আমার জন্মটা নিতান্তই অতি সাধারন ভাবে হয়েছে ।বড় হয়েছি হতে হয় তাই।নিম্নবিত্ত পরিবারে সন্তান জন্ম দেয়া পর্যন্তই দায়িত্ব শেষ বলে ধরা হয়।বড় সে যেভাবে পারুক হোক না।এভাবেই বেড়ে ওঠা।আজ অবস্থা বদলেছে,খুপরী ঘরের জায়গায় বিশাল অট্টালিকা,গাড়ী আরো অনেক কিছু।কিন্তু বদলায় নি আমার বাবা।আগে পরিশ্রমের টাকা জমিয়ে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু বার্ষিকী পালন করত এখনও করে।তবে আগের সেই আন্তরিকতা আর নাই এখন দায়িত্ব।এখন অনেক আওয়ামিলীগার আছেন,মুক্তিযোদ্ধা আছে আমার বাবার মত মানুষের আর দরকার নাই। তিনি দল থেকে কি পেয়েছেন তার একটু বর্ননা দেই।১৯৯০ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত তিনি খুলনা ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ এর সভাপতি ছিলেন।বিরোধী দলে থাকলে যায় হয় নির্যাতন,হয়রানী,কারাবরন সবই তিনি করেছেন। ৯৬ তে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসলেন বাবা হারিয়ে গেলেন নব্য আওয়ামিলীগ এর স্রোতে তিনি ভেসে গেলেন।শুধু ভেসে গেলেন না পুরোপুরি খুলনা ছাড়া হলেন।নেত্রি হয়ত বুঝতে পেরেছেন .এই বাল পাকা আওয়ামিলীগার দিয়ে কিচ্ছু হবে না।এভাবেই ঘর ছাড়া রইলেন ৫ বছর।এর পর ২০০১ বি এন পি ক্ষমতায় আসল। সত্যি কথা বলতে কি এই ৫ বছর খুব শান্তিতে ছিলাম।কোন হয়রানি মামলা ছিল না হয়ত ওরা এই বৃদ্ধ লোকটির প্রতি একটু সহানুভুতিশীল ছিল।ঐ যে একটা কথা আছে না "ঢেকি স্বর্গে গেলেও ধান ভাংগে" তার অবস্থাও হল এমন । খুলনা ছেড়ে বরিশাল গেলেন ব্যবসা শুরু করলেন সাথে সাথে রাজনিতী।তখন কেউ আওয়ামিলীগ করার সাহস পেত না আমাদের গ্রামে।বাবা তাই করলেন ৭ বছর উপজেলা আওয়ামিলীগ এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করলেন। বিজয়ী করলেন সারা জীবন পরাজিত একজন ব্যংক মালিককে এবং উপজেলা চেয়ারমেন কে।তার অবদান নেতাদের মুখে না হোক কর্মিদের মুখে শোনা যায়।যাই হোক আওয়ামীলীগ আবার ক্ষমতায় এল।বাবাকেও দুরে সরানো হল।প্রধানমন্ত্রীর এ পি এস ,ব্যংক মালিক আর একজন উপজেলা চেয়ারমেন এর বিরুদ্ধে আমার বাবা একা আর কি করবেন।প্রথমে স্কুল কলেজের সভাপতি থেকে বাদ দেয়া হল তার পর চেম্বার পোষ্ট ছাড়তে হল,সবশেষে আওয়ামীলীগ এর সভাপতির পদ ও ছাড়তে হল এক নব্য এ পি এস এর কাছে। বরাবরের মত এবারও হেরে গেলেন আমার বাবা।মাঝে একমাত্র ছোট ভাইটা মারা গেল লাশের সামনে দাড়িয়ে তাকে প্রতিজ্ঞা করিয়েছিলাম আর রাজনিতী নয়।তিনি তার কথা রেখেছেন।হজ্ব করে এসেছেন রাজনীতির ময়দানে তিনি আর নাই।
এবার আমার কথা বলি ,মাষ্টার্স শেষ করে এম বি এ শেষের পথে।সত্যি কথা আমার চাকরির দরকার নাই। আমার বাবা যা অর্জন করেছেন তা দিয়ে খুব ভালভাবেই কেটে যাবে।আমারও তেমন ইচ্ছা ছিল বাবার ব্যবসাই দেখব।কিন্তু আমার মায়ের খুব ইচ্ছা্ তার ছেলে এ্কটু কোর্ট প্যন্ট পড়ে অফিসে যাবে।তার কথা তোমার কোন বেতন লাগবে না শুধু একটা চেয়ার হলেই চলবে।তাই শেষ পযর্ন্ত এম বি এ তে ভর্তি হলাম।সেটাও এখন শেষের পথে।কিন্তু মায়ের আশা আর পুরন হয় না।আমি চাকরিটা পাচ্ছি না।আমার বাবার সুপারিশে কত লোকের চাকরি হল আর তার একমাত্র্র ছেলে আজ চাকরির জন্য ঘুরছে .... হা হা হা ।
অনেক মন্ত্রী হুইপ মেয়র এম পি আমাদের বাড়ীতে এসেছে,খেয়েছে থেকেছে।তারা ইচ্ছা করলে আমকে যে কোন সময় একটা চাকরি দিতে পারে।বাব তাদের কাছে আর যান না। তারাও মনে করে আর খোজ নেন না। হয়ত প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। আমি গেলে বলে ,তুমি বাবার একমাত্র ছেলে তুমি কেন চাকরি করবা?বাবার ব্যাবসা দেখ।এভাবেই সবাই এড়িয়ে যায়।বুঝি কিন্তু আব্বকে কিছু বলিনা পাছে কষ্ট পাবেন তাই।৩০ তম বি সি এস এর ভাইবা তে গিয়ে আটকে গেছি কেউ আমাকে ছাড়িয়ে নেয়নি।নিজের যোগ্যতাতেও একটা ভাল চাকরি পাচ্ছি না।
জীবনের প্রথম ভোট নেীকাতে দিয়েছিলাম।জানি যদি বেচে থাকি পরের বারও দেব।এ রক্তের টান শেখ হাসিনার টান নয়।আমরা বেইমান নয় উপরতলার মানুষদের মত। হয়ত উপরে যেতে হলে বেইমান হতে হয়।তাই সব শেষে বলি মাননীয় নেত্রী .আমরা আপনাকে আবার ভোট দিতে চাই ভালবেসে শুধু মুল্যায়টুকু করেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মে, ২০১২ দুপুর ২:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



