছে। পরে দেখি ডাকে, মামা মামা বলে। ঘুম নিমিষে পালিয়ে গেল। উতকন্ঠার সাথে দরজা খুলতেই আমার বলাই বয়সী কলেজ পড়ুয়া ভাগ্নে গলদঘর্ম হয়ে হাজির। ভাবলাম, সকাল বেলা সংসদ ভবন চত্বরে দৌড়ে এসে এই অবস্থা। তা তাকিয়ে দেখি হাতে কাগজ। চোখের ক্লান্তি এক পলকে চলে গেল।
সকল রাগ ও উততেজনা সামলে বললাম, কি হয়েছে? বলে, মামা, বিশাল সমস্যা। বলাই বয়সী ছেলেগুলো যে আবাল টাইপের হয়, তা আলাদা করে লেখার দরকার নেই। এরা সবসময় তাদের কাজ কর্ম দিয়ে তা প্রমান করতে সচেস্ট থাকে। যারা নিয়মিত শরীর চর্চা করে তাদের না হয় হাঁটুতে বুদ্ধি নামে। তাই বলে, অল্পবয়সী এসব বলাইদের জন্মই বোধ হয় হয়েছে হাঁটুতে বুদ্ধি নিয়ে। না হলে, এই কাক ডাকা ভোরে ডাকাত পড়া শব্দে মানুষ কি মানুষকে ডাকে? তাও যদি কোন ইস্যু হতো, তাহলেও দু:খ ছিল না। কারণ, ঘটনাটা শোনার পর আপনাদেরও পিততি জ্বলে যাবে।
এবার ভাগ্নে বলে, মামা কাপুরুষ বানানে কি (ষ) না (শ)। এবার ঠেলা সামলাও। দেশের শিক্ষার মান যে কই ঠেকেছে তা কি সাইনবোর্ড লাগিয়ে বলতে হবে। বলি, বাসায় কি কোন ডিকশনারী নেই, সংবিধান, অভিধান কিছু নেই? ওগুলো দেখলেই তো সব শব্দের অর্থ আর বানান পাওয়া যায়। তা মোটা মোটা বই কি মাথা মোটা আমার ক্ষুদ্র মামার মাথায় ঢুকবে না কানের পাশ দিয়ে যাবে। তাই তর্ক না করে বললাম, পত্রিকা খুললেই তো এধরনের বানান অহরহ দেখা যায়। এতোক্ষণে ভাগ্নে আমার পুরো ফুয়েল পেল আমাকে বোকা বানাবার। বলে, না মামা। তোমার বুদ্ধি দেখি সত্যি সত্যি লোপ পাচ্ছে? কাপুরুষ শব্দ কি আর পত্রিকায় পাওয়া যাবে? আমি হতবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কেন পাওয়া যাবে না? এবার আমাকে বোকা বানিয়ে আমার ভাগ্নে বলে, মামা এখন জরুরী আইন চলছে। এ সময় কাপুরুষ জাতীয় শব্দ নিষিদ্ধ। এগুলো পত্র পত্রিকায় লিখলে আবার যদি কারও গায়ে লেগে যায়।
এবার আমি সত্যি সত্যি হতবাক হলাম হতচ্ছারার কথা শুনে। কথা না বাড়িয়ে বাথরুমের দিকেই ছুটলাম। সবচেয়ে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ স্থান...
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০০৭ দুপুর ১২:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




