কখনো কখনো কোন কারন ছাড়াই কেন যেন জীবনটা বড্ড একঘেয়ে, ছন্দহীন হয়ে উঠে। নির্বিকার চোখে সব দেখে যাওয়া, কোন প্রতিক্রিয়া বা অনুভূতি নেই।
ধূলো জমছিল ফুলদানীর ফুলগুলোতে, টেবিলে, প্রতিটি আসবাবের ওপর। যেন নাম লেখা যাবে। ঘরের এ কোণা ও কোণায় জমে উঠা মাকড়সার জাল জড়িয়ে ধরে আষ্টে পৃষ্ঠে, অদ্ভুত বিষন্নতায়। আমি অলস চোখে দেখে যাই। ডুবে যেতে যেতে হারিয়ে যেতে বসেও কোন বিকার হয় না। শুধু হঠাত হঠাত যেন বুকের গভীর থেকে উঠে আসে একটা দীর্ঘশ্বাস।
কতদিন যে কেটে যায় এভাবেই। প্রতিটা কাজেই শুধু একঘেয়ে অলসতা।
তারপর এক ছুটির সকালে ঘুম ভাঙল অদ্ভুত মায়াময় এক গানের সুরে। একটা ভিক্ষুক, প্রতি শুক্রবারে আসে। অদ্ভুত সুরে গান গেয়ে গেয়ে হেঁটে বেড়ায় এ রাস্তা থেকে ও রাস্তায়। সুরটা একবার কাছে একবার দূরে সরে সরে যায়। গভীর ঘুম থেকে ভেসে উঠি আমি। মনের ভিতর আশ্চর্য কোমল একটা অনুভূতি। ঘরের ভেতর আটপৌরে জীবনের টুকটাক শব্দ, বাইরে দূরন্ত ছেলের দলের উল্লাস। জীবন হাতছানি দিয়ে ডাকে। জেগে উঠি আমি। গা ঝাড়া দিয়ে উঠি। চোখ মেলে তাকাই আমার ঘরের দিকে। নিপূণ হাতে ঝকঝকে তকতকে করে তুলি। তারপর মুগ্ধ হয়ে দেখি। হঠাত কেন যেন মনে হয়, জীবন বোধহয় অতটা খারাপ নয়, যতটা ভাবি।
দুপুরে গোসল শেষে সারা শরীরে কোমল ঠান্ডা আবেশ জড়িয়ে বের হয়ে আসি। চুল মুছতে মুছতে রোদে ধোয়া মেঘ মেঘ ছায়া ছায়া আকাশটা দেখি। কোত্থেকে বারান্দায় উড়ে এসে বসে ছটফটে একটা দোয়েল। লেজ উঁচিয়ে ডাকে 'চিড়িক, চিড়িক'। সঙ্গীটাও তখন চলে আসে ঝটপট। তারপর দুটিতে মিলে কত হুটোপুটি খেলা আর খুনসুটি! দেখে দেখে চোখে আবেশ জড়ায়।
পর পর অপ্রত্যাশিতভাবে পাওয়া খুব আকাংখিত খবরগুলো মনের ভিতর নাড়াচাড়া করে। নতুনের প্রতি সবসময়ই আমার বড় অনীহা। 'কি হবে, কি হবে' ভেবে অজানা একটা ভয়। কিন্তু এই প্রথম নতুনকে সাদরে বরণ করে নিতে আমি ভিতরে ভিতরে উদ্গ্রীব। 'কি হবে' জানি না, কিন্তু অপেক্ষা করতে ভাল লাগে।
রাতের আকাশে খসে পড়া তারা দেখে চোখ বুজে চাওয়া কোন ইচ্ছে হঠাত পূরণ হওয়ার মত অথবা কোন এক মেঘলা বিকেলে ঝাপ ধরে আকাশটা আচমকাই আলো হয়ে উঠার মত ভীষণ ভীষণ একটা ভাল লাগা নিয়ে আমি নতুনের পথ চেয়ে থাকি।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১১:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




