ভারত-পাক উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িকতা বলতে যা বোঝান হয়ে থাকে তা হল ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকদের মধ্যে বিভেদ এবং বৈষম্য এবং এক গোষ্ঠীর আরেক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পোষন, হেয় জ্ঞান, কটুক্তি এবং কখনো তা হিংসাত্বক সঙ্ঘর্ষের রুপ নেওয়া।
আমাদের দেশে সাম্প্রদায়িকতার ইতিহাস অনেক প্রাচীন।বৃটিশ শাসনের আগে ৪/৫ শ বছর এ দেশ ছিল মুসলিম শাসনাধীণ। সুলতানাত বংশ বা মোগল শাসন আমলে এই রেষারেষি বেশী প্রকট ছিল না। তবে একেবারে ছিল না তাও নয়, যেমন “জিজিয়া কর” কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার প্রভাব সামাজিক জীবনে ছিল সীমিত। হিন্দুর প্রতি মুসলমানের বা মুসলমানের প্রতি হিন্দুর বিদ্বেষপুর্ন আচরন বিশেষভাবে রুপ নেয় বৃটিশ সাশনের শেষের দিকে এসে। তৎকালীণ ভারত বর্ষে সংখ্যা গরিষ্ট ছিল হিন্দুরা আর শিক্ষা দীক্ষা ধনসম্পদে হিন্দূরা ছিল মুসলমানদের চেয়ে অগ্রসর।কারন ছিল বৃটীশ শাসনামলে হিন্দুদের প্রতি পৃষ্ঠপোষকতা এবং মুসলমানদের কুসংস্কার।বৃটিশ আগমনের আগে
শাসক গোষ্ঠীর আনুকল্য পেত মুসলমানরা এবং পরে তা পেতে থাকলো হিন্দুরা। একই সাথে যোগ হল ধর্মীয় গোড়ামী। ঐ সময় আধুনিক চিন্তাভাবনা, ইংরেজী শিক্ষা মুসলমানেরা সযত্নে পরিহার করে চলতেন, ফলে তারা ক্রমশ পিছিয়ে পড়তে থাকেন। ধর্মীয় ভেদাভেদ এবং বিদ্বেষকে উতসাহিত করা ছিল বৃটিশ শাসনের মুলনীতি।যেহেতু তারা ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয় মুসলিম শাসকদের থেকে বৃটিশরা মুসলমানদের চেয়ে হিন্দুদের প্রতি বেশী আনুকল্য দেখাতে থাকে।
পশ্চাৎপদ মুসলিমদের উন্নয়নে এক সময় স্যার সৈয়দ আহমেদ প্রতিষ্ঠা করেন আলীগড় বিশ্ব বিদ্যালয়।এবং এই শিক্ষিত মুসলিম শ্রেনীই পরবর্তীতে মুসলিম লীগ ও পাকিস্তানের প্রবক্তা।হিন্দু মসলিমদের পারস্পরিক বিদ্বেষ বিভিন্ন সময়ে সাপম্রদায়িক দাঙ্গার সুত্রপাত ঘটায়। ১৯৪৬ সালে কোলকাতায় নিকৃস্টতম দাংগা হয়। ১৯৪৭ এ ধর্মের ভিত্তিতে দেশ বিভাগ হল।হিন্দুদের দেশ ভারত আর মুসলিমদের দেশ পাকিস্তান।বৃটিশ ভারতে তৎকালীন “বেঙ্গল” এবং পাঞ্জাব” প্রধানতঃ এই দুই প্রদেশে হিন্দু এবং মুসলিমদে্র সংখ্যা ছিল প্রায় সমান সমান।আর এই দুই প্রদেশকেই ভাগ করে দেওয়া হয় দু দেশের মধ্যে, পশ্চিম বাঙ্গলা হয় ভারতের অংশ আর পুর্ব বাঙ্গলা হয় পাকিস্তানের পুর্বভাগ বা পুর্ব পাকিস্তান।দেশ ভাগ হওয়ার ফলে বিপুল পরিমান হিন্দুরা ততকালীন পুর্ব পাকিস্তান ছেড়ে ভারতে বা প্রধানত পশ্চিম বঙ্গে চলে যায়।
পুর্বপাকিস্তানেও বিভিন্ন সময়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে। ১৯৫৬ সালে, ১৯৬৫ সালে।এর পেছনে ছিল ভারত থেকে আসা বিহারীরা এবং পাকিস্তানী সরকার।
১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীন দেশ বাঙ্গলাদেশ পেলাম। স্বাধীন বাঙ্গলাদেশে আমরা সবাই বাঙ্গালী।হিন্দু বা মুসলিমের চেয়ে বড় পরিচয় আমাদের দেশ। তারপরও সাম্প্রদায়িকতা এবং সাম্প্রদায়িক শক্তি কিন্তু বিলীন হয় নি। উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠী , রাজনীতিবিদরা ধর্মকে পুজি করে তাদের স্বার্থ উদ্ধার করছেন। হিন্দুরা আওয়ামী লীগ সমর্থক। আওয়ামী লীগ ভারত পন্থী দল, ভারত হিন্দুদের দেশ, আর তাই হিন্দুরা আওয়ামী লীগের সমর্থক। আমাদের নির্বাচনী এলাকা নড়াইল-২ শতকরা ৩৫ ভাগ ভোটার হিন্দু,দু একবার ছাড়া এ এলাকাতে বরাবরই আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিতে থাকেন। নির্বাচনে পরাজয়ের দায় ও চাপিয়ে দেওয়া হয় হিন্দুদের উপর।কিন্তু কাউকে বা কোন ধর্ম গোষ্ঠীকে নির্বাচনী ফলাফলের জন্য দায়ী করা চলে না।স্বাধীন ভাবে ভোট অধিকার প্রয়োগ ই নির্বাচনের মুল কথা। যার ফলে নির্বাচনোত্তর সহিংসতার স্বীকার হন হিন্দুরা।সার্বিক ভাবে এই সংখ্যা লঘুরা নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারন না করলেও দায় দায়িত্ব চাপান হয় তাদের উপর।
স্বাধীন বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা দাঙ্গার রুপ না নিলেও ছোটখাট দু একটা ঘটনা ঘটে থাকে। ১৯৯২ সালে বাবরী মসজিদ ধংশের পর উত্তেজনা দেখা দেয়, দু একটা বিচ্ছিন ঘটনা ঘটেছিল ঐ সময়। ২০০১ সালে নির্বাচনের পর বিএনপি সমর্থকেরা সারা দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে, যার শিকার হয় হিন্দুরা। http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-04-26/news/149608
আমাদের দেশে ধর্ম প্রধানত; দুটো মুসলমান(৯০%) এবং হিন্দু(১০%)। হিন্দুরা সংখ্যা লঘু হিসেবে বৈষম্যের বা আক্রমনের স্বীকার, এই বৈষম্য থাকা উচিত নয়। - এটা হিন্দুদের দাবী।
সাম্প্রদায়ীকতা দুর করার উপায় হল শিক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সচেতনতা বৃদ্ধি, দোষীদের শাস্তি বিধান ইত্যাদি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

