আমার প্রিয় পোস্ট
- টানসূত্র - আন্দালীব
- টিকিট হারিয়ে গেছে - আন্দালীব
- ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ২৫ ( আসমানী প্রেম--নির্মলেন্দু গুণ) - আবদুর রাজ্জাক শিপন
- গল্পঃ শহরে শিউলী-ভোর যে কারনে ফিরে আসে - মোস্তাফিজ রিপন
- মনে হয় যেন লেখার সময় অন্য কারো করতলে ছিলাম-- মাহমুদুল হক - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- প্রকাশিত হল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ই-সংকলন ফিরে দেখা একাত্তর - ব্রিগেড সিক্সটিন
- শিল্পী এস এম সুলতান ও ভিনসেন্ট ভ্যান গঘঃ জীবন কারিগর - নাস্তিকের ধর্মকথা
- প্রথম দশকের টানা-গদ্যের কবিতা ও জীবনবাবুর ‘মাত্রা চেতনা’ - মাজুল হাসান
- জাকির তালুকদারের গল্প: একটু আলোকপাত - মাজুল হাসান
- উৎসের দিকে যাত্রা : গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের সাক্ষাৎকার - মৃদুল মাহবুব
- দুঃখিত, শর্মিলা বোস, গ্রহন করা গেলনা (শেষ পর্ব) - জ্বিনের বাদশা
- প্রিয়তমা, এজন্য তুমি কি আমার সাথে আড়ি দেবে? - সিহাব চৌধুরী
- বৃক্ষ - সারওয়ার জামান চন্দন
- সতত জনম; মূল: মৃণাল সেন - ফাহমিদুল হক
- বাংলার বীরশ্রেষ্ঠ সন্তানেরা - সাত বীরশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধার জীবনী - রাগিব
- ভাষার প্রতিপত্তি, বিশ্বায়নের সমকাল - ফকির ইলিয়াস
- তোমাদের যা বলার ছিলো, বলেছে কি তা বাংলাদেশ? - বিপ্লব রহমান
- বিশ শতকের মহানায়ক-ফিদেল কাস্ত্রো - সাম্যবাদী
- চলুন খুব কাছ থেকে একজন ঘাতককে দেখে আসি ২ - অমি রহমান পিয়াল
- খিদে,অনেক খিদে - ফারহান দাউদ
স্মৃতি হন্তারক বৃস্টিতে থ্যাঁতলানো কয়েকজন আর উড়াল সেতু জুড়ে ধাবমান কদম
৩০ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৫:১৪
সন্ধ্যার গায়ে কয়েক পোঁচ কালির আঁচড় পড়েছে আরো মিনিট বিশেক আগেই, এই সময়টাতে মহাখালি টু বিজয় স্মরনীর রাস্তাটা একরকম ফাঁকা পেয়ে বিপাকে পড়ে যায় আনিস। ঘর-ফেরতা মানুষগুলো পেটে পুরে লেগুনা,৩ নাম্বার-৬নম্বার বাস আর প্রাইভেট গুলো পরস্পরের পাছা শুঁকতে শুঁকতে এই সময়টাতে মহাখালির বগল থেকে বিজয় স্মরনীর বিস্তৃত পেট পর্যন্ত অনিচ্ছুক স্থবিরতায় জমে থাকে। আনিসের ক্রমশ পাতলা হয়ে আসা করোটির ছাদে করকরে ঠান্ডা হাওয়া ছ্যাত করে ছলকে উঠলে ঘাড় ঘুরিয়ে ডানে তাকাতেই দেখে, পোয়াতি মেঘের তলপেট বড় আর কালো হতে হতে ছুঁয়ে ফেলেছে ফ্লাইওভার। লোভি বিজলী চকিতে পোয়াতি মেঘের পেট চেটে নিলে, সেই চটচটে আঠালো ছোঁয়াচ আনিসের চোখ ঝলসে দেয়।
"শাআ-লা! এতক্ষন কই ছিল এরা!"টুপটাপ কয়েকটা লাফে রাস্তাটা পেরুতে গেলে বেনো জলের তোড়ের মতো সিআনজি-বাস-লেগুনা-প্রাইভেট সব পোয়াতি মেঘের ধাওয়া খেয়ে আনিসকে আটকে ফেলে মাঝ রাস্তায়। শুকনো জিভ আর টাকরার ফাঁকে "শালা" গালিটা পুর্নতা পাওয়ার আগেই নিজেকে ডিভাইডারের উপরে টেনে তোলে আনিস, সিটি কর্পোরেশনের পোষা গাছ মাড়িয়ে ওপারের রাস্তাটা পেরুতে গেলে ভাটির টানে ভেসে যাওয়া ১টা সিএনজি আর ১টা প্রাইভেটের বেমাক্কা খিস্তির মাঝে পড়ে যায় আনিস, এর মধ্যে বৃস্টির বড়ো সড়ো একটা ফোঁটা তাতানো রাস্তাটাকে গেঁথে ফ্যালে। আনিস যখন নিজেকে প্রায় ঠিকঠাক মতো শাহিন কলেজের মার্কেটের চিলতে বারান্দায় নিয়ে আসে,ওর খানিক আগে বা পরে কিছু বৃস্টিবিদ্ধ মানুষ বন্ধ দোকানের সাটারে পিঠ ঠেকিয়ে ঠিক বোঝা যায়না এমন দৃস্টিতে বৃস্টি দেখে। রাস্তায় ওতপেতে থাকা ধুলো বৃস্টির প্রথম ছটপটানিতে থেঁতলে যায়, তারপর বেদম ঝাঁপিয়ে পড়লে শাহিন মার্কেটের চিলতে বারান্দায় দাঁড়ানো মানুষগুলোর চোখে ঘোর লাগে। আনিস এই ঘোর লাগা চোখগুলোর দখল নিয়ে সাটারে পিঠ ঠেকিয়ে রাস্তা পেটানো বৃস্টিতে ঠেলে দেয় নিজেকে। ২০ কি ২২ বছর নাকি বৃস্টির কুয়াশাময় চাদর সেটাকে আরো দুরবর্তি করে পঁচিশে ফেলে দেয়, আনিস ঠিক ঠাহর করতে পারেনা, শুধু দেখে পলেস্তারা খসা ইটের ছোট-ছোট দাঁত বের করা দেওয়ালের পটভুমিতে কালচে কাঠের বড়ো দরযা। কালচে? নাকি মরচে রংগা বুড়ো কাঠ রোদ আর বৃস্টির পেরেশানিতে রং বদলে ফেলেছে ঠিক বোঝা না গেলেও পাড়ার কোন ইঁচড়েপাকার বকুল + মিতুর খোদায় করা আলেখ্য ঠিকঠাক ধরা দেয়। দরজার ওপাশে উঠোনটা বৃস্টির ছানাপোনাদের দখলে টুপটাপ ফুটেই যাচ্ছে, আর দ্যাখো ৩টা, ৪টা নাকি ৫টা বাচ্চা ঠিক বোঝা যায়না তার মধ্যে আনিসও কি ছিলো নাকি ২০কি ২২কি ২৫ বছর পরের শাহিন মার্কেটের সামনে বৃস্টির ছাঁট ওকে ছিটকে ফেলেছিল ফুটন্ত উঠোনে। আনিস নাচুনে পাতাবাহারের ভেজা যুবতি পাতা ছলকে, বুড়ো মোরগ ঝুঁটির ডাঁটা টপকে উঁচু বারান্দাটার নাগাল পেতে চাই। ৫ ফুট ৭ কি সাড়ে সাতের আনিস বুড়ো আংগুলের কারসাজিতে আরো আধা ইন্চিখানেক বাগিয়ে নিলেও থই পায়না বারান্দার।
"অ বৌমা, পিচ্চি গুলার কান্ড দেখ!" ওর দাদার মেহেদি রাংগা দাড়ি গোঁফের ঠাস বুনোটে বলক উঠলে তা ছড়িয়ে যায় উঠোন ভর্তি বৃস্টির হুটোপুটিতে, আনিস মরিয়া হয়ে বারান্দার থই পেতে চেস্টা করে। কিন্ত বেয়াড়া বারান্দা পিঠে জলচৌকি আর তার পিঠে মেহেদি রাংগা দাড়ি গোঁফের ঠাস বুনোট নিয়ে আরো উঁচুতে উঠে যায়। শুধু দড়িতে ঝুলতে থাকা গামছা আনিসকে ভেংচি কেটে একটা লুংগি কি শাড়ির ফাঁকে লুকোচুরি খেলতে থাকে।
"ভাই, আগুন হবে?" ঠোঁটে সিগ্রেট, আগুন প্রত্যাশি লোকটার ভ্রু দুটো নিজেদের মুচড়ে আনিসকে ২০কি ২২কি ২৫ বছরের পুরোন বৃস্টি থেকে উপড়ে শাহিন মার্কেটের চিলতে বারান্দায় আছড়ে ফেলে। আনিস ঘোরের মধ্যে পকেটে হাত দিলে ওর মনে পড়ে যায় সিগ্রেট টা ওর পোড়ানো হয়নি কখনো। আনিস মাথা নাড়লে ঠোটে সিগ্রেট ঝোলান লোকটার ভ্রু দুটো বিযুক্ত হয়ে কপালে খরখরে ক'টা রেখার আকার নিয়ে ঝুলে থাকে, ঠোঁট দুটো অপেক্ষমান সিগ্রেটের ভারে ক্লান্ত হয়ে পড়লে সিগ্রেটটা দু'আংগুলের ফাঁকে সেধিয়ে পড়ে। এই ফাঁকে ভার মুক্ত ঠোঁটের মাঝ দিয়ে,"ধুর! বালের বৃস্টি!" ছিটকে যায় বৃস্টির চাদরে আবার বাড়ি খেয়ে ফিরে আসে শাহিন মার্কেটের বারান্দায়।
"আর বইলেননা ভাই, হালায় একটু পিচকারির মুতন বৃস্টি অইলো কি পুরা শহর ভাইংগা পড়ব, কুনো কিসু পাওয়া যাইবো না" সায় দেয় একজন, বৃস্টির তোড়ে উথলে ওঠা খোস পাচড়া খসখস চুলকিয়ে ফের ঢুকে যায় ঝুলে থাকা ছায়ার ভাজে। আনিস ডানে বাঁয়ে হাঁতড়ে সারিবদ্ধ ছায়া গুলোকে ঠাহর করার চেস্টা করে, আচমকা বৃস্টিতে শাহিন মার্কেটের বারান্দায় ঝুলে পড়লেও স্যাতসেতে বাতাসে কাঁপছে ছায়াগুলো আর আটকে পড়া মানুষগুলো আংগুল মটকে-গলা খাখারী দিয়ে-পাচড়া চুলকে হালকা করার চেস্টা করে খানিক কিন্ত ভেজা সোডিয়ামের কারসাজিতে আরো গাড় হয়ে জেঁকে বসে বারন্দায়। আনিস নিজেকে গুছিয়ে ফের ২০কি ২২কি ২৫ বছর আগের বৃস্টিতে ভেজার প্রস্ততি নেয়, উঁচু বারান্দায় সওয়ার মেহেদি রাংগা দাড়ি গোঁফের ঠাস বুনোটের নাগাল পেতে নিজেকে মরিয়া করে তুলতে চায়। হঠাৎ আনিসের মগজের কোন এক কোনে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু টক স্মৃতি গলি-ঘুপচি পেরিয়ে ঠিক পৌছে যায় মুখ অবধি,সেখানে প্রায় অর্ধেক একটা বাসি দিনের লালার সাথে মিশে থুতুর সংক্রমনে মনে পড়ে যায়, ওর শৈশব-কৈশর-প্রাক যৌবনের চৌহদ্দি এসওএস শিশু পল্লির লাল টালির নিচু ছাদ আর নাগাল পাওয়া যায়না এমন উঁচু দেয়ালের ঘেরাটোপ থেকে বেরুতে পারেনি কখনো। তো শালা মেহেদি রাংগা দাড়ি গোঁফের দাদা আসবে কোত্থেকে?
কিন্ত এমনি হচ্ছে আজকাল,গতো শুক্রবারে আনিস মোহাম্মদপুরে রন্জুদের মেসে তাস পেটানোর জন্য আর দুপুরে ব্রয়লারের এক-আধ টুকরা মাংশের টানে যেই না তাজমহল রোডের লেজে পা ফেলেছে,কোত্থেকে ঘন লাল সুরুয়ার মাঝে হাবুডুবু খাওয়া বড় চিংড়ির ধেয়ে আসা গন্ধ ওকে ছুঁড়ে ফেলে গতজন্মের এক হেঁসেলে। আনিস লবন-মরিচ-ধোনা-জিরার কৌটার ফাঁক-ফোঁকর হাতড়ে ছড়ানো পেঁয়াজ কুচি আর পেটচেরা পটলের লালচে-সবুজ বিচি মাড়িয়ে বলক ওঠা কড়াই, খুন্তি ছুঁয়ে দিব্বি ৫ফিট ৭ কি সাড়ে সাতের শরীর নিয়ে সেধিয়ে পড়ল অধরা ওমের কোলে,
"মা, আমাকে এক্ষুনি চিংড়ি দ্যাও একটা, খোসা ছাড়ায়ে দিবা"
"শয়তান,তোর দুপুরের ভাগ থেকে একটা কমে গেল, আর চাবিনা"
আনিস মরিয়া হয়ে মুখে খোসা ছাড়ানো সাদা চিংড়ির অস্বস্তি নিয়ে গতজন্মের হেঁসেলে অধরা ওমের মালিককে তালাশ করে কিন্ত তাজমহল রোডের ক্রমশ ক্ষয়ে যাওয়া রিকশার ঘন্টি আর ছিবড়ে মানষগুলো নিমিষে ঘন লাল সুরুয়ার মাঝে হাবুডুবু খাওয়া বড় চিংড়ি লোপাট করে ওকে বিপন্ন করে ফেলে চলে যায়। আনিস শুকনো জিভের চড়ায় লাল সুরুয়া আর খোসা ছাড়ানো চিংড়ির স্বাদ জিইয়ে রাখার খাতিরে রন্জুর মেসের মুরগির টুকরো-টাকরায় সাড়া দিতে পারে না এমনকি ওর ঘোর লাগা চোখের সাথে জুতসই আঁতাতে ব্যার্থ হয়ে টেক্কা কি সাহেব কি বিবিরা দিশেহারা বোধ করে।
"বালের বৃস্টি" আগুন প্রত্যাশি লোকটার আংগুলের ফাকে সিগ্রেট জ্বলে ওঠার অপেক্ষায় নেতিয়ে পড়লে লোকটা ফের বৃস্টিকে গাল দেয়। আনিস তখন ঝিম ধরে থাকা বোকা ল্যাম্পোস্ট গুলোকে দেখছিল, ওরা অনুযোগহীন একটানা ভিজে যাচ্ছে; পরস্পরের হাত ধরে বাঁকা হয়ে ফ্লাইওভারের ওপর মাথাহেট করে আছে আর নোংরা হলদে আলো বৃস্টির ছাটে শাহিন মার্কেটের চিলতে বারান্দা অবধি পৌছাতে না পারার আক্ষেপে বোধহয় আরেকটু বেশি ভিজছে। খানিক বাদে হলদে আলোর ঘুর্নি পাতাহীন কদমের রুপ নিয়ে ল্যাম্পোস্টে ঝুলে পড়লে আনিস একটু ধাতস্ত হয়।
"চিন্তা করেন, হালায় দু'ফোট চিরিক বিরিসটি হইলো কি আমাগো মহল্লার তামাম ড্রেন-উন উপচায়া হাঁটুত গিয়া ঠেকব। আবার বাড়ি যায়া দেখব পানি নায়..."
আগুন প্রত্যাশির কালচে বেগুনি গালে বসন্তের ফাটল যুগপত ঘাম-বৃস্টির সংগমে পুর্ন হয়ে চুলকানির উদ্রেক হলে তিরতির কাঁপে, লোকটা না-ধরানো সিগ্রটের ধোঁয়ার আড়াল নিতে চোখ কোঁচকায়। আনিস লোকটার ছুড়ে দেওয়া আলাপচারিতার ছুতো এড়িয়ে গেলেও মহল্লার পাঁজর তুবড়ে ধেয়ে যাওয়া বৃস্টি আর ড্রেন উপচানো মানুষ কি কুকুরের গু,একটা মরা ইদুর, কনডোমের খোসা, প্রায় সচল দু'টাকার নোট ইত্যাদির গন্তব্যের হদিস এড়াতে পারে না, শুধু মাথাটা ঝাঁকায় । গাড়ি গুলো ল্যামপোস্টে ঝোলা কদম লুটে নিয়ে হুস-হাস করে পেরিয়ে যাচ্ছে, আনিস শুধু দেখে, দেখতে দেখতে জানালার শিকে গাল চেপে একটা ফড়িং এর পিছু নেয় আনিস আর বিছানার আলস্যে ভাঁজ খোলা পেপার, পেপারের আড়ালে চশমার আধবোঁজা চোখ;
"আনিসের মা,কাঁচা মরিচ দিয়া মুড়ি মাখায়া দ্যাও না!"
এই লোকটা যে কিনা আনিসের মাকে দুধ সাদা মুচমুচে মুড়ির পাহাড়ে কাঁচা লংকা বুনে দেওয়ার আবদার করছিল,সরষের তেল আর কুচানো পেঁয়াজও হয়তো উহ্য ছিল তাতে, এই লোকটা হিসেব মতে ওর বাবা না হয়ে পারে না! আনিস এই লোকটাকে দেখার জন্য ঘাড় ফেরাতে চাইলে ফড়িংটা দিব্যি ওর চোখ দুটো নিয়ে প্রাচিরের উপর বসে পড়ে। এরপর প্রাচিরের ফাটলে পিঁপড়ে কলোনীর ব্যাস্ততায় চোখ দুটো সেধিয়ে পড়লে, আনিসের আর বাবাকে দেখা হয়না। কিংবা পিঁপড়ে গুলো ওকে টেনে হিচড়ে এসওএস শিশুপল্লীর লাল টালির নিচু ছাদ আর নাগাল পাওয়া যায়না এমন উঁচু দেয়ালের ঘেরাটোপে এনে ফেললে এ যাত্রা বাবাকে দেখাটা বাদ দিতে হয় আনিসকে।
"ঢাকা শহরে আবার বৃস্টি?" আগুন প্রত্যাশি লোকটা বলে,"বুঝলেন ভাই, বিরিসটি দেখসি আমাগো গাঁয়ে। নৌকায় কইরা যাইতেসিলাম মামার বাড়ি, বিমার আসিল আমার মামা। মাঝ নদী পাইসি কি পাইনি, ফকফকা জোসনার মইধ্যে দেহি বিরিসটি শুরু হয়া গেল! কি তামশা! উথাল-পাথাল ঢেউগুলা মনে হইতাসিল বিরিসটির ঠাপে দাড়াইবার পারতাসেনা, চিন্তা করেন এইরম বিরিসটিতে তিন-চাইর ঘন্টা আটকায়া সিলাম!"
আগুন প্রত্যাশির ভাংগাচোরা কন্ঠের চড়াই-উৎরায় বেয়ে জোস্না গলা বৃস্টি আচ্ছন্ন করতে চাইলে মাথা ঝাঁকিয়ে ঘোর কাটানোর চেস্টা করে আনিস। আগুন প্রত্যাশির সাথে অলৌকীক নৌকা ভ্রমনে পাছে ওর মা-বাবা-মেহেদি রাংগা দাড়ি গোঁফের ঠাস বুনোটের বুড়ো ফাঁকি দিয়ে অদেখা নদীর উজানে ভেসে যায়, এই ভয়ে আনিস নিজেকে শাহিন মার্কেটের চিলতে বারান্দা থেকে ঠেলে দেয় বৃস্টি বন্দি রাস্তায়। ফ্লাইওভার চিরে ছুটে যাওয়া পাতাহীন কদম আর ক্রমশ পাতলা হয়ে আসা করোটির ছাদে বৃস্টির মাতম যদি মা-বাবা-মেহেদি রাংগা দাড়ি গোঁফের ঠাস বুনোটের বুড়োর কোন হদিস দেয় এই আশায় বৃস্টির সাথে নিজেকে ছড়িয়ে দেয় আনিস।
লেখক বলেছেন: দুইপশলা ধন্যবাদ!!
ভালো থাকবেন
দরদী নজরুল বলেছেন:
যা বলব সেটাই কম মনে হবে, শুধু বলি +।
লেখক বলেছেন: ভালো থাকবেন
হাসান মইখল বলেছেন:
আমি অনুভূতিগূলো বৃষ্টিতে ভিজে আবারো কদমগাছে'র মত সজীব হয়ে উঠলো।আহা কতদিন সত্যিকারের বৃষ্টিতে ভেজা হয়না!
লেখক বলেছেন: হুমম, সত্যিই!
ভালো থাকবেন
একজন ব্লগার বলেছেন:
বাহ! বহুল প্রতীক্ষিত পোস্ট! খুবই ভাল লাগল। প্রিয়তে রাখলাম।কমেন্ট এত কম কেন? পাবলিক পড়ে নাই নাকি?
লেখক বলেছেন: আপনি তো পড়েছেন। এই অনেক!
ভালো থাকবেন
লেখক বলেছেন: মিতার ঘটনা বুঝলাম না! ![]()
লেখক বলেছেন: হাহাহ!
ওকে!!!
উত্তরাধিকার বলেছেন:
হুম্ম।
আমি এক তৃষিত কাকের মত
এতদিন প্রতীক্ষায় ছিলাম আর
চুরি যাওয়া আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলাম!
অবশেষে নামলো বৃষ্টি।
আমি অনাবিল আনন্দে ভিজলাম ~
অনেক ক্ষন...!
অনেকদিন পর...!
(এরকম জলজ্যান্ত লেখা পড়ে আপনা থেকেই বেরিয়ে এলো কথা গুলো !
লেখক বলেছেন: প্রিয় উত্তরাধিকার
কি আর বলি!!
সমাজ্ঞী বলেছেন:
ভাই খুব দুর্দান্ত লেখেন আপনি ! মানতেই হবে। অবশ্য পুরোটা পড়িনি। কিন্তু লেখার ধাচটি বুঝে নিয়েছি। আবারো বলছি চমৎকার।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ!!
রুবেল শাহ বলেছেন:
ক্যাবিক মন্তব্য করার মত ক্ষমতা আমার নেই তাই শুধু বলব প্রিয়তে রাখলাম---------- +শুভেচ্ছা
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ রুবেল শাহ
ভালো থাকবেন
ফারহান দাউদ বলেছেন:
সেই দারুণ এক আর্কিটেকচারাল ড্রয়িংয়ের মত উপমার মাঝে খুঁটিনাটি রিইনফোর্সমেন্টের ডিটেইলিং,সব মিলে পুরানো আকাশচুরির মজবুত মনোনন্দন স্ট্রাকচার।
লেখক বলেছেন: ধইন্যবাদ, ফারহান ভাই ![]()
সারওয়ার জামান চন্দন বলেছেন:
বলার কিসু নাই... প্রিয়তে রাখলাম।
লেখক বলেছেন: ![]()
কি খবর চন্দন? নতুন পোস্ট কই?
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, ইনান ভাই
ভালো থাকবেন
লেখক বলেছেন: হাহা, সাদরে গৃহিত
লেখক বলেছেন: প্রিয়, রেটিং
শুভেচ্ছা নেবেন।
আতিক একটেল বলেছেন:
অসাধারন । শব্দ সাজানোর মুন্সিয়ানা চোখে পড়ার মত। অনুভূতির এই প্রকাশ ভাবিয়ে তোলে লেখকের বিচক্ষণ মানসিকতা।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আতিক, ভালো থাকবেন
আন্দালীব বলেছেন:
||আনিস তখন ঝিম ধরে থাকা বোকা ল্যাম্পোস্ট গুলোকে দেখছিল, ওরা অনুযোগহীন একটানা ভিজে যাচ্ছে; পরস্পরের হাত ধরে বাঁকা হয়ে ফ্লাইওভারের ওপর মাথাহেট করে আছে আর নোংরা হলদে আলো বৃস্টির ছাটে শাহিন মার্কেটের চিলতে বারান্দা অবধি পৌছাতে না পারার আক্ষেপে বোধহয় আরেকটু বেশি ভিজছে।||পরিপার্শ্ব কী দুর্দান্তভাবেই না উঠে আসে আপনার লেখায়। দৃশ্যের বর্ণনা যে এতো চমৎকার হয়ে উঠতে পারে সেইটা আপনার লেখা না পড়লে ঠিক বোঝা যেতো না।
বাকী আরো কথা হতে পারে; আরো কবার পড়বার পরে।
** যাক, অবশেষে আপনার লেখা .....
লেখক বলেছেন: কেমন আছেন প্রিয় আন্দালীব ?
কথা হবে.....
ভালো থাকবেন
ক্ষুব্ধ, কারণ, এত চমৎকার লেখা আসল নামে লেখেন না কেন? নিকনেম নেয়ার মানে কি?
আমি প্রায় শতভাগ নিশ্চিত যে, আপনি শুধুমাত্র 'ব্লগার' (ব্লগের লেখক) নন, একটা দীর্ঘ চর্চা আপনার আছে। নইলে ভাষাটি এত কারুকার্যময় হতে পারে না।
আমার প্রথম মুগ্ধতা এই ভাষা নিয়েই। তারপর বর্ণনাকৌশল নিয়ে।
'বৃস্টির বড়ো সড়ো একটা ফোঁটা তাতানো রাস্তাটাকে গেঁথে ফ্যালে।'
বা
'ঠোটে সিগ্রেট ঝোলান লোকটার ভ্রু দুটো বিযুক্ত হয়ে কপালে খরখরে ক'টা রেখার আকার নিয়ে ঝুলে থাকে, ঠোঁট দুটো অপেক্ষমান সিগ্রেটের ভারে ক্লান্ত হয়ে পড়লে সিগ্রেটটা দু'আংগুলের ফাঁকে সেধিয়ে পড়ে।'
এই ধরনের দৃশ্যকল্প তৈরি করা কঠিন কাজ। অন্তত একজন গল্পকারের জন্য কঠিন। মুহূর্তে মুহূর্তে অতীত-বর্তমানে চলাচলের ব্যাপারটাও চমৎকার। বৃষ্টি আনিসকে শৈশবে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো-- যে শৈশবের অন্য নাম- সরলতা; অথচ সে এখন, এই মুহূর্তে আছে এক জটিল বাস্তবতার ভেতর। তার প্রমাণ হিসেবে আরও কয়েকটা লাইন--
'আনিস লোকটার ছুড়ে দেওয়া আলাপচারিতার ছুতো এড়িয়ে গেলেও মহল্লার পাঁজর তুবড়ে ধেয়ে যাওয়া বৃস্টি আর ড্রেন উপচানো মানুষ কি কুকুরের গু,একটা মরা ইদুর, কনডোমের খোসা, প্রায় সচল দু'টাকার নোট ইত্যাদির গন্তব্যের হদিস এড়াতে পারে না, শুধু মাথাটা ঝাঁকায় ।'
এক কথায় চমৎকার!
অনুগ্রহ করে আপনার আসল নামটি জানাবেন। নিকনামে এত চমৎকার গল্প পড়তে চাই না!!
[দুয়েকটা বানান ভুল আছে। 'বৃস্টি' 'চেস্টা' 'দরযা' যথাক্রমে 'বৃষ্টি' 'চেষ্টা' এবং 'দরজা' হবে। শুধরে নেবেন, প্লিজ। আশা করি এই 'মাস্টারি'র জন্য কিছু মনে করবেন না। খুব ভালো লেগেছে বলে ছোট্ট ভুল গুলো ধরিয়ে দিলাম আর কি!]
লেখক বলেছেন: শ্রদ্ধেয় কামাল ভাই
আমার ব্লগ ভ্রমনের জন্য কৃতজ্ঞতা। অধমের নাম তারিক স্বপন।
আর আপনার 'মাস্টারি' সবসময় প্রার্থিত!!
ভালো থাকবেন।
লেখক বলেছেন: ![]()
রাশেদ বলেছেন:
তবে আগের মত মুগ্ধ হয়ে পড়তে পারলাম না। স্বতস্ফুর্ততা একটু কম লাগছে লেখাটায়। আশা করি মাইন্ড করবেন না।
লেখক বলেছেন: ব্যাপার না, পরের বারের অপেক্ষায় থাকি!!
লেখক বলেছেন:
![]()
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, মেহরাব।
![]()
ভালো থাকবেন
মুকুল বলেছেন:
অবশেষে প্রিয় আকাশচুরি'র বহু কাঙ্খিত পোস্ট!!! অসাধারণ! *****
আপনাকে শাস্তি দেয়া দরকার, কেন এত কম লিখেন!??
লেখক বলেছেন: মুকুল ভাই কেমন আছেন?
হাহা শাস্তি মাথা পেতে নেওয়া হলো ![]()
লেখক বলেছেন: ![]()
উৎসাহ পাইলাম!
নিবিড় অভ্র বলেছেন:
আপনার নামটা কিভাবে ঠিক করলেন?? মানে আকাশচুির থেকে আকাশচুরি হলেন কিভাবে?আমার নামটাও ঠিক করাতাম!!
লেখক বলেছেন: তাড়াতাড়ি "কোন সমস্যা"য় মেইল করেন, নোটিশ বোর্ডের ডান দিকে
লেখক বলেছেন: !?
"আগুন প্রত্যাশির সাথে অলৌকীক নৌকা ভ্রমনে পাছে ওর মা-বাবা-মেহেদি রাংগা দাড়ি গোঁফের ঠাস বুনোটের বুড়ো ফাঁকি দিয়ে অদেখা নদীর উজানে ভেসে যায়, এই ভয়ে আনিস নিজেকে শাহিন মার্কেটের চিলতে বারান্দা থেকে ঠেলে দেয় বৃস্টি বন্দি রাস্তায়..." এই যায়গাটা জটিল!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন।
আপনার নতুন পোস্ট কই?
ঊশৃংখল ঝড়কন্যা বলেছেন:
কি আশ্চর্য রকম ভাল আপনার বর্ণনাগুলো !!! পড়ার পর-ও আচ্ছন্ন হয়ে থাকতে হয়!!!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ভালো থাকবেন
লেখক বলেছেন: ![]()
লেখক বলেছেন: মিয়া মজা লন!!
লেখক বলেছেন: ![]()
রাতুল" বলেছেন:
খাইচে আপনেই তারিক ভাই। ডরাইচি....আমি আপনারে চিনি, উনারে চিনি না, আপনার লেখা অনেক ভালা পাই...
প্লাস
লেখক বলেছেন: আমি কোন তারিক?!! ![]()
লেখা ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো, রাতুল। ![]()
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন:
আমি ভাবতাম ব্লগের সব ভাল লেখকের লেখা আমি পড়ি। এখন দেখছি কথাটা ঠিক না।আপনার ডিটেইলিংয়ের ক্ষমতায় মুগ্ধ হইলাম।
লেখক বলেছেন: মাহবুব ভাই, অধমের ব্লগে কিছু সময় কাটাইলেন এই জন্য কৃতজ্ঞতা।
ভালো লেখক বইলা লজ্জাই ফালাইলেন! লেখালেখিতে আমি এখনো ভ্রন অবস্থায়।
ভালো থাইকেন
কোলাহল বলেছেন:
ওরে বাপরে। একেই বলে লেখক। বড় আফসোস হচ্ছে এতদিন কেন দেখিনি।
লেখক বলেছেন: ![]()
ভালো থাকবেন
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
তারিক স্বপন, আপনার নাম জানতে পেরে ভালো লাগছে !
এতো ভালো যারা লিখে ছদ্মনিকে লেখা তাদের জন্য রীতিমতন অপরাধ
আপনার লেখনী শক্তিকে ঈর্ষা করি ! মনে হয়, ইস্ যদি এইরকম লিখতে পারতাম !
লেখক বলেছেন: প্রিয় আবদুর রাজ্জাক শিপন
ব্লগে ছদ্মনিকের বিষয়টা পরিকল্পিত ছিলনা, হয়ে গেছে আর কি!
আপনি কি জানেন আপনি কতটা ভালো লেখেন? আমরা জানি...
![]()
ভালো থাকবেন
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
জানিরে ভাই ! কত্তো বাজে লিখি জানি ! মানুষ পড়েনা সেইটা দেখলেইতো বুঝা যায় ।
ক'দিন আগে একটা গল্প দিছি , পাঠক নাই
অবশ্য গল্পটা বেশী বড়ো হয়ে যাওয়াতে এই সমস্যা বেশী করে হইছে
অনেক অপেক্ষার পর।
অনেক ভালো লাগা।
শুভেচ্ছা রেখে গেলাম।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, শাজি'পু!!
ভালো থাকবেন ![]()
রুখসানা তাজীন বলেছেন:
তারিক, সফল লোকের কপালে কপাল ঘষলে নাকি রাস্তা সুপ্রসন্ন হয়। আজ থেকে আপনার ব্লগে আমার নিরন্তর ঘষাঘষি চলবে, যদিবা আপনার একটু ক্ষমতা ভর করে আমাতে আমার অবশ্যপাঠ্যে যুক্ত হলেন। শুভেচ্ছা।
লেখক বলেছেন: হাসাইলেন ভাসাইলেন ![]()
ভালো থাকবেন
মাঠশালা বলেছেন:
দেরিতে পড়ায় আফসোস হচ্ছে।
লেখক বলেছেন: ব্যাপার না ![]()
ভালো থাকবেন
সিহাব চৌধুরী বলেছেন:
করোটিতে গম্ভীরতা ভ্রমনে বৃষ্টিতে পারিপার্শ্বিকের দুষ্টুমি ...
প্রশংসা কি করবো? লেখা পড়ে সব শব্দ চুরি গেছে !
হ্যাটস অফ !
গুরু,
পদধুলি দিয়েন, ইমেইল করেঃ ।
খুব খুশি হবো ।
লেখক বলেছেন: সিহাব ভাই, আপনার অসাধারন লেখা গুলো মিস করেছি খুব। এইবেলা তাড়াতাড়ি কিছু ছাড়েন!
মেইল-এ কথা হবে ![]()
রিফাত হাসান বলেছেন:
মুগ্ধ।
লেখক বলেছেন: আমার ব্লগে আপনাকে পেয়ে আমিও
মুগ্ধ।
অন্যকোথাও বলেছেন:
আপনার লেখা পড়ে আমি ভাষাহীন... বরাবরের মতই। দীর্ঘ বিরতি স্বার্থক হলো। ওয়ান্ডারফুল তারেক ভাই... লেখক বলেছেন: বিরতি আসলেই দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে!
আপনার লেখার খবর কি?
ভালো থাকবেন


















একপশলা ভালোলাগা