“ওলে আমার কুটুকুটু আবুল, জান তুমি কেমন আছ। আহারে মুখটা এমন চিমায় আছে কেন? সকালে কিছু খাও নাই? তোমারে না বলছি সকালে সব কিছুর সাথে একটা কইরা ডিম খাবা। আইচ্ছা শোন এখন থেইকা ডিম বাদ। সকালে নাস্তার পর গরুর খাঁটি দুধ খাবা। তুমি এম্নিতেই সব কিছুতে ডিম পাও। আর এত ডিম খাইয়া কাম নাই। ”
কি বলবে কিছু ভেবে পায় না আবুল। কাষ্ট হাসি হাসে।
“তোমার চাকরীর খবর কি?”
“এখনো কোনো খবর নাই। তবে হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ।”
“১ বৎসর ধইরাইতো শুনতাছি একি কথা। হবেটা কবে? যত্তসব। আমি কিন্তু আগেই কইয়া দিলাম। ভালো পাত্র পাইলেই বিয়া কইরা ফালামু।”
মনে মনে আবুল ভাবে, তাইলেতো আল্লাহ বাচায়।
“তোমারে না হাজার বার বলছি এই ক্ষ্যাত টি শার্ট পরবা না।তাও পরছ? পরছ পরছ, আবার কি মনে কইরা আমার সাথে দেখা করতে আসছ এইটা পইরা? গা থেইকা গন্ধ আসতেছে। পারফিউম মাখো নাই কেন? ঐটা কিন্না দিছি কি সাজাইয়া রাখার জন্য?”
ভয়ে চোখ মুখ কুচকে আসে আবুলের। কোনো ভাবে পালাতে পারলেই বাঁচে এখন।কিন্ত মনে হচ্ছে না আজকে এত সহজে ছাড়া পাবে। এইদিকে নিন্মচাপ চুড়ান্ত আকার ধারন করেছে। যেকোনো মুহুর্তে সর্বনাশ হয়ে যেতে পারে। ঠিক এই মুহুর্তে কিভাবে এই কথাটা তোলা যায় ভাবছে আবুল। ভয়ে শিঁরদাড়া কাঁপছে তার। এমন সময় আবার একটা মাঝারী মানের চিৎকার।
“এই তোমারে যে সেইদিন আমার খালুর অফিসে যাইতে বলছিলাম যাও নাই কেন? পাইছ কি তুমি? নিজে একটা চাকরী জোগাড় করতে পার না, আর আমি খালুর কাছে মুখ বেইচা আসলাম তোমার জন্য, গায়ে লাগে না। বল, কি কারনে যাও নাই।এক্ষুনি বল।”
“ইয়ে, মানে। আসলে সকাল আটটায় যাওয়ার কথা ছিলতো। তুমিতো জান,এখন ঘড়ির কাটা এক ঘন্টা আগায় দিছে। আমার ঘড়ি ঠিক করা হয় নাই। তাই ঘুম থেকে উঠতে পারি নাই।”
“কি বললা? কি বললা তুমি? তোমার এত বড় সাহস তুমি ঘুমের জন্য খালুর অফিসে যাইতে পার নাই? দাঁড়াও আজকে তোমার সব গুলা চুল আমি টাইনা ছিড়ে ফেলব।”
“এই এই এই এই রক্তিম প্লিজ, মাফ করে দাও, আরে কি কর, লাগেতো।ওফ মাগো আমার চুল। কে কোথায় আছ বাঁচাও বাঁচাও।”
উপরের চাপ সামলাতে সামলাতে নিম্নচাপ আর ধরে রাখতে পারে না আবুল। হাত পা ছেড়ে দিল।ঘটে গেল ঘটনা। সে এক স্বর্গ সুখ। আহ্ সে কি শান্তি।
লাফ দিয়ে ধড়মড় করে ঘুম থেকে উঠে বসল আবুল। দর দর করে ঘামছে সে। যা হয়েছে সেইটা যে দুঃস্বপ্ন এইটা বুঝতে কিছু সময় লাগলো আবুলের। ঘাম মুছতে মুছতে মাথায় হাত দিয়া দেখে নাহ্ চুল ঠিকই আছে। একবার বিছানাটাও চেক কইরা নিল সে। নাহ্ কোনো দুর্ঘটনা ঘটে নাই। ছেলে বেলায় কত্ত হয়েছে এমন। একবার পাশের বাড়ির বুড়ার উপর ক্ষেইপা গিয়ে তার ফুলের বাগানে হিসু করার স্বপ্ন দেখে বিছানা ভাসিয়েছে। দুঃস্বপ্নের ঘোর কাটতে না কাটতেই মনে হল, শালা ভালোই হইছে কোনো গার্ল ফ্রেন্ড নাই।
বিছানা ছেড়ে নেমে বাথরুমে গিইয়া ফ্রেস হতে হতে গুন গুন কইর গান গাইছিল আবুল। আজকাল বাথ্রুমে গান গাওয়ার সময় খুব সতর্ক থাকে সে। কয়েকদিন আগে বাড়িওয়ালা নালিশ কইরা গেছে। হঠাৎ কইরা তার গানের আর্ত চিৎকারে নাকি বাড়িওয়ালার বাসার বয়স্ক বুয়া দুইবার অজ্ঞান হইয়া গেছিল। গোসল টোসল কইরা আরাম কইরা বসতেই না বসতেই কলিং বেল বাইজা উঠল। ডিং ডং, ডিং ডং
“কুরিয়ার।কুরিয়ার”
এক দৌড়ে আবুল দরজা খুলল। দেখল তার নামেই কুরিয়ার। সই কইরা তাড়াতাড়ি খামটা হাতে নিয়া দেখে শেষ যেই কোম্পানীতে সিভি পাঠাইছিল ওইখান থেইকাই চিঠি আসছে। মনের মইধ্যে কেমন যেন ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ অনুভূতি হইতে লাগলো। তবে খামের উপরে হাতের লেখাটা কেমন জানি চেনা চেনা লাগে। ওই কোম্পানীতে কি পরিচিত কেউ আছে? খাম খুলতে খুলতে ভাবতে থাকে আবুল। খামটা খুলতেই চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল তার। একি, এযে তার পাঠানো দরখাস্তটাই। এইটা ফেরত আসল কেমন করে। বিস্ময়ের ঘোর কাটতে না কাটতেই সে আবিষ্কার করলো খামের উপরে প্রাপক আর প্রেরকের ঠিকানা লেখার সময় ভুলে ইধার উধার হইয়া গেছেগা। এই জন্যই হাতের লেখাটা চেনা চেনা লাগতাছিল। লেখাটাযে তার নিজের।। মাথার চুল টেনে ছিড়তে লাগলো সে। রাগে দুঃখে ক্ষোভে তার মরে যেতে ইচ্ছে করলো। হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেললো বলে প্রায়। অবশেষে আবুল সিদ্ধান্তটা নিয়াই ফেললো। এ জীবন আর সে রাখবে না। এইখান থেকেই শুরু এই পর্ব, অবশেষে আবুল কহিল বিষাদে, এই জীবন আমি আর রাখপ না।
দোকান থেকে মোটা দড়ি কেনা হয়েছে। সেইটা ফ্যানের সাথে বাধাও শেষ। শুধু একটু ভয় লাগতেছে। নাহ মরার ভয় না। ডরে না বীর। ভয় লাগতেছে ফ্যানটা না ভাইঙ্গা পইড়া যায়। যাই হোক। গলায় একটা গামছা পেচাইয়া নিল সে। যাতে ব্যাথাটা কম লাগে। বাবার কথা মনে পড়ল আবুলের। চোখ ভিজে আসছে। বাবা বলতেন……... বাবা বলতেন, সব কিছুর শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে হয়। বিসমিল্লাহ বলে ফাঁসটা গলায় দিতেই মোবাইল বেজে উঠল। রিংটোনে সেই বিখাত বুরকা পরা মেয়ে গানের সুর। একবার চিন্তা করল। কোনো শুভ কাজে পিছন ফিরতে নাই। নাকি শেষ বারের মতন ফোনটা ধরেই ফেলবে সে? শেষ পর্যন্ত কৌতুহল জয়ী হইল। আবুল নেমে ফোন ধরল।
“হ্যালো স্লামালাইকুম।”
“হ্যালো ওয়ালাইকুম। মিঃ আবুল বলছেন?”
“জ্বী বলছি। কে বলছেন প্লিজ।”
“আমি গ্রামীন ফোন এইচ,আর থেকে বলছি।”
পরের পর্ব
অবশেষে আবুল কহিল আনন্দে, আর থাকিব না একা আগামী অর্থ বছরে।
এবার পাত্রী খোঁজার পালা।
বিঃদ্রঃ আবুলের মোবাইলের রিংটোন নিতে চাইলে এইখানে যান।
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

