ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখি বেশ কিছু ট্যাক্সি লাইন ধরে দাড়িয়ে আছে। এখানকার ট্যাক্সিগুলো দেখলাম ঢাকার মাইক্রোবাসের মতো বড়। ট্যাক্সি ড্রাইভার পাকিস্তানি বা ইনডিয়ান হবে। লাইনের প্রথম ট্যাক্সিটার ড্রাইভার এক যাত্রীর সঙ্গে কথা বলছে। দ্বিতীয় ট্যাক্সিটার দিকে এগোতেই ড্রাইভার ইশারায় প্রথম ট্যাক্সিটা দেখিয়ে দিল। লাইনে আগের ট্যাক্সিটা না যাওয়া পর্যন্ত দ্বিতীয় ট্যাক্সিটা যাবে না। লাইন ধরে ট্যাক্সি দাড়িয়ে আছে ঢাকায় এ ধরনের দৃশ্য বিরল। ট্যাক্সি ড্রাইভারকে গন্তব্যের কথা বলতেই সে মিটার অন করে রওনা দিল। ঢাকায় ট্যাক্সি ড্রাইভারকে গন্তব্যের কথা বলাটা ভাগ্য পরীক্ষা করার মতো বিষয়। ট্যাক্সি ড্রাইভাররা কোথাও যেতে রাজি হয় না। এখানে সেরকম কোনো ঘটনা ঘটলো না। অবশ্য আগে শুনেছিলাম যে, এখানে ঢাকার মতো দুই ধরনের ট্যাক্সি পাওয়া যায়- মিটার এবং মিটার ছাড়া। মিটার ছাড়া গেলে আগেই দরদাম ঠিক করে নিতে হয়। তবে নতুন একটা জায়গায় গিয়ে পা দেওয়া মাত্রই দামাদামি - মুলামুলি শুরু করবো এ ব্যাপারটা ঠিক ইচ্ছা করছিল না।
উদ্দেশ্য হচ্ছে, সরাসরি আমার বন্ধুর বাসায় গিয়ে উঠবো। যদিও সে ব্যস্ততার কারণে এয়ারপোর্টে যেতে পারেনি। এখন রাত নয়টা। তবে সূর্যাস্ত এ সময় রাত আটটার দিকেই হয়। তাপমাত্রা হালকা ঠাণ্ডা (প্রায় ২০ ডিগ্রি)। ঝকঝকে রাস্তাগুলোয় কিছু গাড়ি থাকলেও ফুটপাথে মানুষ ছিলো না। এক জায়গায় দেখলাম তিনজন মানুষ প্যারাম্বুলেটরে করে একটা বাচ্চা নিয়ে যাচ্ছে। একজন সাইকেল আরোহী দেখলাম। রাস্তার পাশের সাইনবোর্ডগুলো দেখছিলাম। এক জায়গায় সাবওয়ে লেখাটা দেখে বিভ্রান্ত হলাম। আমার আগে ধারণা ছিল আমেরিকার আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রেনকেই সাবওয়ে বলে। কিন্তু এখানে সাবওয়ে কেন। পরে জেনেছি বার্মিংহাম শহরের রাস্তা পার হবার আন্ডারপাসগুলোকে সাবওয়ে বলে। আর একটা খাবারের দোকানের নামও সাবওয়ে। বামিংহামে এ রেস্টুরেন্টটির প্রচুর শাখা আছে। রাস্তার ধারে প্রচুর সাইনবোর্ড ও সিগনাল বাতি লাগানো আছে। প্রায় সবগুলোতেই সবুজ বাতি জ্বলছে। কয়েক জায়গায় লাল বৃত্তের ভেতর বড় করে ৩০ বা ৪০ লেখা আছে। ঢাকায় ড্রাইভিং কোর্স করার সময় শিখেছিলাম এগুলো গাড়ির গতিসীমা নির্দেশ করে। এখানে লাল বৃত্তের ভেতর ৪০ লেখা মানে গাড়ির গতি ৪০ মাইল অতিক্রম করবে না। তবে বুঝতে পারছিলাম ট্যাক্সির ড্রাইভার এ গতিসীমা মানছে না। গাড়ির গতি প্রায়ই এ সীমা অতিক্রম করছিল। তবে একটা জায়গায় গাড়ি এ গতির মধ্যে ছিল। পাশে তাকিয়ে দেখি স্পিড ক্যামেরা। বুঝতে পারলাম, ড্রাইভার এসব ব্যাপারে অতি দ্ক্ষ। পরে দেখেছি এখানে ক্যামেরা ডিটেক্টর নামে এক ধরনের যন্ত্র পাওয়া যায়। স্পিড ক্যামেরা কাছে থাকলে তা ড্রাইভারকে সতর্ক করে দেয়। তখন ড্রাইভাররা আস্তে চালায়।
এভাবে প্রায় ২০ মিনিট পর দেখলাম আমরা গন্তব্যে এসে গেছি। বাড়ির নাম্বার এখানে ঢাকার মতো অতো জটিল না। নাম্বার খুজে বাড়ির সামনে এসে দরজায় নক করলাম।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



