somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিচার তো হলো, রায়ও বেরোলো, কিন্তু তারপর?

২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে আমি ভালোভাবে চিনতাম। বড় ভাইয়ের বন্ধু হিসেবে আমি তাকে ভাই বলে ডাকতাম, ভাইয়ের মতোই ভালোবাসতাম। আমি দৈনিক ইত্তেফাকে পাঁচ বছর সম্পাদকীয় লিখেছি। সে সময় মুজিব ভাই এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা প্রায় দিনই সন্ধাবেলা ইত্তেফাক অফিসে আসতেন, তাদের সাথে আমার অনেক আলাপ হতো তখন।

মুজিব ভাই ১৯৬৯ সালে লন্ডন এসেছিলেন। প্রায় প্রতিদিন তার সাথে অনেক সময় কাটিয়েছি, তিনি পশ্চিমি মিডিয়াকে অনেকগুলো সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। প্রত্যেকটিতে আমাকে উপস্খিত থাকতে হতো। আমার মনে হয় আমি তার যতগুলো সাক্ষাৎকার নিয়েছি আর কোনো সাংবাদিকের সে সৌভাগ্য হয়নি। আমার স্ত্রীও মুজিব ভাইকে চিনতেন, তিনি আমাদের দু’জনকেই স্নেহ করতেন। এসব স্মৃতি আমাদের জন্য অমূল্য সম্পদ।

যেসব পুরনো শ্রোতা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বিবিসি থেকে আমার সম্প্রচার শুনেছেন তাদের অবশ্যই মনে থাকার কথা, বারবারই আবেগে আমার কথা জড়িয়ে যাচ্ছিল, কান্নায় গলা বìধ হয়ে আসতে চাইছিল। পেশাগত কারণে অজস্র মানুষের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে, সেটা আমার সৌভাগ্য। কিন্তু শেখ মুজিবের হত্যাকারীদের কারো সাথে কখনো আমার পরিচয় হয়নি­ সেটা আমার জন্য প্রীতিকর।

অন্যতম ঘাতক কর্নেল ফারুক রহমান আশির দশকে বিবিসিতে অন্তত দু’বার অন্যের মাধ্যমে আমাকে খবর পাঠিয়েছিলেন যে আমাকে তিনি সাক্ষাৎকার দিতে চান। কিন্তু জাতির পিতার ঘাতকের সাক্ষাৎকার নেয়ার প্রবৃত্তি আমার হয়নি

জেনারেল এরশাদ ১৯৮৮ সালে তার ভোটারবিহীন নির্বাচনকে কিছুটাও বৈধতা দেয়ার আশায় কর্নেল ফারুককে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দিয়েছিলেন। ফারুক শেরাটন হোটেলের সংবাদ সম্মেলনে আমাকে যাওয়ার বিশেষ অনুরোধ পাঠিয়েছিলেন। আমার পক্ষে যাওয়া সম্ভব ছিল না, যদিও সে হোটেলেই আমি থাকছিলাম তখন।

চৌত্রিশ বছর পরে অবশেষে শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যার বিচারপ্রক্রিয়া আংশিক সম্পূর্ণ হলো। আংশিক বলছি এজন্য যে, বিদেশ থেকে যারা সুতো টেনে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল তাদের কথা একবারও উঠল না, দেশের মানুষ গূঢ় সত্যটা জানতে পারল না। সে যা হোক, এই ৩৪ বছরে আমাদের মন্দভাগ্য দেশটাতে আরো বহু অঘটন ঘটে গেছে। মুজিবের ঘাতকদের বিদেশে পাচার করে দিয়েছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ

আরো একজন রাষ্ট্রপতি এবং স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষক সেনা অফিসারদের হাতে নিহত হয়েছেন। সেনা কর্মকর্তারা অনেকগুলো সফল এবং বিফল অভ্যুথান প্রচেষ্টা করেছেন। একজন জেনারেল নয় বছর দেশে স্বৈরশাসন চালিয়েছেন, গণতন্ত্রের অনুশাসনগুলোকে তিনি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন। আর একজন জেনারেল প্রায় দু’বছর নেপথ্যে থেকে বর্ণচোরা স্বৈরশাসন চালিয়েছেন। জাতির পিতার হত্যার বিচার বিলম্বিত হওয়ার সে সবই হচ্ছে কারণ। স্বস্তির কথা, পরিস্খিতি অনুকূল হয়েছে, বিচারপ্রক্রিয়া সমাধা হয়েছে।

যেকোনো হত্যারই বিচার হওয়া উচিত। বিশেষ করে বাংলাদেশে। রাজনীতির অথবা অন্য কোনো গণমনস্তত্ত্বের’ গড্ডলিকা প্রবাহে না পড়লে এ দেশের মানুষ সত্যনিষ্ঠ এবং ন্যায়পরায়ণ। এ দেশের মানুষের পক্ষেই গাওয়া সম্ভব ‘একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’। কথা হচ্ছে এ বিচারকে নিয়ে কেন এত হইচই হলো? কারণ হচ্ছে, এ বিচারকে ক্ষমতার রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এটা অনস্বীকার্য, এ বিষয়টাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্খিতিকে যেভাবে বিষিয়ে তোলা হয়েছিল তাতে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, সে ক্ষতির ধকল সামলাতে দীর্ঘ সময়ের ও সযত্ন চেষ্টার প্রয়োজন হবে।

তার নেতৃত্বের একেবারে গোড়ার দিকে বিবিসির সাংবাদিক ও কর্তাব্যক্তিদের সাথে তাকে পরিচিত করার লক্ষ্যে আমি শেখ হাসিনাকে বিবিসির বুশ হাউজে চা-চক্রে আমন্ত্রণ করেছিলাম। সে দিন আমার এক ইংরেজ সহকর্মীর সাথে সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেছিলেন, তিনি রাজনীতিকে ঘৃণা করেন কিন্তু পিতার হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্যই তিনি আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিয়েছেনআমি সে রেকর্ডিং থামিয়ে দিয়েছিলাম, শেখ হাসিনাকে বলেছিলাম, বিবিসি থেকে সে কথা প্রচার করা তার রাজনীতির জন্য খুবই ক্ষতিকর হবে। বুঝতে পেরেছিলাম, সে পরামর্শের জন্য হাসিনা আমার ওপর বিরক্ত হয়েছেন। পরে শুনেছিলাম অন্য কোথাও তিনি বলেছেন, তার পিতার হত্যায় বাংলাদেশের মানুষ কাঁদেনি, সেজন্য তিনি তাদের শাস্তি দিতে চান

আমি আশা করব সে কথাগুলো শেখ হাসিনার মনের কথা নয়, কথাগুলো তিনি নিছক আবেগের আতিশয্যে বেমওকা বলে ফেলেছিলেন। তিনি দেশের প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দলের একটির নেত্রী, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী। ১৬ কোটি মানুষের কল্যাণ ও অকল্যাণ করার ক্ষমতা সমানেই তার আছে। লক্ষ্য, আদর্শ ও মনস্তত্ত্ব­ এ ব্যাপারগুলোর সুস্খতা না থাকলে তিনি এই ১৬ কোটি মানুষের অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারেন। প্রতিশোধ নয়­ যারা ভোট দিয়ে তাকে ক্ষমতা দিয়েছে তাদের কল্যাণই তার একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত।

বিভ্রান্ত বিশ্বাস
শোক আর আবেগের আতিশয্যের কারণেই হয়তো শেখ হাসিনা একটা বিভ্রান্ত বিশ্বাস থেকে ভুগছেন। তার পিতার হত্যার পর দেশের অস্তিত্ব টলটলায়মান অবস্খায় ছিল। সে সময় কারো না কারো রাষ্ট্র তরণীর হাল দৃঢ়হস্তে ধরার যে প্রয়োজন ছিল, সেটা তিনি বুঝতে পারছেন না। শুধু তা-ই নয়, যারা পর্যায়ক্রমে সে হাল ধরেছিলেন তাদের সবাইকে তিনি খুনিদের সাথে একগোত্রীয় করে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন। মুজিব হত্যার বিচার বিলম্বিত হওয়ার সেটাও একটা কারণ ছিল। আওয়ামী লীগ নেত্রী রাজনৈতিক প্রতিভূদের তার পিতার হত্যার জন্য অন্যায়ভাবে অভিযুক্ত করেছেন। তার কট্টর সমর্থকরা বিরোধী রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে কর্কশ গালমন্দ করেছেন, বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা পাল্টা অবস্খান নিয়েছেন। তার ফলে দেশ ও জাতি দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে। অথচ অজস্রমুখী সমস্যা-সঙ্কটের মোকাবেলা করতে বাংলাদেশের প্রধান প্রয়োজন ছিল জাতীয় ঐক্যএ কথা আওয়ামী লীগ নেত্রীর মনে হয়নি যে একটা জাতিকে ধ্বংস করার সহজতম উপায় হচ্ছে তার মধ্যে বিভেদ ও অনৈক্য সৃষ্টি করা

উদ্ভূত পরিস্খিতিতে শেখ হাসিনা নিজ জাতির ওপর ভরসা করতে পারেননি, সাহায্য-সমর্থনের জন্য বিদেশীদের মুখাপেক্ষী হয়ে থেকেছেনসাহায্য-সমর্থনের বিনিময়ে বিদেশীরা খুবই উঁচু মূল্য আদায় করে নিচ্ছে তার কাছ থেকেবাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা এখন বিপন্ন। তাতে ক্ষতি হচ্ছে দেশ ও জাতির। সর্বক্ষণ এক চক্ষু হরিণের মতো তিনি পিতৃ-হত্যার প্রতিশোধ নিতেই চেয়েছেন। দেশের ও জাতির স্বার্থের দিকে মনোযোগ দেয়ার সময় তিনি পাননি। এগারো মাস আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, সরকার গঠন করেছেন। মনোযোগ ভিন্ন দিকে ছিল বলে তিনি কোনো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালন করতে পারেননি, বাংলাদেশের অবস্খা দিনকে দিন অবনতির দিকে চলেছে।

এ সময়ের মধ্যে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্খিতির রেকর্ড অবনতি হয়েছে। তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বাস্তববিমুখ, দিনকে তিনি রাত বলেন আর রাতকে দিন। অত্যন্ত কর্কশ স্বরে গলাবাজি করে বলেন, আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়নি। তিনি মনে করেন গলাবাজি করলে মিথ্যাও সত্যি হয়ে যাবে। অতি সম্প্রতিও তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে কোনো ‘ক্রসফায়ার’ কিংবা বিচারবহির্ভূত হত্যা হয়নি এবং হচ্ছে না। অথচ সে দিনই পত্রিকায় বেরিয়েছে ‘ক্রসফায়ারে’ আরো দুটো (দুই সহোদর ভাইয়ের) হত্যার খবর।

শেখ হাসিনা প্রায়ই বলেছেন, তিনি বিচার চান। তিনি ও তার মন্ত্রীরা বারবার বলেছেন, মুজিব হত্যার বিচার হয়ে গেলে দেশে শান্তি আসবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্খিতির উন্নতি হবে। সে বিচার এখন হয়ে গেছে, রায় সঠিক হয়েছে বলে প্রায় সবাই স্বীকার করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ নেত্রী এখন কী করবেন সে রায় নিয়ে? এ কথা কি তার মনে হচ্ছে যে দয়া, ক্ষমা এবং অনুকম্পাবিহীন বিচার প্রতিশোধ এবং প্রতিহিংসারই নামান্তর? সত্যি কি তিনি প্রতিশোধ নিতে রাজনীতি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন? দেশ ও জাতির সেবার মহত্তর কোনো অভিপ্রায় কি তার ছিল না?

অর্থাৎ প্রশ্ন হচ্ছে : ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজন লোককে (অন্য সাতজন এখনো পলাতক) কি শেখ হাসিনা ফাঁসিতে ঝোলাবেন? বাংলাদেশে এর চেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে প্রায় প্রতিদিন কোনো না কোনো কারণে। আরো পাঁচজনের মৃত্যু কোনো বড় কথা নয় এখানে। এই ভাগ্যাহত দেশের মানুষের জীবন বলতে গেলে প্রতিনিয়ত বাঁচা-মরার সংগ্রাম। এত মৃত্যু তারা দেখেছে এবং প্রতিনিয়ত দেখছে যে সাধারণ মানুষের মনে তাতে কোনো স্খায়ী রেখাপাত হবে না।
সৌভাগ্যবশত হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতারা রায় দান উপলক্ষে উৎসব-উল্লাস না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং সে নির্দেশ বহুলাংশে মেনে চলা হয়েছে। রাশ টেনে ধরা না হলে আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা যে কী করতে পারে তা সবারই জানা আছে। কিন্তু কবে ফাঁসি হবে সেটা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা উদ্বেগের ব্যাপার। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতকে যুক্তরাষ্ট্রের অরাজক পশ্চিমাঞ্চলে ফাঁসি ছিল বীভৎস উৎসবের মতো। সার্কাস হতো, দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এসে স্টল খুলত। ফরাসি বিপ্লবের জঘন্যতম অধ্যায়ে গিলোটিনে একের পর এক অভিজাত লোকের ফাঁসি হতো আর শত শত মাতাল নানাভাবে অশ্লীল উল্লাস প্রকাশ করত। একবিংশ শতকে এবং স্বাধীন বাংলাদেশে কি তার পুনরাভিনয় হবে?

প্রাণদণ্ড যুগের অনুপযোগী
আদালত রায় দিয়েছেন­ সেটাই কি শেষ কথা? লোকগুলোকে ফাঁসিতে লটকানোর কোনো মাথার দিব্যি দিয়েছেন আদালত? ব্রিটেন ও পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলোসহ অধিকাংশ উন্নত ও সুসভ্য দেশে প্রাণদণ্ড রহিত করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বহু অঙ্গরাজ্যে এখন আর কারো প্রাণ নাশ করা হয় না, অন্যরাও প্রাণদণ্ড রহিত করার কথা বিবেচনা করছে। সভ্যসমাজে আজীবন কারাভোগই হচ্ছে সর্বোচ্চ শাস্তি। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বিধ্বস্ত হয়, ওয়াশিংটনে প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের একাংশ ধ্বংস হয়। মোট প্রায় তিন হাজার লোক মারা গিয়েছিল সে দিনের সন্ত্রাসে। সে সন্ত্রাসের প্রধান হোতা ছিলেন খালেদ শেখ মোহাম্মদ। প্রেসিডেন্ট ওবামা স্খির করেছেন, তার বিচার হবে গুয়ানতানামোয় নয়, নিউইয়র্কের আদালতে। কিন্তু তিনি বলেছেন, খালেদ শেখ মোহাম্মদকে প্রাণদণ্ড দেয়া হলেও তিনি চান না যে সে দণ্ড কার্যকর করা হোক। মহত্ত্ব না থাকলে মহান নেতা হওয়া যায় না। উর্দু প্রবচন অনুযায়ী ‘বড়োকা দিল ভি বড়া হোতা হায়’­ বড় হতে হলে হৃদয়ও বড় হতে হয়

মুজিবের ঘাতকদের ফাঁসিতে প্রাণ নাশ করা হলে বাড়তি লাভ কিছুই হবে না; তাদের বিচার হয়েছে, আদালত তাদের দোষীসাব্যস্ত করেছে, দণ্ড দিয়েছে, সেটাই যথেষ্ট হওয়া উচিত। তাদের ফাঁসি দিলে কোনো কোনো মহল অবশ্যই ক্রুদ্ধ হবে, দেশের পুঞ্জীভূত হিংসার বিষ তাতে বেড়ে যাবে। সমঝোতার পরিবেশ নষ্ট হবে। সংবিধানে প্রাণদণ্ড মওকুফ করার এখতিয়ার রাষ্ট্রপতিকে দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান মুজিব হত্যার দায়ে দণ্ডিতদের বেলায় সে এখতিয়ার ব্যবহার করলে দেশে শান্তি ও সমঝোতা স্খাপনে কিছু সহায়তা হবে। তা ছাড়া নজিরবিহীনভাবে আওয়ামী লীগের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য সাজেদা চৌধুরীর পুত্রের ১৮ বছরের কারাদণ্ড এবং এক কোটি ৬০ লাখ টাকার জরিমানা মওকুফ করে তিনি যে অপবাদ ও অপযশ অর্জন করেছেন সেটাও কিছু পরিমাণে লাঘব হবে

এটা শান্তির পথ নয়
শেখ হাসিনা এবং তার দলের অন্যান্য নেতা এতকাল বলে আসছিলেন যে মুজিব হত্যার বিচার সম্পন্ন হলে দেশে শান্তি আসবে, আইনশৃঙ্খলা ফিরে আসবে। আলামত দেখে কিন্তু সেটা মনে হচ্ছে না। গত বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম কথায় কথায় আগুন ঝরিয়েছেন। আরো কোন কোন বিচার করা হবে তার একটা দীর্ঘ ফিরিস্তি দিয়েছেন তিনি। কারোই বুঝতে অসুবিধা হবে না যে সিরিজ বিচারের নামে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কুৎসা রটনা, তাদের দিকে কাদা ছোড়াই হচ্ছে আসল উদ্দেশ্য এবং আরো একবার স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া এবং বিরোধী দলের নেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কটুকাটব্য করেছেন, কুৎসা রটনা করেছেন আশরাফুল ইসলাম। দেশে শান্তি স্খাপন কিংবা আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার এটা পথ নয়। এ পথ হিংসার ও প্রতিশোধের পথ। বাড়াবাড়ি করা হলে এ পথে গৃহযুদ্ধও আসতে পারে। তেমন অবস্খায় বাংলাদেশকে গিলে খাওয়ার জন্য একটা বিদেশী হাঙ্গর ইতোমধ্যেই হাঁ করে আছে।
লেখক : বিবিসি বাংলা বিভাগের খ্যাতিমান সাংবাদিক
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ ভোর ৪:৩৪
৩৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×