বর্তমান বিশ্বটা বাণিজ্যের যুগ। আগে জানতাম বিশ্ব বিজ্ঞানের যুগ। এখন জানি বাণিজ্যের যুগ। বিজ্ঞানকেও বাণিজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে ফেলা হয়েছে। কিংবা বলা যায় বাণিজ্যচিন্তা বিজ্ঞানকে কব্জা করে ফেলেছে। বিজ্ঞানের আবিষ্কৃত নতুন নতুন পণ্যে বিশ্ব বাজার সয়লাব। আধুনিক বাজারজাতকরণ কৌশল- প্রচার, বিজ্ঞাপন সবকিছুকে বাণিজ্যময় করে তুলেছে।
বাণিজ্য কথাটাকে সহজ করে বললে বলা যায় এটি একধরনের ট্রেড বা ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়া। মূল ব্যবসায়ের অন্তর্গত এটি। পণ্যদ্রব্য বা সেবা উৎপাদন, বন্টন এবং বন্টনে সহায়ক কার্যাবলীই ব্যবসায়। একজন কৃষক ধান উৎপাদন করে তা বিক্রয়ের জন্য নৌকায় করে গঞ্জে পাঠায়। এখানে পণ্য হচ্ছে ধান। তা বন্টন হবে গঞ্জে ক্রেতাদের কাছে। বন্টন সহায়ক কার্য নৌকায় করে তা গঞ্জে পাঠানো হয়েছে। যে কোনো পণ্য বা সেবা উৎপাদন করে তা বন্টন এবং বন্টন সহায়ক কার্যাবলী সম্পাদন করেই ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে হয়। ভোক্তার প্রকারভেদে বিভিন্ন ধরনের বাজার গড়ে উঠে।
বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে অস্ত্রের বাজার। আমেরিকা এবং এর অনুসারী কিছু রাষ্ট্র বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র তৈরি করে তা বিভিন্ন দেশে বিক্রয় করে। কৌশলে দুটি বা একাধিক দেশের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা জিইয়ে রেখে যুদ্ধাস্ত্র বিক্রয়ের রমরমা বাজার গড়ে উঠেছে বিশ্বব্যাপী। যুদ্ধাস্ত্র হচ্ছে বিজ্ঞানের আবিষ্কার কিন্তু বিক্রয় করা হচ্ছে ব্যবসায়। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বাণিজ্য এই যুদ্ধাস্ত্র ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে। আচ্ছা এই যুদ্ধাস্ত্র কেনো প্রয়োজন? যুদ্ধের জন্য? যুদ্ধ কেনো প্রয়োজন? যুদ্ধ প্রয়োজন শক্তিমত্তা প্রদর্শনের জন্য। শক্তিমত্তা হচ্ছে এনার্জি। আইনস্টাইন বলে গেছেন এনার্জি বা শক্তি = ভর * আলোর বর্গ গতি।
বিজ্ঞান এখন গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে। আর এই গতি বাড়ানোর কাজটি হচ্ছে শক্তি প্রদর্শনের জন্য। বিজ্ঞান আবিষ্কৃত ক্ষেপণাস্ত্র যত দ্রুত শত্রুপক্ষের ঘাঁটিতে আঘাত হানতে পারবে তার তত বেশি শক্তি। এখন পৃথিবীর প্রতিটি অংশ ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় এবং ভয়ংকর ধ্বংসের মুখে। আইনস্টাইনের থিওরী দিয়ে আবিষ্কৃত পারমাণবিক বোমা এখন বাণিজ্যের রমরমা পণ্য। যত বেশি ধ্বংসাত্মক বোমা বানানো যাবে সেটার বাণিজ্যিক মূল্য তত বেশি। যার দখলে এই মারণাস্ত্র যত বেশি থাকবে সে তত শক্তিশালী।
বর্তমান বিশ্বকে গতিশীল রাখছে তেল। এটিও এনার্জি বা শক্তি ধারণের আরেকটি বাণিজ্যিক উপাদান। মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকায় প্রচুর তেল এবং অন্যান্য মূল্যবান খনিজ আছে, তাই অস্থিতিশীলতা তৈরি করে দেশগুলোকে কব্জা করো। তেলসম্পদ কুক্ষিগত করতে আইনস্টানের সূত্র প্রয়োগ করে এনার্জি সংরক্ষণ করো। বিশ্বের বড় বড় তেল কোম্পানি আমেরিকা-ইসরাইলের।
যারা বাণিজ্যের ছাত্র তারা নিশ্চয়ই জানেন ইহুদীদের দ্বারাই সর্বপ্রথম ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রবর্তন ঘটেছিল। পরবর্তীতে ইহুদী কিংবা খ্রীষ্টান যাজকদের হাত দিয়েই আধুনিক ব্যাংক ব্যবস্থার সূত্রপাত ঘটে। এই যাজকদের কাছে বিশ্বাস করে স্থানীয় ব্যক্তি বা ব্যবসায়ীরা ধনসম্পদ গচ্ছিত রাখতো। অনেকে সুদে অর্থ নিয়ে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় বাণিজ্য করতে যেতো। আস্তে আস্তে বিষয়টিকে সমন্বিত করে ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে উন্নত করতে থাকে। মেধাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বে বড় বড় ব্যাংক গড়ে তুলে তারাই এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক শক্তির অধিকারী। আজকাল অনলাইন ব্যাংকিং পূর্বতন সব ধারণাকে বদলে দিয়েছে।
অনলাইন ভিত্তিক কিছু ব্যাংকিং ব্যবস্থা যেমন- পে পল, এলার্ট-পে বিশ্বব্যাংকিং ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করবে অচিরেই। বিশ্ব অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ যার/যাদের হাতে থাকবে সে বা তারাই পুরো বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করবে। সে লক্ষণ দেখা যাচ্ছে আমেরিকার সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ডে। সোফা-পিপা আইন প্রণয়ন সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। আইনস্টাইনের ই ইকুয়াল টু এমসি স্কয়ার ফর্মুলার আরেক এনার্জি বা শক্তি হচ্ছে এই অর্থ বা টাকা।
বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তৃতির ও ধারক বাহক আমেরিকা। সর্বপ্রথম আমেরিকান সেনাবাহিনীতে ইন্টারনেট ব্যবহৃত হয়েছিল। এ ইন্টারনেট এখন বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশ্বের যত কোটি লোক ইন্টারনেট ব্যবহার করছে প্রত্যেকেই একটি সুনির্দিষ্ট ওয়েব অ্যাড্রেসে অবস্থান করছে। তাই প্রত্যেকেই নজরদারির আওতায়। এই তথ্য ও বর্তমানে একটি পণ্য। এর বাজার বিশ্বব্যাপী। তাই এককভাবে আমেরিকা এই পণ্যটি নিয়ন্ত্রণে নিশ্চিত হতে চাইছে। তথ্য নামক এই পণ্য অর্জন করাও শক্তি বা এনার্জি ধারণ করারই নামান্তর।
আইনস্টাইনের গতি অর্জনের যুগান্তকারী তত্ত্বটি এখন মারণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, তেল নিয়ন্ত্রণ, অর্থ নিয়ন্ত্রণ এবং তথ্য নিয়ন্ত্রণের ফাঁদে পড়ে দুর্দশায় ভুগছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৪:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



