somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ফকির ইলিয়াস
আলোর আয়না এই ব্লগের সকল মৌলিক লেখার স্বত্ত্ব লেখকের।এখান থেকে কোনো লেখা লেখকের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা, অনুলিপি করা গ্রহনযোগ্য নয়।লেখা অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা করতে চাইলে লেখকের সম্মতি নিতে হবে। লেখকের ইমেল - [email protected]

দল ও সরকারের ছায়াযুদ্ধ, অসহায় জনগণ

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সকাল ৮:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দল ও সরকারের ছায়াযুদ্ধ, অসহায় জনগণ
ফকির ইলিয়াস
==================================
বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের একটি কথা বেশ আলোচিত-সমালোচিত হচ্ছে। তিনি বলেছেন, 'আমরা যদি বিরোধীদলে থেকেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারি তাহলে আর সরকারের দরকার কী?'
কথাটি মন্দ নয়। কারণ সরকারের শীর্ষমহল বারবার বলছে, বিরোধীদল নাকি ষড়যন্ত্র করে শেয়ারবাজারে ধস নামাচ্ছে। দেশে সন্ত্রাস উসকে দিচ্ছে।
একটি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলে একটি টক শো দেখলাম। এতে অংশ নিলেন সরকারি দলের চিপ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ ও বিরোধীদলের চিপ হুইপ জয়নাল আবেদিন ফারুক। সেই টক শোতে সরকারি দলের চিপ হুইপ নিউইয়র্ক কিংবা জাপানের স্টক মার্কেটে ধসের উদাহরণ টেনে এনেছেন বারবার। কিন্তু কথা হচ্ছে, ঢাকার তুলনা কোন বিবেচনায় নিউইয়র্ক কিংবা টোকিওর সঙ্গে করা হচ্ছে।
না, শেয়ারবাজার মোটেই সামাল দিতে পারছে না বর্তমান সরকার। প্রায় প্রতিদিন ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াও চলছে। বাংলাদেশে শেয়ারবাজার এখন প্রাত্যহিক অঙ্কের নাম। এর কারণ কী? অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন এক সপ্তাহের মধ্যে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। না, হয়নি। বরং অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। পত্রপত্রিকায় খবর বেরোচ্ছে নানাভাবে। একটি সংবাদে বলা হয়েছে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার একজন ঘনিষ্ঠভাজন নেতা এবং একাধিক টিভি চ্যানেলের মালিক নাকি শেয়ারবাজার ধস নামাতে নেপথ্যে থেকে কলকাঠি নাড়ছেন। তার সঙ্গে বিএনপির বেশ কিছু শীর্ষ ব্যবসায়ী রয়েছে বলেও খবর বেরোচ্ছে। সবচেয়ে অবাক করার মতো খবর হচ্ছে বিএনপির এসব ব্যবসায়ীর 'বিজনেস পার্টনার' নাকি আওয়ামী লীগের কিছু শীর্ষ নেতা!
সত্যি বড় সেলুকাস এ দেশ! এটাই যদি বাস্তবতা হয়, তবে সরকারকে তো কুপোকাত করতে আর কোন কিছুরই দরকার হয় না। এবং এরাই সরকারের পতন ঘটানোর জন্যও যথেষ্ট। বিভিন্ন সংবাদ রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, বর্তমান সরকারের পারফরমেন্সে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই খুশি নন। এ ক্ষোভের দুটি কারণ থাকতে পারে। প্রথমটি হচ্ছে, তারা শীর্ষ নেতা হওয়ার পরও মন্ত্রিত্বের ক্ষমতা পাননি। এ ক্ষোভে নানা কথা বলছেন। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, সত্যিকার অর্থেই তারা দলের কল্যাণ চান। এবং সেই দরদ থেকেই তারা দলের সমালোচনা করছেন।
কারণ যাই থাকুক না কেন, সরকার ভালো নাকি মন্দ করছে তার ভেদবিচার করার জন্য প্রকৃত শক্তির উৎস হচ্ছে রাষ্ট্রের জনগণ। এবং সে বিচার তারা করেই যাচ্ছেন। এর প্রমাণ পৌর করপোরেশনের নির্বাচন। শূন্য সংসদীয় আসনে নির্বাচন। কিন্তু লক্ষ্য করছি বর্তমান ক্ষমতাসীনরা বলতে চাইছেন, এটা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার বিজয়। ভালো কথা। কিন্তু বিভিন্ন পৌর আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা যে পেশি দেখিয়েছেন, তা কি গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ? দলে চেইন অফ কমান্ড প্রতিষ্ঠিত করা যাচ্ছে না, নাকি দল গণতন্ত্র চর্চা করতে অভ্যস্ত হচ্ছে না নেতৃত্ব নির্বাচনে?

দুই
বাংলাদেশে বিশ্বকাপ ক্রিকেট লিগ শুরু হচ্ছে। এটি গোটা দেশ ও জাতির জন্য একটি গৌরবের বিষয়। প্রায় ২৫ কোটি টাকার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে এখন সাজ সাজ রব। বাংলাদেশের এই যে আয়োজনের অর্জন, তা কোনমতেই খাটো করে দেখার বিষয় নয়।
এই যে অর্জন এবং এগিয়ে চলার ধারাবাহিকতা, তা আরও অনেক পরিপুষ্ট হতো যদি বাংলাদেশ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে অর্থনৈতিক মুক্তিলাভে সমর্থ হতো। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা হয়নি। মধ্যস্বত্বভোগী একটি ফড়িয়া শ্রেণী দেশে ফুলেফেঁপে উঠলেও সাধারণ মানুষের কোন ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। ভালো মানুষের হাতকে কাজে লাগানোর দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে রাজনীতিকরা সমন্বয় সাধনেও ব্যর্থ হয়েছেন বারবার।
সম্প্রতি নিউইয়র্ক সফরে এসেছিলেন আওয়ামী লীগের দুই নেতা এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানক এবং সরকারি দলের হুইপ মীর্জা আজম এমপি। তারা বিভিন্ন সমাবেশে বর্তমান সরকারের কর্মকান্ডের প্রশংসা করে বলেছেন, পাঁচ বছর পর রাষ্ট্রের মানুষ বর্তমান সরকারের কর্মকান্ডের মূল্যায়ন করবে। হ্যাঁ, মূল্যায়ন তো করবেই। একটি কথা মনে রাখা দরকার, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা হাতে নিয়ে বড় বড় কাজগুলো করার খতিয়ান জনগণকে দেখানো যেতে পারে। কিন্তু এগুলো করতে কতটা কাঠখড় পোড়াতে হয়, কতটা সময় লাগে তা দেশের জনগণ ভালো করেই জানেন।
বাংলাদেশে প্রধান সমস্যাগুলো কী, তা চিহ্নিতকরণ খুবই দরকারী বিষয়। উপদেষ্টা পরিষদে যেসব প্রাজ্ঞ ব্যক্তি রয়েছেন, তারা সরকারকে বিষয়গুলো চিহ্নিত করে পরামর্শ দিয়ে সাহায্যের কাজটি ত্বরান্বিত করতে পারেন।
বিরোধীদল বিএনপি খুব ভালো করেই জানে তাদের ত্রিশের কোটার সংসদ সদস্য নিয়ে তারা সংসদে এসে সুবিধা করতে পারবে না। কিন্তু সরকার যে বলেছিল, বিরোধীদল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার দেয়া হবে, সেই অঙ্গীকারের কি হলো? কেন তা বাস্তবায়িত হয়নি?
এভাবে অনেক ইস্যু আছে, যার তাৎক্ষণিক সমাধান করে নজির স্থাপন করতে পারত বর্তমান সরকার। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসা এই নবম জাতীয় সংসদ আরও কিছু নৈতিকভাবে উদার তো হতেই পারত। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ইস্যুটি প্রায় ধীরগতিতেই চলছে। এ ইস্যুটি এভাবে জিইয়ে না রেখে বিচার কাজটি ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন জরুরিভাবে।
র‌্যাবের গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, দেশের শীর্ষ কিছু জঙ্গি যারা জামিনে রয়েছে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে একুশে আগস্টের বোমা হামলার মতো জঘন্য কিছু করতে তৎপর হতে পারে। এটা সরকার এবং রাষ্ট্রের জন্য অশনি সংকেত। কথা হচ্ছে আইনের ফাঁকফোকর গলে এমন চিহ্নিত জঘন্য সন্ত্রাসী জঙ্গিরা জামিন পেল কীভাবে?
ভুলে গেলে চলবে না, দেশে একটি অপশক্তির বিষফণা এখন সংগোপনে তাদের ঐক্য এবং সংহতি চালাতে তৎপর রয়েছে। এরা সুযোগ পেলে যে কোন আঘাত হানতেই পারে। তাই গণমানুষের নিরাপত্তা বিধান এবং অসহায়ত্ব মোচনে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে শীর্ষ নেতাদেরকেই। এক্ষেত্রে তারা যদি বারবার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত এবং পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে লিপ্ত থাকেন, তবে ফসল কাদের ঘরে উঠবে, তা আর বলার প্রয়োজন নেই।
নিউইয়র্ক, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১১
----------------------------------------------------------------------
দৈনিক সংবাদ / ঢাকা/ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১১ শুক্রবার প্রকাশিত

ছবি- লিন্ডা লিজ
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×