মজার একটা গল্প মনে পড়ল!
একলোক গোয়েবলসমার্কা মিথ্যা বলায় ওস্তাদ, তো তার ছির দুই পাকনামার্কা নাতী। ওরাও দাদুকে অনুসরণ করে বেশ খাঁটি খাঁটি মিথ্যাকথা বলতো। দাদু সেগুলোকে অবলীলায় অবিশ্বাসের তালিকায় জমা রাখত। আর বাচ্চাদের ঙ্গে ভাণ করতো বিশ্বাসের।
বাচ্চারা যদি বলতো-
দাদু আজ কী হয়েছে জানো? রাস্তার পাশে এক ভদ্রমহিলার সাথে সাক্ষাৎ হলো। সে কলা দিয়ে চা খাচ্ছে, আমরা ব্যাপারটা অনেকক্ষণধরে দেখলাম; অন্যরাও দেখছিল সবাই বেশ অবাক হচ্ছিল তাকে দেখে।
দাদু বলে এতে অবাক হবারতো কিছু নেই! নিউজিল্যান্ড এর লোকেরা চা খায় কলা দিয়ে।
হ্যাঁ, তাও হতে পারে, মহিলাকে বিদেশী বলেই মনে হলো।
ধুর! বিদেশী মনে হবে কেন? ওরাতো মঙ্গোলীয়, মঙ্গোলীয়রা এশিয়ানদের কাছাকাছি দেখতে।
ওইতো বললাম না, অনেকটা বিদেশী বিদেশী ভাব, চুলগুলো কিন্তু সাদা ছিল...
বাচ্চারা বেশ চেষ্টা করে মিথ্যাটা পাকাপোক্ত করতে...
দাদু হাসে, বলে চা দিয়ে কলা খাওয়া, তোরাতো দারুণ জিনিস আবিষ্কার করেছিস!
বাচ্চারা খুশি হয় তাদের দাদু তাদের কথা বিশ্বাস করেছে দেখে।
ওরা আরেকদিন আরেকটা গল্প ফাঁদে, বলে
চাররাস্তার মোড়ে একটা গাড়ি উল্টিয়ে পড়ে থাকতে দেখেছে, গাড়ির ভিতরে বিয়ের বরকণে এবং বরযাত্রীরা ছিল।
দাদু এটাও বিশ্বাস করে না, তবে ভান করে। ভাবে বিয়ের বরকণে কেন গাড়িতে যাবে? ওরাতো যাবে কারএ।...
বাচ্চারা এবার উঠেপড়ে লাগে এমন ঘটনা বলবে যাতে দাদু একদমই বিশ্বাস না করে। তাই এবার তারা যতোসব আলতু ফালতু গল্প বলতে শুরু করলো যেমন-
দাদু আজতো আমরা স্কুলে যেতে পারবো না! স্কুলের রাস্তায় বরফের স্তুপ জমে আছে। কেউই যেতে পারছে না।
দাদু ভাবে যেইদেশে সূর্যের তাপে তার পাকে সে দেশে বরফ! এটাতো বিশ্বাস করার ভাণও করা যায় না, তাহলে বাচ্চারা আর স্কুলে যাবে না!
দাদুতো পড়েগেলো মহা বিপদে ভেবে বের করলো বুদ্ধি। গোয়েবলসকে জাগিয়ে বলল মিথ্যার ঝুড়িটা খুলতে.... তারপর বাচ্চাদের বলল- হ্যাঁ সকালে মর্নিং ওয়াক সেরে আসার সময় ব্যাপারটা দেখলাম, দেখলাম সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্কাররা বিশাল বিশাল ট্রাক আর রাস্তা পরিষ্কারের রোড মাস্টার দিয়ে রোড প্রায় সাফই করে ফেলেছে। ব্যটারা কোনও কাজের না, একদিন লেগেগেলো বরফ সরাতে?
বাচ্চারা বুঝলো দাদু কতো শেয়ানা।....
তো তারা চিন্তা করল আর মিথ্যে না বলে এবার সত্যসত্যই বলবে, এবং সেদিনই ঘটলো একটা ঘটনা, স্কুলের হেডস্যার (দাদুর বন্ধু) হঠাৎ স্ট্রোক করেছে, স্কুলের টিচাররা সব গেছে দেখতে।
দাদু বুঝলেন বাচ্চারা ভয়ানক মিথ্যে বলা শিখেছে, তিনি রেগেমেগে বাচ্চাদের উপর লাঠির দুঘা বসিয়ে দিলেন, ছুটে এলো বাবা-মা, বাচ্চারা কাঁদতে কাঁদতে ঘটনা বলল.....
সবাই শুনে মানুষটাকে ভৎর্সনা করল. বউরা টিপ্পনী কাটলো বলে- বুড়োদের থাকার উত্তম যায়গা হলো পাগলাগারদ!....
অবিশ্বাস করার উত্তম সাজা পেলো বৃদ্ধ! আর সত্য বলায় লাঠির দু ঘা খেলো বাচ্চারা!
আসলে যেটা চলমান সেটাই চলতে দেওয়া উচিৎ।
ব্লগে হয়ত নানান রকম ফ্রডের পরিমাণ বেড়ে গেছে তাই নিজের জীবনের সত্যকথা বলতে গেলেও তাকে ফরম্যাট মেনে বলতে হয়, সিকোয়েন্স বুঝে বলতে হয়। আসল সত্য হয়ে যায় মিথ্যা আর প্রচণ্ড মিথ্যা হয়ে ওঠে সত্য।
আমি যে ভার্চুয়াল নই তার প্রমাণ যারা পেয়েছেন তারা চুপ! কেন চুপ?
রাতমজুর আপনিও বলবেন? সরোয়ার ডু আপনিও? ইউনুস সেও বলে?
তবে কেউ কেউ বিশ্বাস করে অবিশ্বাস করে, কারণ বিশ্বাস করলে যে তাদের কিছু একটা করতে হয়, নইলেযে বড়গলা করার উপায় থাকে না।
একটা শেষগল্প বলি....
এই ব্লগে একছেলে তার পরিচিত একছেলের জন্য সাহায্য চেয়েছিল, আর্থিক সাহায্য। কেউ সাহায্য করেনি কারণ ছেলেটির সবারকাছে বিশ্বস্ত হয়ে উঠতে পারেনি। এর একসপ্তাহ পর ওই রুগণ ছেলেটি মারা যায়, আমি জানি না ব্লগের বন্ধুরা তখনও....
আমি আমন্ত্রণ জানাচ্ছি আমাদের গ্রামের বাড়িতে, এসেই দেখে যান আমি সত্য বলছি কি না? দূরে থেকে কাউকে মিথ্যা অপবাদ দিতে লজ্জাকরেনা? এতো ভীরুতা কেন?
আসুন! আমার চোখটা দেখে যান।
আর উপদেশ দেবেন না। আমি আমার স্বামীকে ফাঁসিয়ে আমার বাবা-মাকে খুশি করতে পারবো না, কারণ তারা ওর উপর অনেক অবিচার করেছে। আবার স্বামীর ব্যবহারটা পুরোপুরি মেনে নিতেও পারি না, কারণ সেটা অমানুষিক! আমি রেব চাই না, পুলিশ বা কোর্ট চাই না। আমি চাই এর সহজ-সুন্দর সমাধান। আমার স্বামী তার প্রাপ্য পাক, আর আমার বাবা-মা পাক ওর কাছে উত্তম আচরণ। তাদের উভয়ের জেদাজেদির কারণে শাস্তি পাচ্ছি আমি। কেন?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



