সেই ১৯৯৫ সালের কথা। ডিগ্রী পর্যায়ে উঠে ঘুরা ফেরা অনেক বাড়িয়ে দেই। প্রায়ই ঢাকা শহড় চষে ফেলতাম। বেশীর ভাগই দোস্ত বন্ধুদের নিয়ে। একদিন একটি কারণে ঢাকা কলেজে যাওয়া দরকার। তো ঠিক করলাম মহল্লার দুইজনকে নিয়ে যাব এবং তাদের সাথে বিরিয়ানীও খাব। কিন্তু গেল একজন। সে যাই হৌক ঢাকা কলেজে কাজ সেরে নীলক্ষেতে একটি রেষ্টুরেন্টে বন্ধুর অনুরোধে তেহারী খাওয়ার ব্যাবস্থা করলাম বেলা আড়াইটার সময়। তারপর বললাম কি নিবা কোক না স্প্রাইট! সে বলল এ সব কিছুই না। তো কি? সে বলল চা খাব! আমি যেই বয়রে বললাম এই চা দাও...সে বলল থাম এখানে না, অন্যখানে মজার জায়গায়। তারপর আমাকে অবাক করে দিয়ে ফুটপাথের একটা চায়ের দোকানে নিয়ে এল বলল এখানেই চা খেতে মজা। আমার কাছে একটু অবাকই লাগল, যে হোটেলে আরামে ফ্যানের নীচে চা না পান করে এই ব্যাটার ফুটপাতে চায়ের জন্য এত আগ্রহ কেন? এই কথা জানতে চাইলে সে বলল হুমায়ুন আহমেদের হিমুরা এ রকমই রাস্তায় ফুটপাথে হঠাৎই কোথাও চা খেতে বসে যায়। সে যাই হৌক হিমু আমার খুব একটা পছন্দ না হলেও চায়ের ষ্টল কেন যেন ভাল লেগে গেল। তখন হতেই হোটেল-রেষ্টুরেন্ট-ফাষ্টফুডের দোকানে অন্য কিছু খেলেও চায়ের ব্যাপারে বেশীর ভাগই ফুটপাথের ষ্টলকেই বেছে নিতাম। ২০০৯ সালে বৃটেন আসার সময় পর্যন্ত বিভিন্ন কাজে ছোটাছুটিতে ফুটপাথের চায়ের ষ্টলকেই বেছে নিতাম। বন্ধুদের সাথে বটেই বিভিন্ন মানুষের সাথেও মাঝে মাঝে খোশ-গল্প, হাসি-ঠাট্টা করে সময় কাটত। সেই ১৫-১৬ বছর আগে ব্লগ-ফেসবুক তথা নেটতো দূর মোবাইল ফোনও সেই রকম সাধ্যের মধ্যে ছিল না। এমনকি ডিশ ক্যাবলেও এত চ্যানেল ছিল না। তাই বয়স্ক, যুবক, তরুণরা এই হোটেল-রেস্তোরা ও চায়ের ষ্টলেই আড্ডা জমাত। বৃটেন আসার আগে সবচেয়ে কষ্ট পেয়েছি বিদ্যুত সংকটের পাশাপাশি প্রচন্ড ট্রাফিক জ্যাম। ২০০৫-০৬ সালেও একদিনে যেখানে ২-৩টি কাজ সারা যেত ২০০৯ সালে এক কাজে সারা দিন লেগে গেলেও অনেক সময় কাজ পরের দিন ছাড়া সম্পূর্ণ হত না। ঢাকাকে বিশৃঙ্খল, গোলমালে ও ঝামেলা পূর্ণ লাগত।
আজকে দুই বছরের উপর বৃটেনে আছি। কাজের জন্য লন্ডন ও দেশের অন্য শহড় যেমন লিডস, ম্যানচেষ্টার, নিউক্যাসেল পর্যন্ত যেতে হয়েছে। এই খানে একমাত্র লন্ডন একটু কোলাহল হলেও তার অবস্থা ঢাকা শহড় হতে অনেক ভাল। রাজপথে একটু দেড়ী হলেও আন্ডার গ্রাউন্ড টিউব এবং মেট্রোরেল দিয়ে অনায়াসে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই কোথাও পৌছুতে পেরেছি। বৃটেনের অন্যান্য শহড় গুলি আবার ফাকা। ট্রাফিক জ্যামতো নেই উপরন্ত ধূলাবালি, কোলাহল, নোংরা এবং মশা-মাছি মূক্ত। জীবনের এই প্রথম টানা দুই বছর মশারি ব্যাবহার করতে হয় নি
নির্দিষ্ট স্থান হতে লাইন ধরে বাসে ও ট্রেনে উঠা এবং নির্দিষ্ট স্থানেই নামানো যে কত স্বস্তি তা কথায় বোঝানো যাবে না। ঢাকায় এমন স্বস্তি ও শান্তি থাকলে কোনদিনও বিদেশ যাওয়ার চিন্তা করতাম না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



