somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাস্তা পার হওয়া শিখলাম (বার্মিংহাম -২)

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইংল্যান্ডে এসে প্রথম যে কাজটা করলাম তা হলো ঘুমানো। ভালোভাবে ঘুমিয়ে পরদিন দুপুরে বাসা থেকে পাড়ার দোকান চেনার জন্য বের হলাম। আমরা যে বাসায় উঠেছি তার ডিজাইনটা পুরনো বলে মনে হলো। জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলাম এগুলো প্রায় ১০০ বছরের পুরনো বিল্ডিং। তবে ভেতর থেকে বোঝা যায় না। রাস্তায় বের হয়ে প্রথমেই আমার মনে হলো আফ্রিকার কোনো দেশে এসে পড়লাম নাকি! এ এলাকায় সাদা চামড়ার লোক খুবই কম। এলাকার রাস্তা ঝকঝকে পরিষ্কার না (বাংলাদেশের চেয়ে বেশি পরিষ্কার অবশ্য)। বাসার সামনের রাস্তায় বহু গাড়ি পার্ক করা। তার মধ্যে বেশ কয়েকটা বিএমডাব্লিউ, মার্সিডিজও আছে। জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলাম, এগুলো এখানে বাংলাদেশের মতো দামি না। অন্যান্য সাধারণ গাড়ি এখানে বেশ কম দামেই পাওয়া যায়। অবশ্য গাড়ির ট্যাক্স কম নয়। যতো পুরনো গাড়ি, ট্যাক্সও ততো বেশি।
বুঝতে পারলাম এখানকার মানুষ আমাদের চেয়ে বেশি আইন মানে। বন্ধুর সঙ্গে বের হয়েছিলাম কাছের এক বাড়িতে যাওয়ার জন্য। রাস্তায় দেখি গাড়িগুলো খুব জোরে চলছে। এছাড়া এগুলোর শব্দও কম। এ অবস্থায় আমার মতো নতুন মানুষের পক্ষে রাস্তা পার হওয়াটা বেশ বিপজ্জনক। শুনলাম, যেখানে সেখানে রাস্তা পার হলে পুলিশ জরিমানা করতে পারে। তাহলে এখানে রাস্তা পার হওয়ার উপায় কি?
রাস্তায় এক জায়গায় দুই পাশে সিগনাল বাতি এবং মাঝে সাদা দুটো দাগ দেয়া। এগুলো জেব্রা ক্রসিং থেকে আলাদা। রাস্তার পাশের সিগনাল বাতির পিলারে একটা সুইচ লাগানো আছে। বন্ধু বললো সুইচে একটা টিপ দিতে হবে। সুইচে টিপ দিলাম, পাশের ডিসপ্লেতে লেখা উঠলো ওয়েট (অপেক্ষা কর)। ৪-৫ সেকেন্ড পর সিগনাল বাতি অটোমেটিক লাল হয়ে গেল। বাতি তো লাল হলো, এখন আমাদের রাস্তা পার হবার জন্য ব্যস্ত রাস্তার গাড়িগুলো থামবে কি? আশপাশে কোনো পুলিশ টুলিশও নাই। সে সময় এদিকে এগিয়ে আসছিল সিলভার কালারের একটি মার্সিডিস, লাল ভক্সওয়াগন, পাকিস্তানি ড্রাইভার চালিক ট্যাক্সি। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার সব গাড়ি থেমে গেল। ভালোভাবে লক্ষ্য করলাম ঠিক থেমেছে কি? সবগুলো থেমে আছে নিশ্চিন্ত হয়ে রাস্তা পার হয়ে গেলাম। সিগনাল বাতি আবার অটোমেটিক সবুজ হয়ে গেল। গাড়িগুলো চলতে শুরু করলো।
পরে রাস্তা পার হওয়ার আরো একটা সহজ পদ্ধতি দেখলাম। জেব্রা ক্রসিং। কোনো মানুষ জেব্রা ক্রসিংয়ের পাশে দাড়ালেই গাড়িগুলো অটোমেটিক থেমে যায়। লাল বাতির সিগনাল দেবারও দরকার হয় না।
জানতে পারলাম, রাস্তায় যেখানে হলুদ বা লাল ডাবল লাইন থাকে সেখানে সাধারণত গাড়ি থামায় না। আমাদের দেশে অবশ্য এসব লাইনের দিকে কখনো তাকানোর দরকার হয় না। বাসস্ট্যান্ড গিয়ে দেখলাম, বাসগুলো রাস্তায় দেয়া সাদা দাগ অনুযায়ী বাসস্ট্যান্ডে দাড়ায়। বাসে ডাইরেক্ট ডাইরেক্ট বলে চিতকার করতে থাকা কোনো হেলপার নাই। ফলে যাত্রীদেরও ধমক দিয়ে বলতে হয়না, বাড়ি থেকে ডেকে আনো।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, মাঝ রাতে যখন রাস্তায় দ্বিতীয় কোনো গাড়ি নাই তখনও গাড়িগুলো সিগনাল বাতি অমান্য করে না। এখানে অনেকক্ষণ রাস্তায় ঘুরার পরও হর্নের কোনো শব্দ না পেয়ে আমার ধারণা হচ্ছিলো, গাড়িগুলোতে হর্নই নাই। প্রথম হর্নের শব্দ শুনি পরিচিত এক বাঙালি ট্যাক্সি ড্রাইভারের ট্যাক্সি থেকে। রাস্তাতে হর্ন বাজিয়ে আমাদের ডেকে তিনি লিফট দিতে চাইলেন। তিন দিন পর দ্বিতীয়বার হর্নের শব্দ শুনি ডাবল ডেকার বাসে। বাসের বুড়ো ড্রাইভারের মেজাজ সম্ভবত খারাপ ছিল। এ কারনে তিনি আধা ঘন্টায় তিনবার হর্ন বাজিয়েছিলেন। তৃতীয়বার হর্নের শব্দ শুনি এর কয়েক দিন পর। এ সময় সামনের গাড়ি জোরে ব্রেক করায় পিছনের গাড়ির টিনেজ ড্রাইভার হর্ন বাজিয়েই যাচ্ছিলো।
ছবি: বাসার সামনে থেকে তোলা
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৭:৩২
১৬টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×