সুতপার মৃত্যু নিয়ে প্রথম আলোর রবিবারের নিউজটা দিলাম.......
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্রী মাফরুদা হক সুতপার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে প্রমাণের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। এই মামলার প্রভাবশালী আসামিরা বিষয়টি সমঝোতা করার জন্যও চাপ দিচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেছে।
মামলার বাদী সুতপার ভাই আমিনুল হক গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, লাশের ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন পুলিশকে দেওয়ার আগেই ময়নাতদন্তকারী ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক মিজানুল হক সাংবাদিকদের ডেকে বলেছেন, এটি পরিষ্কার আত্মহত্যা। পুলিশকে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার আগে এভাবে কথা বলা দুরভিসন্ধিমূলক। গত রোববার মর্গে লাশ নেওয়ার পরপরই পরীক্ষা করার আগেই চিকিত্সকেরা একই রকম মন্তব্য করেছিলেন।
সুতপার দুলাভাই হাফিজ আকবর বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছি, ফরেনসিক বিভাগের প্রধান মিজানুল হক সচরাচর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরও সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেন না। কিন্তু এবার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগেই সাংবাদিকদের ডেকে তাঁর কথা বলাটা সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।’
সুতপার বোন আয়েশা সিদ্দিকা, আমিনুল হক ও হাফিজ আকবর জানান, মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁরা গত শনিবার রাতে হার্ট ফাউন্ডেশনে গিয়ে দেখেছিলেন সুতপার দুই হাত, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে যে লাশের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন ছিল না।
মিরপুরের হার্ট ফাউন্ডেশনে নেওয়ার পর লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন করেছিলেন মিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম। ওই প্রতিবেদনেও সুতপার শরীরের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন, জমাটবাঁধা রক্ত ও কাটা দাগ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। আয়েশা বলেন, মৃত্যুর দুই দিন আগেও সুতপা ফোন করে তাঁর ওপর নানাভাবে নির্যাতনের কথা বলেছেন। সত্যকে আড়াল করার জন্যই এখন বলা হচ্ছে যে তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই। মামলার অপর দুই আসামি সুতপার শ্বশুর-শাশুড়িকেও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, সুতপা কোনো অবস্থাতেই আত্মহত্যা করার মতো মেয়ে নন। তাঁকে হত্যা করা হয়েছে কিংবা জোর করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করানো হয়েছে।
হাফিজ আকবর অভিযোগ করেন, সুতপার শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে ফোন করে মামলা তুলে নিয়ে সমঝোতা করার জন্য চাপ দিচ্ছে। সুতপার স্বামী ইমরুল সাদাতের চাচা ফজলুল হক শুক্রবার বেলা ১১টায় তাঁকে ফোন করে ৪৬ মিনিট কথা বলেন। তিনি ফোনে বারবার বলেছেন, ‘আমরা প্রভাবশালী পরিবার। কাজেই মামলা তুলে সমঝোতা করে নেন।’
মিরপুর থানার পুলিশ জানায়, দুই দফায় সুতপার স্বামী ব্যাংক কর্মকর্তা ইমরুলকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলম গতকাল বলেন, রিমান্ডে ইমরুল অনেক তথ্য দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে সেসব বলা সম্ভব নয়। আজ রোববার আসামিকে আদালতে হাজির করা হবে।
মিরপুর বিভাগের পুলিশের উপকমিশনার লুত্ফুল কবির বলেন, পুলিশ এ মামলা তদন্তে আন্তরিক। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য পুলিশ অপেক্ষা করছে। প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



