somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নির্বাচন কমিশনের সাথে জামায়াতের সংলাপের ফলাফল

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০:৩০টায় নির্বাচন কমিশনের সাথে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নায়েবে আমীর জনাব মকবুল আহমদের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দল এ সংলাপে অংশগ্রহণ করে। প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যগণ হলেন- জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল জনাব মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুস সুবহান, সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল জনাব আব্দুল কাদের মোল্লা ও অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এড· জসিম উদ্দিন সরকার।

নির্বাচন কমিশনের সাথে সংলাপে জামায়াতে ইসলামীর বক্তব্য নিম্নে প্রদত্ত হলোঃ-

১) “নির্বাচন কমিশনের সাথে ইতোপূর্বে দুই দফা সংলাপে জামায়াতের পক্ষ থেকে আমরা মতামত দিয়েছিলাম যে, রাজনৈতিক দল নিবন্ধীকরণের বিষয়টি যেহেতু নতুন তাই খুব সহজ শর্তে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করতে হবে। নিবন্ধনের জটিলতা বা সে অযুহাতে কোন দলই যাতে নির্বাচনের বাইরে না থেকে যায় তা নিশ্চিত করতে হবে।

কিন্তু নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নিবন্ধনের যে সব শর্ত দেয়া হয়েছে তা এই সময়ের মধ্যে কোন দলের পক্ষেই পূরণ করা সম্ভব নয়। সকল দলকেই নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া দরকার। এমতাবস্থায় আমরা মনে করি নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধীকরণ বাধ্যতামূলক করার বিধান প্রয়োজন নেই।

(ক) নিবন্ধীকরণের ব্যাপারে অনেক অপ্রয়োজনীয় এবং কঠিন শর্ত আরোপ করা হয়েছে। আমাদের বক্তব্য ছিল বিষয়টিকে অতি সহজ করার জন্য। দশটি জেলা অফিস এবং ৫০টি উপজিলা, শহর ও থানা অফিসের দলিল সরবরাহ করা কঠিন। এগুলো অফিস সাধারণত অলিখিতভাবে বা কোথাও কোথাও সহযোগিতা হিসেবে দেয়া হয়ে থাকে।

(খ) যেসব বিধি দলীয় গঠনতন্ত্রে সংযোজন করতে হবে তা করতে হলে দলের কাউন্সিল অধিবেশন বা সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরামের বৈঠক আহ্বান করতে হবে তৃণমূল পর্যায় থেকে। ফলে এ জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে না।

(গ) 90B (i) (b) (ii), 90C (i) (a) এবং (b)সংবিধানের পরিপন্থী। 58 (D) এর লংঘন। 90C (1) (a) সংবিধানে ১৪২ অনুচ্ছেদের লংঘন। কারণ সংসদ ছাড়া সংবিধান সংশোধন করার এখতিয়ার নেই।

(ঘ) তাছাড়া সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং অনুচ্ছেদ 2A এর পরিপন্থী।

(ঙ) 90 (1) নতুন বিধি করা হয়েছে। নিবন্ধীকরণকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সংবিধানের সাথে অসংগতিপূর্ণ। এসবই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এখতিয়ার বহির্ভূত।

২) গণপ্রতিনিধি অধ্যাদেশ, ২০০৮ প্রত্যাহার অথবা ৯ম সংসদ নির্বাচনের জন্য এটাকে অকার্যকর ঘোষণা করা হোক। ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ - এর জাতীয় সংসদ নির্বাচন যথারীতি Representation of the peoples order-1972 এর অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অধিকতর সংশোধন কল্পে জারীকৃত অধ্যাদেশের বেশ কিছু ব্যাপারে আমাদের আপত্তি রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে এসব সংশোধন বা নিষ্পত্তি করে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান কঠিন হয়ে পড়বে। কতিপয় অনুচ্ছেদ বাংলাদেশের সংবিধানের সাথেও অসংগতিপূর্ণ। জটিলতা পরিহারের লক্ষ্যে যে বিধান আছে সে বিধান অনুযায়ী ২০০৮ এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

ক) চাকুরী শেষে ৩/৫ বছর প্রার্থী হওয়া যাবে না। এমন বিধান সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।

খ) কোন নির্বাচনী এলাকায় তালিকাভুক্ত না হলে প্রার্থী হতে পারবেনা- এ বিধান ৬৬ অনুচ্ছেদের সাথে অসংগতিপূর্ণ।

গ) গ্যাস, পানি ফোন, বিদ্যুৎ বিল ইত্যাদি মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার পূর্ববর্তী ৩ মাসের মধ্যে খেলাপী থাকবে না এমন বিধান কার্যকর করা কঠিন। বিল পেতেও বিলম্ব হতে পারে।

ঘ) মনোনয়ন পত্র দাখিলের সময় দলীয় মনোনয়নের সনদ দেয়ার বিধান অযৌক্তিক। এটার প্রয়োজন প্রতীক বরাদ্দের জন্য।

ঙ) প্রার্থী প্রতি দলীয় ব্যয়ের পরিমাণ যুক্তিসঙ্গত নয়। দলের প্রার্থী জনপ্রতি মাত্র দেড় লাখ টাকা দলীয় তহবিল থেকে খরচ করতে পারবে। এটা সৎ প্রার্থীদের জন্য অসুবিধাজনক। কারণ তাদের দলের অনুদানের উপরই নির্ভর করতে হয়। সুতরাং দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী প্রতি বরাদ্দ খুবই অপ্রতুল হবে যার ফলে সৎ লোকেরা নির্বাচনে আসতে পারবেন না।

চ) কৃষিঋণের মত গৃহনির্মাণ ঋণকেও খেলাপীর আওতা বহির্ভূত রাখা প্রয়োজন। আগে যে বিধান ছিল তা বহাল থাকতে পারে।

ছ) কোন প্রার্থীর বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগের তদন্ত ও তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিধান অসংগত। এ বিধান অতি কঠোর। কারণ এতে প্রার্থীতা বাতিল হয়ে যেতে পারে।

জ) 3b শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট প্রদান, পূর্ববর্তী নির্বাচনে কি ওয়াদা করেছিলেন আর কি বাস্তবায়িত হয়েছে এসবের বর্ণনা প্রদান অযৌক্তিক এবং প্রয়োজনীয়।

ঞ) ‘না’ ভোটের বিধান বিভ্রান্তির সৃষ্টি করবে। কোন গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক দেশে এ বিধান নেই।

ট) ১১০/১১১: সরল বিশ্বাসে কৃতকর্ম/কমিশনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়নি।

৩) জরুরী আইনের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। সুতরাং অবিলম্বে জরুরী আইন প্রত্যাহার করে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এ প্রসঙ্গে মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনারও বিভিন্ন সময় জরুরী আইন প্রত্যাহারের পক্ষে কথা বলেছেন।

৪) দেশ আজ একটি কঠিন সময় অতিক্রম করছে। বারবার ঘোষণার পরও জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সংশয় দূর হয়নি। সুতরাং রাজনৈতিক দলসমূহের দাবী এবং সংবিধানের বাধ্যবাধকতা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আর কোন নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুযোগ নেই। উপজেলা ও স্থানীয় সরকারসমূহের নির্বাচন পরে হবে। সব নির্বাচনের তারিখ এক সাথে ঘোষণা করতে চাইলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর উপজেলা নির্বাচনের তারিখে যুক্তিসংগত সময়ের ব্যবধান থাকতে হবে।

৫) জাতীয় সংসদের আসন পূনঃনির্ধারণের কোন সুযোগ এবার নেই। কোন একটি নির্বাচনী এলাকায় ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে প্রার্থী হতে পারবেনা এটা গ্রহণযোগ্য নয়। তাছাড়া সংবিধানের ১২১ এবং ১২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আগে নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ এবং পরে ভোটার তালিকা হতে হবে।

হাইকোর্ট ৩ মাসের জন্য নির্বাচনী এলাকা পূনঃনির্ধারণের বিষয়টি স্থগিত করেছে। সুতরাং নির্বাচনের প্রস্তুতির স্বার্থে অবিলম্বে আসনসমূহের আগের সীমানা বহাল রাখার ঘোষণা দেয়া জরুরী।”

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল জনাব মুহাম্মদ কামারুজ্জামান অবশেষে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির সাথে সংলাপের ব্যবস্থা হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি সেই সাথে চারদলীয় জোটের শরীক দল বিজেপি এবং খেলাফত মজলিসকেও সংলাপে শরীক করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করবে।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫১



আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×