somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শ্যামবাজারের বাসাবাড়ী

৩১ শে জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম প্রথম শ্যামবাজারের বাসা থেকে বাবা মাঝেমাঝে ঝিনেদার বাড়ীতে আসতেন। পরে আমরা সবাই ওখানে চলে যাই। ঝিনেদার বাড়ীতে রইলেন মেজকাকাবাবুরা।

আমাদের শ্যামবাজারের বাসাবাড়ীটা ছিল তিনতলা।শ্যামবাজার ট্রামডিপোর কাছেই। আমরা ভাড়া থাকতাম তিনতলায়।দোতলায় থাকতো এক দাদু ঠাকমা আর তাদের ছেলেমেয়েরা। আর একতলায় থাকতো এক ঘর হিন্দুস্তানী। আমাদের বাথরুম ছিল তিনতলায় কিন্তু সেখানে কলে জল পড়তো না। নীচে সিঁড়ির তলায় খাবার জলের কল ছিল, আর একটা চৌবাচ্চা ছিল । তাতে চান করার জন্য প্রচুর জল থাকতো। আমরা নীচে গিয়ে সেই চৌবাচ্চার জলে চান করে আসতাম। চান করে আসার সময় প্রত্যেকে এক বালতি করে জল নিয়ে এসে উপরের বাথরুমের চৌবাচ্চায় ঢালতাম । পরে গঙ্গার সাথে সংযোগ করে উপরের কলে জলের ব্যবস্থা করা হল। তাতে চান খাওয়া চলতো না। তবে অন্য সব কাজ ভালো ভাবেই চলত।

সময় যতদূর মনে পড়ে সেটা চল্লিশের দশকের প্রথম দিক । আমরা শ্যামবাজারের বাসায় পাকাপাকি ভাবে চলে এলাম । ছোটকাকা তখন পড়াশোনা শেষ করে ব্যবসা শুরু করেছেন। ছোটোকাকা লেখাপড়ায় খুব ভাল ছিলেন। ম্যাট্রিকে ছ’টা লেটার পেয়েছিলেন। আই.এস.সি পাশ করে ইঞ্জিনীয়ারিং পড়তে চেয়েছিলেন কিন্তু বাবার পক্ষে তখন অত খরচ যোগান সম্ভব ছিলনা । তাই ছোটকাকার আর পড়া হলনা। দিনাজপুরে ৫০০ টাকা মাইনের একটা চাকরী পেয়ে গেলেন। তখন ৫০০ টাকা মানে অনেক টাকা। কিছু দিন চাকরি করার পর ছোটকাকা চাকরী ছেড়ে ব্যবসা শুরু করলেন।

বাবার রং ছিল ধবধবে ফরসা আর ছোটকাকা কুচকুচে কালো। নাক চোখ বাবার মতই টানা টানা সুন্দর । ছোটকাকা সবসময় পরতেন গিলে করা সাদা আদ্দির পাঞ্জাবী আর ধুতি। ছোটকাকার ব্যবসায় সে সময় বেশ রমরমা। ছোটকাকা দুহাতে সে টাকা খরচ করতেন। সবার জন্য কত জিনিষ কিনতেন। ওনার মনটা ছিল খুব ভাল। ছোটকাকার কথা খুব মনে পড়ে।

শ্যামবাজারের বাসায় ছিল তিনটে ঘর। প্রথম ঘরটা ছিল ছোটকাকার। ছোটকাকা সে ঘর খানা সাজিয়েছিলেন খুব সুন্দর সুন্দর ফার্নিচার দিয়ে। মেঝেতে পাতা থাকতো কার্পেট। বাবার বন্ধুরা এলে ওঘরেই বসতেন। বাবার ছিল অভিনয়ের ঝোঁক । বাবা চাকরী করতেন, ছুটির পর অভিনয় করতেন। প্রথমে নাট্যভারতীতে অভিনয় করতেন। এরপর মিনার্ভা, স্টারে অভিনয় করেন। রেডিওতেও কয়েকটা নাটক করেছিলেন। থামাও রক্তপাত, চরিত্রহীন, বিচারক, রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত, কর্ণার্জুন, সিরাজদৌল্লা, এইসব নাটকে বাবা অফিস ছুটির পর অতিথি শিল্পী হিসাবে নিয়মিত অভিনয় করতেন। বিন্দুর ছেলে, দাসীপুত্র, সন্ধানে আরও অনেক সিনেমা এখন নাম মনে পড়ছেনা।

এখনকার আনন্দলোকের মত সেসময় রূপমঞ্চ নামে একটা সিনেমার কাগজ বেরোত। তাতে বাবার ছবি ছাপা হতে দেখেছি। ছবিতে অভিনয়ের সূত্রে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়,শ্যাম লাহা, এই সব অভিনেতারা বাবার বন্ধু ছিলেন । এঁরা মাঝেমাঝে আমাদের বাড়িতে আসতেন। ছবি বিশ্বাসের সাথে চেহারার মিল থাকায় অনেক ছবিতে বাবা ছবি বিশ্বাসের ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ছবি বিশ্বাসকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও সমীহ করতেন। ছবিদা বলে ডাকতেন । উনি কোনদিন আমাদের বাড়িতে আসেননি। বাড়িতে বাবার এইসব বিখ্যাত বন্ধুরা এলে প্রথম ঘরটাতেই বসতেন। সোফায় বসা শ্যাম লাহার মুখের ছবি উল্টোদিকের আয়না দিয়ে লুকিয়ে দেখে আমর ভাই বোনেরা কতদিন হাসাহাসি করেছি। আমার বাবার নাম ছিল মণি মজুমদার। বাবা মারা গিয়েছিলেন ১৯৮০ সালের ১৫ই
আগষ্ট ।সেওতো কতদিন হয়ে গেল।

শ্যামবাজারের বাসায় আমরা যখন এলাম, তখন আমার বয়স ছয় আর দিদির সাড়ে ছয়। ছোটোকাকা একবার কিনে আনলেন সিনেমা দেখানোর মেশিন। ওঃ আমাদের সে কি মজা! আমরা দোল খেতে খেতে পড়াশুনো করব বলে নিয়ে এলেন দোলাচেয়ার। দিদি আর আমি গান শিখব বলে কিনে আনলেন অর্গান। ছোটোকাকার ব্যবসার কাজে প্রয়োজন তাই এল টেলিফোন।এইভাবে নানান শৌখিন জিনিসে আমাদের শ্যামবাজারের বাসা বাড়িটা ভরে উঠল।

৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×