পহেলা বৈশাখের মিষ্টি রোদমাখা সকালে তোমার ডাগর চোখের দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম, যা ভেবেছিলাম হুবহু তাই হচ্ছে।
অনেকদিন পর তোমার মুখের উপর এলিয়ে পড়া চুলগুলো, গালে হাত দেওয়ার ভঙ্গীটা, কানের ঝুমকো দুলটা আর অদ্ভূত সুন্দর হাটার ভঙ্গীটা দেখে কিযে ভাল লাগছিল!
নিজেকে বিশ্বাস হচ্ছিলো না। এটা কি বাস্তব না কল্পনা...
নববর্ষ বরণ করতে আসা অন্য সব কপোত কপোতির মতো তুমিও আজকে লাল পাড়ের সাদা শাড়ি পড়েছ। কপালের গুচ্ছ টিপটা অবশ্য অন্য সবার চেয়ে সুন্দর। চোখে চোখ রেখে তোমার সেই হাসিটা, অবাক হয়ে যাবার ভঙ্গীটা আর চুপচাপ বসে থাকা... সবই মিলে যাচ্ছে। তাই বারবার ভাবছিলাম, কিভাবে সম্ভব, কিভাবে, কিভাবে.....
তুমি বলতে চাচ্ছিলেনা, বাসি হয়ে যাওয়া প্রেমের পুরনো কোন হিসাবটা মেলানোর জন্য আমাকে আজকে ডাকলে। আমি জানতাম তুমি বলবেনা। চুপচাপ বসে থাকবে।
তাই বলতেই হলো, তুমি কি জান সেই পহেলা বৈশাখে আমি তোমার জন্য কতোক্ষণ দাড়িয়ে ছিলাম? তুমি জানতেনা, সেদিন তোমার জন্য খুব সুন্দর একটা আংটি কিনেছিলাম। কিন্তু তুমি আসোনি। তার পরের দিনও না, পরের দিনও না। আর যোগাযোগ রাখোনি। তুমি কি জান, তারপর তোমার জন্য আমি আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলাম?
আমি জানতাম, তুমি কোন জবাব দিতে পারবে না। বড়জোর বলতে পারবে- সরি।
হিসাবটা মিলেই গেল। তুমি বললে, সরি...
-----------------------------------
-----------------------------------
২.
বললাম বিয়ের পর তোমার পরিবর্তন হয়নি। তুমি কথাটা খুব স্বাভাবিকভাবেই নিলে। পরের চিন্তাগুলো আমাকে বারবার অতীতে নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু তুমি অতীতে যেতে চাইছিলে না। শক্ত করে হাতটা চেপে অতীত ভুলতে চাইছিলে।
কিন্তু আমি নাছোড়বান্দা। বললাম, আমাদের কখনো আলাদা হবার কথা ছিল না।
আমার এটুকু বিশ্বাস ছিল, একদিন আমার কাছে তোমাকে ফিরে আসতেই হবে। বিশ্বাসটাও ঠিক ঠিক মিলে গেল।
তুমি অপরাধীর মতো চুপ করে রইলে।
আরো বললাম, তুমি তো জানই, আমি প্রতিশ্রুতি থেকে পিছিয়ে যাইনা। দেখ... ভালভাবে দেখ, কে বিশ্বাস ভঙ্গকারী।
এতক্ষণে তুমি খুব ব্যাকুলভাবে আসল কথাটা বললে, সবকিছু নতুন করে শুরু করা যায়না?
আমি আশ্চর্য হলাম না।
মনে মনে বললাম, বাকি হিসাবগুলো আর মিলতে দেওয়া যাবে না। তা হয়না। তা হয়না।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ৭:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




