রাজনীতি করার দরকার আছে - তাও মনে করি না। মহান মুক্তিযুদ্ধ আমার চেতনা। বিজয় আমার অহংকার। জানি ও মানি এই বাংলাদেশ সব মানুষের।
রাষ্ট্রই ই নিশ্চিত করবে সব মানুষের নিরাপত্তা ।
টিভিতে মেজর আসাদের শোকাহত স্ত্রী সাইকা র সাক্ষাততকার দেখছিলাম।
২৮ ফেব্রুয়ারি ছিল তাদের বিয়ে বার্ষিকী। কথা ছিল আনন্দে দুজনে পালন করবেন। তারা পারেন নি। আসাদ শহীদ হয়েছেন ২৫ ফেব্রুয়ারি।
আসাদ গতবছর এসময়ে লাইবেরিয়া ছিলেন জাতিসংঘ মিশনে। যাবার আগে
প্রিয়তমা স্ত্রী কে বলে গিয়েছিলেন , যদি ফিরে না আসি - এই দেশ রেখে যাচ্ছি তোমার জন্য , আমার প্রিয় তিন বছরের মেয়েটির জন্য।
আসাদ বলেছিলেন , ''সাইকা আর কিছু তোমাকে দিতে না পারলেও
কথা দিচ্ছি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা তুমি পাবে ''।
.............. সাইকা কেঁদে উঠেন।
আমি তাকে দেখছি অনেক দূর থেকে । তার পাশে তার ছোট্ট মেয়েটি । সে জানে না তার পিতা আর ফিরবেন না কোন দিন।
আমি কাঁদি। কেঁদে উঠি ।কিছুই ভাবতে পারি না।
২
সরকারী আহ্বানে সাড়া দিয়ে শত শত বিডিআর জওয়ান আসছেন পিলখানায়।পোশাক পরিহত একজন জওয়ান কে টিভিতে দেখলাম , তার কোলে তার চার/পঁচ বছরের একটি মেয়ে। সাথে তার প্রিয়তমা স্ত্রী ও।
চোখে মুখে তীব্র শংকা। কে জানে এটাই এই পরিবারের শেষ সম্মিলন
কি না !!
না এমনটি আমরা চাই না।
আমাদের মহান মুক্তি সংগ্রামে দুটি বাহিনীর ই ভূমিকা ছিল বীরত্বপূর্ণ ।
যা কোন ভাবেই খাটো করে দেখার নয়। আমরা সেই সম্প্রীতি চাই। ধরে
রাখতে চাই সেই ভ্রাতৃত্ব । কোন রক্তপাতই কাম্য নয় আমাদের ।
হত্যাকারীদের বিচার চাই আমরা । সে সাথে নিরপরাধ সব সৈনিকের
নিরাপত্তা চাই । চাই তাদের পরিবারের নিরাপত্তা।
শহীদ বীরসন্তানদের নাড়ী পোঁতা আছে এই মাটিতে। তার প্রতি সম্মান রেখেই এই মাটির , এই জাতির সম্মান - সংহতি রক্ষা করা সবার নৈতিক
দায়িত্ব ও কর্তব্য মনে করছি ।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মার্চ, ২০০৯ রাত ১:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




