somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

@শুধুমাত্র তাওহীদুর্ রুবুবিয়্যাহর স্বীকৃতি প্রকৃত মুসলমান হওয়া ও আযাব মুক্তির জন্য যথেষ্ট নয় ৩

০৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের পর্ব পড়ুন। মূলতঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের মুশরিকরাও একজন স্রষ্টায় বিশ্বাস করত, যা এ যুগের মূর্তিপূজক হিন্দুরা এবং অন্যান্য মুশরিক সম্প্রদায় যেমন- ইয়াহূদী-খৃষ্টানরাও করে থাকে। ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে দেখুন: খৃষ্টান শাসক আবরাহা যখন মক্কাভিমুখে অভিযান পরিচালনা করলো আল্লাহর ঘর কা'বাকে সমূলে ধ্বংস করে তৎপরিবর্তে তার নির্মিত গীর্জা-যা সানা'আয় অবস্থিত-সেদিকে মানুষের প্রবাহকে ফিরিয়ে দেয়ার দূরভিসন্ধি নিয়ে, তখন মক্কার নেতা প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাদা আব্দুল মুত্তালিব কা'বার দরজার কড়া ধরে কেবল সেই মহান আল্লাহ্ তা'আলার নিকটই সাহায্য চেয়েছিলেন; কা'বার ভেতরকার তিন শত ষাটটি মূর্তির একটির কাছেও হাত পাতেননি।

অপরদিকে ইসলামের যখন চরম কঠিন সময়, যখন মুষ্ঠিমেয় মুসলমান-যারা মদীনায় হিজরত করেছিলেন কাফেরদের নির্যাতন-অত্যাচারে অসহ্য হয়ে-তাদেরকে সমূলে নিঃশেষ করে দিতে কাফের সর্দার আবু জাহেল, উৎবা, শাইবার নেতৃত্বে বিশাল বাহিনী বদরের দিকে রওয়ানা হচ্ছিল, তখন যাত্রার প্রাক্কালে আবু জাহেল কা'বার দরজার কড়া ধরে দো'আ করেছিল যে, 'হে আল্লাহ্! যে দল সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত তুমি সে দলকে আজ বিজয় দান কর'!

এ থেকে প্রমাণিত যে, তৎকালীন মুশরিকরাও এক আল্লাহকে স্বীকার করত, তাঁর নিকট প্রার্থনা করত এবং আজকের মুশরিকরাও করে থাকে। যেমন- হিন্দুরা সেই একজনকে বিশ্বাস করে, ইয়াহূদীরা সেই একজনের ইবাদাত করে, খৃষ্টানরা সেই সুমহানের নিকট প্রার্থনা করে। কিন্তু তারা তাদের সবকিছু নষ্ট করে দেয় যখন তারা সেই দয়াময় প্রতিপালক আল্লাহর সাথে আরো অসংখ্য দেবদেবীর অংশ স্থাপন করে, যখন ইয়াহূদীরা ওজাইরকে আল্লাহর পুত্র বলে বিশ্বাস করে এবং নিজেদেরকে আল্লাহর নাতি-পুতি মনে করে, যখন খৃষ্টানরা ঈসা ইবনে মারইয়ামকে আল্লাহর পুত্র বলে জ্ঞান করে কিংবা ত্রিত্ববাদে সাজায় নিজেদের আকীদা-বিশ্বাসকে।

এ প্রশংসে আল্লাহ্ সোবহানাহু ওয়াতা'আলা তাঁর বাণীতে বিভিন্নভাবে বলেন:
وَجَاوَزْنَا بِبَنِي إِسْرَائِيلَ الْبَحْرَ فَأَتَوْا عَلَى قَوْمٍ يَعْكُفُونَ عَلَى أَصْنَامٍ لَهُمْ قَالُوا يَا مُوسَى اجْعَلْ لَنَا إِلَهًا كَمَا لَهُمْ آَلِهَةٌ قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ .
((আর আমি বনী ইস্‌রাঈলকে সাগর পার করিয়ে দেই; তারপর তারা মূর্তিপূজায় রত এক জাতির কাছে উপস্থিত হয়। তারা বলল, ‘হে মূসা! তাদের দেবতার মত আমাদের জন্যও এক দেবতা গড়ে দাও। তিনি বললেন, ‘তোমরা তো এক জাহিল সম্প্রদায়'।)) [সূরা আল-আ'রাফ: 138]
আল্লাহ্ তা'আলা অন্যত্র বলেন:
وَقَالَتِ الْيَهُودُ عُزَيْرٌ ابْنُ اللَّهِ وَقَالَتِ النَّصَارَى الْمَسِيحُ ابْنُ اللَّهِ ذَلِكَ قَوْلُهُمْ بِأَفْوَاهِهِمْ يُضَاهِئُونَ قَوْلَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَبْلُ...
((ইয়াহূদীরা বলে, ‘উযায়র আল্লাহ্‌র পুত্র’, এবং খৃস্টানরা বলে, ‘মসীহ্‌ আল্লাহ্‌র পুত্র।’ ওটা তাদের মুখের কথা। আগে যারা কুফরী করেছিল ওরা তাদের মত কথা বলে।)) [সূরা আত্-তাওবা: 30]

অথচ পূর্বে চয়িত আয়াতগুলোতে পরিস্কার হলো যে, তখনকার এবং এখনকার মুশরিকরা কেউই একজন স্রষ্টা, রিযিকদাতা, জীবনদাতা, মৃত্যুদাতাকে অস্বীকার করে না; কেবলমাত্র অস্বীকার করে তাঁর একত্বকে, অমুখাপেক্ষিতাকে, তাঁর অদ্বিতীয় হওয়াকে। তারা তাঁর নৈকট্য হাসিলের জন্য যা তাঁর এককভাবে পাওনা সেসব ইবাদাতগুলোকে মূর্তির জন্য নির্ধারণ করে, মৃত নবীদের জন্য নির্ধারণ করে, মৃত পীর-আওলিয়াদের জন্য নির্ধারণ করে, জগতের বিবিধ শক্তিসম্পন্ন সৃষ্টির জন্য নির্ধারণ করে; আর এভাবেই তারা তাদের স্রষ্টা ও প্রতিপালককে চিনতে গিয়ে ভুল করে ফেলে, যার ফলাফল দাঁড়ায়- 'ভুল করে চেনা' অথবা 'অচেনাই থেকে যান'। তাহলে চিন্তা করুন, যে তার স্রষ্টা, প্রতিপালক ও মা'বূদকেই চিনতে পারল না সঠিকভাবে; সে কি করে তাঁর উপর পূর্ণ ঈমানদার হবে? আর তার স্রষ্টাই বা কি করে তাকে তাঁর বান্দা হিসেবে গ্রহণ করবেন?

সুতরাং প্রতিটি মানুষের জন্য একান্তভাবে কর্তব্য যে, সে তার স্রষ্টা, তার প্রতিপালক, তার মা'বূদ; যাঁর মূল নাম "আল্লাহ্", তাঁকে তাঁর "প্রভূত্বে", তাঁর "ইবাদাতে" ও তাঁর "নাম এবং গুণাবলীতে" পরিপূর্ণ রূপে চিনতে ও জানতে হবে। অন্যথা, কেবলমাত্র 'আল্লাহ্ একজন আছেন যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন'-এটুকু বিশ্বাস আপনাকে কখনোই না সত্যিকারের মুসলমান বানাবে আর না অনন্ত আখেরাতে আযাব থেকে মুক্তির কারণ হবে!
07.01.2008, মদীনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব।
৮টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি বড়দের গল্প - ছোটরাও পড়তে পারে

লিখেছেন মুনতাসির, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫০

বিজ্ঞানীরা তিনটা আলাদা দ্বীপে দুইজন পুরুষ আর একজন মহিলা মানুষকে এক বছরের জন্য ফেলে রেখে এসেছে। একটা দ্বীপ ব্রিটিশদের, একটা ফ্রেঞ্চদের, আর শেষটা আমাদের বাংলাদেশীদের। এক বছর পর যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০০

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বহুবার প্রমাণ হয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি থাকে তার তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাদের শ্রম, ত্যাগ, জেল-জুলুম সহ্য করার মানসিকতা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাজনা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



মন! মানুষের মন! মানুষকে তছনছ করে দেয়!
কখনো সে বাঘ, কখনো সে অজগর, কখনো সে শত্রু, কখনো সে বন্ধু!
কখনো সে ঈশ্বর, কখনো সে শয়তান, কখনো সে নিয়তি!
বিদিকিচ্ছিরি কান্ড!

লম্বা টানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের ওভারব্রীজ

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:০৪

বেশ অনেকদিন আগের কথা। আমি কোন এক দুর্ঘটনায় পা এ ব্যাথা পাই। হাসপাতালে ইমারজেন্সি চিকিৎসা নেই। কিন্তু সুস্থ হতে আরো অনেক দেরী। সম্ভবত চিটাগাং রোডে (নারায়ণগঞ্জ) এ রাস্তা পার হবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের পক্ষে বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি দাঁড়ানো সম্ভব নয়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:১৫


ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত যখন মাইক্রোফোনের সামনে কথা বলা শুরু করলেন , তখন তার চোখে রাগ ছিল না, ছিল এক ধরনের ক্লান্ত অভিমান। একটা মুসলিম দেশ, কোটি কোটি মুসলিম মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×