
বিগত বিংশ শতাব্দির শেষ বছরগুলিতে মুসলিম বিশ্বে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে যা বিগত বহু শতাব্দিতেও ঘটেনি। যেমন ইরানে ইসলামী ইনকিলাব, আফগানিস্তানে তালেবান বিজয়, সূদানে ইসলামী দলের ক্ষমতা লাভ, ফিলিস্তিনে ইন্তিফাদাহ, কাশ্মির-সোমালিয়া-আলজেরিয়ায় নিরলস জিহাদ এবং তুরস্কে ইসলামপন্থিদের ক্ষমতালাভ। এবং সে সাথে আরো গুরুত্বপূর্ণ হল দ্রুত গতিতে বেড়েছে ইসলামী জ্ঞানের প্রসার। ইসলামের উপর যত বই বিগত ৫০ বছরে লেখা ও ছাপা হয়েছে তা সম্ভবতঃ বিগত ৫০০ বছরেও হয়নি। শুধু আরবী-ফার্সী-উর্দু-বাংলার ন্যায় মুসলমানের ভাষায় নয়, ইংরাজী-ফরাসী-স্পেনিশ-হিন্দি ভাষার ন্যায় অন্যান্য ভাষাতেও। ফলে দ্রুত গতিতে বাড়ছে ইসলামের প্রচার। এর ফলে ইসলামের বিজয় ও বিশ্বশক্তি রূপে মুসলমানদের উত্থানে যারা বিশ্বাসী তাদের মধ্যে শুরু হয় নতুন আশাবাদ। অনেকেরই বিশ্বাস, ইসলামের উত্থান আজ আর দূঃস্বপ্ন নয়, বরং এক অপ্রতিরোধ্য বাস্তবতা।
বহু শতাব্দি মুসলমানেরা ঘুমিয়ে কাটিয়েছে। এ অবসরে তাদের মাথায় চেপে বসেছিল নানা দেশের, নানা ধর্মের, নানা ভাষাভাষী দুষমনেরা। সেসব দুষমনের হামলায় খন্ডিত হয়েছে তাদের ভূখন্ড, বিলুপ্ত হয়েছে তাদের স্বাধীনতা, দূষিত হয়েছে তাদের সংস্কৃতি। এমনকি তাদের ধর্মকর্মেও প্রচুর অধর্ম যোগ হয়েছে। তাদের মাঝে ইসলামের স্থলে বেশী প্রচার পেয়েছিল সমাজবাদ, জাতিয়তাবাদ, সেকুলারিজমসহ নানা জাহেলী মতবাদ। অতি বিলম্বে হলেও মনে হচেছ মুসলমানদের ঘুম এখন ভাঙ্গতে শুরু করেছে। অনেক দেশের মুসলমানেরা আজ গাঝাড়া দিয়ে উঠেছেন। বিংশ শতাব্দির শুরুতে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্রের সংখ্যা চারটির বেশী ছিল না, এখন সে সংখ্যা পঞ্চাশেরও বেশী। স্বাক্ষরতার হার ছিল শতকরা দশ ভাগেরও কম, এখন অনেক দেশে সে হার পশ্চিমা বিশ্বের সমকক্ষ। এ শতাব্দির শুরুতে মুসলিম দেশগুলিতে শিশু মৃত্যুর হার ছিল প্রতিহাজারে দুই শতেরও অধিক, এখন অনেক দেশে সে হার বিশেরও নীচে। শিল্পে প্রবৃদ্বির হার সূদান, মালয়েশীয়া, ইন্দোনেশীয়া, তুরস্কের মত কয়েকটি দেশে অনেক পশ্চিমা দেশের চেয়েও অধিক।
তবে ইসলামের প্রসার ও বিজয় রুখতে শত্রুপক্ষও নীরবে বসে নেই। বিশেষ করে ইরানের শাহের পতনের পর তারা আতংকিত। জ্বালানী শক্তির বেশীর ভাগ মুসলিম দেশগুলির হাতে। তাদের ভয়, ইরানের মত বাঁকী তেল ও গ্রাসসমৃদ্ধ দেশগুলোও যদি হাতছাড়া হয়ে যায়! তখন অচল হয়ে যাবে পাশ্চাত্য সভ্যতা। বিমান ও মটর গাড়ীর বদলে তখন ঘোড়ার গাড়ির খোঁজ করতে হবে। এ দুশ্চিন্তা তাদের শান্তি কেড়ে নিয়েছে। ফলে ইসলামের্ নবজাগরণ রুখতে ও মুসলিম দেশের স্বাধীনতা হরন করতে তারা এখন নতুন স্ট্রাটেজী নিয়ে হাজির। এ স্ট্রাটেজীর অংশ রূপেই তারা হাজার কোটি টাকা বিণিয়োগ করছে মুসলিম দেশের রাজনীতি, মিডিয়া ও সংস্কৃতির ময়দানে। বিপুল অর্থ ও রক্তের বিণিময় করছে মুসলিম দেশ দখলে। ফলে বিশ্ব-পরস্থিতিতে এখন নতুন মাত্রা। প্রতিপালন করে যাচেছ অতি বর্বর চরিত্রের স্বৈরাচরি শাসকদের। ফলে ইরানের বিপ্লব শাহকে যেভাবে পরাস্ত করল সেটি অসম্ভব হচ্ছে অন্যান্য স্বৈরাচারকবলিত মুসলিম দেশে। প্রয়োজন দেখা দিলে তারা সামরিক আগ্রাসনেও পিছুপা হচ্ছে না। এরফলে দিন দিন রক্তাত্ব হচ্ছে মুসলিম ভূমি। আজকের আফগানিস্তান, সোমালিয়া, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, আলজিরিয়া হল তারই উজ্বল দৃষ্টান্ত। তবে তাতে মুসলমানদের মাঝে যেমন বাড়ছে ইসলামি সচেতনা, তেমনি বাড়ছে জিহাদের জজবা। ফলে বাড়ছে বিজয়ের আরো সম্ভাবনা। অতীত ইতিহাসে মুসলমান কখনই দূষমনের হাতে নিজেদের রক্ত ঝরায় পরাজিত হয়নি। পরাজিত হয়েছে ঈমান শূণ্যতার কারণে। শহীদের রক্ত বরং মুসলমানের ঈমানশূণ্যতা দূর করে। তাই যে দেশে যত জ্বিহাদ, সেদেশের মুসলমানেরা ততই শক্তিশালী ও মর্যাদাবান। আর যে দেশে ইসলামের বিজয়ের জিহাদ নেই এবং শত্রুর হাতে ঝরেনি মুসলমানের রক্ত, সে দেশে মানুষের মাঝে ঈমানের গভীরতা নেই। আল্লাহর দ্বীনের বিজয়ও নেই। এবং প্রতিষ্ঠা নাই শরিয়তের। শক্তি ও মর্যাদার বদলে সেসব দেশ বরং খেতাব পায় দূর্নীতিপরায়ন দেশ রূপে। মুসলমানদের সবচেয়ে বেশী বিজয় এসেছে নবীজী (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামের সময়। অথচ তখন যুদ্ধ প্রতিবছর লেগেই থাকতো। তাতে শতকরা ৬০ ভাগ সাহাবীকে প্রাণ দিতে হয়েছে। অথচ পলাশীর প্রান্তরে ব্রিটিশ হামলার মুখে বাংলার মুসলমানদের এক ফোটা রক্তও ঝরেনি। তবে সেদিন রক্তক্ষয় থেকে বাঁচলেও তাতে ইজ্জত বাঁচেনি। দেশটির জনগণের কপালে জুটেছিল সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশদের সবচেয়ে সিনিয়র গোলাম রাষ্ট্রের খেতাব।
এ শতাব্দিতে ইসলামের উত্থান এতটা সম্ভাবনাময় হয়ে উঠার কারণ অনেক। তবে সবচেয়ে বড় কারণ হল, শত্রুর হামলা রুখতে তারা রক্ত দিতে শিখেছে। শহীদের রক্ত যে বোমারু বিমান ও ট্যাংকের চেয়েও শক্তিশালী সেটির প্রমাণ তারা রেখেছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শক্তি সোভিয়েত রাশিয়াকে তারা সে রক্ত দিয়েই পরাস্ত করেছে। উপরন্ত, তারা মীর জাফরদেরকে চিনতে ও ঘৃনা করতে শিখেছে। এজন্যই আফগানিস্তানের হামিদ কারজাই আফগানদের মধ্য থেকে একজন বিশ্বস্থ্য দেহরক্ষীও খুঁজে পায়নি। একই অবস্থা মুসলিম দেশগুলোর অন্যান্য দাসশাসকদের। তাদের হাতে অধিকাংশ মুসলিম ভূমি আজ অধিকৃত। তবে এমন পতনের মাঝেও কেন সম্ভাব্য বিজয়ের সম্ভাবনা? এক্ষেত্রে সে কারণগুলো হল নিম্নরুপঃ
এক. ইসলামী জ্ঞানের বিকাশ
মুসলমানদের শক্তির মূল উৎস হল কোরআন। সম্প্রতি সে কোরআনী জ্ঞানের যেরূপ প্রচার বেড়েছে তা বিগত বহুশত বছরেও ঘটেনি। এখন এ জ্ঞান শুধু মাদ্রাসার শিক্ষক, ছাত্র বা মসজিদের ইমামের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ ছাত্র, শিক্ষক, ডাক্তার, প্রকৌশলী, কৃষক, শ্রমিক –তথা সর্বশ্রেণীর মানুষের মাঝে। শুধু বুদ্ধিবৃত্তির ময়দানেই তারা কলম যুদ্ধই লড়ছে না, অস্ত্র হাতে জ্বিহাদের ময়দানেও হাজির হচেছ। প্রতি যুগে ইসলামের ক্ষতি সাধনে শুধু বিধর্মী শত্রুরাই যুদ্ধের ঘোষণা দেয়নি, সচেষ্ট হয়েছে লেবাসধারী বহু মুসলমানও। এজিদের হাতে ইমাম হোসেন (রাঃ)এর শাহাদতের পর এদের হাতেই নির্ভেজাল ইসলাম চর্চা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ইসলামের ইতিহাসে এমন এজিদের সংখ্যা কম নয়, বরং অসংখ্যা। এবং এদের জন্মও মুসলিম পরিবারে। সঠিক ইসলামী চেতনার বিস্তারকে এরা সব সময়ই আপন অস্তিত্বের প্রতি হুমকি ভেবেছে। নির্ভেজাল ইসলামী চেতনার বিলুপ্তিতে বিস্তর শ্রম, মেধা ও রাষ্ট্রীয় পূজীর বিনিয়োগ হয়েছে বস্তুত এদেরই নেতৃত্বে। জাল হাদিস থেকে শুরু করে করে ঈমানদারের জাল মডেলও খাড়া করা হয়েছে। এদের মূখ দিয়ে রাজনীতি ও শাসনকার্যকে পার্থিব বিষয় আখ্যা দিয়ে অরাজনৈতিক সন্যাস জীবনকে ধার্মিকতার প্রতীকরুপে চিত্রিত করা হয়েছে। এমন প্রচারণায় বিভ্রান্ত হয়ে বহু মুসলমানই এজিদদের ন্যায় অতি কপট ও কদর্য চরিত্রের মানুষদের জিম্মায় রাজনীতি ন্যস্ত করে নিজেরা তসবিহ হাতে জায়নামাজে বসেছে। রাষ্ট্রীয় খরচে মাদ্রসা গড়ে এরা কোরআনের তেলাওয়াত, হেফয বাড়ালেও সৎ ও সাহসী লোকের সংখ্যা বাড়েনি। ফলে শত্রুর হামলায় ব্যাপক গনপ্রতিরোধও গড়ে উঠেনি। ফলে দূর্গের পতন ঘটার পরপরই পতন ঘটেছে দেশের তথা বিশাল জনগোষ্টির। এমন মাদ্রাসার প্রতিষ্টায় এমনকি সাম্রাজ্যবাদী শত্রু শাসকও অর্থব্যয়ে কার্পণ্য করেনি। নবীর(সাঃ) জামানায় এরূপ প্রকান্ড মাদ্রাসা ছিল না। যা ছিলো তা হলো খেজুর পাতার ছাউনি ঢাকা মসজিদে নববী। কিন্তু সে মসজিদ থেকে যত সংখ্যক শহীদ ও গাজী সৃষ্টি হয়েছে মুসলিম বিশ্বের হাজার হাজার দ্বীনি মাদ্রাসা থেকে শত বছরেও তা হয়নি।
আশার কথা, বিগত শতাব্দিতে ইসলামী ইলমচর্চা শাসকের প্রভাবমূক্ত হয়েছে। ফলে ইলমচর্চায় রুটি-রুজীর ফিকরের স্থলে সংযুক্ত হয়েছে ইবাদতের প্রেরণা। জ্ঞানচর্চার অর্থ যে সার্টিফিকেট লাভ নয় বরং প্রকৃত মুসলমান হওয়ার সামর্থলাভ তা মুসলিম বিশ্বের অনেকেই আজ বুঝতে শিখেছে। অন্যের দান-খয়রাতের উপর ভরসা করে নয় বরং জ্ঞানার্জনে নিজের অর্থব্যয়েও অনেকে কার্পণ্য করছে না। মুসলমানদের বড় সৌভাগ্য হল তাদের নানা অধঃপতনের মাঝেও ইসলামের মূলসূত্র পবিত্র আল কোরআন আজও অবিকল আবিকৃত রয়েছে। ফলে যারা ইসলামকে জানতে চায় তাদের জন্য জানবার সে সুযোগও রয়েছে। সম্প্রতি বিশ্বের প্রায় প্রতিটি প্রসিদ্ধ ভাষায় পবিত্র কোরআনের একাধিক অনুবাদ ও তফসির বেড়িয়েছে, অথচ মাত্র ৫০/৬০ বছর পূর্বে বাংলা ভাষার মত বিশ্বের অন্যতম প্রধান ভাষাতেও তা বিদ্যমান ছিল না। ফলে পবিত্র কোরআন এখন বর্তমান বিশ্বের সর্বাধিক পঠিত গ্রন্থ। ফলে মাদ্রাসার ছাত্রই শুধু নয় একজন সাধারণ স্কুলছাত্রও কোরআনের তাফসির মাতৃভাষায় পড়তে সক্ষম। ফলে মুসলমানদের মাঝে বৃদ্ধি পাচ্ছে ইসলামী জ্ঞান এবং চেতনায় বাড়ছে ইসলামী সচেতনতা।
আর যে কোন বিপ্লবের পূর্বশর্তই হলো চেতনায় এ পরিবর্তন। বিশ্বে আজ অবধি যত পরিবর্তন, বিবর্তন বা বিপ্লব এসেছে তার সবগুলীর মূলেই ছিল মানুষের মনজগতে পরিবর্তন। একেই বলা হয় চিন্তার মডেলে পরিবর্তন বা paradigm shift। চিন্তার মডেলে পরিবর্তন এলে কর্মে পরিবর্তন আর বিলম্বিত হয় না। ইউরোপীয়দের দ্বারা আমেরিকা তথা নতুন বিশ্ব আবিস্কারের পিছনেও এমনি এক মনজগতের পরিবর্তন বা paradigm shift বা চিন্তার মডেলে পরিবর্তন কাজ করেছিল। ইউরোপীয়দের চিন্তাজগতে এক সময় টলেমীর geocentric ধারণার প্রাবল্য ছিল। টলেমীর ধারণা ছিল, পৃথিবী থালার মত গোল। ক্রমাগত একদিকে চলতে থাকলে থালার কেনারা ডিঙ্গিয়ে নীচের অতল অন্ধকারে পড়ে যাওয়াটা অনিবার্য। তাই ইউরোপীয়রা সমুদ্রযাত্রায় ভয় পেত। এরপর আসে কোপারনিকাস। তিনি বলেন পৃথিবী থালার মত নয়, এটি গোলাকার। ফলে অবিরাম চলতে থাকলেও পড়ে যাওয়ার ভয় নেই, ষেমন পিঁপড়া পড়ে না গোলাকার বলের উপর থেকে। কোপারনিকাসের ধারণায় দীক্ষা নেওয়ার কারণে কলম্বাসের চেতনায় আসে paradigm shift বা আমূল পরিবর্তন। এরই ফলে কলম্বাস পৃথীবির অপর পৃষ্ঠ তথা নীচে দিয়ে ভারত যাত্রায় উদ্যোগী হয়। ফলে পূর্ব দিকের বদলে পশ্চিম দিকে জাহাজ চালনা শুরু করে। এভাবে পশ্চিম দিক দিয়ে ভারত যাত্রার পথে আবিস্কৃত হয় আমেরিকা। এমনি এক paradigm shift বা চিন্তার মডেলে পরিবর্তন আনতে সমর্থ হয়েছিলেন মহা নবী (সাঃ)। সে কালে আরবদের মাঝে পরকালীন জীবনের ধারণা ছিল না, যদি তারা আল্লাহতে বিশ্বাসী ছিল এবং তাদের সন্তানের নাম আব্দুল্লাহ রাখতো। নবীজী (সাঃ) মানুষের সামনে তুলে ধরলেন, এ দুনিয়াই সবটুকু নয়। এ জীবনের পরে রয়েছে আখেরাতের জীবন, যার কোন শেষ নেই। আরো বুঝালেন মানুষের জীবনে মৃত্যু নেই বরং আছে ইন্তেকাল তথা ট্রান্সফার। এবং এতে আছে বিশ্বাসীর জন্য প্রমোশন তথা জান্নাতপ্রাপ্তি এবং অবিশ্বাসীর জন্য রয়েছে ডিমোশন, যাতে জুটবে জাহান্নাম। জান্নাতপ্রাপ্তি ঘটে আল্লাহদ্বীনের প্রতিষ্ঠায় তার কোরবানীর বিণিময়ে। সত্যিকার ঈমানদারের জীবনে মৃত্যুতে তাই হারাবার ভয় নেই, বরং রয়েছে জান্নাত প্রাপ্তির নিশ্চিত সম্ভাবনা। ইসলামের প্রতিষ্টায় অর্থ, রক্ত ও প্রাণ দানে তার সে সম্ভাবনাই আরো ত্বরান্বিত হয়। ফলে একাজে ঈমানদার হয় অকুতোভয়। ফলে সেদিন জীবনমৃত্যু মোমেনের কাছে পায়ের ভৃত্য ভিন্ন অন্য কিছু মনে হয়নি। ফলে ঘরে ঘরে সেদিন শহিদ সুষ্টি হয়েছিল। একমাত্র হযরত আলীর (রাঃ) পরিবারে সেদিন যত শহিদ সৃষ্টি হয়েছে পরিবর্তি কালে চেতনার দূষিতকরণের ফলে বহু লক্ষ পরিবারেও তা সম্ভব হয়নি। ফলে জনসংখ্যায় বাংলাদেশের একটি বা দুইটি থানার সমান হয়েও প্রাথমিক যুগের মুসলমানেরা সেদিন বিশ্বশক্তি হতে পেরেছিলেন। এবং গড়ে তুলতে পেরেছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতা।
সঠিক ইসলামের সাথে মুসলমানদের পরিচয় যতই বাড়ছে, ততই তার মনজগতের পরিবর্তন দ্রুততর বা ব্যাপকতর হচ্ছে। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে ইসলামের সত্যিকার যোদ্ধাও। লেবাননে এরাই মার্কিনীদের বিতাড়িত করেছিল। এরাই আফগানিস্তান থেকে বিশাল রুশ বাহিনীকে পরাস্ত করেছিল। ফিলিস্তিনে এরাই ইসরাইলীদের জন্য ত্রাস। কাশ্মিরে বার বার যুদ্ধ করেও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ভারতের বিরুদ্ধে যা করতে পারিনি তার চেয়ে অনেক বেশী করছে সেখানকার মুজাহিদরা।
দুই. প্যান-ইসলামী চেতনা
পবিত্র কোরআনের একটি মৌলিক শিক্ষা হল, প্যান-ইসলামী চেতনা। নবীজির কাছে ব্যক্তির ভাষা, ভূগোল, রঙ ও নছল কোনটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। গুরুত্বপূর্ণ ছিল তার ঈমান ও আমল। অতি গুরুত্বপূর্ণ ছিল ইসলামের পথে তাঁর আত্মত্যাগ। তাঁর কাছে হাবসী বেলাল (রাঃ), ফারসী সালমান (রাঃ), রোমান সোহায়েল (রাঃ)বা আরব উমরের (রাঃ) মধ্যে কোন পার্থক্য ছিল না। ভাষা, বর্ণ বা জাতি পুজাকে তিনি মূর্তিপূজার মতই ঘৃনা করেছেন। ইসলামের লক্ষ্যই হল, ভূগোলের সীমান্ত ও তার সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে ঘরে ঘরে সত্যের বাণীকে পৌছে দেওয়া। আজকের মুসলমানরা ইসলামের এ প্যান-ইসলামিক চেতনার সাথে একাত্ম হচ্ছে। তাই ফিলিস্তিন বা লেবাননে হামলা হলে করাচী, কায়রো, জাকার্তা বা ঢাকার রাজপথে প্রতিবাদের ঢল নামে। আগামী দিনে ইসলামের উত্থানে এমন প্যান-ইসলামিক চেতনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এমন এক প্যান-ইসলামিক চেতনার বলেই আফগানিস্তান থেকে রাশিয়ার বিতাড়ন সম্ভবপর করেছিল। জিহাদেরও কোন সীমা-সরহাদ নেই। ফলে আফগানিস্তানের জিহাদের ময়দানে সেদিন আরব, পাকিস্তানী, বাংলাদেশী, মালয়েশিয়ান, ইন্দোনেশিয়ান, চেচেন গিয়ে হাজির হয়েছিল। নইলে আফগানিস্তানের জনগণের একার পক্ষে সেদিন অসম্ভব হত একটি বিশ্বশক্তি পরাজিত করা। সেখানে আফগানদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রাণপণ যুদ্ধ করেছে বহু দেশের বহু ভাষার মানুষ। জালেমের জুলুমের বিরুদ্ধে মুজলুমের যে জিহাদ – সেটি শুধু কোন বিশেষ ভাষাভাষীর নয় বরং সেটিকে বিজয়ী করার দায়িত্ব সমগ্র উম্মাহর। তেমন একটি চেতনার ব্যাপ্তি এখন বিশ্বজুড়ে।
তিন. বর্তমান বিশ্বের আদর্শিক শূণ্যতা
মানব সভ্যতা আজ আদর্শিক দিক দিয়ে শূন্য। পুজিবাদ ভোগের আয়োজন যেমন বাড়িয়েছে তেমনি বাড়িয়েছে হত্যা, নির্যাতন ও শোষনের আয়োজনও। বহু কোটি মানুষ তাদের হাতে প্রাণ হারিয়েছে। শোষনকে নিশ্চিত করতে তৃতীয় বিশ্বের নানা দেশে তারা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ উপহার দিয়েছে। আফগানিস্তান, ইরাক ও ভিয়েতনামের গণহ্ত্যাই তাদের একমাত্র অপরাধ নয়। তাদের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে সে সব দেশেও যেখানে যুদ্ধ হয়নি। মানুষ এ মতবাদের কাছে শোষণের হাতিয়ার বৈ নয়। নারীও পরিণত হয়েছে ভোগ্য-পণ্যে। নারীর দুটি সত্ত্বা। একটি তার নারীত্ব, অপরটি তার যৌনতা। পুঁজিবাদ নারীর যৌনতা নিয়ে বাণিজ্য বসিয়েছে। এ লক্ষ্যে বিধস্ত করেছে পারিবারকে। ফলে বিপন্ন হয়েছে সভ্যতা।
পুঁজিবাদের শোষণ দেখে মজলুম মানুষ মূক্তির পথ খুঁজেছিল সমাজতন্ত্রে। বিশ্বের বহু মুক্তিপাগল মানুষ সমাজতন্ত্রের প্রতিষ্টায় অর্থ, শ্রম ও রক্তও খরচ করেছিল প্রচুর। জানমালের সে বিপুল বিণিয়োগে সেদিন সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল বহু দেশে। কিন্তু খরচের খাতাটি সেদিন বহু লক্ষ মানুষের রক্ত ও চোখের পানিতে পরিপূর্ণ হলেও তাতে মানব জাতির লাভের অংকে জুটেছে সামন্যই। কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছার পর দেখতে পেল তারা দৌড়িয়েছে ভ্রান্ত পথেই। ফলে শুরু হয়ে হল ফিরে আসার পালা। এক কালের গোঁড়া মার্কসিষ্টরা আজ দেশে দেশে পিছু হটছে একারণেই। তাই ইসলাম তার নিজের জন্য পাচ্ছে আদর্শিক দিক দিয়ে একটি বিরাট রকমের শূণস্থান।
চার. নেতৃত্বে বহু-কেন্দ্রিকতা
পূর্বের ন্যায় এখন শুধু আরব, তূর্ক, ইরানী বা অন্য কোন ভাষাভাষীর হাতে মুসলিম নেতৃত্ব সীমাবদ্ধ নয়; কুক্ষিগতও নয়। ইসলামের বিজয় বা মুসলিম স্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে এখন অনেকেই আগ্রহী। এখন একাজে অনেকের সামর্থও বেড়েছে। পশ্চিমের আরব, তূর্ক, ইরানীদের পাশাপাশী এখন উদীয়মান মুসলিম শক্তি হলো মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিইয়া। ইন্দোনেশিয়া এখন বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র। আরবরা এক রাষ্ট্র, এক ভাষা ও এক ধর্ম হওয়া সত্তেও যেখানে বিশটির বেশী রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছে এ এলাকার আরেক রাষ্ট্র মালয়েশিয়া সেখানে নানা ভাষা ও নানা ধর্মের মানুষকে নিয়ে একত্রে শান্তিপূর্ণ বসবাসের নজির স্থাপন করেছে। পাশ্চাত্য শক্তিবর্গের প্রচারে ইসলামকে গণতন্ত্রের সাথে incompatible বা অসহনীয় দেখানো হয়। বহুদলীয় গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে মালয়েশিয়া তার সে অভিযোগের জবাবও দিয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হারেও তারা অনেক পশ্চিমা দেশকেও ছাড়িয়ে গেছে। আর এসব কিছু তারা করেছে কামাল পাশা বা ইরানের শাহের মত পশ্চিমাদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাঁবেদারী না করেই। এভাবে তারা ইসলামের উত্থানের প্রতি গড়ে তুলেছে এক দৃঢ় আত্ম বিশ্বাস।
পাঁচ. অঢেল জনসম্পদ ও অর্থসম্পদ
মুসলিম বিশ্ব নিঃস্ব নয়, বরং যেমন রয়েছে বিশাল জনসম্পদ তেমনি রয়েছে অঢেল প্রাকৃতিক ও কৃষি সম্পদ। এদেশগুলীতে গচ্ছিত রয়েছে বিশ্বের সর্বাধিক পরিমান খনিজ তেল, গ্যাস, টিন ও ইউরেনিয়াম। বিশ্বের সর্বাধিক পরিমাণ তুলা, গম, পাট ও রাবার উৎপাদিত হয় এদেশগুলীতেই। পৃথিবীতে শক্তির আরেক অফুরন্ত উৎস সৌরতাপের বিশাল জোগান রয়েছে এখানেই। এমন অঢেল সম্পদের ফলে সব দেশে যেমন সৃষ্টি হয়েছে বিপুল ক্রয়ক্ষমতা এবং সে সাথে বৃহৎ বাজার। ফলে বেড়ে চলেছে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তাদের গুরুত্বও। বিদেশীদের কাছে এমনকি মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার বাজারও ভারতের বাজারের চেয়ে খুব একটি ক্ষুদ্রতর নয়। এহেন গুরুত্বের অনুধাবন বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে তাদের রাজনৈতিক উত্থানের সামর্থকেও। বৃদ্ধি পাচ্ছে তাদের আত্ববিশ্বাসও।
ছয়. ইউরোপ-আমেরিকায় মুসলমানদের সংখ্যাবৃদ্ধি
বিশ্বের সর্বপ্রান্তে আজ মুসলমান। ইসলামের দ্রুত বিস্তার ঘটছে এশিয়া, আফ্রিকা, আমেরিকা, ইউরোপের সবগুলি দেশে। তবে সে সংখ্যাবৃদ্ধিটি সবচেয়ে দ্রুত ঘটছে ইউরোপ ও আমেরিকায়। বিগত কয়েক দশকে ইসলাম গ্রহণ করচছেন বেশ কিছু শ্বেতাংগ অধ্যাপক, লেখক, কলামিষ্ট ও সাংবাদিক। তাদের লিখিত বই ইদানিং কালে ইসলামের উপর লিখিত বইয়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠতর। পাশ্চাত্যের দেশগুলিতে ইসলামের প্রচারে ও কলম যুদ্ধে তারা বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছেন। পাশ্চাত্য সভ্যতা ও সংস্কৃতির সবচেয়ে কঠোর সমালোচনা আসছে মূলত তাদের পক্ষ থেকেই। এদের কারণে ইংরেজী ও ফরাসী ভাষায় আজ যত ইসলামী বই পাওয়া যায় তা বাংলার মত ১৬ কোটি মুসলমানের ভাষাতেও নেই। ভাষা দু'টি এখন শুধু কাফেরদের ভাষা নয়, ইসলামের ভাষাও। এসব বইয়ের কারণে ইসলামের দাওয়াতি কাজে বাড়ছে বিস্তর সহায়তা। এভাবে পাশ্চত্যের বুদ্ধিবৃত্তিক ময়দানে শক্ত অবস্থান পাচ্ছে ইসলামের পক্ষের শক্তি।
সাত. স্বাধীন মুসলিম রাষ্টের সংখ্যাবৃদ্ধি
বিধস্ত সোভিয়েট রাশিয়ার পেট চিঁড়ে ছয়টি মুসলিম রাষ্ট্র স্বাধীনতা পেয়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়। স্বাধীনতার লড়াই তীব্রতর হচ্ছে চীন অধিকৃত বিশাল সিনকিয়াংয়েও। প্রদেশটি পাকিন্তানের উত্তর সীমান্ত প্রদেশের সীমান্ত থেকে মঙ্গোলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। সিনকিয়াংয়ের পশ্চিমে অবস্থিত অধুনা স্বাধীন কাযাকিস্তান, কিরকিজস্তান তাজিকিস্তান। ফলে অদূর ভবিষ্যতে বিস্তৃত এ মুসলিমভূমিও যে ইসলামী শক্তির উত্থানে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে সেটি নিশ্চিত। স্বাধীন দেশে মুসলমানগণ নিজ ধর্ম ও নিজ সংস্কৃতি নিয়ে দ্রুত বেড়ে উঠার সে সুযোগ পায় সেটি পরাধীন দেশে বা অমুসলিম দেশে জোটে না। ভারতের মুসলমানগণ সংখ্যায় পাকিস্তানের মুসলমানের চেয়ে অধিক। কিন্তু যত আলেম, যত বিজ্ঞানী, যত ইসলামী বই এবং ইসলামের পক্ষের যত মুজাহিদ পাকিস্তানে সৃষ্টি হয়েছে ভারতে কি তার সিকি ভাগও হয়েছে? ভারতীয় মুসলমানেরা পরিনত হয়েছে খাঁচার পাখি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো এজন্যই ইসলামের বিজয়ে পাকিস্তানের সম্ভাব্যতা নিয়ে আতংকিত। আতংকিত ভারতও। সোভিয়েত রাশিয়াকে বিলুপ্ত করার ক্ষেত্রে আফগান জিহাদের পাশাপাশি পাকিস্তানীদের সহায়তাকে কে অস্বীকার করা যায়? সেকুলারগন সে দেশে এখন ইসলামপন্থিদের বিরুদ্ধে একাকী লড়াইয়ের সামর্থ হারিয়েছে। নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব বাঁচাতে তারা এখন ভর করেছে মার্কিনীদের কাঁধে।
আট. ইন্টারনেট ও প্রচার মিডিয়া
ইসলামের প্রচারে বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে ইন্টারনেট এবং প্রচার মিডিয়া। কোরআনের পয়গাম এখন এ ইন্টারনেটের মাধ্যমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে। কোটি কোটি মানুষ এখন মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় বা লাইব্রেরীতে না গিয়েও কোরআনের শিক্ষাকে নিজ ঘরে বসে শিখতে পাচ্ছে। যারা কিছু লিখতে চায়, বলতে চায় এবং অন্যদের জানাতে চায় তারাও ইন্টারনেটের মাধ্যমে অতি অল্প খরচে বিশ্বের নানা দেশে তা পৌছে দিতে পারছে। মানব জাতির ইতিহাসে আর কখনই জ্ঞানের এত ব্যাপক বিস্তার ঘটেনি। আর এতে সবচেয়ে বেশী লাভ হচ্ছে ইসলামের। কারণ সত্যদ্বীন প্রচারে মূক্ত মঞ্চ পেলে মিথ্যা ভাগতে বাধ্য। আঁধার যত গভীরই হোক আলো জ্বালানো মাত্রই তা বিলুপ্ত হতে বাধ্য। ইন্টারনেট তাই এখন ইসলামী জ্ঞান ঘরে ঘরে পৌছানোর সবচেয়ে বড় পাইপ লাইন। বিশ্বের সকল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যত ছাত্র জ্ঞান আহরণ করে তার চেয়ে বেশী ছাত্র এখন জ্ঞানের ছবক নিচেছ ইন্টারনেট থেকে। এটি এক উম্মূক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। মানব জাতির সমগ্র ইতিহাসে এতবড় সুযোগ আল্লাহতায়ালার কোন নবী পাননি, নবীদের কোন সাহাবাও পাননি। কোন মোজাদ্দেদও পাননি। ইসলামের পক্ষে এটিই এখন সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। জিহাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রণাঙ্গণ এখন এটি। প্রশ্ন হল, আল্লাহর সৈনিকেরা এ মহা সুযোগ থেকে কতটা ফায়দা উঠাতে পারেন। ইসলামের বিজয় কতটা দ্রুত হবে সেটি নির্ভর করছে জিহাদের এ ময়দানটিতে আল্লাহর দলের সৈনিকেরা কতটা বীরত্ব ও বুদ্ধিমত্তার সাথে লড়ে তার উপর। জিহাদের এ রণাঙ্গনে চলে কলম যুদ্ধ। নবীজী এ যুদ্ধে ব্যবহৃত কলমের কালীকে শহীদের রক্তের চেয়েও পবিত্র বলেছেন। এ কলম যুদ্ধের ময়দান থেকেই তো রণাঙ্গনের লড়াকু মোজাহিদ পয়দা হয়। মোজাহিদরা প্রায় আদর্শিক বল, পায় নির্দেশনা। এখান থেকেই তো বীজ ছিটানো হয় ইসলামী বিপ্লবের। কোরআনের বাণী শোনাতে গিয়ে নবীজী (সাঃ) পদে পদে বাধাগ্রস্ত হযেছেন। তায়েফে গিয়ে শত্রুদের হাতে পাথরের আঘাত খেয়ে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছেন। কিন্তু এখন আর সে বাঁধাই নাই। এমনকি চরম স্বৈরশাসিত একটি দেশের অভ্যন্তরেও দ্বীনের দাওয়াত বিনা বাঁধায় পৌঁছে দেয়া যায় ইন্টারনেটের মাধ্যমে। কোন কাফের শক্তিই অতীতে সে সুযোগ কোন ইসলামের প্রচারককে দেয়নি। ফিরাউন-নমরুদের ন্যায় সর্বকালের দুর্বৃত্ত শাসকেরা সব সময়ই হয় তাদেরকে হত্যা করেছে, অথবা কারারুদ্ধ করেছে। তাই ইসলামের পক্ষের শক্তির হাতে এখন এক মহা সুযোগ। আদর্শিক লড়াইয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ারটিকে এখন তারা ইচ্ছামত ব্যবহার করতে পারে। ইসলামের বিজয়ের এত সম্ভাবনা তো আজ একারণেই।
মূল প্রবন্ধঃ Dr. Firoz Kamal
---

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



