somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শুরুর গল্প

২৬ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ৮:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার ঠাকুরদা মারা গেলে তাঁর চালু ব্যবসা দেখাশোনার অভাবে নষ্ট হয়ে গেল। ঠাকুমা ভাল সেলাই জানতেন। হাতে বানানো নানা জিনিস বিক্রী করে ঠাকুমা সংসার চালাতে লাগলেন। বাবা দৌলতপুর কলেজ থেকে সেই বছরই আই.এস.সি পাশ করলেন ফার্স্ট ডিভিশনে। কিন্তু পয়সার অভাব তাই পড়াশুনোর ওখানেই ইতি টানতে হল। ইতিমধ্যে মেয়েরা বিয়ের যোগ্য হয়ে উঠেছে। ঠাকুমার কথামত বাবা তাই বাড়ি বন্ধক দিয়ে বোনেদের বিয়ে দিলেন। ইতিমধ্যে বাবার চাকরী জুটে গেল কলকাতার আলিপুর কোর্টে। বাবা কলকাতায় চলে এলেন। শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড়ের কাছে একটা বাসা ভাড়া করে থাকতে লাগলেন। শ্যামবাজারে বাবার কাছে থাকলেন ছোটোকাকা। এই সময়েই মাসিমার সাথে এবং পরে মার সাথে বাবার বিয়ে হয়।

আমার দাদুর দুই মেয়ে ,এক ছেলে। বড় মেয়ের নাম ফুল। ফুলের মতই সুন্দর দেখতে। আর ছোট মেয়ের নাম সুধা। ছোট মেয়ের জন্মাবার দশ বছর পরে দিদিমার এক ছেলে হয়।

ফুলের বিয়ে হয়েছিল ১৪ বছর বয়সে ঝিনাইদহে,আমার বাবার সাথে। ফুলের গায়ের রং ছিল দুধে আলতায় গোলা,কোঁকড়া কোঁকড়া একমাথা চুল। আমার বাবাও ছিলেন সুপুরুষ।

ফুলের বাচ্চা হওয়ার সময় ওরা বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দিল। অজপাড়াগাঁ,সেখানে কোন ভাল ডাক্তার ছিল না। ফুল প্রায় ছোটো বোঙ্কে ভয় দেখিয়ে বলত ,আমি যদি মরে যাই,তবে একপা নিমগাছে আর একপা তোর ঘরের মধ্যে দিয়ে তোকে ভয় দেখাবো”। প্রত্যেক সপ্তাহে প্রচুর ফল পার্সেল করে ফুলের জন্য জামাই পাঠিয়ে দিত। প্রসবের সময় গর্ভযন্ত্রণা শুরু হলে প্রচন্ড খিঁচুনী হতে হতে শেষে ধনুষ্টংকার হয়ে গেল ফুলের। শেষপর্যন্ত ফুটফুটে সুন্দর একটা ছেলে হল, কি্ন্তু ফুল কে বাঁচানো গেলনা । ফুলের দেওর বাড়িতে আসছিল বৌদির খবর নিতে। পথেই ফুলের শবযাত্রা চোখে পড়ল তার।

বাচ্চা প্রসব করতে গিয়ে মাসিমা মারা গেলেন ষোল বছর বয়সে । দাদা সদ্যজাত শিশু । দিদিমার কোলে তখন এক বছরের মামা। দিদিমা মা মরা ছেলেটাকে বুকে করে মানুষ করতে লাগলেন। বাচ্চা টাকে বড় করতে হবে আবার সুপুরুষ,সুচাকুরে জামাইকেও হাতছাড়া করা যায়না । দিদিমা শেষপর্যন্ত দাদুর অমতেই ছোট মেয়ে সুধার সাথে জামাইয়ের বিয়ে দিয়ে দিলেন। বাবার বয়স তখন ছাব্বিশ আর সুধা মানে আমার মা মাত্র
বারো ।

এই বিয়েতে দাদুর মত ছিলনা। দাদু বাড়ী থেকে রাগ করে চলে গেলেন। বিয়ে দিলেন মার জ্যাঠামশাই। মাসিমা কে বিয়ে দিয়েছিলেন দাদু কত ধুমধাম করে আর মার বিয়ে হল সাদা লালপাড় শাড়ী পরে, আর গাঁদা ফুলের মালা গলায় দিয়ে। মা কতদিন দুঃখ করে নিজের বিয়ের এই গল্প আমাকে শুনিয়েছেন। মরা দিদির উদ্দেশ্যে বলতেন, ও আমার চিরশত্রু ছিল । ও না মরলে তো আমার এখানে বিয়ে হতনা। ঠাকুমা মাসিমাকে ভালোবাসতেন কিন্তু মাকে একদম সহ্য করতে পারতেন না । খুব কষ্ট দিতেন। মা মাসিমার মত অত ফরসা সুন্দরী ছিলেন না, তবে লম্বা দোহারা চেহারা, মাথায় একঢাল কালো চুল, সব মিলিয়ে মাকে ভালই
লাগতো । মার মুখেই শুনেছি বিয়ে হয়ে এসে বড় ভাতের হাঁড়ির ফ্যান গালতে গিয়ে হাঁড়ির পাশেই মা অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন।

সংসারে কাজ শিখতে শিখতে, দাদাকে মানুষ করতে করতে মা একদিন গর্ভবতী হয়েছিল। এসময়ে মার খুব বাজে ধরণের টাইফয়েড হল। প্রচুর ওষুধ খেতে হত, পথ্য শুধু দুধ সাবু। মার শরীর ক্রমশঃ দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সংসারের কাজ করতে পারত না। ঠাকুমা পিসিমারা মুখ ঝামটা দিত। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও মা বেশি কাজ করতে পারত না। দশ মাস পুরো হওয়ার আগেই আমি জন্মালাম। ছোট্ট,কম ওজনের অপরিণত শিশু। মা বলতেন, অনেক ওষুধ খেয়েছিলাম তো তাই তুই হয়েছিলি জিওল মাছের মত কালো। কিন্তু মুখ খানা তুলি দিয়ে আঁকা। মার বয়স তখন মাত্র ১৫ বছর।










৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×