somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জয়তু ফেসবুক

১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফেসবুক ব্যবহার করছি খুব বেশীদিন নয়, বড় জোর বছর খানেক হবে। এ অল্প সময়ের মধ্যে বন্ধুর তালিকা অনেক লম্বা হয়েছে। বলে রাখি আমি দুইটা ফেসবুক আইডি ব্যবহার করি একটা সম্পূর্ণ ব্লহারদের জন্য যেখানে ব্লগার ছাড়া অন্য কেউ আমার বন্ধু নয় আর একটা আমার অব্লগার বন্ধুদের জন্য।
গতকাল বিকালে আমার অব্লগার বন্ধুদের জন্য করা ফেসবুক আইডি তে দেখি একটা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট, নাম দেখে চিনতে পাররাম না, তারপর ও একসেপ্ট করে দিলাম। তারপর তার প্রোফাইল দেখে চেনার চেষ্টা করে ও ব্যর্থ হলাম। রাতে ফেসবুকে ঢুকে দেখি একগাদা মেসেজ (৭টি)। পড়ে টাসকি খাওয়ার মত অবস্থা। সবগুলি মেসেজ ই পাঠিয়েছে আমার নতুন বন্ধূ, যেকানে সে আমার শৈশবের বিভিন্ন ঘটনা উল্লেখ করেছে কিন্তু ঘটনাগুলির সাথে তার কি সম্পর্ক তা লেখেনি। ধাঁধাঁয় পড়ে গেরাম, কে এই ফাজিল, তবে বুঝতে পারছিলাম সে যেই হোক আমার শৈশবের কোন বন্ধু। আমি ও রিপ্লাই দিলাম।
রাত ২ টার দিকে ঘুমাতে যাচ্ছি এই সময় "প্রাইভেট নাম্বার" নামের একটি নাম্বার থেকে ফোন পেয়ে রিসিভ করলাম। ওপাশ থেকে সুকন্ঠি কেউ বলে উঠল আমি দূর্ভাষী কি না। ভাবলাম কোন প্রবাসী ব্লগার, হ্যা বলতেই বলে উঠল, তোর অখ্যাত নামটাকে তো সামুতে ভালোই প্রচার করেছিস। এবার আমার মাথায় হাত কারন কোন ব্লগার তো আমাকে তুই তোকারী করে না এই টা আবার কে! বিনয়ের সাথে বললাম আপনার নিকটা কি। জবাবে ভ্যাপক ঝাড়ি, বিয়ে করে আমি নাকি বান্ধবীদের কথা ভূলে গেছি। আমার তখন মেজাজ চরমে কারন আমি তার পরিচয় চাচ্ছি আর সে রহস্য শুরু করেছে।
সরাসরি বললাম, রাত অনেক হয়েছে ঘুমাতে যাবো, সকালে অফিস আছে।
কিন্তু কি সে কি, সে শুরু করল শৈশবের বিভিন্ন বন্ধুর উপনাম ধরে খোজ খবর নেয়া, যেমন খ্যাপাটে কেমন আছে, বিয়ে করেছে কি না। পাগলা কি করছে। চ্যাংড়া দোস্তের কি খবর ইত্যাদি ইত্যাদি। আর আমার শুরু হলো বিরক্তি, শালী নিজের পরিচয় দিবি না দিসনা, এটুকু তো বলবি আমার নাম্বার কই পাইলি।
হঠাৎ সে কয় তোর বউরে দে কথা কমু। এবার মেজাজ আর ও খারাপ কারন অপরাজিতা খুলনায়, তারে আমি কেমনে দেই। বলতেই ঝাড়ি বউ এর সাথে কথা কইতে দিবি না এইডা ক।
কথা যখন ৩০ মিনিট পার হয়েছে তখন সে তার পরিচয় দিতেই আমার আর একবার টাসকি খাওয়ার পালা। সে আমার শৈশবের হারিয়ে যাওয়া বান্ধবী প্রজ্ঞা। আমাদের প্রাইমারী স্কুলটি ছিল উপজেলা সদরে, তাই সব সরকারী কর্মকর্তার ছেলেমেয়েরা এই স্কুলেই পড়াশুনা করত। প্রজ্ঞা ছিল এক পুলিশ অপিসারের মেয়ে যে ক্লাস ফাইভ শেষ করে বদলী হয়ে যায় অন্য কোথাও। নামটা শুনেই যেন ফিরে গেলাম সেই দিনগুলিতে যখন প্রামিারী স্কুলে আমরা দুস্টুমি করে বেড়াতাম, দূরন্তপনার জন্য অহরহ অভিভাবকদের ঝাড়ি খেতাম। আর প্রজ্ঞা ছিল আমাদের খুব কাছের এক বন্ধু।
এরপর জিজ্ঞাসা করলাম, দোস্ত তুই আমার নাম্বার কই পাইলি। উত্তর আজ বিকালে কাকে তুমি ফেসবুকে এ্যাড করেছ দোস্ত। কইলাম এক পুলারে নাম ...............।
- আরে দোস্ত ঐখানে থেকেই তো পাইছি!
- ক্যামনে, ঐটা কি তোর আইডি?
- না, ঐ টা আমার জামাইযের আইডি, ঐটা দিয়েই তোকে রিকোয়েস্ট পাঠালাম, কারন তুই তো আবার অপরিচিত মাইয়াগো এ্যাড করিস না।
- ফুলাস না, এই লুকোচুরি করলি ক্যান?
- দেখলাম, তুই আমাদের কতটা মনে রেখেছিস।


এরপর কথা চলতে লাগল, যেন ২০ বছরের সমস্ত জমানো কথা, সময়ের দিকে কার ও ই খেয়াল নেই। হঠাৎ শুনি ফজরের আজান, কাজেই আর ঘুমানো হলো না। ৭ টা পর্যন্ত কথা হইলো দুই দোস্তের মধ্যে।
প্রজ্ঞা এখন ইংল্যান্ডে রয়েছে, স্বামী এবং এক সন্তান নিয়ে সূখেই আছে।:)
২৫টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×