বাংলাদেশের কিছু গ্রামে এখন দেখা যায় অন্যরকম এক দৃশ্য৻ সাইকেল চালিয়ে একটি তরুণী যাচ্ছেন মানুষের বাড়ি বাড়ি, তাঁর সাথে ল্যাপটপ কম্পিউটার বা নেটবুক৻
তিনি ইন্টারনেট ব্যবহার ক‘রে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন, কখনো গ্রামের মেয়েদের বা ছোট ছোট স্কুলের ছেলেমেয়েদের শেখাচ্ছেন কিভাবে ব্যবহার করতে হয় কম্পিউটার৻ এদের নাম দেয়া হয়েছে ‘ইনফো-লেডি‘ বা ‘তথ্য-কল্যাণী ‘তথ্য প্রযুক্তি-ভিত্তিক সেবাকে তারা নিয়ে যাচ্ছেন সরাসরি গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায়৻
সাইকেল, ল্যাপটপ আর চিকিৎসা যন্ত্রপাতি নিয়ে তথ্য-কল্যাণীরা গ্রামে ঘুরে ঘুরে লোকজনকে দিচ্ছেন ইন্টারনেট-ভিত্তিক নানা রকম সেবা৻
এই ভ্রাম্যমান তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের একজন হলেন সুমনা আখতার লাবণি৻ গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার দু‘টি ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামে দু‘বছর ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সেবা দিচ্ছেন তিনি৻
কীধরণের সেবা দিচ্ছেন তথ্য-কল্যাণীরা
গর্ভবতী মহিলাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী দেয়া, ইন্টারনেট থেকে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য-সেবা তথ্য বা চিকিৎসকদের পরামর্শ দেয়া, এমনকি মানবাধিকার সংক্রান্ত তথ্য-পরামর্শ দেয়া, এগুলোর সবকিছুই পড়ে তাঁর কাজের মধ্যে৻
তারা এ কাজের জন্য প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য সহায়তা পেয়ে থাকেন ডি-নেট নামে একটি বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে৻
তথ্য-কল্যাণীরা ইন্টারনেট থেকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য দেয়া ছাড়াও অফলাইন সামগ্রী হিসেবে ডি-নেটের তৈরি করা চিকিৎসা-সেবা সংক্রান্ত সিডি বা ডিভিডি ব্যবহার করেন৻
একজন ডিগ্রিধারী চিকিৎসক না হয়েও তিনি অর্জন করেছেন স্থানীয় লোকদের, বিশেষত মহিলাদের আস্থা৻ সুমনা আখতার লাবণি বলছেন, মহিলারা তাঁর সাথে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে নিঃসংকোচে কথা বলতে পারেন, যা তারা একজন পুরুষ ডাক্তারের সাথে পারেন না৻
স্বাস্থ্য সেবা ছাড়াও এই তথ্য-কল্যাণীরা কম্পিউটার আর ইন্টারনেটকে নিয়ে যাচ্ছেন শিশু আর কিশোর কিশোরীদের কাছেও৻
তাদের কাছ থেকে স্কুল পড়ুয়া শিশুরা শিক্ষামূলক কম্পিউটার গেম-এর মাধ্যমে অনেক কিছু শিখতে পারছে৻ গ্রামের কিশোর-কিশোরীরা জানছে কিভাবে কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হয়৻
কত মানুষ এই সেবার আওতায়
তথ্য কল্যাণীদের সেবা পাচ্ছেন বাংলাদেশের ৩৬টি ইউনিয়নের ৮০ হাজার মানুষ৻ তাদের প্রশিক্ষণ-দানকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ডি-নেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অনন্য রায়হান বলছেন, জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অনেকগুলোই নারীদের বিষয়ে, এবং এই লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জনের ক্ষেত্রে এবং নারীদের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এই ইনফো-লেডিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে৻
অনন্য রায়হান আরো বলেন যে তাঁরা এই সেবা আরো সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা করছেন, এবং কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের জীবনে সূদুরপ্রসারী পরিবর্তন আনা সম্ভব৻
তাছাড়া প্রত্যন্ত প্রামের মানুষদের কাছেও এরা ইন্টারনেট-ভিত্তিক সেবা পৌঁছে দিতে পারবেন এবং তথ্য প্রযুক্তির সাথে পরিচিত করে তুলতে পারবেন বলে তিনি জানান৻
অল্প কয়েকবছর আগেও যেখানে গ্রামীণ জনগণের কাছে কম্পিউটার জিনিষটাই ছিল সম্পূর্ণ অজানা, এখন সেই মানুষদের জন্য তথ্য-কল্যাণীরা খুলে দিচ্ছেন প্রযুক্তি জগতের নতুন নতুন জানালা৻
ভিডিওসহ সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটির জন্য ক্লিক করুন
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০১০ সকাল ১১:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



