somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে আবার ভোট দিতে চাই (সেফ হবার আগের একটা ফালতু সেন্টিমেন্টাল লেখা)

২৮ শে মে, ২০১২ দুপুর ২:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমার জন্মটা নিতান্তই অতি সাধারন ভাবে হয়েছে ।বড় হয়েছি হতে হয় তাই।নিম্নবিত্ত পরিবারে সন্তান জন্ম দেয়া পর্যন্তই দায়িত্ব শেষ বলে ধরা হয়।বড় সে যেভাবে পারুক হোক না।এভাবেই বেড়ে ওঠা।আজ অবস্থা বদলেছে,খুপরী ঘরের জায়গায় বিশাল অট্টালিকা,গাড়ী আরো অনেক কিছু।কিন্তু বদলায় নি আমার বাবা।আগে পরিশ্রমের টাকা জমিয়ে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু বার্ষিকী পালন করত এখনও করে।তবে আগের সেই আন্তরিকতা আর নাই এখন দায়িত্ব।এখন অনেক আওয়ামিলীগার আছেন,মুক্তিযোদ্ধা আছে আমার বাবার মত মানুষের আর দরকার নাই। তিনি দল থেকে কি পেয়েছেন তার একটু বর্ননা দেই।১৯৯০ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত তিনি খুলনা ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ এর সভাপতি ছিলেন।বিরোধী দলে থাকলে যায় হয় নির্যাতন,হয়রানী,কারাবরন সবই তিনি করেছেন। ৯৬ তে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসলেন বাবা হারিয়ে গেলেন নব্য আওয়ামিলীগ এর স্রোতে তিনি ভেসে গেলেন।শুধু ভেসে গেলেন না পুরোপুরি খুলনা ছাড়া হলেন।নেত্রি হয়ত বুঝতে পেরেছেন .এই বাল পাকা আওয়ামিলীগার দিয়ে কিচ্ছু হবে না।এভাবেই ঘর ছাড়া রইলেন ৫ বছর।এর পর ২০০১ বি এন পি ক্ষমতায় আসল। সত্যি কথা বলতে কি এই ৫ বছর খুব শান্তিতে ছিলাম।কোন হয়রানি মামলা ছিল না হয়ত ওরা এই বৃদ্ধ লোকটির প্রতি একটু সহানুভুতিশীল ছিল।ঐ যে একটা কথা আছে না "ঢেকি স্বর্গে গেলেও ধান ভাংগে" তার অবস্থাও হল এমন । খুলনা ছেড়ে বরিশাল গেলেন ব্যবসা শুরু করলেন সাথে সাথে রাজনিতী।তখন কেউ আওয়ামিলীগ করার সাহস পেত না আমাদের গ্রামে।বাবা তাই করলেন ৭ বছর উপজেলা আওয়ামিলীগ এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করলেন। বিজয়ী করলেন সারা জীবন পরাজিত একজন ব্যংক মালিককে এবং উপজেলা চেয়ারমেন কে।তার অবদান নেতাদের মুখে না হোক কর্মিদের মুখে শোনা যায়।যাই হোক আওয়ামীলীগ আবার ক্ষমতায় এল।বাবাকেও দুরে সরানো হল।প্রধানমন্ত্রীর এ পি এস ,ব্যংক মালিক আর একজন উপজেলা চেয়ারমেন এর বিরুদ্ধে আমার বাবা একা আর কি করবেন।প্রথমে স্কুল কলেজের সভাপতি থেকে বাদ দেয়া হল তার পর চেম্বার পোষ্ট ছাড়তে হল,সবশেষে আওয়ামীলীগ এর সভাপতির পদ ও ছাড়তে হল এক নব্য এ পি এস এর কাছে। বরাবরের মত এবারও হেরে গেলেন আমার বাবা।মাঝে একমাত্র ছোট ভাইটা মারা গেল লাশের সামনে দাড়িয়ে তাকে প্রতিজ্ঞা করিয়েছিলাম আর রাজনিতী নয়।তিনি তার কথা রেখেছেন।হজ্ব করে এসেছেন রাজনীতির ময়দানে তিনি আর নাই।

এবার আমার কথা বলি ,মাষ্টার্স শেষ করে এম বি এ শেষের পথে।সত্যি কথা আমার চাকরির দরকার নাই। আমার বাবা যা অর্জন করেছেন তা দিয়ে খুব ভালভাবেই কেটে যাবে।আমারও তেমন ইচ্ছা ছিল বাবার ব্যবসাই দেখব।কিন্তু আমার মায়ের খুব ইচ্ছা্ তার ছেলে এ্কটু কোর্ট প্যন্ট পড়ে অফিসে যাবে।তার কথা তোমার কোন বেতন লাগবে না শুধু একটা চেয়ার হলেই চলবে।তাই শেষ পযর্ন্ত এম বি এ তে ভর্তি হলাম।সেটাও এখন শেষের পথে।কিন্তু মায়ের আশা আর পুরন হয় না।আমি চাকরিটা পাচ্ছি না।আমার বাবার সুপারিশে কত লোকের চাকরি হল আর তার একমাত্র্র ছেলে আজ চাকরির জন্য ঘুরছে .... হা হা হা ।


অনেক মন্ত্রী হুইপ মেয়র এম পি আমাদের বাড়ীতে এসেছে,খেয়েছে থেকেছে।তারা ইচ্ছা করলে আমকে যে কোন সময় একটা চাকরি দিতে পারে।বাব তাদের কাছে আর যান না। তারাও মনে করে আর খোজ নেন না। হয়ত প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। আমি গেলে বলে ,তুমি বাবার একমাত্র ছেলে তুমি কেন চাকরি করবা?বাবার ব্যাবসা দেখ।এভাবেই সবাই এড়িয়ে যায়।বুঝি কিন্তু আব্বকে কিছু বলিনা পাছে কষ্ট পাবেন তাই।৩০ তম বি সি এস এর ভাইবা তে গিয়ে আটকে গেছি কেউ আমাকে ছাড়িয়ে নেয়নি।নিজের যোগ্যতাতেও একটা ভাল চাকরি পাচ্ছি না।


জীবনের প্রথম ভোট নেীকাতে দিয়েছিলাম।জানি যদি বেচে থাকি পরের বারও দেব।এ রক্তের টান শেখ হাসিনার টান নয়।আমরা বেইমান নয় উপরতলার মানুষদের মত। হয়ত উপরে যেতে হলে বেইমান হতে হয়।তাই সব শেষে বলি মাননীয় নেত্রী .আমরা আপনাকে আবার ভোট দিতে চাই ভালবেসে শুধু মুল্যায়টুকু করেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মে, ২০১২ দুপুর ২:২১
৯টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×