somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

@ তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ্ তথা প্রভুত্বে একত্ববাদের ক্ষেত্রে ভ্রান্ত হবার ধরন

১১ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের পর্ব পড়ুন। সৃষ্টিগতভাবেই মানুষ অন্তরে স্রষ্টার অনুভূতি রাখে, সষ্ট্রায় বিশ্বাসী হয়ে থাকে অথবা বিবেক বুদ্ধি বৃদ্ধির সাথে সাথে তার মনে প্রশ্ন জাগে যে, কে তাকে বানালো? এভাবেই মানব জাতি তার স্রষ্টার অনুসন্ধান করে থাকে। এ অনুসন্ধানে যদিও অনেকে তার সমাজ-সংস্কৃতির প্রভাবে কিংবা অন্য নানাবিধ কারণে সঠিক তথ্যটি পেতে সক্ষম হয় না, আবার অনেকে সফল হয়; কিন্তু নিতান্তই গুটি কতক রয়েছে যারা এক্ষেত্রে স্রষ্টা ও প্রতিপালকে অবিশ্বাস করে থাকে। আরবীতে এদেরকে বলে الملحد, এবং ইংরেজীতে Atheist আর বাংলায় নাস্তিক।

পবিত্র কুরআন আমাদের সৃষ্টির প্রারম্ভ সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে এভাবে:
وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آَدَمَ مِنْ ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَى أَنْفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُوا بَلَى شَهِدْنَا أَنْ تَقُولُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّا كُنَّا عَنْ هَذَا غَافِلِينَ .
((স্মরণ করুন, আপনার রব আদম-সন্তানের পিঠ থেকে তার বংশধরকে বের করেন এবং তাদের নিজেদের সম্বন্ধে স্বীকারোক্তি গ্রহণ করেন এবং বলেন,‘আমি কি তোমাদের রব নই?’ তারা বলে,‘হাঁ অবশ্যই; আমরা সাক্ষী রইলাম।’ এটা এ জন্যে যে, তোমরা যেন কিয়ামতের দিন না বল, ‘আমরা তো এ বিষয়ে গাফেল ছিলাম।')) [সূরা আল-আ'রাফ: ১৭২]

কুরআনে বর্ণিত মানব জাতি তার স্রষ্টাকে তার প্রতিপালক হিসেবে সাধারণ স্বীকৃতি প্রদানের এই অঙ্গীকারকে আরবী ভাষায় عهد ألست বা "প্রাচীন অঙ্গীকার" বলা হয়। অর্থাৎ, এ অঙ্গীকারের মাধ্যমে সমগ্র মানব জাতির যারা ইতিপূর্বে এসে গেছে, যারা বর্তমান আছে এবং যারা ভবিষ্যতে আসবে; সকলেই তাদের রব্ব হিসেবে মহান আল্লাহ্ তা'আলাকে স্বীকার করেছে।

প্রশ্ন থাকে যে, তাহলে মানব শিশু পৃথিবীতে এসে ইসলাম ভিন্ন অন্য মত ও পথের অনুসারী হয় কেন? এর উত্তরে মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ((প্রত্যেক সন্তানই ফিতরাতের (তথা স্বভাবজাত দ্বীন ইসলামের) উপরই জন্মগ্রণহণ করে, পরে তার পিতা-মাতা তাকে অন্যান্য মত ও পথে প্রবৃত্ত করে দেয়। [বুখারীঃ ৪৭৭৫, মুসলিমঃ ২০৪৭] অপর বর্ণনায় এসেছে, ((এ মিল্লাতের উপর জন্মায়)) [মুসনাদে আহমাদঃ ৩/৩৪৫,৪/২৪] অর্থাৎ, ‘প্রতিটি সন্তান স্বভাবজাত দ্বীন ইসলামের উপরেই জন্মায়। অন্য এক হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ((আল্লাহ্‌ বলেন যে, আমি আমার বন্দাদেরকে ‘হানীফ’ অর্থাৎ, এক আল্লাহ্‌তে বিশ্বাসীরূপে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর শয়তান তাদের পেছনে লেগে গেছে এবং তাদেরকে সেই সঠিক পথ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে গেছে।)) [মুসলিমঃ ২৮৬৫]

স্রষ্টা ও প্রতিপালক সম্পর্কে মানব জাতির এই যে অত্যন্ত স্বাভাবিক ও সৃষ্টিগত অবস্থান, এ চিরন্তন অবস্থান থেকে ভ্রান্ত হওয়ার মোটামুটি তিনটি ধরন রয়েছে:
১) সৃষ্টিতে অবিশ্বাসী নাস্তিক
২) স্রষ্টার গুণাবলীতে অস্বীকারকারী কাফের
৩) স্রষ্টার গুণাবলীতে অংশীদার স্থাপনকারী মুশরিক
অর্থাৎ, তিনটি ধরন: নাস্তিকতা, কুফুরী ও শির্ক।

নাস্তিকতা প্রসঙ্গে কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَقَالُوا مَا هِيَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا نَمُوتُ وَنَحْيَا وَمَا يُهْلِكُنَا إِلَّا الدَّهْرُ .
((তারা বলে: আমাদের পার্থিব জীবন ছাড়া অন্য কোন জীবন নেই। আমরা মরি ও বাঁচি; শুধু কালই আমাদেরকে ধ্বংস করে।)) [সূরা আল-জাসিয়াহ্: 24]

পবিত্র সুমহানের নিকট প্রার্থনা- তিনি আমাদেরকে তাঁর রুবুবিয়্যাতের প্রতি পূর্ণ ঈমানদার হওয়ার তৌফিক দিন এবং তা থেকে বিমুখ হওয়ার মত লাঞ্ছনাকর এই তিনটি ধরণ থেকে হেফাযত করুন।
11.01.2008, মদীনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে? নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে ??

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে ?? সামু ব্লগের এই ক্রান্তিকালে বিষয়টি নিয়ে একটু আলোচনা/পর্যালোচনা করে কিছু সময় কাঠানো... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি বড়দের গল্প - ছোটরাও পড়তে পারে

লিখেছেন মুনতাসির, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫০

বিজ্ঞানীরা তিনটা আলাদা দ্বীপে দুইজন পুরুষ আর একজন মহিলা মানুষকে এক বছরের জন্য ফেলে রেখে এসেছে। একটা দ্বীপ ব্রিটিশদের, একটা ফ্রেঞ্চদের, আর শেষটা আমাদের বাংলাদেশীদের। এক বছর পর যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০০

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বহুবার প্রমাণ হয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি থাকে তার তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাদের শ্রম, ত্যাগ, জেল-জুলুম সহ্য করার মানসিকতা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাজনা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



মন! মানুষের মন! মানুষকে তছনছ করে দেয়!
কখনো সে বাঘ, কখনো সে অজগর, কখনো সে শত্রু, কখনো সে বন্ধু!
কখনো সে ঈশ্বর, কখনো সে শয়তান, কখনো সে নিয়তি!
বিদিকিচ্ছিরি কান্ড!

লম্বা টানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৈচিত্রে ভরা মহাবিশ্ব, তবে মানুষ কেন একই রকম হবে?

লিখেছেন মিশু মিলন, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৩৯



এবার শেখরনগর কালীপূজার মেলায় গিয়ে সন্ধ্যার পর ভাগ্নি আর এক দাদার মেয়েকে বললাম, ‘চল, তোদের অন্য এক জীবন দেখাই।’
সরু গলি দিয়ে ওদেরকে নিয়ে গেলাম পিছনদিকে যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×