ল্যারসেন বি হচ্ছে প্রায় ১২ হাজার বছর ধরে স্থিতিশীল থাকা দক্ষিণ মেরু বা অ্যান্টার্টিকার একটি আলোচিত ৩,২৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকার বরফখণ্ড। সম্প্রতি এটা গলে গেছে।
ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডোর বিজ্ঞানী টেড স্ক্যামবোস ২০০২ সালের নাসার স্যাটেলাইট ইমেজ নিয়ে গবেষণা করছলিনে। সে সময় তিনি লক্ষ্য করেন, অ্যান্টার্টিকার দক্ষিণের ল্যারসেন বি নামের ভাসমান বরফখণ্ডের অস্বাভাবিক অবস্থা দেখা যাচ্ছে। বৃটিশ অ্যান্টার্টিক সার্ভে ক্যামব্রিজ থেকে একটি গবেষণা জাহাজকে অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য পাঠায়। একই সময় আর্জেন্টিনার গ্লেসিওলজিস্ট পেডরো স্কভারকা এ অঞ্চলের উপর দিয়ে বিমান চালিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন। এটাই ছিল অ্যান্টার্টিকায় কোনো বরফখণ্ডের ধ্বংস হবার ঘটনা মানুষের নিবিড় পর্যবক্ষেণ।
দেখুন বিভিন্ন সময়ে দক্ষিণ মেরুর এ এলাকার বরফের গলন
বিজ্ঞানীরা জানলেন ল্যারসেন বি পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কিন্ত এর পর ঠিক কি ঘটবে তা তারা জানতেন না। তারা দেখলেন, এর পিছনের অংশে যে হিমবাহগুলো ছিল সেগুলো এই দিকে আসতে থাকে। সেগুলো যতো বেশি গলতে থাকে ততো জোরে চলতে থাকে। ল্যারসেন বি-এর পিছনের চারটি হিমবাহ ২০০০ সালের তুলনায় ২০০৩ সালে দুই থেকে চার গুণ বেশি গতি পেয়েছে।
ল্যারসেন আইস শেল্ফ হচ্ছে এ বি ও সি – এই তিনটা ভাগে ভাগ করা বরফখণ্ড। প্রায় এক যুগ আগেই ১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে ধ্বংস হয়েছে ল্যারসেন এ বরফখণ্ড। তবে সেসময় এটা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয় এলাকাটার নাম ল্যারসেন বি যা গলে গেছে ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তৃতীয়টি হচ্ছে ল্যারসেন সি। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, গ্লোবাল ওয়ার্মিং এ ধারায় চলতে থাকলে ল্যারসেন সি আর এক বছর পর্যন্ত টিকতে পারে।
ল্যারসেন বিয়ের কথা উল্লেখ আছে আল গোরের তৈরি ডকুমেন্টারি অ্যান ইনকনভেনিয়েন্ট ট্রুথে এবং ব্রিটিশ সি পাওয়ার নামের ব্যান্ডের একটি গানে। এছাড়াও ২০০৪ সালের ডে আফটার টুমরো নামে সিনেমাতেও এটি দেখানো হয়।
উইকিপিডিয়ায় দেখুন......
http://en.wikipedia.org/wiki/Larsen_B
আরো দেখুন...
http://nsidc.org/iceshelves/larsenb2002/
(ছবি ওয়েবসাইট)
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৩:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



