[কোরানের আলোকে তীব্র প্রতিবাদ/সমালোচনার আহ্বান করা হলো! তবে প্রসংগহীন, যুক্তি-প্রমানহীন, দুর্বল, আপত্তিকর এবং অশ্লীল ভাষা ব্যবহার সর্বদাই পরিত্যাজ্য]
১. হোযায়ফা (রা) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমি একদিন হযরতের সঙ্গে চলছিলাম। তিনি মহল্লার আবর্জনা ফেলবার স্থানের নিকটে এসে একটি দেয়াল মুখী হয়ে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলেন। আমি দূরে সরে যাচ্ছিলাম, তিনি আমাকে ইসারা করে ডাকলেন; আমি নিকটে হাযির হয়ে তাঁর (পিঠে পিঠ দিয়ে বিপরিত মুখী) দাঁড়িয়ে রইলাম। (সম্মুখ দিকের পর্দা ছিল দেওয়াল এবং পিছন দিকে হোযায়ফাকে দাঁড় করে রাছুল (সা) পর্দার ব্যবস্থা করলেন; দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার দরুন কাপড় একটু বেশি উঠবে।)
[দ্র: বোখারী, ১ম খ. ১২ সংস্করণ, শায়খ আজিজুল. হক; হাদিছ নং-১৬৪, পৃ: ৩৮; বোখারী ১ম খ. ৭ম সংস্করণ, আধুনিক প্রকাশনী, হাদিছ নং-২১৮-২২০, পৃ: ১ ৩১।]
হাদিছটি সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা না করে ভেবে দেখা উচিৎ যে সুন্নতটি পালন করা যায় কি না! যদি বিবেকে বাঁধে তবে বিশ্বাস করতে হবে যে, রাছুল এমন অশ্লীল কাজ করতে পারেন না।
২. মুসলিম জননী উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, একবার আবু তালহার বিবি উম্মে সুলাইম (রা) রাছুলের কাছে এসে বললেন, হে রাছুলাল্লাহ! আল্লাহ সত্যের ব্যাপারে লজ্জা করেন না। আচ্ছা স্ত্রীলোকের স্বপ্নদোষ হলে তার ওপর গোসল ফরয হয় কি? নবি (সা) বললেন, ‘হাঁ যখন সে পানি দেখে।’ উম্মে সালামা (রা) নিজের মুখ ঢেকে জিজ্ঞেস করলেন, হে রাছুলাল্লাহ! স্ত্রীলোকেরও কি স্বপ্নদোষ হয়? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ যদি পানি দেখতে পাও। [দ্র: বোখারী, ১ম খ. ৭ম সংস্করণ, আধুনিক প্রকাশনী; হাদিছ নং-২৭৩; পৃ: ১৫০]
৩. আবু আইউব আনছারী (রা) বর্ণনা করেছেন: রাছুলাল্লাহ (সা) বলেছেন, মল-মুত্র ত্যাগের সময় কেহ কেবলামুখী বসবে না। কেবলার দিকে পিঠও দিবে না, পূর্ব বা পশ্চিমমুখী বসবে না। [দ্র: বোখারী, ১ম খ. ১২ সংস্করণ, আ. হক; হাদিছ নং-১১৪, পৃ: ১২৫]
৪. আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, লোকেরা বলে, যখন তুমি পেশাব-পায়খানায় বসবে, তখন তুমি কিবলার দিকে কিংবা বায়তুল মোকাদ্দাসের দিকে মুখ করবে না। আমি একদিন আমাদের ঘরের ছাদে উঠে দেখলাম রাছুলাল্লাহ [সা] দু’টি ইটের উপর বসে বায়তুল মোকাদ্দাসের দিকে মুখ করে পায়খানা-পেশাবের জন্য বসে আছেন। [ দ্র: বোখারী, ১ম খ. ১২ সংস্করণ, শায়খ আজিজুল হক; হাদিছ নং-১১৫, পৃ: ১২৫]
৫. আয়শা (রা) বলেন: আমি রাছুলাল্লাহর [সা] কাপড় থেকে বীর্য ধুয়ে দিতাম; নখ দ্বারা আচড়িয়ে অতঃপর মামুলিভাবে ধুয়ে ফেলতাম তারপর তিনি কাপড়ের পানি ভিজা দাগসহ নামায পড়তে যেতেন। [দ্র: বোখারী ১ম খ. ১২ সংস্করণ, শায়খ আজিজুল হক; হাদিছ নং-১৬৬, ১৬৭, ২১৬; পৃ: ১৩৮,১৩৯, ১৫২]
৬. মায়মুনা বলেন: আমি নবি (সা) এর জন্য গোসলের পানি রাখতাম। তিনি তাঁর দু’হাত ২ বার কিংবা ৩ বার ধুয়ে ফেলতেন। তারপর তিনি বাঁ হাতে পানি দিয়ে তাঁর পুরুষাঙ্গ ধৌত করলেন-। [দ্র: বোখারী, ১ম খ. ৭ম সংস্করণ, আধুনিক প্রকাশনী ; হাদিছ নং ২৫৩, ২৬৮; পৃ: ১৪৪, ১৪৮; বোখারী, ১ম খ. ১২ সংস্করণ, শায়খ আজিজুল হক, হাদিছ নং -১৮৬, পৃ: ১৪৪]
৭. মায়মুনা (রা) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, নবি [সা] জানাবাতের (সঙ্গমোত্তর) গোসল করলেন। হাত দিয়ে পুরুষাঙ্গ ধুইলেন, তারপর তা দেয়ালে রগড়ে ধুয়ে ফেললেন-। [দ্র: বোখারী, ১ম খ. ৭ম সংস্করণ, আধুনিক প্রকাশনী, হাদিছ নং-২২৩-২২৫; পৃ: ১৩২, ১৩৩]
৮. আয়শা (রা) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমি ও নবি (সা) একই পাত্র হ’তে পানি নিয়ে একই সঙ্গে জানাবাতের গোসল করতাম এবং আমাদের উভয়ের হাত তাতে পড়তো। [দ্র: বোখারী,১ম খ. ৭ম সংস্করণ, আধুনিক প্রকাশনী, হাদিছ নং-২৫৩, পৃ: ১৪৪; বোখারী , ১ম খ. ১২ সংস্করণ, শায়খ আজিজুল হক; হাদিছ নং-১৮০, ১৮১,১৮৯; পৃ: ১৪৩-১৪৫]
৯. আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমি রাছুলাল্লার (সা) শরীরে খুশবু লাগিয়ে দিতাম। তারপর তিনি বিবিদের কাছে যেতেন। অতঃপর সকালে গোসলের পর ইহরাম বাঁধতেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তার শরীর থেকে খুশবু ছড়িয়ে পড়তো। [দ্র: বোখারী, ১ম খ,৭ম সংস্করণ, আধুনিক প্রকাশনী, হাদিছ নং-২৬০, পৃ: ১৪৫;]
১০. আনাছ ইবনে মালিক ও কাতাদা (রা) থেকে বর্ণিত: তারা বলেন, নবি (সা) দিনে বা রাতে পর্যায়ক্রমে [মধ্যবর্তি ফরজ গোসল ছাড়া] ১১ জন বিবির সঙ্গে সঙ্গম করতেন। [৯ জন বিবাহ সুত্রে ও ২ জন শররিয়তী স্বত্বাধিকার সুত্রের] কাতাদা বলেন, আমি আনাছকে (রা) জিজ্ঞাসা করলাম, হযরতের কি এতই শক্তি ছিল? তিনি বললেন,আমাদের মধ্যে এই কথা প্রসিদ্ধ ছিল যে, রাছুলাল্লাহর ৩০ জন পুরুষের শক্তি আল্লাহর তরফ থেকে প্রাপ্ত ছিলেন। [দ্র: বোখারী,১ম খ. ১২ সংস্করণ, শায়খ আজিজুল হক, হাদিছ নং-১৯০,পৃ: ১৪৫]
১১. আবু সালামা (রা) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমি বিবি আয়শাকে (রা) জিজ্ঞাসা করলাম, নবি (সা) কি জুনুবী (সঙ্গমোত্তর) অবস্থায় নিদ্রা যেতেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ, কিন্তু অযু করতেন। [ দ্র: বোখারী, ১ম খ, ১২ সংস্করণ, শায়খ আজিজুল হক, হাদিছ নং-১৯৯-২০২; পৃ: ১৪৭]
১২. আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত: নবি (সা) বলেছেন, পুরুষাঙ্গ যখন নারীর চার শাখার মধ্যে বসে সঙ্গম করে তখন অবশ্যই তার ওপর গোসল ফরয হয়। [দ্র: বোখারী, ১ম খ, ৭ম সংস্করণ, আধুনিক প্রকাশনী; হাদিছ নং-২৮২, পৃ: ১৫২]
১৩. আয়শা (রা) থেকে বর্ণিত: তিনি মাসিক ঋতু অবস্থায় রাছুলের চুল আচড়ে দিতেন। এমন অবস্থায় যখন রাছুল (সা) মসজিদে এতেকাফ করতেন, তিনি তাঁর মাথা আয়শার দিকে বাড়িয়ে দিতেন এবং আয়শা মাসিক অবস্থায় নিজের ঘর থেকে তাঁর চুল আচড়ে দিতেন। আয়শা বলেন, আমার মাসিক ঋতু অবস্থায় আমার কোলে হেলান দিয়ে কোরান পাঠ করতেন। [দ্র: বোখারী, ১ম খ. ৭ম সংস্করণ, আধুনিক প্রকাশনী, হাদিছ নং ২৮৬-২৮৮; পৃ: ১৫৮]
১৪. উম্মে ছালমা (রা) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমি নবির সঙ্গে একই চাদরে শুয়ে ছিলাম। এমন সময় আমার মাসিক ঋতু দেখা দিল। আমি চুপি চুপি উঠে গিয়ে মাসিকের ন্যাকড়া পরলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি নেফাস দেখা দিয়েছে? আমি বললাম হ্যাঁ। তিনি আমাকে ডাকলেন, আমি তাঁর সঙ্গে একই চাদরে শুয়ে পড়লাম। উম্মে সালমা আরও বলেন, নবি রোজা থাকা অবস্থায় আমাকে চুম্বন দিতেন এবং আমিও নবি একই পাত্র হতে পানি নিয়ে জানাবাতের গোসল করতাম। [দ্র: বোখারী, ১ম খ. ৭ম সংস্করণ, আধুনিক প্রকাশনী; হাদিছ নং-২৮৯, ৩১১, ৩১২, পৃ: ১৫৮,১৬৬]
১৫. আয়শা (রা) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমি ও নবি অপবিত্র অবস্থায় একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করতাম। তাঁর নির্দেশে ঋতু অবস্থায় ঋতুর কাপড় পরতাম এবং তিনি আমার সঙ্গে মিশামিশি করতেন-। [দ্র: বোখারী, ১ম খ. ৭ম সংস্করণ, আধুনিক প্রকাশনী, হাদিছ নং-২৯০, পৃ: ১৫৯]
১৬. আয়শা (রা) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমাদের কেউ ঋতুবতী হলে এবং সেই অবস্থায় রাছুলাল্লাহ (সা) তাঁর সঙ্গে মিশামিশি করতে চাইলে তাকে ঋতুর প্রাবল্যের সময় ঋতুর কটিবেশ পরার নির্দেশ দিতেন। তারপর তিনি তার সঙ্গে মিশামিশি করতেন। আয়শা বলেন, তোমাদের মধ্যে কে নবির (সা) মত নিজের কাম প্রবৃত্তি দমন করতে সমর্থ? [দ্র: বোখারী, ১ম খ. ৭ম সংস্করণ, আধুনিক প্রকাশনী; হাদিছ নং-২৯১,পৃ: ১৫৯]
১৭. আয়শা (রা) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, রাছুল (সা) কোন এক বিবি রক্ত প্রদর রোগ নিয়ে তাঁর সঙ্গে এতেকাফ করেছিলেন। তিনি (রাছুল) প্রবাহিত রক্ত ও হলুদ রং দেখতেন। আর তার দেহের নিচে একটি পাত্র রাখতেন। এ অবস্থায়ই তিনি নামায পড়তেন। [ দ্র: বোখারী, ১ম খ. ৭ম সংস্করণ, আধুনিক প্রকাশনী, হাদিছ নং-২৯৯,প: ১৬২]
১৮. আয়শা (রা) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমাদের কারুর নিকট একটার বেশি কাপড় থাকত না। কারুর মাসিক ঋতু হ’লে এবং কাপড়ে রক্ত লাগলে সে থুথু দিয়ে তা ভিজিয়ে নক দিয়ে রগড়াত। [দ্র: বোখারী, ১ম খ, ১২ সংস্করণ, শায়খ আজিজুল. হক; হাদিছ নং-২১৮,পৃ: ১৫৩; বোখারী ১ম খ. ৭ম সংস্করণ,আধুনিক প্রকাশনী হাদিছ নং-৩০১, পৃ: ১৬২]
১৯. আয়শা (রা) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, একজন স্ত্রীলোক তাকে বলল, আমাদের কেউ পাক হওয়ার পর ঋতুকালীন নামায কাযা আদায় করবে কি? তিনি বললেন, তুমি হারুরার অধিবাসিনী? আমরা নবির [সা] সঙ্গে থাকাকালে ঋতুবতী হতাম। কিন্তু তিনি আমাদেরকে নামায কাযা করার হুকুম দিতেন না। অথবা আয়শা বলেন, আমরা তা কাযা করতাম না।[ দ্র: বোখারী, ১ম খ. ৭ম সংস্করণ, আধুনিক প্রকাশনী হাদিছ নং-৩১০, পৃ: ১৬৬]
২০. বিবি আয়শা ও উম্মে ছালামা (রা) থেকে বর্ণিত: রাছুল (সা) অনেক সময় স্বপ্ন দোষ ছাড়াই জুনুবী অবস্থায় সকালে উঠতেন তারপর যথারীতি রোজা রাখতেন। [দ্র: রিয়াদুস সালেহীন; ৩য় খ. ৩য় প্রকাশ, আ. এ তালিব; পৃ: ১৬৩; বাং ইসলামিক সেন্টার]
২১. আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, একদা নামাযের একামত বলা হল এবং দাঁড়ান অবস্থায় কাতার ঠিক করা হলো। এমন সময় রাছুলাল্লাহ (সা) আমাদের নিকট আসলেন এবং যখন মোসাল্লায় দাঁড়ালেন, তখন তার স্মরণ হলো যে তিনি সঙগমোত্তর গোসল করেননি (জুনুবী)। তখন তিনি আমাদেরকে বললেন, “তোমরা নিজ নিজ স্থানে অবস্থান কর।” তিনি ফিরে গিয়ে গোসল করে আসলেন। তিনি যখন আমাদের নিকট আসলেন, তখন তার মাথা থেকে পানি পড়ছিল (নাপাক জায়নামাজ পাক করা হয়েছিল কি?) তিনি তকবীর বললেন এবং আমরা তার সঙ্গে নামায পড়লাম। [দ্র: বোখারী, ১ম খ. ১২ সংস্করণ, শায়খ আজিজুল. হক; হাদিছ নং-১৯৩; পৃ: ১৪৫]
২২. রাছুলাল্লাহ (সা) বলেন, [অন্যান্য বিবিদের তুলনায় বিবি আয়শার বিশেষত্ব আছে] ‘বিবি আয়শার (রা) ঘরে শুইলে অহি আসে, অন্যান্য বিবিদের ঘরে শুইলে অহি আসে না। [সুত্র: বোখারী, ৩য় খ. ৮ম সংস্করণ, শায়খ আজিজুল. হক; পৃ: ১১; পূর্ণ বিশাল হাদিছটি ‘চার বিবি বৈধ নয়’ অধ্যায়ে আছে।]
২৩. হযরত জায়েদ বিন হারেছা (রা) থেকে বর্ণিত: রাছুল বলেন যে, প্রথম প্রথম যখন তাহার প্রতি ওহি নাজিল হচ্ছিল তখন একবার জিব্রাইল তার নিকট আসলেন এবং তাকে অযু ও নামাজ শিক্ষা দিলেন এবং তখন তিনি ওযু সমাপ্ত করে এক কোষ পানি লইলেন এবং উহা আপন পুরুষাঙ্গের উপর ছিটিয়ে দিলেন। [দ্র: আহমদ, দারাকুতনী ও তিরমিজি; হাদিছ নং ৩৩৮ ও ৩৩৯]
২৪. হযরত আয়শা (রা) থেকে বর্ণিত: নবি করীম (সা) রোজা অবস্থায় তাকে চুম্বন করতেন এবং তার জিহ্বা চুষতেন। [দ্র: আবু দাউদ; হাদিছ নং-১৯০৮]
২৫. হযরত আয়শা (রা) বলেন, “একদা রাত্রিতে আমি রাছুলকে (সা) পেলাম না। (তালাশে বাহির হয়ে) দেখি তিনি ‘বাকী’ নামক গোরস্থানে আছেন। (আমাকে দেখে) বললেন, “ আয়েশা তুমি কি মনে করেছ যে আল্লাহ ও তার রাছুল তোমার প্রতি অবিচার করেছেন?” আমি বললাম ইয়া রাছুলাল্লাহ! (সত্যই) আমি ধারণা করেছিলাম যে, আপনি আপনার অপর কোন বিবির ঘরে গিয়েছেন। [দ্র: ইবনে মাজা, প্রযন্তে: মেশকাত; হাদিছ নং-১২২৫; তথ্যসুত্র: পরস্পর বিরোধী-মতভেদপূর্ণ হাদিছ, পৃ:৩৬; প্রকাশক: ইসলামী সমাজ সংস্কার সংস্থা ]
(হাদিছটি সম্বন্ধে জনৈক ব্যক্তি বলেন.“আয়েশা (রা) যখন মদীনায় আসেন তখন তার বয়স মাত্র ৯ বৎসর এবং বাকী গোরস্থান মদীনা থেকে ৩ মাইল দূরে; অতএব ৯ বৎসরের কিশোরী বা প্রায় পূর্ণ যৌবনা বিবি আয়শা একাকীনী গভীর রাত্রে ঐ দূরবর্তি নির্জন গোরস্থানে কি করে গেলেন!)
২৬. বিবি আয়শা (রা) বলেন, “রাছুল (সা) বলেছেন, যখন পুরুষের খতনা স্থল স্ত্রীর খতনা স্থলে প্রবেশ করবে তখন উভয়ের গোসল ফরজ হবে। আমি ও রাছুল (সা) ইহা করেছি অতঃপর গোসল করেছি। [দ্র: তিরমিজি, ইবনে মাজা; হাদিছ নং-৪৯৬]
২৭. হযরত আয়শা (রা) বলেন, একবার নবি করীম (সা) আমাকে বললেন, ‘মসজিদ থেকে আমাকে মাদুরটি এনে দাও।’ আমি বললাম, আমি ঋতুমতী আছি। তিনি বললেন, ‘তোমার ঋতু তোমার হাতে নেই।’ [দ্র: মুসলিম, হাদিছ নং-৫০৪]
২৮. বিবি আয়শা (রা) বলেন: ‘একদা রাছুল (সা) বললেন, ‘এই সকল ঘরের দরজা মসজিদের দিক থেকে (অন্যদিকে) ফিরিয়ে দাও। কেননা আমি মসজিদকে ঋতুমতী স্ত্রীলোক ও জুনুব ব্যক্তির জন্য জায়েজ মনে করি না। [দ্র: আবু দাউদ, হাদিছ নং-৪৩৩]
২৯. আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, নবি (সা) বলেছেন, বনি ইসরাইলগণ উলঙ্গ হয়ে গোসল করত এবং একে অপরকে দেখত। কিন্তু মুছা (আ) একা গোসল করতেন, এ কারণে তারা বলত আল্লাহর কসম কোষ বৃদ্ধি রোগ থাকার দরুণ মুছা আমাদের সঙ্গে গোসল করে না। একবার মুছা পাথরের উপর কাপড় রেখে গোসল করতে লাগলেন। এমন সময় পাথর কাপড়টি নিয়ে পালিয়ে গেল। তিনি পাথরের পিছনে পিছনে, ‘পাথর আমার কাপড় দাও’ বলে দৌড়াতে লাগলেন। ফলে বনি-ইসরাইলগণ তাকে দেখে ফেলল। তারা বলল আল্লাহর কসম মুছার কোন খুঁত নেই। তিনি নিজের কাপড় নেয়ার পর পাথরে আঘাত করতে লাগলেন। আবু হুরাইরা বলেন, আল্লাহর কসম, সেই পাথরটিতে এখনও ছয়-সাতটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আবু হুরাইরা থেকে আরও বর্ণিত: নবি (সা) বলেছেন, একবার আইয়ুব (আ) উলঙ্গ হয়ে গোসল করছিলেন। এমন সময় তার ওপর সোনার পঙ্গপাল পড়তে লাগল। তিনি সেগুলো কাপড়ে ভরতে লাগলেন। এমন সময় আল্লাহ তাকে ডেকে বললেন, ‘হে আইয়ুব! আমি কি তোমাকে এসব থেকে অমুখাপেক্ষী করি নি?’ জবাবে তিনি বলেন, ‘ হে রব, নিশ্চয়ই তুমি আমাকে এসব থেকে অমূখাপেক্ষী করেছ। কিন্তু আমি তোমার বরকত থেকে অমুখাপেক্ষী নই।’ [দ্র: বোখারী, ১ম খ. ১২ সংস্করণ, শায়খ আজিজুল. হক; হাদিছ নং-১৯৫; পৃ: ১৪৬]
৩০. বিবি আছিয়া ও বিবি মরিয়ম বেহেস্তে নবিজীর সঙ্গে বিয়ে বসবেন। [দ্র: বোখারী, ৫ম খ. ৫ম সংস্করণ, শায়খ আজিজুল. হক; ‘ফুটনোট’ পৃ: ৩৬]
[হাদিছ দ্রষ্টব্য-সুত্রে কোন একটা বাদ বা ভুল থাকলে: বোখারী, ১ম খন্ড; আজিজুল হক; ’অজু, গোসল, রোজা, নামাজ ও হায়েজ-নেফাস অধ্যায় এবং বোখারী ১ম খন্ড, আধুনিক প্রকাশনী, পৃ:১৩২ থেকে ১৭৯ এর মধ্যে পাওয়া যাবে।]
উপসংহার:
কোরান দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সাক্ষি দেয়, বিদায় হজ্জের আরাফার মাঠে মহানবির ঐতিহাসিক শেষ ভাষণে সাক্ষি দেয় যে, তাঁর জীবিতাবস্থায়ই কোরানের ছোট-বড়, খুটিনাটি যাবতিয় বিষয় সহজ-সরলভাবে জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন যা সমগ্র মুসলিম বিশ্বের কোন দলেরই সন্দেহ বা দ্বিমত নেই। অতএব এমন কোন বিষয় বাকি ছিল না, যা তার তিরোধানের পর তার পক্ষ থেকে তার বিবিগণের ওয়াজ নছিহত করে মহানবির অসম্পূর্ণ দায়িত্ব পুরণ করতে হবে। কোরান বিবিদের সে দায়িত্ব বা অধিকার কখনও দেয়নি। তাছাড়া স্বঘোষিত ‘নায়েবে রাছুল, অরাছাতুল আম্বিয়া’ অর্থাৎ স্ব ঘোষিত রাছুলের সচিব-সেক্রেটারী, নবিগণের উত্তরাধিকারীর দাবিদার আনাচে-কানাচে পরিলক্ষিত হয়।
উল্লিখিত অশ্লীল হাদিছগুলি নবির পুত-পবিত্রা বিবিদের বরাতে রচিত হয়েছে। অর্থাৎ ছাহাবা-ছাহাবীনীগণ নবির বিবিদের কাছে ঐ সকল অশ্লীল প্রশ্নগুলি করেছেন। আর বিবিগণও লজ্জা-শরমের মাথা খেয়ে পর নারী-পুরুষদের কাছে জবাব দিয়েছেন! আর আমরা হতভাগা মোসলমানগণ বোখারীদের উপর ঈমান এনে কাল্পনিক বেহেস্তের লোভে মহানবি এবং তার স্ত্রীদেও নামে মিথ্যা অশ্লীল কলঙ্ক আদিকাল থেকে বহন করে চলছি!
প্রকৃতপক্ষেই যদি তারা নবির বিবিদের কাছে এ সকল প্রশ্নগুলি করতেন, তবে অবশ্যই বিবিগণ বলতেন, ‘হে নির্লজ্জ্য, বেলেহাজ ছাহাবাগণ! নবিজীর জীবিতাবস্থায় এবং তার সাহচর্যে থেকে তোমরা তোমাদের স্বামী/বিবিদের সঙ্গে কিরূপ ব্যবহার করতে?’
আজ ১৪ শত বৎসর বয়সোর্ধ ইসলামের ধারক-বাহকদের এ সকল অশ্লীল হাদিছের জবাবদিহিতা চাইলে তারা বলেন, ‘ ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে বিবিদের প্রশ্ন করা যায়েজ ছিল।’ আজ ঐ একই যুক্তি দেখিয়ে ইমাম, আলেম, আল্লামাদের, আপনার/আমার বিবিদের কাছে ঐ সকল প্রশ্ন করা হলে শরিয়ত এক একটি প্রশ্নে কয় কয়টি ছোয়াবের নিশ্চয়তা দেন??
বিনীত।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১০ সকাল ৯:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



