somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আস্তিক? নাস্তিক? মুছলিম? ১/২

০১ লা জুন, ২০১১ সকাল ১১:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকল ধর্মেরই মূল মন্ত্র এক। যেমন: এক মেবা দ্বিতীয়ম, দেয়ার ইজ নো গড বাট (ওয়ান নয়) ওয়ান্নেস। উহাই আরবিতে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ,’ বাংলায় ‘নাই উপাস্য, উপাস্য ব্যতীত।

‘ইলাহা’ শব্দটি মাত্র কয়েকবার ব্যবহৃত ‘আল্লাহ’ শব্দের বহুবচন; আর ইহাই কোরানে প্রায় ৫০ বার ব্যবহৃত হয়েছে; কিন্তু শরিয়ত রহস্যজনক কারণে অনুবাদে বেমালুম গায়েব করে বিশ্বময় প্রচার করেছে যে, আল্লাহ শব্দের বহুবচন হয় না! অথচ কোরানে আল্লাহতে আনা=আমি একবচন; নাহনু= আমরা বহুবচন একাধিক আয়াতে ব্যবহৃত আছে।

মূলত: কলেমায় ব্যবহৃত ‘ইলাহ্‌’ বহুবচন শব্দে প্রচলিত খন্ড-খন্ড, একজন বা একাধিক সংখ্যায় বিভক্ত নয় বুঝানো হয়েছে। অত:পর পরবর্তিত ব্যবহৃত অধিকাংশ ‘ইলাহ্‌’ বহুবচন শব্দে একাকার ‘আল্লাহ’ই বুঝিয়েছে। অর্থাত আল্লাহ মানেই বহুবচন ইলাহ, ইলাহ্‌ মানেই একাকার আল্লাহ।

অত:পর উপসংহারে পুন: ‘আল্লাহু আহাদ’ (১১২: ১); এখানেও একবচন ‘অহিদ’এর বহুবচন ‘আহাদ; সুতরাং আল্লাহ এক, একের অধিক বা সংখিয় নয় বরং একাকার্। নিরাকারের একও হয় না/একাধিকও কয় না! সুতরাং একাকার মান্তেই মান্তে হয়!

কলেমাটির ২টি গুরুত্বপূণর্ল এবং স্পষ্ঠ ভাগ: ১. উপাস্য নেই ২. উপাস্য আছে; অর্থাত নিগেটিভ ও পজেটিভ/ঋণাত্বক ও ধনাত্বক।
ক. প্রধানত: ১ম অংশ যারা বিশ্বাস করে, ২য় অংশ অবিশ্বাস করে, তারা নাস্তিক।
খ. প্রধানত: ২য় অংশ যারা বিশ্বাস করে, ১ম অংশ অবিশ্বাস করে, তারা আস্তিক নামে স্বীকৃত।
অর্থাত আস্তিক-নাস্তিক উভয়ই কোরানের মৌলিক সুত্রের আধাআধি কিন্তু পরস্পর বিপরীতমূখী খন্ডিত/শিরকী ঈমানদার।
সুতরাং ‘কোরান মানেনা’ নাস্তিকদের এমন দাবি অমূলক; আর আস্তিকগণ ‘কোরান মানে’ তাও অবান্তর।
মূলত: এরা একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ; আর মুছলিমগণ মুদ্রার উভয় সীমানার মধ্যস্থল, কানা।

গ. যারা পূর্ণ কলেমাটি মানে তাদেরকেই মুছলিম(আদর্শ/শান্তিবাদী) বলা যায়। এরা মধ্যম পন্থী। আর প্রধানত আস্তিক বল্তে শিয়া, ছুন্নী বা কাদিয়ানী বেদাত প্রযুক্ত মুছলিম বুঝায়, কিন্তু সলিড ‘মুছলিম’ বুঝায় না এবং তারা তা স্বীকারো করে না।
আদিকাল থেকে আস্তিক-নাস্তিকদ্বয় পরস্পর কলেমাটির খন্ডিত/শরিকী ঈমান নিয়ে বাক বিতন্ডায় লিপ্ত। অর্থাত একদল মাথায় বিশ্বাসী অন্যদল লেজে বিশ্বাসী। এদেরকে

সংশোধিত পরিচয়:
১. আস্তিক: মূখে স্বীকার করে, কাজে কর্মে (বাস্তবে) মানে না (সাধারণত)।

২. নাস্তিক: মূখে অস্বীকার করে, বাস্তবে মানে (প্রধানত)।

৩. মুছলিম: মূখে যা স্বীকার করে, বাস্তবে ঠিক তাইই মানে (প্রধানত)।

৪. মুশরিক, মুনাফিক: এরা সর্বত্রই বিরাজমান, দোটানায় দোদুল্যমান/না এদিকে না সে দিকে অথবা জীবন/পেটের ধান্দায় উভয় দিকে (৪: ১৪৩) তবে কোরান সাক্ষি দেয় ১নং এর মধ্যেই এরা সংখ্যায় বিশ্বের সর্বাধিক।(১২: ১০৬)

আল্লাহ সম্বন্ধে কোরান:
আল্লাহ দৃষ্টির অধিগম্য নয়! কিন্তু দৃষ্টি (শক্তি) তার অধিগত। (৬: ১০৩) অর্থাত নিরাকার।
যতবড় নবি/রাছুলই হোক মানুষের এমন ক্ষমতা নেই আল্লাহর সাথে সরাসরি কথা বলা
-(৪২: ৫১)

আদি-অনাদিকাল যাবত মানুষ ‘আল্লাহ’ সম্বন্ধে যা ধারণা/কল্পনা করে আসছে এবং যত বই পুস্তক, লেখালেখি, তর্ক-বিতর্ক আজো হচ্ছে! সবকিছুরই উর্দ্ধে ‘আল্লাহ/ইলাহ্‌।‘ সুতরাং এনিয়ে তর্ক-বিতর্ক করে অবিষয়কে বিষয় প্রমান করার ব্যর্থ চেষ্টা কোরানের আলোকেই বর্বরতা মাত্র। তবে আল্লাহ উপলব্দির মূল কেন্দ্র যে স্ব স্ব জীবনী শক্তি হৃদয়ের কেন্দ্র-কিব্লা তা স্বয়ং কোরানই সাক্ষি দেয় (দ্র: ৮: ২৪; ২৪: ৩৫); এখানেই গভীর ধ্যান-সাধন, তপস্যায় নিমগ্ন হয়োয়ার উপদেশ (৮: ২৪; ২৪: ৩৫)।
এখানে সাম্প্রদায়িকতার সুযোগ নেই। ইট-পাথরের মসজিদ-মন্দির, কাবা-কাশি, আকাশ-বাতাস, পাহাড়-জংগল ভ্রমণ বা পৃথিবী, চন্দ্র, সুর্য় গিলে ফেল্লেও সম্ভব নয়!

হ্যা! এমন অকল্পনীয়, অসৃষ্ট, অবিষয় উপলব্দিতে সে, তুমি, আমি বা একজন ইত্যাদি সৃষ্ট সীমীত কোন শব্দই ব্যবহারযোগ্য নয়! তবুও খন্ডিত মানুষের কাছে ইহা ব্যতীত অকিছুকে বুঝানোর অন্যকোন শব্দ/ভাষা আজো আবিস্কার হয়নি; এখানেই শরিয়তকে এক/একজন/অস্তিত্ত্বধারী আল্লাহ থেকে ফিরিয়ে আনা অসম্ভব দুষ্ককর বটে! মূলত: ঐ খন্ডিত শব্দাবলি দিয়েই একাকার/নিরাকার অবিষয়টি উপলব্দি করার প্রধানত: ৩টি পথ:
১. ওহির মাধ্যম বা প্রেরণা/চৈতন্য: অর্থাত আপন জীবনী শক্তি বা রুহ’র সংগে দেহ শক্তির বাক্য বিনিময়। এরাই আরবিতে নবি/রাছুল হিসাবে পরিচিত।

২. পর্দার অন্তরাল/গোপনভাবে: অর্থাত কোথা থেকে ব্যক্তি প্রেরণা/ইশারা/ইংগীত পায় তা সে নিজেই জানে না; এরাই ভাববাদী, চিন্তাবিদ, প্রাকৃতিক কবি, সাহিত্যিক, এক কথায় দার্শনিক।

৩. বাহকের মাধ্যম: সৃষ্ট বস্তু তার সঠিক গুণাগুণ বলে দেয়/বহন করে; আর সে অনুসারেই বস্তুর গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সংযোগ/বিয়োজন, রদ-বদলের মাধ্যমে প্রাপ্ত; যাদেরকে বৈজ্ঞানিক বলা হয় (৪২: ৫১)।

বর্ণিত ৩ দলের সাথেই আল্লাহ যখন কথা বলে! তখন এরা সকলেই ক্ষেত্রেভেদে কম/বেশী আরবিতে নবি-রাছুল। কিন্তু নবি-রাছুল, জান্নাত-জাহান্নাম, দেবতা-অবতার প্রভৃতি শব্দগুলির সঠিক অর্থ-অনুবাদ না জেনে বাপ-দাদার পরিভাষার (পরিভাষার স্মরণাপন্ন হওয়া মানেই গোজামিল দেয়া) তফসির-ব্যাখ্যা, আরোপিত ভ্রান্ত কল্পনা-বিশ্বাস এমনভাবে বংশ পরম্পরায় প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে যে, সাধারণ মানুষ উহার প্রকৃত অর্থ শুনেই নতুন মনে করে এবং গ্রহণ করতে আর এক পারিভাষিক দোযখের ভয় পায়।
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুন, ২০১১ সকাল ১১:৪৫
৯টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×