আমার প্রিয় পোস্ট
- বাংলাদেশের সেরা সাহিত্য সাময়িকী - মাহবুব মোর্শেদ
- আমার প্রথম মেয়ে/ এহসান হাবীব - এহসান হাবীব
- আমার ‘শাদা প্রজাপতি’ পাঠানুভূতি এবং শরিফ খোকন- এর ‘শাদা প্রজাপতি’ - কৃষ্ণ তরুণ
- প্রজাপতির রূপান্তরের প্রকৃতি / শরিফ খোকন - বুক রিভিউ
- গ্যাস ব্লক ইজারা: এবার সাগর লুটের লাগলো ধুম - দিনমজুর
- নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ - নির্মলেন্দু গুণ - মরুবিজয়
- সকলেই কবি নয় কেউ কেউ কবি ১ : কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের 'মে-দিনের কবিতা' - চাক্ষিক
- নদীর পাশে একা / আবু হাসান শাহরিয়ার - পোয়েট ট্রি
'নিজেকে বদলাতে আগে' প্রথম আলো কি বদলেছে?
২৪ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:১৪
বছর ৪/৫ আগের কথা। আমি তখন ঢাকায়। সম্ভবত ঐদিন দৈনিক জনকণ্ঠে সৈয়দ শামসুল হকের একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছিল। লেখাটির শিরোনাম ছিল 'জেগে ওঠো বাংলাদেশ'। তো ঐরাতে আমি আমার দুই অগ্রজ বন্ধুর সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম। রাত দু'টার দিকে আমাদের আড্ডার বিষয় হয়ে যায় সৈয়দ হকের লেখাটি। হঠাৎ এক বন্ধু টেলিফোন সেটটি টেনে নিয়ে কয়েকজনকে ফোন করতে লাগল। সকলকে সে ফোনে একটি কথাই বলছে- "ঘুমাবেন না, সৈয়দ হক আপনাকে জেগে থাকতে বলেছেন। জেগে থাকুন।" রিসিভারের ওপাশে কোন সাড়া আসার আগেই সে লাইন কেটে দিচ্ছিল। সর্বশেষ ফোনটা ছিল খুবই মজার। বন্ধুটি রিসিভার তুলে গম্ভীর স্বরে বলল - সৈয়দ হক বলছেন?
লাউডস্পিকারে ততোধিক গম্ভীর স্বর- বলছি
- ঘুমোচ্ছেন?
বেশ রাগতস্বর- রাত দু'টো কি জেগে থাকার সময়?
- না।
বলে বন্ধুটি একটু থামল। আবার বলল
- তবে স্বাক্ষী থাকলাম জাতিকে জেগে থাকতে বলে আপনি নিজে ঘুমোচ্ছেন। বলে খট করে রিসিভার নামিয়ে রাখল।
আমরা তিনজনই এবার সশব্দে হেসে ওঠলাম। যদিও বিষয়টি নিছকই মজা করে হয়েছিল তথাপি অন্যকে জেগে থাকতে বলে নিজে ঘুমিয়ে পড়ার মতো বিষয় এই বঙ্গদেশে নেহাতই কম ঘটে না।
এই যেমন সম্প্রতি দৈনিক প্রথম আলে ঢাকঢোল পিটিয়ে সারাদেশ ঘুরে নিজেকে বদলে দিয়ে পুরো জাতিকে বদলে ফেলার মহান ইজারার কাজটি শেষ করে এসেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে প্রথম আলো নিজে কতটুকু বদলেছে?
শপথ নেয়ার আগে এবং পরে দুইটি ঘটনার উল্লেখ করি।
ঘটনা ১.
গতবছরের এপ্রিল মাসের কথা। আমার এক পরিচিত দুররোগ্যব্যাধিতে আক্রান্ত হলে আমরা কয়েকজন তার চিকিৎসার ব্যায়ভার লাঘবের জন্য কিছু উদ্যোগ নিই। তার মাঝে একটি উদ্যোগ ছিল পত্রিকায় সাহায্যের আবেদন করে বিজ্ঞপ্তি দেয়া। ঢাকার অনেকগুলি দৈনিক এই আবেদনের বিজ্ঞপ্তি ছেপেছিল। কিন্তু প্রথম আলোর ময়মনসিংহ প্রতিনিধি আমাদের যে বক্তব্য শুনিয়েছিল তা শুনে আমরা রীতিমতো ঠাসকি খেয়েছিলাম। ময়মনিসংহ প্রতিনিধি নিয়ামুল কবির সজল বলেছিল- "দেখেন এইসমস্ত বিজ্ঞপ্তি ছাপানো খুবই কঠিন। ঢাকা অফিসে খুবই উপরের লেভেলে যদি লোকটুক থাকে তাহলে এগুলো ছাপা হয় আর নাহলে এগুলো ডেস্কেই পড়ে থাকে।" প্রথম আলোর খতরনাক চরিত্রের কথা মোটামুটি দেশের লোকজন ভালই জানে। আমিও কিছুটা জানতাম। তাই এবিষয়ে আর কথা না বাড়িয়ে চলে আসি।
ঘটনা ২.
২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে এদেশের মানুষ যতটা আওয়ামি লীগের পক্ষে রায় দিয়েছে তার চেয়ে বেশি রায় ছিল বিএনপি জামাত জোটের বিপক্ষে। ফলে এই নির্বাচনের পর জাতি আশা করেছিল বিএনপিজামাতের খপ্পর থেকে জাতি এবার মুক্তি পাবে। সারাদেশে যখন যোদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবী জোরালো হয়ে ওঠছে তখন ময়মনসিংহে স্থানীয় জামাতের এক নেতা স্থানীয় প্রশাসন এবং স্থানীয় আওয়ামি লীগের কয়েক নেতাকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে ট্রাস্ট পরিচালিত একটি বেসরকারি কলেজ দখল করে নিজের কব্জায় নিয়ে নেয়। কলেজের প্রকৃত ট্রাস্টিগণ এবিষয়ে মামলা দিতে গেলে থানা মামলা নিতে টালবাহানা করে। পরবর্তিতে তারা সাংবাদিকদের দ্বারস্থ হন। কারণ তারা ধারণা করেছিল যে, জামাত নেতার বিরুদ্ধে থানা মামলা নিচ্ছে না এটি অবশ্যই অন্ততপক্ষে এইসময়ে সংবাদমূল্য পাবে। যাই হোক কয়েকটি পত্রিকা এবিষয়ে নিউজ করলেও প্রথম আলোর সজল আবারো সেই পুরনো প্যাঁচাল শুরু করে। " এখন পত্রিকা ঘূর্ণিঝড় আইলা নিয়ে ব্যাস্ত, এখন কি আর এবিষয়ে নিউজ করা যাবে?" ইত্যাদি। অথচ পরদিন প্রথম আলোয় মুক্তাগাছায় গরুচুরির উপরেও নিউজ ছাপা হয়েছিল। পরে জানা গেল স্থানীয় আরেক সাংবাদিকের মাধ্যমে সিন্ডিকেট করে জামাতনেতা টাকা বিলিয়ে অনেক সাংবাদিককেই ম্যানেজ করে নিয়েছিল। তার মাঝে সজলও আছে। বিষয়টি প্রথম আলোর সম্পাদক জনাব মতিউর রহমানকে সরাসরি মোবাইল ফোনে জানানো হলেও এবিষয়ে কোন ক্রিয়া বা প্রতিক্রিয়া কিছুই পাওয়া যায়নি। তার মানে কী? মতিউর রহমান নিজেও কী ম্যানেজ? বড় বিচিত্র এই দেশ! বাংলাদেশ বলে কথা! কতকিছুই সম্ভব এখানে। নিজের পুরনো খতরনাক চরিত্র ধরে রেখে জাতিকে বদলে ফেলার কী হাস্যকর প্রয়াস!
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:৩১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
অলস ছেলে বলেছেন:
+
লেখক বলেছেন: + দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। - দিলেও রাগ হতাম না।
ওসমানজি২ বলেছেন:
বড় বিচিত্র এই দেশ! বাংলাদেশ বলে কথা! কতকিছুই সম্ভব এখানে। নিজের পুরনো খতরনাক চরিত্র ধরে রেখে জাতিকে বদলে ফেলার কী হাস্যকর প্রয়াস! লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
অরণ্য আনাম বলেছেন:
গণস্বাক্ষর কার্যক্রমটির জন্য আমরা প্রথম আলো বন্ধু সভার সাথে আলোচনায় গিয়েছিলাম। কিন্তু, তাদের কথা হচ্ছে, তারা এই ধরনের কার্যক্রমে উৎসাহি নয়। কারণ, এতে তাদের নিজেদের তেমন কোন আর্থিক লাভ নেই। তেমন কোন স্পন্সর পাওয়া যাবে না। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো প্রথম আলো ব্লগ এর সাথে সম্পৃত্ত নয়। প্রথম আলো যেখানে যাই করুক না কেন, টাকার চিন্তা আগে, আর তার জন্য চাই স্পন্সর। অর্থাৎ টাকার গোলামের ঈজ্জত দামি।
অরণ্য আনাম বলেছেন:
তবে একটি কথা বলতে চাই, সবার আগে নিজেদের দৃষ্টি ভঙ্গি বদলাতে হবে। বাংলাদেশ-এ সব সম্ভব
লেখক বলেছেন: অরণ্য, কথা বলার জন্য ধন্যবাদ। আজকাল তো এর বিরুদ্ধে কেউ কথাও বলতে চায় না।
মহিউদ্দিন আহামেদ সৈকত বলেছেন:
ভাববার বিষয়..
লেখক বলেছেন: ভাবুন, আরো ভাবুন...
লেখাজোকা শামীম বলেছেন:
ময়মনিসংহ প্রতিনিধি নিয়ামুল কবির সজলকে নিয়ে লেখলেন, দোষ দিলেন মতিউর রহমানকে। স্থানীয় প্রতিনিধিদের কাছে সম্পাদক পর্যন্ত জিম্মি হয়ে থাকে। সকল পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধিরা সিন্ডিকেট করে নিউজ আটকায়। কার নিউজ যাবে বা যাবে না সেই সিদ্ধান্ত নেয়। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রেস ক্লাবগুলোও মাঝে মাঝে জড়িয়ে যায়। টাকার বিনিময়ে নিউজ বন্ধ করে দেয়ার সিন্ডিকেট অনেক জেলাতেই আছে।
একটা পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি কে হবেন , সেটাও অনেক সময় নির্ধারণ করে দেয় এই সিন্ডিকেট। তাদের পছন্দের লোক ছাড়া অন্য কাউকে নিয়োগ দিলে সে কাজ করতে পারে না। বাধ্য হয়ে সম্পাদককে তাদের কথা মতো কাজ করতে হয়।
দেশ বদলানো এত সহজ না, নিজেকে বদলানোও না।
লেখক বলেছেন: ভাই, একটা কথা বলি, রাগ নিবেন না। মতিউর রহমানকে আমি এখনো এতটা বলদ সম্পাদক ভাবিনা যে তার স্থানীয় প্রতিনিধিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। হয়তো আপনি মতিউর রহমানকে আমার চেয়ে বেশি জানেন। তেমনটি হলে মতিউর রহমানের জন্য কেবল আফসোসই করতে হবে আমাদের।
বরফ মাখা জল বলেছেন:
আমি মার্কেটিং এ আছি বলে জানি, বদলানোর বাহানায় শালারা পত্রিকার বিজ্ঞাপন রেট ২০% বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্যবসা ও ব্রান্ডিং এই দুই বিষয়ে তারা ওস্তাদ। আর এই পত্রিকার সাংবাদিক অনেকরেই চিনি, তাদের সংবাদ প্রতি রেটও জানি। খাম না পাঠাইলে নিউজ ছাপে না। মতিউর ভাই নিজেও বদলায় নাই, তার চামচারাও না। এটা একটা বানিজ্যিক প্রচারনা, আমাদের ইমোশন নিয়া খেলা করার একটি অতি পুরাতন ঘটনা।
লেখক বলেছেন: যারা আমাদের ইমোশন নিয়া খেলে আমরা কি তাদের প্রত্যাখান করতে পারি না?
একজন সুখীমানুষ বলেছেন:
+
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: হয় না। জানি। কিন্তু কেউ কেউ হওয়ার ভান করে।
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
প্রথম আলোর বিষয়টি পুরোপুরি,বলতে চাইছি, শতভাগ স্ট্যান্টবাজি !
তারা আলোচনায় থাকতে চাই,ভালোত্ব দেখাতে চাই,আর পত্রিকা বিক্রি বাড়াতে চাই ।
মতিউর রহমান এর মতো নিখুঁত মোসাহেব সম্পাদক আরেকজন খুঁজে পেতে আপনাকে অনেক কষ্ট করতে হবে ।
লেখক বলেছেন: ভালোই বলেছেন ভাই। ধন্যবাদ।
হলদে ডানা বলেছেন:
নিরপরাধ মানুষকে খুনি বানতে জানে প্রথম আলো।
লেখক বলেছেন: এদের প্রতি ধিক্কার।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।
আরি০০৯ বলেছেন:
লেখক বলেছেন: যারা আমাদের ইমোশন নিয়া খেলে আমরা কি তাদের প্রত্যাখান করতে পারি নাএর উত্তরে আমি বলব অবশ্যি ..................
আসুন প্রথম আলোকে প্রত্যাখান করি ......তাদের ভন্ডামীর সমুচিত জবাব দেই ।
লেখক বলেছেন: সহমত পোষণ করার জন্য ধন্যবাদ।
কোরক বলেছেন:
ভাই শয়তানের মিঠা কথায় ভুলতে নাই।দালাল পেপার।
এহসান হাবীব বলেছেন:
যারা কষ্ট করে পোস্টটি পড়েছেন। মন্তব্য করেছেন, + দিয়েছেন এমনকি নীরবে -দিয়েছেন তাদের সকলকে ধন্যবাদ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














