somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার সোনালি দিন ফিরিয়ে আনার যুদ্ধ

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি গত শতাব্দীর আশির দশকে জন্ম নেয়া আজ এক পরিপূর্ণ যুবক। জীবনের একত্রিশটি বসন্ত পার করে এলাম। আমি এখনও মনে-প্রানে এক তরুনের মত। যাকে সবসময় সব সুন্দর টানে। কিন্তু এতো সুন্দরের ভিড়ে আমার সুন্দর বাংলা গানগুলো কোথাও খুঁজে পাইনা। যুগের হাওয়ায় দিন দিন বাংলা গানের স্বর্ণালি দিন কি তাহলে শেষ হয়ে যাচ্ছে? এযে বড় কষ্ট আমার মত যারা বাংলা গানকে খুব বেশি পছন্দ করি। আজো আমার সুখে-দুখে,হাসি-কান্নায় আমার সেই বাংলা মানে বাংলাদেশের গান আমার সাথী হয়ে আছে। সেই খুব ছোট্ট বেলা (৪/৫ বছর বয়স) থেকে আমি ও আমার বড় ভাই তখনকার বাংলা ব্যান্ডের গান শুনে শুনে বড় হয়েছি। আমার মা অনেক গান শুনতেন। তাঁর ছিল এক অসাধারন সংগ্রহ। ব্যান্ড, আধুনিক,পল্লিগীতি, রবীন্দ্র সংগীত, নজরুল
সংগীত সহ সব ধরনের সংগ্রহ। আমার মা’কে হিন্দি গান মাঝে মাঝে শুনতে দেখলেও আর কোন বিদেশী গান আমি শুনতে দেখিনি। আমি যখন স্কুলে যাওয়া শিখেছি তখন আমি গুনগুন করে গাইতাম মন শুধু মন ছুঁয়েছে, চলোনা ঘুরে আসি অজানাতে, কখনও গাইতাম কলি কালের ভণ্ডবাবা, আবার কখনও মৌসুমি বল কার তুমি? আমার মুখে গান শুনে মা হাসতেন। আমরা দুই ভাই কার পছন্দের গান শুনবো সে জন্য সবসময় আমাদের মাঝে খুনসুটি লেগে থাকতো। তখন আধুনিক গানে তপন, বিশ্বজিৎ, শেখ ইশতিয়াক আর সিনেমাতে এন্ডরু কিশোর এর স্বর্ণযুগ। আযম খান , হ্যাপি টাচ, সোলস,অবস্কিউর,চাইম, ফিডব্যাক, নোভা ছিল সব কিশোর তরুনের দল। সেই সময়ের সোলসের নাসিম আলীর ‘যতিন স্যার এর ক্লাসে’ অথবা ‘পথে যেতে যেতে খুঁজেছি’ ছিল এক অবিস্মরণীয় গান। নাসিম মানেই তখন সেরা কিছু এমন একটা ধারনা। জনপ্রিয় হ্যাপি আখন্দ যেদিন মারা গেলেন সেদিন তো সারাদিন আমার মা কোন গানই শুনতে দিলেন না। তিনি ছিলেন হ্যাপির খুব ভক্ত। এভাবে আস্তে আস্তে আসলো সেলিম চৌধুরী তাঁর প্রথম অ্যালবাম দিয়েই বুঝিয়ে দিলেন যে তিনি কোন জাতের শিল্পী। তাঁর সেই অ্যালবামের কবিতার মত চোখ, বই মেলার সেই বিকেলে অথবা ওহ সোনার চান্দেরে সবগুলি গানই ছিল অসম্ভব শ্রুতিমধুর যা শেখ ইশতিয়াকের “নিলাঞ্জনা’ তপনের ‘মনে কর তুমি আমি’ গানটির জনপ্রিয়তার মাঝে ভাগ বসালো। আমার এখনও স্পষ্ট মনে আছে যে তখন এরশাদ সরকারের আমলে সিলেটের পৌরসভা(তৎকালীন)নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা সেলিম চৌধুরীর “ওহ সোনার চান্দেরে” গানটির সুরে গান গেয়ে ভোট চাইতেন। ৯০ এর দশকের শুরুর দিকে আমার ছোট মামা তখন আমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন “ওয়ারফেইজ” এর সাথে। সেই থেকে শুরু হলো বাংলা ব্যান্ডের এক নতুন যুগ। “ওয়ারফেইজ” তখনও সবার কাছে পৌছাতে পারেনি তার কারন ছিল সোলস,অবস্কিউর,চাইম, ফিডব্যাক, নোভা এর একছত্র আধিপত্য। তারপরেও “ওয়ারফেইজ” জায়গা করে নিলো বাংলা রক গানের ইতিহাসে। একটি বিশেষ শ্রেণীর কাছে ঠাই করে নিলো ‘ওয়ারফেইজ’, যা আজো একটি বিশেষ শ্রেণীর কাছে সমান জনপ্রিয়। সেই অ্যালবাম এর একটি ছেলে, কৈশোর, বসে আছি র মত একটা গান আমি আজো কোন রক ব্যান্ডের কাছ থেকে পাইনি এবং পাবনা। কারন সেই গানগুলি ছিল একটা ইতিহাসের অংশ। যা একবারেই হয়। আজ পর্যন্ত “ওয়ারফেইজ” মত অন্য কোন রক ব্যান্ড পেলামনা যা শুনে গর্ব করতে পারি যে না আমাদের ছেলেরাও বিদেশের রক ব্যান্ড এর মত গাইতে পারে। আজ আমার ছোট মামা বিদেশের মাটিতে তাকে বারবার ধন্যবাদ দিই যে তিনি তখন সেই ইতিহাসের শুরুটা আমাদের দেখিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর আসলো রেনেসাঁর প্রথম অ্যালবাম “তৃতীয় বিশ্ব’ যা আজো বারবার শুনি। তখন বাজারে একসাথে আসলো উইনিং, নোভার দ্বিতীয় “রাজাকারের তালিকা চাই” জেমসের ‘অনন্যা’। অডিও বাজারে তখন মহা হুলুস্থুল কারবার। তখন ব্যান্ড এর ক্যাসেট শুধুমাত্র “সারগাম’ থেকে বের হতো। যার কারনে আজো ‘সারগাম’ মানুষের মনে ঠাই করে আছে।
এরপর সোলস ভেঙ্গে আইয়ুব বাচ্চু L.R.B গড়ে তুললেন। যার প্রথম অ্যালবাম ‘হকার ও একদিন ঘুম ভাঙ্গা শহরে’ বাজারে আবার ঝড় তুলল। একসাথে দুইটি অ্যালবাম পেয়ে শ্রোতারাও খুশি হলেন।শুরু হলো “বাচ্চুর যুগ’ ঠিক এই সময়ে যারা এতদিন ইংলিশ গান গাইত মানে ‘মাইলস’ বাংলা গান নিয়ে নতুন করে হাজির হলো ‘চাঁদ তারা সূর্য’ গানটি নিয়ে। চারিদিকে তখন মাইলস’ এর গান সবার মুখে মুখে। এমন সময় জেমসের ‘ফিলিংস’তাদের দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘জেল থেকে বলছি’ নিয়ে হাজির হলো এবং মাইলস ও এল.আর.বি এর জনপ্রিয়তায় ভাগ বসিয়ে দিলো অর্থাৎ আজকের ‘জেমস’ এর নতুন জন্ম হলো। মজার ব্যাপার হলো যে সবগুলি প্রকাশিত অ্যালবাম ছিল ‘সারগাম’ এর। একটু কল্পনা করুন যে ‘সারগাম’ বাজারে কি রকম আধিপত্য বজায় রেখেছিলো যা আজো কেউ পারেনি। ঠিক দুই/তিন বছর পর বাংলা আধুনিক গানে এলো এক অসাধারন যুবক যার নাম “জুয়েল’ যিনি আশির দশকের প্রয়াত জুয়েলের কথা সবাইকে মনে করিয়ে দিলেন। তার প্রথম অ্যালবাম ‘কুয়াশা প্রহর’ এরপরই আবারো জুয়েল হাজির হলেন তার ‘এক বিকেলে’ অ্যালবাম নিয়ে যা আজো শ্রোতাদের কাছে একটি জনপ্রিয় অ্যালবাম। ও আরেকটি কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলাম নব্বই দশকের শুরুর দিকে ‘সারগাম’ প্রথম শ্রোতাদের সামনে মিক্সড অ্যালবাম নিয়ে আসে। তখনও শ্রোতারা মিক্সড অ্যালবাম শুনতে এতটা অভ্যাস্ত হয়ে উঠেনি। তারপরও তখন ‘ঝড়’ অ্যালবাম এর পিলু খান এর তুমিতো বলেছিলে চাঁদ জাগা আকাশে’’ ‘চমক’ অ্যালবাম এর চাইমের ‘জয় জগানন্দ’ এল.আর.বি এর ‘অপরিচিতা’ (L.R.B এর সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের গান) গানগুলো তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। এরপর প্রিন্স মাহমুদ তাঁর ‘শক্তি’ অ্যালবাম দিয়ে বাজারে একটা ঝাঁকুনি দেন। যার ফলে মিক্সড অ্যালবাম এর চাহিদা বাজারে বৃদ্ধি পায়। মুলত ‘শক্তি’ অ্যালবামটি দিয়েই আজকের মিক্সড অ্যালবাম এর জনপ্রিয়তা শুরু। ‘শক্তি’ র জনপ্রিয়তার ধারেকাছেও আজকের মিক্সড অ্যালবাম যেতে পারবে কিনা সন্দেহ। তাঁর কারন ছিল ‘শক্তি’ অ্যালবাম এর সবগুলো গান আজো শ্রোতাদের মুখস্থ। যে অ্যালবাম এর প্রতিটা গান তৈরি হয়েছিলো শিল্পীর নিজস্ব স্বতন্ত্র ঢঙে যা অন্য শিল্পীর কণ্ঠে পুরোটাই বেমানান। এত যত্ন ও আধুনিকতার ছাপ আর কোন ব্যান্ড মিক্সড অ্যালবাম এর মধ্যে আজো পাইনি। যে অ্যালবাম এর প্রতিটা গানের কথা ও সুর শিল্পীর কণ্ঠের সাথে অসাধারন ভাবে মানিয়ে এতো সুন্দর ভাবে তৈরি করা হয়েছিলো যা সত্যিই এক কথায় অসাধারন। আমার বিশ্বাস প্রিন্স ভাই’কে আজ আবার ‘শক্তি’ অ্যালবাম নতুন করে বের করতে দিলে তিনি আগের সেই ধারাটা রাখতে পারবেন না। কারন এখনকার তরুণ শ্রোতারা সেই সুর গুলো ফিউশন ছাড়া শুনতে চাইবে কিনা সন্দেহ। এই ‘শক্তি’র মত আরেকটা মিক্সড অ্যালবাম এর কথা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে যেটা ছিল ব্যান্ড ও আধুনিক গানের ছয় সেরা শিল্পী নিয়ে তৈরি “বিতৃষ্ণা জীবনে আমার’। যার গীতিকার ছিলেন গোলাম মুরশেদ এবং সুরকার ছিলেন লাকি আখন্দ। যে অ্যালবামটির সবগুলো গান ছিল খুবই সুন্দর ও শ্রুতিমধুর। যে গানগুলির কথা নিয়ে কবিতার মত আবৃতি করতেও ভালো লাগতো। মুলত অ্যালবামটি গানের কথা ও চমৎকার সুরের কারনে জনপ্রিয়তা পায় যা সব কালে সব যুগের শ্রোতারাও শুনতে পারবে। আজ আমার মনে হয় আমি আমার বাংলার এসব গানকে আমার মনে ধারন করতে পেরেছি বলেই হয়তো আমি সুন্দর করে সুন্দর মন নিয়ে কিছু চিন্তা করতে পারছি। সত্যি আমি আজো সেইসব গানগুলি খুব যত্ন করে আমার সংগ্রহে রেখে দিয়েছি। যা আমাকে চলার পথে প্রেরনা দেয়, সাহস দেয় আর দেয় নির্মল আনন্দ।
নব্বই দশকে আরেকটি ব্যান্ড তুমুল ঝড় তুলেছিলো যার নাম ‘ডিফরেনট টাচ’ যাদের প্রথম অ্যালবামটি ছিল তখন একটি লোভনীয় বস্তু। সেই অ্যালবাম এর সবগুলি গান ছিলো জনপ্রিয়। তার মধ্যে ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ এখনো জনপ্রিয় হয়ে আছে। ঐ অ্যালবাম এর অন্য গানগুলো ছিলো ‘দৃষ্টি প্রদীপ জ্বেলে’ আমার ভালবাসার তানপুরা, একাকী আজ বসে আছি, স্বর্ণলতা, হালজামানার রাজনীতি, মন কি যে চায় বলো ইত্যাদি। একটা নতুন ব্যান্ড এর অ্যালবাম সবগুলি গান যে কতটা জনপ্রিয় হতে পারে তার প্রথম প্রমান দিলো তারাই। যা তখনকার শীর্ষে থাকা ব্যান্ডগুলোর কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। ঐ একটা অ্যালবাম এর জন্যই আজো মানুষ তাদের খোঁজে বেড়ায়। পরবর্তীতে ভোকাল মিসবাহ এর ব্যাস্ততার কারনে তাদের আর পাওয়া যায়নি। এছাড়া তখন মাঝে মাঝে হঠাৎ করে যেসব ব্যান্ড হাজির হয়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো তারা হলো ড্রিমল্যান্ড ( রমজান চোরটার কান কাইটাছে) মাইক্রোবাস (মাইয়াটা কান্দে কেনে) অডিসি, অরবিট (ঐ লাল শাড়ী) ডিজিটাল ( শোন গো বকুল), মনিটর (আমি একা) রং নাম্বার (রং নাম্বার টেলিফোনে) ছিল অন্যতম। এদের সবার একটা মজার বিষয় হলো যে এদের সকলের প্রথম অ্যালবামগুলো ছিলো সুপারহিট কিন্তু পরবর্তীতে এদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই মুহূর্তে তখনকার আরেকজন শিল্পীর কথা বিশেষভাবে না বললেই নয় তিনি হলেন অডিসি ব্যান্ডের ভোকাল বাবু। যিনি তার একটি একক অ্যালবাম দিয়ে বাংলা গানে স্মরণীয় হয়ে আছেন এবং থাকবেন। তার অ্যালবামটি (ও পরানের পাখিরে) এত বেশি জনপ্রিয় হয়েছিলো যে চোখে না দেখলে কারো বিশ্বাস হবেনা। তখন যার ঘরে একটা অডিও প্লেয়ার আছে তার ঘরে বাবুর অ্যালবাম থাকবেই। তখন ঘরে- বাহিরে, হাটে –ঘাটে, শহরে- গ্রামে চারদিকে শুধু বাবুর অ্যালবাম এর গান বাজতো। ঐ অ্যালবাম এর ও পরানের পাখীরে, মৌচাক মার্কেটে হলো দেখা, কে তুমি বলো, পাশের বাড়ীর ঐ মেয়েটি গানগুলো ছিলো সকল আবাল-বৃদ্ধ- বনিতার মুখে মুখে। বিশেষ করে সে সময়ের তরুণ ভাইয়েরা কারো মন জয় করার জন্য বাবুর গান গেয়ে শোনানোর চেষ্টা করতো বা তার প্রিয় মানুষকে বাবু’র অ্যালবামটি উপহার দিতো। যা আজ কল্পনাও করা যায়না। স্বৈরাচার আন্দোলনের পর যে ব্যান্ডটি শ্রোতাদের কাছে হাজির হয় তা হলো “প্রমিথিউস’’(মুক্তির প্রত্যাশায়)। আজকের বিপ্লব আর সেইদিনের বিপ্লবের মাঝে অনেক ব্যবধান। এখনকার কিশোর তরুণরা হয়তো জানেই না যে আজকের বিপ্লবের কণ্ঠ কত সুমধুর ও জনপ্রিয় ছিলো। প্রথম অ্যালবাম “মুক্তির প্রত্যাশায়’ প্রমিথিউস একটি আলাদা জায়গা করে নেয়। সেই অ্যালবাম এর মিলনের রক্ত, নির্জন শালবনে, স্বর্ণালি ভোরে , শিরোনামের গানগুলো এখনকার সবচেয়ে হিট গানকেও হার মানাবে।
যাই হোক এবার এসময়ের গাঙগুলির কথা বলি। এতক্ষণ যে স্বর্ণযুগের কথা বললাম তা বলে শেষ করা যাবেনা। আমি শুধু যতটুক সম্ভব সেই সময়টার কথা সংক্ষেপে বলার চেষ্টা করেছি। আরো অনেক বলার ছিলো কিন্তু পাঠকেরা ধৈর্য হারা হয়ে পড়বে। এখনকার গানগুলো নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার নেই। কারন এখন যার ক্যাসেট বের করার সামর্থ্য আছে সেই এখন ইচ্ছে করলেই শিল্পী হতে পারে। মানুষ যুগের সাথে সাথে মানটাও বৃদ্ধি করে কিন্তু আমরা তার বিপরীত। অত্যাধুনিক যুগে আমাদের গানের বাজার নিম্নমানের গানে সয়লাব হয়ে গেছে। সবচেয়ে বিরক্তিকর হচ্ছে শিল্পীর কণ্ঠের কোন কারুকাজ নেই। যা আছে সব যন্ত্রের তৈরি ফিউশন। আবার সেই ফিউশনটা এতো বেশি যে গানের আগে মাজখানে এবং শেষে কোথায় হবে তা কেউ জানেনা। পারলে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ফিউশন দিয়ে রাখে। তার মানে শিল্পীর কোন যোগ্যটাই নেই গানটিকে শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় করে তোলার। না আছে গানের কথা, না আছে সুর, যে যাই দিচ্ছে তাই এই যুগের কিশোর কিশোরী,তরুণ- তরুণীরা শুনছে। এখন একটা গান খুব বেশিদিন শ্রোতাদের মনে থাকে না। কিন্তু আমি স্বর্ণযুগের যে গানগুলির কথা তুলে ধরেছি তার সবগুলো এখনো জনপ্রিয়। আগে যারা গীতিকার ছিলেন তারা একটা গান লিখার আগে অনেক চিন্তা-ভাবনা করতেন। বিশেষভাবে মনে পড়ে শহীদ মোঃ জঙ্গি ভাই, লতিফুল ইসলাম শিবলি, বাপ্পি খান, খোশনূর আলমগির, মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ। ওনারা কত কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। তাঁরা সকলেই ছিলেন আধুনিক ও ব্যান্ডের গানের এক একটি ইতিহাস। অথচ আজকে যে চায় সেই গান লিখে ফেলতে পারে। বেশি দূরে যাবনা আমার কথাই বলছি যে আমি নিজেও এখন গান লিখার সাহস করে ফেলি। অথচ উনারা যদি আজ লিখতেন তা হলে আমি এই দুঃসাহস দেখাতে পারতামনা। আসলে সব হচ্ছে আমাদের বিদেশী সংস্কৃতির আগ্রাসনের ফল। যার কারনে আজ আমরা আমাদের সোনালি অতীত ছাড়া নতুন করে গর্ব করতে পারিনা। যুগ আমাদের এত বেশি দ্রুত করে ফেলছে যে আমরা এখন সবকিছুতেই দ্রতগতি পছন্দ করি। যার ফলশ্রুতিতে এমন বেসুরে গানের শিল্পীর সংখ্যা বাড়ছে। আজ থেকে ২২ বছর আগের ‘শ্রাবণের মেঘগুলি’ বা ‘ছাইড়া গেলাম মাটির পৃথিবী’ এর আগে’ মনে কর তুমি আমি’ অথবা ‘কবিতা পড়ার প্রহর’ এর মত কালজয়ী জনপ্রিয় গান হতে পারে তাহলে এখন কেন হয়না। যা আগামী ২০ বছর পরেও মানুষ মনে করবে। আমি এখনকার নতুনপ্রজন্মের শ্রোতাদের অনুরোধ করবো যে আপনারা খুব বেশি না শুধু বাবুর একক অ্যালবাম ‘ও পরানের পাখীরে’ সব গান অন্তত একবার শুনে দেখুন তাহলে বুঝতে পারবেন যে আপনারা এখন কি ধরনের নিম্নমানের গান শুনছেন। আর ভাগ্য ভালো হলে যদি পারেন সেই স্বর্ণযুগের সব গান শুনতে তাহলে কথাই নেই, আমার দিঢ় বিশ্বাস তখন আপনারা ঐ গানগুলি ছাড়া এখনকার বস্তাপচা গান শুনতে চাইবেননা। শুধু বর্তমান অডিও বাজারের মন্দার অবস্থা দেখলেই বুঝা যায় যে শ্রোতারা এখন দেশি শিল্পীর অ্যালবাম বেশি কিনেনা। অথচ আমাদের ছেলে বেলায় আমরা টিফিনের টাকা জমিয়ে হলেও প্রতি মাসে একটা নতুন অ্যালবাম কিনতাম। আমাদের দেশের গান’কে রক্ষা করার জন্য এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।
পরিশেষে শুধু এইটুকু বলবো আমি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গর্ব স্বাধীনতার যুদ্ধ দেখতে পারিনি, কিন্তু বাংলাদেশের স্বৈরাচার আন্দোলন, বাংলা আধুনিক ও ব্যান্ড সংগীতের স্বর্ণযুগ এর মত দুইটি গর্বের পুরোটাই দেখেছি যা আমাকে অনেক বেশি আমার বাংলাদেশ’কে ভালবাসতে শিখিয়েছে যার কারনে বিদেশের কোন জিনিসের প্রতি আমার ভালোবাসা ও আগ্রহ কখনও জন্মায়নি এবং জন্মাবেও না।
আজ মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে চিৎকার করে বলি ফিরিয়ে দাও আমার সেই অডিও ক্যাসেট এর যুগ, ফিরিয়ে দাও আমার বাংলা গানের সেই সোনালি যুগ। যখন ৩০/৩৫ টাকা দিয়ে একটা ক্যাসেট কিনে বাড়ী ফিরে গান শুনে খুব তৃপ্তি পেতাম। ভুলে যেতাম স্কুল এর টিফিন না কিনে কষ্টের কথা। ফিরিয়ে দাও, ফিরিয়ে দাও আমার সেই বাংলা গান ।
*যারা পুরানো সব সেরা গান শুনতে ও সংগ্রহ করতে চান তারা নিচের লিংক ক্লিক করতে সোনালি সেই যুগে ফিরে যেতে পারেন*
https://www.facebook.com/kokbd24
৮টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×