আমার প্রিয় পোস্ট

ইচ্ছেমতো লেখার স্বাধীন খাতা....

ওয়েলকাম টু বার্মিংহাম - ১

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৫৩

শেয়ার করুন:                   Facebook

বার্মিংহাম শহরে নেমে প্রথম যে কাজটা করতে হবে তা হলো একটা ট্যাক্সি ঠিক করা। ইউনিফর্ম পরা একজন পুলিশকে জিজ্ঞাসা করে ট্যাক্সি স্ট্যান্ডটা চিনে নিলাম।
ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখি বেশ কিছু ট্যাক্সি লাইন ধরে দাড়িয়ে আছে। এখানকার ট্যাক্সিগুলো দেখলাম ঢাকার মাইক্রোবাসের মতো বড়। ট্যাক্সি ড্রাইভার পাকিস্তানি বা ইনডিয়ান হবে। লাইনের প্রথম ট্যাক্সিটার ড্রাইভার এক যাত্রীর সঙ্গে কথা বলছে। দ্বিতীয় ট্যাক্সিটার দিকে এগোতেই ড্রাইভার ইশারায় প্রথম ট্যাক্সিটা দেখিয়ে দিল। লাইনে আগের ট্যাক্সিটা না যাওয়া পর্যন্ত দ্বিতীয় ট্যাক্সিটা যাবে না। লাইন ধরে ট্যাক্সি দাড়িয়ে আছে ঢাকায় এ ধরনের দৃশ্য বিরল। ট্যাক্সি ড্রাইভারকে গন্তব্যের কথা বলতেই সে মিটার অন করে রওনা দিল। ঢাকায় ট্যাক্সি ড্রাইভারকে গন্তব্যের কথা বলাটা ভাগ্য পরীক্ষা করার মতো বিষয়। ট্যাক্সি ড্রাইভাররা কোথাও যেতে রাজি হয় না। এখানে সেরকম কোনো ঘটনা ঘটলো না। অবশ্য আগে শুনেছিলাম যে, এখানে ঢাকার মতো দুই ধরনের ট্যাক্সি পাওয়া যায়- মিটার এবং মিটার ছাড়া। মিটার ছাড়া গেলে আগেই দরদাম ঠিক করে নিতে হয়। তবে নতুন একটা জায়গায় গিয়ে পা দেওয়া মাত্রই দামাদামি - মুলামুলি শুরু করবো এ ব্যাপারটা ঠিক ইচ্ছা করছিল না।
উদ্দেশ্য হচ্ছে, সরাসরি আমার বন্ধুর বাসায় গিয়ে উঠবো। যদিও সে ব্যস্ততার কারণে এয়ারপোর্টে যেতে পারেনি। এখন রাত নয়টা। তবে সূর্যাস্ত এ সময় রাত আটটার দিকেই হয়। তাপমাত্রা হালকা ঠাণ্ডা (প্রায় ২০ ডিগ্রি)। ঝকঝকে রাস্তাগুলোয় কিছু গাড়ি থাকলেও ফুটপাথে মানুষ ছিলো না। এক জায়গায় দেখলাম তিনজন মানুষ প্যারাম্বুলেটরে করে একটা বাচ্চা নিয়ে যাচ্ছে। একজন সাইকেল আরোহী দেখলাম। রাস্তার পাশের সাইনবোর্ডগুলো দেখছিলাম। এক জায়গায় সাবওয়ে লেখাটা দেখে বিভ্রান্ত হলাম। আমার আগে ধারণা ছিল আমেরিকার আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রেনকেই সাবওয়ে বলে। কিন্তু এখানে সাবওয়ে কেন। পরে জেনেছি বার্মিংহাম শহরের রাস্তা পার হবার আন্ডারপাসগুলোকে সাবওয়ে বলে। আর একটা খাবারের দোকানের নামও সাবওয়ে। বামিংহামে এ রেস্টুরেন্টটির প্রচুর শাখা আছে। রাস্তার ধারে প্রচুর সাইনবোর্ড ও সিগনাল বাতি লাগানো আছে। প্রায় সবগুলোতেই সবুজ বাতি জ্বলছে। কয়েক জায়গায় লাল বৃত্তের ভেতর বড় করে ৩০ বা ৪০ লেখা আছে। ঢাকায় ড্রাইভিং কোর্স করার সময় শিখেছিলাম এগুলো গাড়ির গতিসীমা নির্দেশ করে। এখানে লাল বৃত্তের ভেতর ৪০ লেখা মানে গাড়ির গতি ৪০ মাইল অতিক্রম করবে না। তবে বুঝতে পারছিলাম ট্যাক্সির ড্রাইভার এ গতিসীমা মানছে না। গাড়ির গতি প্রায়ই এ সীমা অতিক্রম করছিল। তবে একটা জায়গায় গাড়ি এ গতির মধ্যে ছিল। পাশে তাকিয়ে দেখি স্পিড ক্যামেরা। বুঝতে পারলাম, ড্রাইভার এসব ব্যাপারে অতি দ্ক্ষ। পরে দেখেছি এখানে ক্যামেরা ডিটেক্টর নামে এক ধরনের যন্ত্র পাওয়া যায়। স্পিড ক্যামেরা কাছে থাকলে তা ড্রাইভারকে সতর্ক করে দেয়। তখন ড্রাইভাররা আস্তে চালায়।
এভাবে প্রায় ২০ মিনিট পর দেখলাম আমরা গন্তব্যে এসে গেছি। বাড়ির নাম্বার এখানে ঢাকার মতো অতো জটিল না। নাম্বার খুজে বাড়ির সামনে এসে দরজায় নক করলাম।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: ব্যাচেলরের ডায়েরি  বিভাগে ।

 

  • ১২ টি মন্তব্য
  • ২০৩ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:৫৭
comment by: পোলাপান বলেছেন: তারপর???
২. ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:২২
comment by: ভাঙা চাঁদ বলেছেন: তারপর????????
৩. ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ ভোর ৪:৩৭
comment by: দূরন্ত বলেছেন: পোলাপান : পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
ভাঙা চাঁদ : পড়ার জন্য ধন্যবাদ। পরের পর্ব আসছে।
৪. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১:৪৫
comment by: ফ্লোরা ফেরদৌসী বলেছেন: তারপর জানাবে না? জলদি
৫. ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১:৫৮
comment by: হাসান বিপুল বলেছেন: পল্লব, ফ্লোরার উসকানিতে দ্রুত লেখার দরকার নাই। ফ্লোরা পড়ে, তারপর বলে পল্লব যে এতো বদ আগে জানতাম না।

তারচেয়ে ধীরে ধীরে রসিয়ে রসিয়ে...
৬. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৪৮
comment by: দূরন্ত বলেছেন: ফ্লোরা ম্যাডাম : ধন্যবাদ। পরের পর্ব আসছে। বার্মিংহামে চাকরি খুজতে খুজতে জুতা ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। অবশ্য এজন্য আগেই ঢাকা থেকে জুতার তলায় টায়ার লাগিয়ে নিয়ে এসেছি। চাকরি বাকরি না পাওয়া পর্যন্ত মন মেজাজ ভাল নাই।
বিপুল ভাই: ঠিকই বলেছেন। বেশ কিছু ড্রাফট করে ফেলেছি। ধীরে ধীরে লিখব।
৭. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:০৯
comment by: মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন: যেদিন লিখছেন ওইদিনই পড়ছি।
কমেন্ট করতে মনে আছিল না।
ভাল হইছে।
৮. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:০৯
comment by: দূরন্ত বলেছেন: ধন্যবাদ মাহবুব ভাই।
৯. ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:০৮
comment by: দূরন্ত বলেছেন: এর পর বাসার ভেতর থেকে বাংলা কথা শুনে নিশ্চিন্ত হলাম। আরো কয়েকজন বাঙালি ছিল। সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করলাম। এর পর..পরের পোস্ট
১০. ১৬ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:৫২
comment by: রন্টি চৌধুরী বলেছেন: ২০ ডিগ্রীকে ঠান্ডা বলছেন কেন? এটা তো বিরাট গরম। আর সবকিছুর সাথে বাংলাদেশের তুলনা করা কেন? আমি ঢের উদাহরন দেখাতে পারব যা বাংলাদেশে আছে এদের নাই।
১৭ ই মার্চ, ২০০৮ ভোর ৫:৪১

লেখক বলেছেন: আমার সাবেক অফিসে ২৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকতো। সেখানেই আমার ঠাণ্ডা লাগতো। আর ২০ ডিগ্রিতে আমার লেপ দরকার হয় (আমার ঠাণ্ডা অবশ্য বেশি)।
নতুন গেছি তো, তাই সবকিছুর সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা। তার মানে এটা না যে, আমি বৃটিশ প্রেমে সবকিছু ভুলে গেছি। আপনি তো আট মাস থেকেছেন, আমি মাত্র ছয় মাসেই অতিষ্ট হয়ে গেছি। কবে যে দেশে যাবো!
আপনি ঠিকই বলেছেন, বাংলাদেশের যা আছে তার অনেক কিছুই এদের নাই। আবার এদের যা আছে তার অনেক কিছুই আমাদের নাই। আপনি নিশ্চয়ই স্বীকার করবেন, এদের থেকে শিক্ষনীয় অনেক কিছুই আছে।

১৭ ই মার্চ, ২০০৮ ভোর ৬:১৪

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য এবং মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

 

 


স্বপ্ন দেখি একজন কবি হওয়ার। ভালো লাগে বন্ধুদের নিয়ে মজা করতে, ঘোরাঘুরি করতে......
আর ভালো লাগে ব্লগের সবার লেখা পড়তে (যদিও...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৫৯৭২৩