আমার প্রিয় পোস্ট

He recalls your souls by night, and knows what you do by day; and then He raises you back each day in order that the term appointed by Him is fulfilled. Then to Him you will return whereupon He will let you know what you have been doing

বিচার তো হলো, রায়ও বেরোলো, কিন্তু তারপর?

২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৩৩

শেয়ারঃ
0 1 0

জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে আমি ভালোভাবে চিনতাম। বড় ভাইয়ের বন্ধু হিসেবে আমি তাকে ভাই বলে ডাকতাম, ভাইয়ের মতোই ভালোবাসতাম। আমি দৈনিক ইত্তেফাকে পাঁচ বছর সম্পাদকীয় লিখেছি। সে সময় মুজিব ভাই এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা প্রায় দিনই সন্ধাবেলা ইত্তেফাক অফিসে আসতেন, তাদের সাথে আমার অনেক আলাপ হতো তখন।

মুজিব ভাই ১৯৬৯ সালে লন্ডন এসেছিলেন। প্রায় প্রতিদিন তার সাথে অনেক সময় কাটিয়েছি, তিনি পশ্চিমি মিডিয়াকে অনেকগুলো সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। প্রত্যেকটিতে আমাকে উপস্খিত থাকতে হতো। আমার মনে হয় আমি তার যতগুলো সাক্ষাৎকার নিয়েছি আর কোনো সাংবাদিকের সে সৌভাগ্য হয়নি। আমার স্ত্রীও মুজিব ভাইকে চিনতেন, তিনি আমাদের দু’জনকেই স্নেহ করতেন। এসব স্মৃতি আমাদের জন্য অমূল্য সম্পদ।

যেসব পুরনো শ্রোতা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বিবিসি থেকে আমার সম্প্রচার শুনেছেন তাদের অবশ্যই মনে থাকার কথা, বারবারই আবেগে আমার কথা জড়িয়ে যাচ্ছিল, কান্নায় গলা বìধ হয়ে আসতে চাইছিল। পেশাগত কারণে অজস্র মানুষের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে, সেটা আমার সৌভাগ্য। কিন্তু শেখ মুজিবের হত্যাকারীদের কারো সাথে কখনো আমার পরিচয় হয়নি­ সেটা আমার জন্য প্রীতিকর।

অন্যতম ঘাতক কর্নেল ফারুক রহমান আশির দশকে বিবিসিতে অন্তত দু’বার অন্যের মাধ্যমে আমাকে খবর পাঠিয়েছিলেন যে আমাকে তিনি সাক্ষাৎকার দিতে চান। কিন্তু জাতির পিতার ঘাতকের সাক্ষাৎকার নেয়ার প্রবৃত্তি আমার হয়নি

জেনারেল এরশাদ ১৯৮৮ সালে তার ভোটারবিহীন নির্বাচনকে কিছুটাও বৈধতা দেয়ার আশায় কর্নেল ফারুককে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দিয়েছিলেন। ফারুক শেরাটন হোটেলের সংবাদ সম্মেলনে আমাকে যাওয়ার বিশেষ অনুরোধ পাঠিয়েছিলেন। আমার পক্ষে যাওয়া সম্ভব ছিল না, যদিও সে হোটেলেই আমি থাকছিলাম তখন।

চৌত্রিশ বছর পরে অবশেষে শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যার বিচারপ্রক্রিয়া আংশিক সম্পূর্ণ হলো। আংশিক বলছি এজন্য যে, বিদেশ থেকে যারা সুতো টেনে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল তাদের কথা একবারও উঠল না, দেশের মানুষ গূঢ় সত্যটা জানতে পারল না। সে যা হোক, এই ৩৪ বছরে আমাদের মন্দভাগ্য দেশটাতে আরো বহু অঘটন ঘটে গেছে। মুজিবের ঘাতকদের বিদেশে পাচার করে দিয়েছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ

আরো একজন রাষ্ট্রপতি এবং স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষক সেনা অফিসারদের হাতে নিহত হয়েছেন। সেনা কর্মকর্তারা অনেকগুলো সফল এবং বিফল অভ্যুথান প্রচেষ্টা করেছেন। একজন জেনারেল নয় বছর দেশে স্বৈরশাসন চালিয়েছেন, গণতন্ত্রের অনুশাসনগুলোকে তিনি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন। আর একজন জেনারেল প্রায় দু’বছর নেপথ্যে থেকে বর্ণচোরা স্বৈরশাসন চালিয়েছেন। জাতির পিতার হত্যার বিচার বিলম্বিত হওয়ার সে সবই হচ্ছে কারণ। স্বস্তির কথা, পরিস্খিতি অনুকূল হয়েছে, বিচারপ্রক্রিয়া সমাধা হয়েছে।

যেকোনো হত্যারই বিচার হওয়া উচিত। বিশেষ করে বাংলাদেশে। রাজনীতির অথবা অন্য কোনো গণমনস্তত্ত্বের’ গড্ডলিকা প্রবাহে না পড়লে এ দেশের মানুষ সত্যনিষ্ঠ এবং ন্যায়পরায়ণ। এ দেশের মানুষের পক্ষেই গাওয়া সম্ভব ‘একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’। কথা হচ্ছে এ বিচারকে নিয়ে কেন এত হইচই হলো? কারণ হচ্ছে, এ বিচারকে ক্ষমতার রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এটা অনস্বীকার্য, এ বিষয়টাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্খিতিকে যেভাবে বিষিয়ে তোলা হয়েছিল তাতে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, সে ক্ষতির ধকল সামলাতে দীর্ঘ সময়ের ও সযত্ন চেষ্টার প্রয়োজন হবে।

তার নেতৃত্বের একেবারে গোড়ার দিকে বিবিসির সাংবাদিক ও কর্তাব্যক্তিদের সাথে তাকে পরিচিত করার লক্ষ্যে আমি শেখ হাসিনাকে বিবিসির বুশ হাউজে চা-চক্রে আমন্ত্রণ করেছিলাম। সে দিন আমার এক ইংরেজ সহকর্মীর সাথে সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেছিলেন, তিনি রাজনীতিকে ঘৃণা করেন কিন্তু পিতার হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্যই তিনি আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিয়েছেনআমি সে রেকর্ডিং থামিয়ে দিয়েছিলাম, শেখ হাসিনাকে বলেছিলাম, বিবিসি থেকে সে কথা প্রচার করা তার রাজনীতির জন্য খুবই ক্ষতিকর হবে। বুঝতে পেরেছিলাম, সে পরামর্শের জন্য হাসিনা আমার ওপর বিরক্ত হয়েছেন। পরে শুনেছিলাম অন্য কোথাও তিনি বলেছেন, তার পিতার হত্যায় বাংলাদেশের মানুষ কাঁদেনি, সেজন্য তিনি তাদের শাস্তি দিতে চান

আমি আশা করব সে কথাগুলো শেখ হাসিনার মনের কথা নয়, কথাগুলো তিনি নিছক আবেগের আতিশয্যে বেমওকা বলে ফেলেছিলেন। তিনি দেশের প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দলের একটির নেত্রী, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী। ১৬ কোটি মানুষের কল্যাণ ও অকল্যাণ করার ক্ষমতা সমানেই তার আছে। লক্ষ্য, আদর্শ ও মনস্তত্ত্ব­ এ ব্যাপারগুলোর সুস্খতা না থাকলে তিনি এই ১৬ কোটি মানুষের অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারেন। প্রতিশোধ নয়­ যারা ভোট দিয়ে তাকে ক্ষমতা দিয়েছে তাদের কল্যাণই তার একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত।

বিভ্রান্ত বিশ্বাস
শোক আর আবেগের আতিশয্যের কারণেই হয়তো শেখ হাসিনা একটা বিভ্রান্ত বিশ্বাস থেকে ভুগছেন। তার পিতার হত্যার পর দেশের অস্তিত্ব টলটলায়মান অবস্খায় ছিল। সে সময় কারো না কারো রাষ্ট্র তরণীর হাল দৃঢ়হস্তে ধরার যে প্রয়োজন ছিল, সেটা তিনি বুঝতে পারছেন না। শুধু তা-ই নয়, যারা পর্যায়ক্রমে সে হাল ধরেছিলেন তাদের সবাইকে তিনি খুনিদের সাথে একগোত্রীয় করে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন। মুজিব হত্যার বিচার বিলম্বিত হওয়ার সেটাও একটা কারণ ছিল। আওয়ামী লীগ নেত্রী রাজনৈতিক প্রতিভূদের তার পিতার হত্যার জন্য অন্যায়ভাবে অভিযুক্ত করেছেন। তার কট্টর সমর্থকরা বিরোধী রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে কর্কশ গালমন্দ করেছেন, বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা পাল্টা অবস্খান নিয়েছেন। তার ফলে দেশ ও জাতি দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে। অথচ অজস্রমুখী সমস্যা-সঙ্কটের মোকাবেলা করতে বাংলাদেশের প্রধান প্রয়োজন ছিল জাতীয় ঐক্যএ কথা আওয়ামী লীগ নেত্রীর মনে হয়নি যে একটা জাতিকে ধ্বংস করার সহজতম উপায় হচ্ছে তার মধ্যে বিভেদ ও অনৈক্য সৃষ্টি করা

উদ্ভূত পরিস্খিতিতে শেখ হাসিনা নিজ জাতির ওপর ভরসা করতে পারেননি, সাহায্য-সমর্থনের জন্য বিদেশীদের মুখাপেক্ষী হয়ে থেকেছেনসাহায্য-সমর্থনের বিনিময়ে বিদেশীরা খুবই উঁচু মূল্য আদায় করে নিচ্ছে তার কাছ থেকেবাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা এখন বিপন্ন। তাতে ক্ষতি হচ্ছে দেশ ও জাতির। সর্বক্ষণ এক চক্ষু হরিণের মতো তিনি পিতৃ-হত্যার প্রতিশোধ নিতেই চেয়েছেন। দেশের ও জাতির স্বার্থের দিকে মনোযোগ দেয়ার সময় তিনি পাননি। এগারো মাস আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, সরকার গঠন করেছেন। মনোযোগ ভিন্ন দিকে ছিল বলে তিনি কোনো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালন করতে পারেননি, বাংলাদেশের অবস্খা দিনকে দিন অবনতির দিকে চলেছে।

এ সময়ের মধ্যে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্খিতির রেকর্ড অবনতি হয়েছে। তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বাস্তববিমুখ, দিনকে তিনি রাত বলেন আর রাতকে দিন। অত্যন্ত কর্কশ স্বরে গলাবাজি করে বলেন, আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়নি। তিনি মনে করেন গলাবাজি করলে মিথ্যাও সত্যি হয়ে যাবে। অতি সম্প্রতিও তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে কোনো ‘ক্রসফায়ার’ কিংবা বিচারবহির্ভূত হত্যা হয়নি এবং হচ্ছে না। অথচ সে দিনই পত্রিকায় বেরিয়েছে ‘ক্রসফায়ারে’ আরো দুটো (দুই সহোদর ভাইয়ের) হত্যার খবর।

শেখ হাসিনা প্রায়ই বলেছেন, তিনি বিচার চান। তিনি ও তার মন্ত্রীরা বারবার বলেছেন, মুজিব হত্যার বিচার হয়ে গেলে দেশে শান্তি আসবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্খিতির উন্নতি হবে। সে বিচার এখন হয়ে গেছে, রায় সঠিক হয়েছে বলে প্রায় সবাই স্বীকার করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ নেত্রী এখন কী করবেন সে রায় নিয়ে? এ কথা কি তার মনে হচ্ছে যে দয়া, ক্ষমা এবং অনুকম্পাবিহীন বিচার প্রতিশোধ এবং প্রতিহিংসারই নামান্তর? সত্যি কি তিনি প্রতিশোধ নিতে রাজনীতি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন? দেশ ও জাতির সেবার মহত্তর কোনো অভিপ্রায় কি তার ছিল না?

অর্থাৎ প্রশ্ন হচ্ছে : ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজন লোককে (অন্য সাতজন এখনো পলাতক) কি শেখ হাসিনা ফাঁসিতে ঝোলাবেন? বাংলাদেশে এর চেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে প্রায় প্রতিদিন কোনো না কোনো কারণে। আরো পাঁচজনের মৃত্যু কোনো বড় কথা নয় এখানে। এই ভাগ্যাহত দেশের মানুষের জীবন বলতে গেলে প্রতিনিয়ত বাঁচা-মরার সংগ্রাম। এত মৃত্যু তারা দেখেছে এবং প্রতিনিয়ত দেখছে যে সাধারণ মানুষের মনে তাতে কোনো স্খায়ী রেখাপাত হবে না।
সৌভাগ্যবশত হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতারা রায় দান উপলক্ষে উৎসব-উল্লাস না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং সে নির্দেশ বহুলাংশে মেনে চলা হয়েছে। রাশ টেনে ধরা না হলে আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা যে কী করতে পারে তা সবারই জানা আছে। কিন্তু কবে ফাঁসি হবে সেটা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা উদ্বেগের ব্যাপার। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতকে যুক্তরাষ্ট্রের অরাজক পশ্চিমাঞ্চলে ফাঁসি ছিল বীভৎস উৎসবের মতো। সার্কাস হতো, দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এসে স্টল খুলত। ফরাসি বিপ্লবের জঘন্যতম অধ্যায়ে গিলোটিনে একের পর এক অভিজাত লোকের ফাঁসি হতো আর শত শত মাতাল নানাভাবে অশ্লীল উল্লাস প্রকাশ করত। একবিংশ শতকে এবং স্বাধীন বাংলাদেশে কি তার পুনরাভিনয় হবে?

প্রাণদণ্ড যুগের অনুপযোগী
আদালত রায় দিয়েছেন­ সেটাই কি শেষ কথা? লোকগুলোকে ফাঁসিতে লটকানোর কোনো মাথার দিব্যি দিয়েছেন আদালত? ব্রিটেন ও পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলোসহ অধিকাংশ উন্নত ও সুসভ্য দেশে প্রাণদণ্ড রহিত করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বহু অঙ্গরাজ্যে এখন আর কারো প্রাণ নাশ করা হয় না, অন্যরাও প্রাণদণ্ড রহিত করার কথা বিবেচনা করছে। সভ্যসমাজে আজীবন কারাভোগই হচ্ছে সর্বোচ্চ শাস্তি। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বিধ্বস্ত হয়, ওয়াশিংটনে প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের একাংশ ধ্বংস হয়। মোট প্রায় তিন হাজার লোক মারা গিয়েছিল সে দিনের সন্ত্রাসে। সে সন্ত্রাসের প্রধান হোতা ছিলেন খালেদ শেখ মোহাম্মদ। প্রেসিডেন্ট ওবামা স্খির করেছেন, তার বিচার হবে গুয়ানতানামোয় নয়, নিউইয়র্কের আদালতে। কিন্তু তিনি বলেছেন, খালেদ শেখ মোহাম্মদকে প্রাণদণ্ড দেয়া হলেও তিনি চান না যে সে দণ্ড কার্যকর করা হোক। মহত্ত্ব না থাকলে মহান নেতা হওয়া যায় না। উর্দু প্রবচন অনুযায়ী ‘বড়োকা দিল ভি বড়া হোতা হায়’­ বড় হতে হলে হৃদয়ও বড় হতে হয়

মুজিবের ঘাতকদের ফাঁসিতে প্রাণ নাশ করা হলে বাড়তি লাভ কিছুই হবে না; তাদের বিচার হয়েছে, আদালত তাদের দোষীসাব্যস্ত করেছে, দণ্ড দিয়েছে, সেটাই যথেষ্ট হওয়া উচিত। তাদের ফাঁসি দিলে কোনো কোনো মহল অবশ্যই ক্রুদ্ধ হবে, দেশের পুঞ্জীভূত হিংসার বিষ তাতে বেড়ে যাবে। সমঝোতার পরিবেশ নষ্ট হবে। সংবিধানে প্রাণদণ্ড মওকুফ করার এখতিয়ার রাষ্ট্রপতিকে দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান মুজিব হত্যার দায়ে দণ্ডিতদের বেলায় সে এখতিয়ার ব্যবহার করলে দেশে শান্তি ও সমঝোতা স্খাপনে কিছু সহায়তা হবে। তা ছাড়া নজিরবিহীনভাবে আওয়ামী লীগের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য সাজেদা চৌধুরীর পুত্রের ১৮ বছরের কারাদণ্ড এবং এক কোটি ৬০ লাখ টাকার জরিমানা মওকুফ করে তিনি যে অপবাদ ও অপযশ অর্জন করেছেন সেটাও কিছু পরিমাণে লাঘব হবে

এটা শান্তির পথ নয়
শেখ হাসিনা এবং তার দলের অন্যান্য নেতা এতকাল বলে আসছিলেন যে মুজিব হত্যার বিচার সম্পন্ন হলে দেশে শান্তি আসবে, আইনশৃঙ্খলা ফিরে আসবে। আলামত দেখে কিন্তু সেটা মনে হচ্ছে না। গত বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম কথায় কথায় আগুন ঝরিয়েছেন। আরো কোন কোন বিচার করা হবে তার একটা দীর্ঘ ফিরিস্তি দিয়েছেন তিনি। কারোই বুঝতে অসুবিধা হবে না যে সিরিজ বিচারের নামে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কুৎসা রটনা, তাদের দিকে কাদা ছোড়াই হচ্ছে আসল উদ্দেশ্য এবং আরো একবার স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া এবং বিরোধী দলের নেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কটুকাটব্য করেছেন, কুৎসা রটনা করেছেন আশরাফুল ইসলাম। দেশে শান্তি স্খাপন কিংবা আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার এটা পথ নয়। এ পথ হিংসার ও প্রতিশোধের পথ। বাড়াবাড়ি করা হলে এ পথে গৃহযুদ্ধও আসতে পারে। তেমন অবস্খায় বাংলাদেশকে গিলে খাওয়ার জন্য একটা বিদেশী হাঙ্গর ইতোমধ্যেই হাঁ করে আছে।
লেখক : বিবিসি বাংলা বিভাগের খ্যাতিমান সাংবাদিক

 

সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৩৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্ত্বাধীকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৫৪
তাহের বলেছেন: শুধু মুজিব হত্যা নয় সকল হত্যার হত্যাকারীদের দেশে প্রচলিত আইন অনূযায়ী বিচার হওয়া উচিৎ।
৩. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:০৬
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: অসম্ভব ভাল লিখেন সিরাজুর......


(++++)
৫. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:২৩
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: @সাগর:

বিবিসির প্রাক্তন স;বাদ দাতা লন্ডন প্রবাসী বিখ্যাত সা;বাদিক সিরাজুর রহমান
৬. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৩২
ব্রাইট স্‌মাইল্‌ বলেছেন: ওনার লিনক্‌ ইকরা, ইসলাম
ওনার বিভাগ ইসলাম
৭. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৫৫
হোদল রাজা বলেছেন: ভাইজান, আমরা সবচেয়ে কার বেশী ক্ষতি করতে পারি? বন্ধুর, কাছের মানুষের! আপনার লিখাটা আমার সেরকম কাছের মানুষের লিখা মনে হইছে!
সত্যর সাথে মিথ্যা ব্লেন্ড করলে মিথ্যাটা আরেকটু সত্য হিসাবে পোক্ত হয়, কি বলেন?

মাইনাস দিলাম!!

৮. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:১৫
সাইফ শামস বলেছেন: একথা সে কথা দে লো বু দুইটা আলা পাতা!!!!!!! মাইনাস।
৯. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:০৩
ধীবর বলেছেন: এই লেখায় সিরাজুর রহমান ঠিক কোথায় মিথ্যা বললেন অথবা ঠিক কি কারণে লেখাটি মাইনাস যোগ্য ( যুক্তিযুক্ত কারণ যদি থাকে) সেটা বললে আমরা সাধারণ মানুষেরাও জানতে পারতাম।

+ ও প্রিয়তে।
১০. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:১০
দি ফিউরিয়াস ওয়ান বলেছেন: লেখটা সুলিখিত,সন্দেহ নাই, কিন্তু এই লেখার মধ্যেই লেখকের রাজনৈতিক পক্ষপাত লেখার মূল বক্তব্যটাকে অনেকটাই খেলো করে দেয়, ফলে লেখাটা আর দশটা নিম্ন মানের রাজনৈতিক লেখার দিকেই ধাবিত হয়।
১১. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:২০
ঋভু অনিকেত বলেছেন:
বিবিসি'র সাংবাদিক হলেই মহান কিছু নন সিরাজুর রহমান। যিনি সংগ্রাম আর নয়া দিগন্তে লেখেন তার চরিত্রটা কী হবে, তিনি কোন ঘরানার মানুষ সেটা সহজেই অনুমেয়।সত্য মিথ্যের মিশেল দিয়ে তিনি নিজের মনের বা তার কম্যুনিটির মতবাদ প্রচার করতে যথেষ্ট সচেষ্ট। শেখ মুজিবর রহমানের সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল বলে প্রচার করেন কিন্তু বিচারের আগে তিনি কখনো এ হত্যার বিচার হওয়া প্রয়োজন এরকম কোন লেখা বা বক্তব্য কোথাও দিয়েছেন বলে আমাদের জানা নেই।
সিরাজুর রহমান নিজামী মুজাহিদের চেয়েও খারাপ একজন মানুষ। তাকে নব্য রাজাকার উপাধি দেয়া যায়।
১২. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:২৬
দি ফিউরিয়াস ওয়ান বলেছেন: লেখায় আপাতত দুইটা দূর্বলতা চোখে পড়তেছে, প্রথমটা বলি।

লেখক ৭৫ পরবর্তী সময়ে যারা দেশের শাসনভার নিছেন, তাদের সাফাই গেয়ে বলেছেন যে তাদের উপর মুজিব হত্যার দায় ফেলা অনুচিত, কারণ কাউকে না কাউকে দেশের হাল ধরতেই হইত সেই সময়ে। যে ২ টা জিনিস তিনি চেপে গেছেন, তা হল--দেশের পরবর্তী কর্ণধারদের অনেকেই প্র‌ত্যক্ষে/পরোক্ষে সেই হত্যাকান্ডে জড়িত ছিলেন, বা অবগত ছিলেন এবং তারা সবাই মোটামুটি মুজিব হত্যাকারীদের তোষণের নীতিই নিয়েছিলেন। শুধুমাত্র "দেশীয় ঐক্য"র মুখ চেয়ে সপরিবার মুজিব হত্যা আর চার নেতা হত্যা করে দেশের সরকারকে ধ্বংস করার অন্যায় মেনে নেয়াটা অযৌক্তিকই মনে হয়।
১৩. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:২৮
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: @ঋভু অনিকেত :

আপনি নিজে অথবা আপনার পরিবারের কেউ সিরাজুর রহমানের অতীত ইতিহাস জানেন বলে মনে হয় না|

স্বাধীনতা স;গ্রামে বহি:বিশ্বে তার অবদান মুজিবও জানতেন, এখন আপনি তাকে বলছেন নব্য রাজাকার.....!!!

তো আপনি ও আপনার বাবা-মা-ভাই-বোন কত বড় মুক্তিযোদ্বা এব; কোন কোন যায়গায় কার কার সাথে যুদ্ব করেছেন এটা একটু বলেন শুনি....।

১৪. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৫২
দি ফিউরিয়াস ওয়ান বলেছেন: ২য় যে দূর্বলতা চোখে পড়ল, সেইটা বলি। এইটাই বেশী ভয়ংকর।


লেখক বলেছেন:তাদের ফাঁসি দিলে কোনো কোনো মহল অবশ্যই ক্রুদ্ধ হবে, দেশের পুঞ্জীভূত হিংসার বিষ তাতে বেড়ে যাবে। সমঝোতার পরিবেশ নষ্ট হবে।.............বাড়াবাড়ি করা হলে এ পথে[সিরিজ বিচার] গৃহযুদ্ধও আসতে পারে।

এই একটা কথাই লেখাটার মান নষ্ট করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আজ যদি "কোন কোন মহলের" কথা শুনে বিচার কার্য প্রভাবিত করা হয়, কাল দেশের "বৃহত্তম রাজনৈতিক দল" আওয়ামী লীগের কোন অন্যায়ের বিচার দাবী করব কোন মুখে???

সমস্যা হল, তাদের ফাঁসি না দিয়ে যাবজ্জীবন দিলেও কেউ কেউ নাখোশ হবেন, বিচার যে হচ্ছে, তাতেই তো অনেকেই নাখোশ! তাহলে কি তাদের বিচারও স্থগিত করা উচিত?? যেখানে বিএনপির মহাসচিবও বলেছেন রায় মেনে নেয়া হবে, সেখানে মানবাধিকার নিয়ে নাকি কান্না খুবই মেকি মনে হয়, যেখানে ২ প্যারা উপরেই তিনি জাতীয় ঐক্যের নামে স্রেফ গুলি করে, রক্তে ভাসিয়ে আর বন্দুকের ভয় দেখিয়ে সরকার নামনোকে হালাল করেছেন!

আর গৃহযুদ্ধের জুজু নিয়ে আর কিছু বললামনা, গত ২০ বছর ধরেই মামলা-হামলার হিড়িক দেখে আসছি উভয় তরফ থেকেই, কই , গৃহযুদ্ধ হবে বলে তো মনে হল না! ঠিক একই জুজু ব্যবহার হতে দেখি দেশে-বিদেশে, সামরিক অভ্যুত্থানকে হালাল করতে, আর আমাদের দেশে যুদ্ধাপরাধীর বিচার করতে গেলে।

একজন খ্যাতনামা সাংবাদিকের এহেন মনোভাব শুধু দু:খজনক না, ভয়ংকরও।
১৫. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৫৪
দি ফিউরিয়াস ওয়ান বলেছেন: @ধীবর, মাইনাসের কারণ চাইছিলেন, তাই বলা।
১৬. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৫৬
পরশ পাথর বলেছেন: পরে শুনেছিলাম অন্য কোথাও তিনি বলেছেন, তার পিতার হত্যায় বাংলাদেশের মানুষ কাঁদেনি, সেজন্য তিনি তাদের শাস্তি দিতে চান।


উনি কই শুনছেন ?

:) :) এতদিন বিরোধীরা বলছে হাসিনা নাকি মুজিব হত্যার বিচার করবে না। এইটা ক্ষমতায় আসার জন্য বলে । আর এখন বিচার হইছে, কিন্তু এখন তারা বলে হাসিনা নাকি দেশের মানুষকে শাস্তি দিতে চান। হাহাহা। হাসিনার সব খারাপ । ভাল কাজ করলেও খারাপ।
১৭. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৫৭
মোহাম্মদ লোমান বলেছেন: এত বড় লিখা সাধারণত পড়া হয়না। তারপরও মন দিয়ে পড়লাম। দেশ জাতি ও দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যত পরিচালকদের জন্য যথেষ্ট পাথেয় রয়েছে এই লিখাটিতে। শান্তি প্রিয় জনগনের নিকট লিখাটি অত্যন্ত গুরুত্বের দাবী রাখে। অবশ্য যারা সর্বদা দেশের জনগনকে বিভক্ত করে রাখার শপথ নিয়ে রেখেছেন তারা নাখোশই হবেন। লেখককে ধন্যবাদ এবং লিখাটি প্রিয়তে নিলাম।
১৮. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:০১
ঋভু অনিকেত বলেছেন: @ বিদ্রোহী রণকান্ত
আপনার মত মানসিকতার লোককে এসব কথা জানানোর প্রবৃত্তি আমার নেই, তবুও বলছি আমার পরিবারে ছয়জন সদস্য সশস্র মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে, আমার পরিবারের পাঁচজন সদস্য মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছে। একাত্তরে সিরাজুর রহমানের কণ্ঠ আমি শুনেছি আপনি হয়তো শোনেনি। সে সিরাজুর রহমান আর নয়া দিগন্তের সিরাজুর রহমানকে একই ব্যক্তি বলে ভাবতে পারছি না। আপনাকে আমার প্রশ্ন আপনি বা আপনার পরিবারের সদস্যরা একাত্তরে কোথায় ছিলেন কী করেছেন জানাতে পারবেন কী?
১৯. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৩৯
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: @ঋভু অনিকেত :

আমার ৩ চাচা মুক্তিযোদ্বা| আমার বাবা, চাচাদের রেখে যাওয়া স্ত্রী-পুত্র-কন্যা নিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েন দুর্গম এলাকায় পাকি মিলিটারির ভয়ে|
বাড়ীর ১৭ টি ঘর পুরে ছাড়খার| আমি ছিলাম মায়ের কোলে|

সিরাজুর রহমানকে "নব্য রাজাকার" যারা বলে তাদের মন মানসিকতা আমি বুজি| আওয়ামিলীগের দালালী না করাতে সিরাজুর রহমান আপনার চোখে 'রাজাকার"......!!!

আপনি এখন কোন পথের পথিক বুজতে বাকী নাই| দেশটারে ভালবাসতে শিখেন, অন্ধ দলবাজি বাদ দিয়ে|
২০. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:৩০
শুন্য মানব বলেছেন: প্রশ্ন হচ্ছে : ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজন লোককে (অন্য সাতজন এখনো পলাতক) কি শেখ হাসিনা ফাঁসিতে ঝোলাবেন? বাংলাদেশে এর চেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে প্রায় প্রতিদিন কোনো না কোনো কারণে। আরো পাঁচজনের মৃত্যু কোনো বড় কথা নয় এখানে। এই ভাগ্যাহত দেশের মানুষের জীবন বলতে গেলে প্রতিনিয়ত বাঁচা-মরার সংগ্রাম। এত মৃত্যু তারা দেখেছে এবং প্রতিনিয়ত দেখছে যে সাধারণ মানুষের মনে তাতে কোনো স্খায়ী রেখাপাত হবে না।
২১. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:১১
নিম গাছ বলেছেন: সিরাজুর রহমানকে সশ্রদ্ধ সালাম জানাই। দেশপ্রেমিক এসব মানুষের খুবই দরকার। কিন্তু তিনি মুজিব সমালোচনা করেন বলেই নব্য রাজাকার হয়ে যান। বড়ই দুর্ভাগা এই জাতি! +
২২. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:০৪
ল্যাটিচুড বলেছেন: একজন একনিষ্ঠ আওমীলিগ সমর্থক হয়েও শিরোনামহীন এর নিচের অংশটি অস্বীকার করতে পারছি না

" অজস্রমুখী সমস্যা-সঙ্কটের মোকাবেলা করতে বাংলাদেশের প্রধান প্রয়োজন ছিল জাতীয় ঐক্য। এ কথা আওয়ামী লীগ নেত্রীর মনে হয়নি যে একটা জাতিকে ধ্বংস করার সহজতম উপায় হচ্ছে তার মধ্যে বিভেদ ও অনৈক্য সৃষ্টি করা। উদ্ভূত পরিস্খিতিতে শেখ হাসিনা নিজ জাতির ওপর ভরসা করতে পারেননি, সাহায্য-সমর্থনের জন্য বিদেশীদের মুখাপেক্ষী হয়ে থেকেছেন। সাহায্য-সমর্থনের বিনিময়ে বিদেশীরা খুবই উঁচু মূল্য আদায় করে নিচ্ছে তার কাছ থেকে। "

তবে সেই সাথে এও বলতে চাই এই লিখাটি পরিস্কার পক্ষপাত দুষ্ট। তিনি সবকিছুতে শেখ হাসিনার ভূল দেখতে পেলেন, আওমীলিগের ভুল দেখতে পেলেন, এরশাদের ভূল দেখতে পেলেন, তত্বাবধায়ক সরকারের মধ্যে ভূত (জেনারেলদের শাসন দেখতে পেলেন, যেটা বাস্তবিকই সত্য বলে আমি নিজেও বিশ্বাস করি) আবিস্কার করলেন কিন্তু বি,এন,পি এর কোন ভূল খুজে পেলেন না। এতটা বছর বি,এন,পি দেশ শাসন করল তারা কেন বুঝতে পারলোনা যে

" একটা জাতিকে ধ্বংস করার সহজতম উপায় হচ্ছে তার মধ্যে বিভেদ ও অনৈক্য সৃষ্টি করা।"

বি,এন,পি ও জাতিকে ঐক্য বদ্ধ করার জন্য উল্লেখযোগ্য তেমন কোন পদক্ষেপই নেয়নী। যদি অন্তরিক ভাবে তারা এই বিষয়ে সচেষ্ট থাকত তাহলে অনেক আগেই দেশের দুই বৃহত্তম দল - দেশ ও জনগনের কমন ইন্টারেষ্ট এর বিষয়ে একমত হতে পারতেন। তা সম্ভব হয়নি বিধায় আজ আমরা জাতিগত ভাবে হুমকির সন্মুখিন হয়েছি।

এর দায় কোন ভাবেই বি,এন,পি ও আওমিলীগ অস্বিকার করতে পারবে না। (যদিও কোন ভুলের দায়ভার গ্রহন করা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নেই, বরং সকল দোষ পতিপক্ষকে দিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা হাসিল আমাদের জাতীয় চরিত্রে পরিণত হয়েছে।)

এটা সত্য যে - আমাদের প্রিয় স্বদেশ - বাংলাদেশকে গিলে খাওয়ার জন্য বিদেশী হাঙ্গরা হাঁ করে আছে। এর প্রতিকারে আমাদের নেতা নেত্রীরা কি করছেন ?

তাদের কাছে ঐ রকম বিপদের খুব সহজ সমাধান আছে । সরকার ও বিরোধী দলের অধিকাংশ নেতা নেত্রীর সে প্রস্তুতি খুব ভালোমতই নেওয়া আছে - তা হল বিপদ হলে নিজ পরিবারকে সুরক্ষিত করার জন্য দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয় ও নিজে চলে যাওয়া।

কিন্তু প্রশ্ন হল, যাদের ভোটে তারা আজ নেতা, নেত্রী সেই ১৫ কোটি সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?
২৩. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:০৬
আমি আমার বলেছেন: বড় হতে হলে হৃদয়ও বড় হতে হয়+++++
২৪. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:১৫
মু. নূরনবী বলেছেন: প্লাস ইনফিনিটি...........................+++++++++++++++++++

আপনার লেখাটা পড়ে ভালো লাগলো.......অখ্যাত একটা মাসিক পত্রিকায় কপি..পেষ্ট করতে চাই......জানাবেন কিন্তু।

‍"ক্ষমা মহত্ত্বের লক্ষণ"
২৫. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৪১
এস এইচ খান বলেছেন: আওয়ামী মেশিনে রাজাকার ঢুকলে হয় বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, আর ঐ মেশিন থেকে মুক্তিযোদ্ধা বের হলে, সে হয় রাজাকার।
২৬. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৪৮
শুন্য মানব বলেছেন: এস এইচ খান বলেছেন: আওয়ামী মেশিনে রাজাকার ঢুকলে হয় বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, আর ঐ মেশিন থেকে মুক্তিযোদ্ধা বের হলে, সে হয় রাজাকার।
২৭. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৫০
দুরবীন বলেছেন: @ ফিউরিয়াস ওয়ান এর দুইটি মন্তব্যের সাথেই সহমত।

যারা এই পোষ্ট পড়ে অতি উতসাহের সাথে লেখককে "রাজাকার" উপাধি অথবা "মাইনাস" দিচ্ছেন, তারা জানুন - সমালোচনা যে শুধু ক্ষতি করে, তা কিন্তু নয়, বরং কখনো কখনো সমালোচনা আত্মশুদ্ধির পথও খুলে দেয়।
২৮. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:২০
বকলম২০১০ বলেছেন: এটাই গণতন্ত্র।
ভিন্নমতের মানুষ থাকবেই।
ভিন্ন মত প্রকাশের জন্য সিরাজুর রহমানকে এপ্রিশিয়েট করছি।

তবে সিরাজুর রহমান সূক্ষ্মভাবে মূলত কি বলতে চাইলেন?

আপনি বললেন-

মুজিবের ঘাতকদের ফাঁসিতে প্রাণ নাশ করা হলে বাড়তি লাভ কিছুই হবে না; তাদের বিচার হয়েছে, আদালত তাদের দোষীসাব্যস্ত করেছে, দণ্ড দিয়েছে, সেটাই যথেষ্ট হওয়া উচিত। তাদের ফাঁসি দিলে কোনো কোনো মহল অবশ্যই ক্রুদ্ধ হবে, দেশের পুঞ্জীভূত হিংসার বিষ তাতে বেড়ে যাবে। সমঝোতার পরিবেশ নষ্ট হবে। সংবিধানে প্রাণদণ্ড মওকুফ করার এখতিয়ার রাষ্ট্রপতিকে দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান মুজিব হত্যার দায়ে দণ্ডিতদের বেলায় সে এখতিয়ার ব্যবহার করলে দেশে শান্তি ও সমঝোতা স্খাপনে কিছু সহায়তা হবে।

কিন্তু মুজিবের হত্যাকারীদের ফাঁসি দিলে কোন মহল ক্রুদ্ধ হবে?
কাদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ বেড়ে যাবে?
রাষ্ট্রপতিকে আপনি ক্ষমা প্রদর্শনে উদ্ধুদ্ধ করছেন কেন?

খুনীদের ক্ষমা করে শান্তি ও সমঝোতা আসে?

বঙ্গবন্ধু তো রাজাকারদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিল অনেক বছর হলো, আমাদের দেশে কি শান্তি ও সমঝোতা এসেছে।

লন্ডনে এসি রুমে শান্তির বাতাস খেতে খেতে (নাকি সাথে ওয়াইনও ছিলো) আপনি এসব কি গাজাখুরি শান্তি ও সমঝোতার তত্ত্ব দিলেন মিঃ সিরাজুর রহমান?

আপনি আপনার লেখায় শেখ মজিবকে একবারও বঙ্গবন্ধু বলেন নাই সেকারণে আমার কোন ক্ষোভ নাই। নয়াদিগন্তে লেখেন বলেও আপত্তি নাই। কিন্তু যারা ১৫ ই আগষ্ট একটা পরিবারের সবাইকে নৃশংসভাবে মেরে উল্লাস করে, একটুও অনুতপ্ত হয়না বরং উল্লাসে মেতে উঠে ও গর্বিত হয়, নিজেরাই স্বীকার করে- চার বছরের শিশুকেও যারা অবলীলায় হত্যা করতে পিছপা হয় না , তাদের পক্ষে আপনি সাফাই গাইতে আসলেন কেন?

আপনি মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসে দেশের স্বাধীনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এটা কখনো মুছে যাবে না। কিন্তু আপনি আপনার বন্ধু শফিক রেহমান যারা একসময় আপোষহীন হিসেবে সকল মানুষের প্রিয়পাত্র ছিলেন, তারা হঠাৎ করে একটি রাজনৈতিক দলের খোলসে ঢুকে পড়লেন কোন যাদুমন্ত্রবলে ?

আর এই রায় কার্যকর হলে বিএনপির তো রাজনৈতিকভাবে কোন ক্ষতি হওয়ার কিছু নাই।

বঙ্গবন্ধু দেশের মানুষকে ৭ই মার্চের ভাষণ দিয়ে যেভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল সেটা কখনো মুছে ফেলা যাবে না , তেমনি স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন প্রবাদ বাক্যের মতো তৎকালীন সময়ে দেশ পরিচালনায় বঙ্গবন্ধুর অনেক ভুল ছিল। কিন্তু তা বলে একটি পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে হবে এটা কি ধরণের সভ্যতা?

তেমনি আপনি একসময় ভালো খ্যাতনামা সাংবাদিক ছিলেন যিনি প্রবাসে থেকেও জনমত গঠনে অবদান রেখেছিলেন। কিন্তু দুঃখ হয় যখন আপনারাও টাইপড হয়ে যান। যখন আপনার নাম পড়েই বুঝে ফেলি আপনি কোন পক্ষে কথা বলবেন। সবাই যদি এভাবে বিক্রি হয়ে যায় , তবে হীরে-জহরত আমরা আবার কবে পাবো?
২৯. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:২৯
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: যাক সিরাজুর রহমান বলার পর জাতির জনক কথাটা দেখি অনেকে মাইনা নিতেছে। ;)
আগাচৌও লন্ডন নিবাসী প্রখ্যাত সাংবাদিক @ বিদ্রোহী রণক্লান্ত
৩০. ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:১৫
ব্রাইট স্‌মাইল্‌ বলেছেন: দেখা যায় যে, সব ইসলাম প্রীতি লোক বিএনপি করে অথবা সব বিএনপি করা লোক ইসলাম প্রীতিতে আচছন্ন। এটা কেনো আমি বুঝিনা।

যে কোনো মৃত্যুদন্ডের আমি বিরোধি। কিন্‌তু এই ক্ষেত্রে মুশকিল হলো যে সরকার বদল হলে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তরা বের হয়ে এসে তাদের কার্য্যকলাপ আবার পুর্ণদ্যমে আরম্ভ করবে।


৩১. ২৫ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:২০
ঋভু অনিকেত বলেছেন: @বিদ্রোহী রণকান্ত আমি ভাই ১৯৭৩ সাল থেকে আওয়ামী বিরোধী মানুষ। হলফ করে বলতে পারি ভোটার হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত নৌকা মার্কায় ভোট দেইনি। সিরাজুর রহমানের সমালোচনা করলেই আওয়ামী পন্থী এটা ঠিক নয়। আর নয়া দিগন্তে কারা লিখেন আর এ পত্রিকা কারা পড়েন তা আমার চেয়ে আপনারই ভাল জানার কথা।
৩২. ২৬ শে নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:০৪
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: @ঋভু অনিকেত:

ক্ষমা চাইছি আপনাকে যদি আঘাত করে থাকি| এরশাদের শাসনামলে প্রথম ভোটার হই, তাকেতো ভোট দেয়ার প্রশ্নই উঠে না| তার পর দেশের প্রথম নির্বাচনের সময় হলে ছিলাম, চুটিতে বাড়ি যাওয়া হয় নি, ভোটও দেয়া হয় নি| তার পরই লেখা পড়ার জন্য বিদেশে| সুতরা; আমার ভোটও কোন দলের বাক্সে পড়েনি|

আমি প্রতিদিন সবগূলো পত্রিকায় একবার চোখ না বুলালে ঘুম হয় না| আমি পত্রিকার নাম দেখে লেখক বিচার করি না, লেখার মান দেখে লেখক নির্বাচন করি|

সিরাজুর রহমানকে রাজাকার বলার মত কোন অন্যায় তিনি করেন নি, এটা আমার বিশ্বাস|

আপনাকে একটা উদাহরন দেই, ইনকিলাবের মালিক, সম্পাদক,কর্মচারী এমনকি ঐ পত্রিকা যারা পড়তো তাদেরকেও আওয়ামীলীগ রাজাকার বলে গালি দিত| সেই রাজাকার মাওলানা মান্নানের ইনকিলাব এখন আওয়ামীলীগের প্রিয় পত্রিকা...!!! সেই বাহাউদ্দিন আলীগের প্রিয় সম্পাদক, এমপি নিমিনেশন ও পেয়েছিল বাতিল হওয়া নির্বাচনে....... :):)

সুতরা; কোন পত্রিকায় লিখার কারনে কাউকে রাজাকার বা মুক্তিযোদ্বা বলা অনুচিত মনে করি|

সবশেষে আবারো, সরি বলছি যদি আপনাকে আঘাত করে থাকি|

এবার
৩৩. ২৬ শে নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:৩৭
সীমানা ছাড়িয়ে বলেছেন: শেখ হাসিনা প্রতিহিংসার রাজনীতি করলে এখানে থেকে তার বের হয়ে আসা উচিত, এই ব্যাপারে একমত। কিন্তু বিচারের রায়ের বিষয়ে একমত হতে পারলাম না। ফাঁসি এখনই এবং অতি শীঘ্র বাস্তবায়ন করা উচিত। ফাঁসি না দিয়ে কেবল কারাঘরে ভরে রাখলে পরবর্তীতে অন্য সরকার এসে তাদের ছেড়ে দিবে, এই ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। মৃত্যুদন্ডকে আমি অমানবিক বলতে পারি না। বরং খুনের শাস্তি হিসেবে খুনীকে মৃত্যুদন্ড না দেয়াটাই অমানবিক। ইউরোপ-আমেরিকা এই ব্যাপারে কি ভাবল তাতে কিছু যায় আসে না। সবচেয়ে অমানবিক কাজ ওরাই করে। ওদের উদাহরন টানার কোন মানে হয় না।
৩৪. ২৮ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:২০
ত্রিভুজ বলেছেন: মূল লেখাটার সোর্সটা দিলে আইডি বাংলায় রাখা যেতো... মেইল করলে বেশি ভাল হয়। trivuz@জিমেইল

আরেকটা বিষয়, কম্পিউটার গ্রুপ থেকে এই লেখাটা সহ আপনার আরো কিছু লেখা মুছতে হয়েছে। কম্পিউটার গ্রুপে কম্পিউটার বিষয়ক লেখাগুলো শুধু রাখলে ভাল হয়। প্রতিদিনই কারো না কারো বিষয় বহির্ভুত লেখা মুছতে হচ্ছে। বিষয়টা কিছুটা বিরক্তিকর।

Eid Mubarak. ভাল থাকুন।
২০ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:১৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ...

 

মোট সময় লেগেছে ২.৩০২৯ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
‍‍"তার চেয়ে উত্তম কথা আর কোন ব্যক্তির হতে পারে যে মানুষদের আল্লাহ তাআলার দিকে ডাকে এবং সে নিজেও নেক কাজ...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই