somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চায়ের ষ্টলে এবং দেশের সেই দিন গুলো...

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৩:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





সেই ১৯৯৫ সালের কথা। ডিগ্রী পর্যায়ে উঠে ঘুরা ফেরা অনেক বাড়িয়ে দেই। প্রায়ই ঢাকা শহড় চষে ফেলতাম। বেশীর ভাগই দোস্ত বন্ধুদের নিয়ে। একদিন একটি কারণে ঢাকা কলেজে যাওয়া দরকার। তো ঠিক করলাম মহল্লার দুইজনকে নিয়ে যাব এবং তাদের সাথে বিরিয়ানীও খাব। কিন্তু গেল একজন। সে যাই হৌক ঢাকা কলেজে কাজ সেরে নীলক্ষেতে একটি রেষ্টুরেন্টে বন্ধুর অনুরোধে তেহারী খাওয়ার ব্যাবস্থা করলাম বেলা আড়াইটার সময়। তারপর বললাম কি নিবা কোক না স্প্রাইট! সে বলল এ সব কিছুই না। তো কি? সে বলল চা খাব! আমি যেই বয়রে বললাম এই চা দাও...সে বলল থাম এখানে না, অন্যখানে মজার জায়গায়। তারপর আমাকে অবাক করে দিয়ে ফুটপাথের একটা চায়ের দোকানে নিয়ে এল বলল এখানেই চা খেতে মজা। আমার কাছে একটু অবাকই লাগল, যে হোটেলে আরামে ফ্যানের নীচে চা না পান করে এই ব্যাটার ফুটপাতে চায়ের জন্য এত আগ্রহ কেন? এই কথা জানতে চাইলে সে বলল হুমায়ুন আহমেদের হিমুরা এ রকমই রাস্তায় ফুটপাথে হঠাৎই কোথাও চা খেতে বসে যায়। সে যাই হৌক হিমু আমার খুব একটা পছন্দ না হলেও চায়ের ষ্টল কেন যেন ভাল লেগে গেল। তখন হতেই হোটেল-রেষ্টুরেন্ট-ফাষ্টফুডের দোকানে অন্য কিছু খেলেও চায়ের ব্যাপারে বেশীর ভাগই ফুটপাথের ষ্টলকেই বেছে নিতাম। ২০০৯ সালে বৃটেন আসার সময় পর্যন্ত বিভিন্ন কাজে ছোটাছুটিতে ফুটপাথের চায়ের ষ্টলকেই বেছে নিতাম। বন্ধুদের সাথে বটেই বিভিন্ন মানুষের সাথেও মাঝে মাঝে খোশ-গল্প, হাসি-ঠাট্টা করে সময় কাটত। সেই ১৫-১৬ বছর আগে ব্লগ-ফেসবুক তথা নেটতো দূর মোবাইল ফোনও সেই রকম সাধ্যের মধ্যে ছিল না। এমনকি ডিশ ক্যাবলেও এত চ্যানেল ছিল না। তাই বয়স্ক, যুবক, তরুণরা এই হোটেল-রেস্তোরা ও চায়ের ষ্টলেই আড্ডা জমাত। বৃটেন আসার আগে সবচেয়ে কষ্ট পেয়েছি বিদ্যুত সংকটের পাশাপাশি প্রচন্ড ট্রাফিক জ্যাম। ২০০৫-০৬ সালেও একদিনে যেখানে ২-৩টি কাজ সারা যেত ২০০৯ সালে এক কাজে সারা দিন লেগে গেলেও অনেক সময় কাজ পরের দিন ছাড়া সম্পূর্ণ হত না। ঢাকাকে বিশৃঙ্খল, গোলমালে ও ঝামেলা পূর্ণ লাগত।

আজকে দুই বছরের উপর বৃটেনে আছি। কাজের জন্য লন্ডন ও দেশের অন্য শহড় যেমন লিডস, ম্যানচেষ্টার, নিউক্যাসেল পর্যন্ত যেতে হয়েছে। এই খানে একমাত্র লন্ডন একটু কোলাহল হলেও তার অবস্থা ঢাকা শহড় হতে অনেক ভাল। রাজপথে একটু দেড়ী হলেও আন্ডার গ্রাউন্ড টিউব এবং মেট্রোরেল দিয়ে অনায়াসে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই কোথাও পৌছুতে পেরেছি। বৃটেনের অন্যান্য শহড় গুলি আবার ফাকা। ট্রাফিক জ্যামতো নেই উপরন্ত ধূলাবালি, কোলাহল, নোংরা এবং মশা-মাছি মূক্ত। জীবনের এই প্রথম টানা দুই বছর মশারি ব্যাবহার করতে হয় নি :) এখনতো যদিও ব্লগ-ফেসবুক তথা ইন্টারনেটের বিপ্লব তবুও অবসরে সব সময় ঘরে থাকতে ভাল লাগে না। প্রায়ই ঘরের বাইরে বের হই। ঢাকায় যেমন পাড়া মহল্লায় একটু পর পর মুদি, হোটেল ও চায়ের ষ্টল এখানে অত না। তারপরেও সাধারণ হোটেল রেষ্টুরেন্টের চেয়ে ফাষ্টফুড, বার ও পাবের সংখ্যাই বেশী। কোন বাস, ট্রেন, বড় মার্কেট ছাড়া চা-কফি শপ তেমন নাই। আর যে গুলো একটু কম দামী তারা ঐ প্লাষ্টিক গ্লাসে দিয়েই বিদায় করে সেখানে বসার জায়গা নাই। বৃটেনে Starbucks, Costa, Cafe Nero জনপ্রিয় চেইন শপ হলেও মহল্লায়-মহল্লায় ও অলি গলিতে নেই। আছে কিছু স্থান বিশেষে। ঢাকায় যেমন রোজই একটু বের হলেই স্থানীয় এলাকার কোন ষ্টলে বসে আড্ডা দিতাম এইখানে এই সুযোগ কম। স্রেফ যে অর্থ তা নয় দূর পথের। নিজ দেশে বন্ধু, পরিচিত জন ও বাংলায় কথা বলে আড্ডা জমানো এখন অতীত স্মৃতি! এমনকি ষ্টেডিয়ামে মোহামেডানের ফুটবল খেলা হলেই হল সব কাজকে ফেলে দিয়ে ছুটে যেতাম। কি কড়া রোদ কি অঝোর বৃষ্টি কিছুরই বাধা মানতাম না। আর এ দেশের তথা ইংলিশ প্রিমিয়ার ফুটবল লীগ যা বিশ্বের সেরা শুধু লন্ডন নয় সারা ইংল্যান্ডের ক্লাব গুলি হোম এন্ড এওয়ের ভিত্তিতে খেলে। তাই লন্ডন হতে ম্যানচেষ্টার যাওয়াতো দূর লন্ডনের কোন ক্লাবে ম্যানইউ খেলতে এলেও টিকেট পাওয়াই যায় না। ২-৩ মাস আগে টিকেট বুক করলেও লাভ নেই কারণ সেদিন যদি কাজ থাকে(থাকেই কারণ শনি-রবি বেশী ব্যাস্ত) নো চান্স! ঢাকায় বসকে ম্যানেজ করতে পারলেও এখানে অসম্ভব ব্যাপার। দেশে এক কাজ গেলে সাথে সাথে আরেক কাজ পেয়েছি কিন্তু এদেশে সপ্তাহ এমনকি কয়েক মাস লেগে যায় কাজ পেতে, তাও ভাল বেতনে! এখানেই স্বস্তি যে যতটুকুন কাজ করি আল্লাহর রহমতে ন্যায্য বেতনই পাই। ঘর ভাড়া, খাওয়া, যাতায়াত সব খরচ মিটেও টিউশন ফিও দিতে পারছি। কি দিনে কি গভীর রাতে রাস্তায় চলাচলে কোন বিপদ নেই। পথে ঘাটে ছিনতাই, ডাকাতি(মোবাইল, টাকা, স্বর্ণের আংটি-চেইন) এখানে প্রায় র্দূলভ। কারো সাথে ঝগড়া-ঝামেলা, শত্রুতা নেই। কেউ কারো সাথে উৎপাত-বিরক্ত করে না। কি ক্রেডিট কি ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে শুধু বৃটেনে নয় বিশ্বের যেকোন জায়গায় যেয়ে কেনাকাটা করা যাবে। শুধু ঠিকানা ঠিক থাকলেই হল সাধারণ হতে লেটেষ্ট মডেলের আইফোন মোবাইল সেট পর্যন্ত দেড় কিংবা দুই বছরের কিস্তিতে লাইন সহ পাওয়া যায়।



নির্দিষ্ট স্থান হতে লাইন ধরে বাসে ও ট্রেনে উঠা এবং নির্দিষ্ট স্থানেই নামানো যে কত স্বস্তি তা কথায় বোঝানো যাবে না। ঢাকায় এমন স্বস্তি ও শান্তি থাকলে কোনদিনও বিদেশ যাওয়ার চিন্তা করতাম না। /:)
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×