somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দরবেশ - কহলিল জিব্রানের The Prophet-এর বঙ্গানুবাদ - ৭

১০ ই মে, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অতঃপর হলকর্ষক একজন বলল, তুমি আমাদের কর্ম্মকৃষ্টি সম্পর্কে কিছু বল এবং জবাবে সে বলল:

তোমরা কর্ম্ম কর, এই জগৎদুনিয়ার সান্নিধ্যে এই জগৎদুনিয়ার আত্মার সঙ্গে সঙ্গে একাত্ম হ’য়ে চল।
নিষ্কর্ম্ম অলস হ’য়ে থাকা তো ঋতুপ্রবাহে অধরা অনাবাসী হ’য়ে পড়া
জীবনের রাজসিক মর্য্যাদার পথে জীবনের অনন্তর শোভাযাত্রা থেকে বিচ্ছিন্ন হ’য়ে পড়া এবং সগর্ব্বে সেই অনন্ত অসীমে উৎসর্গিত হওয়া থেকে পিছিয়ে পড়া।

তোমরা যখন কর্ম্ম কর তোমরা যেন সব সুরবংশী যার হৃদতন্ত্রী থেকে নিঃসৃত হ’য়ে চলে কালস্রোতের ফিসফিসানি গুঞ্জনসঙ্গীত।
তোমরা এমন কে আছো যে বেণুবংশের মত নীরব নির্ব্বাক হ’য়ে থাকবে যখন জগৎদুনিয়ার সবকিছু সমবেত ঐকতানে গুঞ্জরিত হ’য়ে চলে বৃন্দসঙ্গীত।

তোমরা সব সময় শুনে এসেছো, কর্ম্ম হ’ল অভিসম্পাত আর শ্রম হ’ল দুর্ভাগ্য দুর্ভার।
আমি তোমাদের বলি, যখন তোমরা শ্রমকর্ম্ম কর তখন তোমরা ধরাভূমের এক দূরান্ত স্বপ্নসাধন কর অপার
সেই স্বপ্ন ভূমিষ্ঠ হওয়ার মুহূর্তেই তোমাদের উপর ন্যস্ত হয়েছে তার ভার।
তোমাদের শ্রমকর্ম্মেই নিহিত হ’য়ে আছে জীবনের প্রতি তোমাদের ভালোবাসা অপার
শ্রমে কর্ম্মে জীবনকে ভালোবাসা তো আসলে জীবনের অন্তরতর রহস্যে প্রগাঢ় অন্তরঙ্গতা হওয়া তার।
নিদারুণ মর্ম্মযন্ত্রনায় তোমরা যদি তোমাদের জীবনজন্মকে বল ললাটলিখন উৎপীড়ণ আর রক্তমাংসের শরীরের ভরণপোষণকে বল ললাটলিখন অভিশাপ, আমি বলব তা কখনই নয়, বরং শ্রমের স্বেদে ওই ললাটলিখনকে ধুয়ে মুছে সাফ করে ফেলার দায়িত্ব তোমাদেরই, আর কার।

তোমরা এমনও শুনেছ, জীবন হ’ল তামসিক। এবং জীবনক্লান্তিতে তোমরাও জীবনক্লান্তদের কথাই আওড়ে চল, জীবন হ’ল তামসিক।
আমি বলি, প্রেরণা ব্যতীত জীবনই আদপে তামসিক
এবং জ্ঞান-অভিজ্ঞান ব্যতীত সমস্ত প্রেরণা-অনুপ্রেরণাই অন্ধ ঐকান্তিক
কর্ম্ম ব্যতীত কোন্ জ্ঞানই বা পরমার্থিক
ভালোবাসা ব্যতীত সমস্ত কর্ম্মই অন্তঃসারশূন্য বাহ্যিক
এবং যখন ভালোবাসায় প্রাণিত হ’য়ে কর্ম্ম কর, তখন তোমরা নিজেদের সঙ্গে একে অপরের সঙ্গে নিবিষ্ট হও এবং নিবিষ্ট হও ঈশ্বরের সঙ্গে পরমার্থিক।
ভালোবাসার সঙ্গে কর্ম্মের সম্পর্ক যেমন
যেন তোমাদের হৃদতন্তু দিয়ে বসন বয়ন আর সেই বসনে তোমাদের প্রেমাষ্পদের আবরণ আভরণ
যেন তোমাদের মমতা দিয়ে সৌধ নির্ম্মান আর সেই সৌধে তোমাদের প্রেমাষ্পদের আবাসন
এ হ’ল যেন তোমাদের সযত্নে জমিতে বীজ বপন এবং মহানন্দে তার ফসল উত্তোলন আর সেই ফসলে তোমাদের প্রেমাষ্পদের প্রাণধারণ।
এ হ’ল তোমাদের অন্তরাত্মার প্রাণবায়ু দিয়ে সবকিছু গড়ে তোলা
তোমাদের প্রতি সকল স্বর্গবাসীদের শুভকামনা ও বরাভয় বিদিত হওয়া, কখনও না ভোলা।
কতবার তোমাদের আমি বলতে শুনেছি যেন তোমরা নিদ্রার ঘোরে বলছ, ’শ্বেতপাথরের যে কারিগর তার নিজের মনেরই আদলে মর্ম্মর মূর্তি গড়ে সে যে ধরিত্রীর বুকে হলকর্ষণ করে তার চেয়ে অনেক বড়,
’যে রামধুনুকে বাগ মানিয়ে মানুষের আদলে পোষাক রঞ্জিত করে সে যে নিজের হাতে আমাদের পাদুকা সেলাই করে তার চেয়ে অনেক বড়।’
নিদ্রার ঘোরে নয় বরং দ্বিপ্রহরের পরম জাগৃতিতে আমি তোমাদের বলি, বাতাস কখনও বিশাল ওকবৃক্ষের প্রতি মধুর প্রবচন ব্যক্ত করে না বড়
বরং মন্দবাতাসে ধ্বনিত ঘাসের চাপরার সঙ্গীত আরও মধুর বড়
এবং যে পরম ভালোবাসায় বাতাসের স্বরধ্বনিকে মধুর সঙ্গীতে ধ্বনিত করে সে-ই শুধু বড়, অনেক বড়।
কর্ম্ম হ’ল সেই সে কিছু যাতে ভালোবাসা মূর্ত হয়ে ওঠে।
যদি তোমরা অপ্রেমে অনিচ্ছায় কর্ম্ম কর তবে তোমাদের কর্ম্ম না করাই শ্রেয়, বরং তার চেয়ে তোমরা দেবালয়ের দ্বারে বসে তাদের ভিক্ষা গ্রহণ করবে যারা পরমানন্দে কর্ম্ম করে, যাদের কর্ম্মে ভালোবাসা মূর্ত হয়ে ওঠে।
যদি তোমরা অপ্রেমে অনিচ্ছায় রুটী সেঁকো তবে তিক্ত বিস্বাদ সেই রুটী মানুষের শুধুই অর্ধ্বেক ক্ষুধা নিবৃত্ত করবে
যদি তোমরা অসন্তোষে অনাগ্রহে আঙ্গুর পেষণ কর তবে সেই অসন্তোষ অনাগ্রহ সুধাসুরাকে বিষময় করে তুলবে
যদি তোমরা গানকে না ভালোবেসে সুরদেবীর কন্ঠে গান গাও তবে দিবসরাত্রির কলধ্বনি মানুষের কর্ণকে শ্রতিরুদ্ধ করবে।

২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×