জাতি অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে এই বিচারের ।
বিচার সুষ্ঠু হবে তো ? প্রতীকি বিচারের নামে পার পেয়ে যাবে
রাঘব বোয়ালরা ?
পড়ুন দৈনিক সংবাদ এর রিপোর্ট / ২৯ মার্চ২০১০
আজ থেকে শুরু হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া। তদন্ত দলের সদস্যরা আজ থেকে যুদ্ধাপরাধীদের অপরাধের তথ্য প্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু করছেন। যুদ্ধাপরাধীদের কেউ দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েও রেহাই পাবে না, তাকে ধরে আনার জন্য ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেয়া হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে প্রয়োজনে জেলা ও বিভাগীয় শহরে আদালত বসানো হবে। গত বৃহস্পতিবার সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল, আইনজীবী প্যানেল ও তদন্ত কমিটির নাম ঘোষণা করেছে। ইতোমধ্যে পুরনো হাইকোর্ট ভবনে ট্রাইব্যুনালের জন্য স্থান নির্বাচন করে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের লক্ষ্যে অপরাধের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ শুরু করবে তদন্ত কমিটির সদস্যরা।
জানা গেছে, যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া দু'ভাবে চলবে। প্রথমত, অভিযোগের ভিত্তিতে এবং দ্বিতীয়ত; দেশী-বিদেশী আর্কাইভ, ভিডিও ক্লিপ ও পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য-উপাত্ত দেখে। যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা থেকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তের মাধ্যমে বিচার শুরু হবে। গতকাল রোববার আইনমন্ত্রী, আইন প্রতিমন্ত্রী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী, যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত্র বিচার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান, এটর্নি জেনারেল, আইনজীবী প্যানেলের সদস্য, তদন্ত সংস্থার প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিচারের জন্য প্রস্তুত পুরাতন হাইকোট ভবন পরিদর্শন করেন। আদালত পরিদর্শন শেষে ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারক দুপুরে বৈঠকে বসেন। বিচারের জন্য প্রস্তুত পুরাতন হাইকোর্ট ভবন পরিদর্শনের সময় আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, বিচার কাজে সব ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট এবং বিচারকদের বিচার কাজে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা রয়েছে। নিরাপত্তারও কোন ঘাটতি নেই।
বিচারের জন্য সময়সীমা নির্দিষ্ট রয়েছে কি না জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারের ক্ষেত্রে টাইম ফ্রেম বেঁধে দেয়া যায় না। এর আগে সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেছিলেন, অপরাধী শনাক্ত হলে অনেক পরেও তার বিচার হবে। প্রয়োজনে একাধিক আদালত থাকবে। বিভাগ বা জেলাতেও বিচারের ব্যবস্থা করা হবে। গতকাল মন্ত্রী বিচারের সব প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এ বিচারের মাধ্যমে জাতির প্রত্যাশা এবং দেশবাসীর আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে।
গতকাল রোববার দুপুরের আগে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নিজামুল হক নাসিম, ট্রাইব্যুনালের অপর বিচারক হাইকোর্টের বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর এবং ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাবেক জেলা জজ একেএম জহির আহমেদ এজলাস, হাজতখানা, মিডিয়া রুম, তদন্ত রুম, চেয়ারম্যানের খাস কামরাসহ বিভিন্ন শাখা ঘুরে দেখেন। বিচারকরা আদালতের আশপাশের পরিবেশও দেখেন।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নিজামুল হক নাসিম তার অনুভূতির কথা জানতে চাইলে সাংবাদিকদের বলেন, এতদিন ন্যায়সঙ্গতভাবে সুষ্ঠু বিচার করে এসেছি, এখনও করব। এ নিয়ে আলাদা কোন অনুভূতি নেই। এখন শুধু দায়িত্ব পালন। যেহেতু বিচারক গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না, তাই মিডিয়া সেলের ব্যবস্থা করে মুখপাত্র নিয়োগ করবেন বলে উল্লেখ করেন। এর আগে চেয়ারম্যান বলেছেন, হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সব সময় তিনি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেন। তার বিচারে যেন কোন নিরপরাধ লোক শাস্তি না পায় এবং অপরাধী যেন ছাড়া না পায় সেভাবে তিনি বিচার করেছেন, এখনও করবেন।
তদন্ত সংস্থার প্রধান সাবেক অতিরিক্ত সচিব আবদুল মতিন আদালতের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিচারের ক্ষেত্রে দুটি উপায়ে যুদ্ধাপরাধীদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। প্রথমত, অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। কেউ যদি কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে সেক্ষেত্রে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণে তদন্ত করা হবে। দ্বিতীয়ত, দেশী-বিদেশী আর্কাইভ, ভিডিও ক্লিপ ও পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য থেকে অভিযোগ প্রমাণের ব্যবস্থা করা হবে। এক্ষেত্রে কেউ অভিযোগ না করলেও বিভিন্ন ভাবে প্রকাশিত যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা সংগ্রহ করে অভিযোগ প্রমাণ করা হবে।
গ্রেফতার প্রসঙ্গে আবদুল মতিন সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে গ্রেফতার করা যাবে। এজন্য আইনের আলোকে ট্রাইব্যুনালের নতুন বিধিও তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন।
এর আগে সকালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান, এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং আইনজীবী প্যানেলের সদস্য মোশাররফ হোসেন কাজল, ট্রাইব্যুনাল পরিদর্শন করেন।
বিদেশে থাকা অভিযুক্ত ও চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের খুঁজে বের করতে প্রয়োজনে সরকার ইন্টারপোলের সাহায্য চাইবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন। এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, 'আমার কাছে কোন যুদ্ধাপরাধীর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার খবর নেই। আর কেউ পালিয়ে গেলেও রেহাই পাবে না। ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।' গতকাল রোববার উত্তরা বালিকা বিদ্যালয়ের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের একথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, 'আমার কাছে এখনো রিপোর্ট আসেনি যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে কেউ পালিয়ে গেছে। পুলিশকে নির্দেশ দেয়া আছে যাতে কোন যুদ্ধাপরাধী বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যেতে না পারে। যদি কেউ পালিয়ে গিয়ে থাকে অবশ্যই তাকে ফিরিয়ে আনা হবে। প্রয়োজনে আমরা ইন্টারপোলকে ব্যবহার করে সেই যুদ্ধাপরাধীকে ফিরিয়ে আনব।' স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে তদন্ত সংস্থাকে তথ্য দেয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সংস্থাপন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের কেউ পালিয়ে গেলেও রক্ষা পাবে না। এখন পৃথিবী অনেক ছোট। যুদ্ধাপরাধীরা অন্য কোন দেশে পালিয়ে গিয়েও পার পাবে না। সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবেই। জামায়াতে ইসলামীর কেন্ন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর কাশেম আলীর বিদেশে যাওয়ার বিষয়টি ধরে গতকাল রোববার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম এ কথা বলেছেন।
সাভারে লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (বিপিএটিসি) 'গভর্নেন্স রিফর্মস থ্রু আইসিটি এপলিকেশন' শীর্ষক তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
এইচটি ইমাম বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করতে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কোন ধরনের চাপ নেই। তবে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীরা বিচার প্রক্রিয়া বানচাল করতে পারে_ এমন আশঙ্কা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীরা দেশে ব্যাংক, বীমা, স্কুল-কলেজ ও মিডিয়ার মতো লাভজনক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খুলে হাজার কোটি টাকা অর্জন করেছে। এ অর্থ দিয়ে তারা বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
যুদ্ধাপরাধীদের অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত কিংবা অর্থ উপার্জনের উৎস বন্ধ করতে সরকার কোন পদক্ষেপ নেবে কি না_ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইমাম বলেন, প্রকাশ্যে তা বলা সম্ভব নয়। দেশে বর্তমান সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীরা জড়িত দাবি করে তিনি বলেন, যারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত তারা বিডিআর হত্যাকা- ঘটিয়েছে। আর তাদের সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদেরও যোগসূত্র রয়েছে।
যুদ্ধাপরাধীদের মুখ : বিচারের অপেক্ষায় জাতি
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
চলতি পথের গল্পঃ দুই

‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।
এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক
‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন
Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ
![]()
প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাকি রইলো; কাঁচা কলা

স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।