somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিকার যখন অপরাধ

২৮ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে হারপার লি নামের লেখিকা 'To kill a Mockingbird' লিখেছেন, কিন্তু বইটা পড়ার সময় মনে হলো এইতো সেদিনের ঘটনা। গল্প বলা হয়েছে স্কাউটের পক্ষ থেকে - যে মেয়ের বয়স বইয়ের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পাঁচ থেকে আটে পড়ে। চঞ্চল মেয়েটি তার মনের সব দুয়ার খুলে দেয় পাঠকের কাছে। জামা পরতে তার মোটেই ভালো লাগে না, ওভারঅলেই চলে। স্কুলের টিচারকেও তার ভালো লাগে না, কারন তিনি তাকে বই পড়তে নিষেধ করেছে, যদিও তার পড়তে খুবই ভালো লাগে।
স্কাউটের বড় ভাই ওর থেকে চার বছরের বড়, নাম - জেম। দু'জনকেই বড় করেছেন তাদের বাবা - মোটা ফ্রেমের চশমাধারী লইয়্যার এ্যটিকাস ফিঞ্চ। আশেপাশের সবার কাছে সম্মানিত লোকটা নিজের নীতিবিরোধী কাজ কখনই করেননা। এর কারন জিজ্ঞাসা করা হলে বলেন - এমন না করলে, ছেলে ও মেয়ের কাছে মুখ দেখাবেন কেমন করে? স্কাউট ও জেম দু'জনই মনে করে তাদের বাবা কিছুই পারে না, যেমন ফুটবল খেলা। কিন্তু ওদের ভুল ভেঙে যায় যখন সবার সামনে এ্যটিকাস একটা পাগলা কুকুরকে এক গুলিতেই মেরে ফেলে। তখন যে তিনি ওদের ও বাকি সবার বীরেশ্বর!

জেমের খুব ইচ্ছে একটা বন্দুক কিনবে, অনেক সাধনার পর বাবার কাছে থেকে পেলোও একটা। তবে সেটা দেওয়ার আগে মি: ফিঞ্চ বলে নিলো: Shoot all the bluejays you want, if you can hit 'em, but remember it's a sin to kill a mockingbird. স্কাউটের মনে প্রশ্ন এলো, কেন এ কথা বললো তার বাবা? তাকে বলা হয়, মকিংবার্ড কারও ক্ষতি করে না, অকারনে পাখিগুলোকে নিশ্চয় মারা উচিৎ না। (বইটা পড়ার সময় ব্লু'জে কাকে বলে বুঝি নি, তবে উইকি অনুযায়ী এ পাখি কাকের মতো ও 'aggressive and omnivorous'।) এ কথা দিয়েই হয়তো তিনি ছেলের মধ্যে নিজের নীতিবোধের একটুখানি ঢোকাতে চেয়েছিলেন। পরের ঘটনাগুলো প্রমান করে এ 'সিন' কে তিনি কতো গুরুত্বের সাথে এড়িয়ে চলতেন।

এ্যটিকাস তার ছেলে মেয়ে নিয়ে থাকে মেকম্ব শহরে, ১৯৩০ সালের আমেরিকার ছোট্ট একটা শহর। তখনকার দিনের নিয়ম অনুযায়ী সেখানে সাদা ও কালোদের মধ্যে ভেদাভেদ ছিলোই। এমনই এক সময়, টম রবিনসন নামক এক নিগ্রোর বিরুদ্ধে সাদা বাপের মেয়ে মেয়লা ইউলকে ধর্ষন করার মিথ্যে অভিযোগ এসেছে। তাদের শহরের মতো জায়গায় কেউ কারও অচেনা নয়। সবাই জানে ইউলেরা অসৎ পথে চলে, কিন্তু কারও এ অবিচারের বিরুদ্ধে কিছু বলার সাহস নেই, একজন ছাড়া। রবিনসনকে ডিফেন্ড করার দায়ীত্ব পড়লো এ্যটিকাস ফিঞ্চের ঘাড়ে।

তিনি সমাজের আসল মকিংবার্ডকে বাঁচানোর চেষ্টা শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত চালিয়ে গেলেন। স্কাউটের কথায় এতো বড় ব্যাপারটা খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন লেখক, যদিও মাঝে মাঝে তার দেখার চোখ তার বয়স পাড় করে ফেলে। বেশিরভাগ সময়েই ছোটবেলার 'আমি' কে খুঁজে পেয়েছি তার মাঝে। পুলিৎসার প্রাইজপ্রাপ্ত বইটি বের হওয়ার দু'বছরের মাথায় রবার্ট মালিগান এর মুভি করে ফেলেছে। তিনশ' পৃষ্ঠাকে দু'ঘন্টা দশ মিনিটে কিছুতেই আঁটানো সম্ভব না, তাই অর্ধেকই ছিঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। স্কাউটের ফুপু আলেক্সেন্ডরাকে পুরোপুরি বাদ দিয়েছে! পাশের বাড়ি এক বছরের বড় ডিলের সাথে ওর অতি কিউট সম্পর্কের ছিটে ফোটাও নেই। কোর্ট কেসের কথাবার্তা থেকে শুরু করে জেম ও স্কাউটের মানুষ নিয়ে গবেষনা সব হাওয়া। অথচ এ জিনিসগুলোই চরিত্রগুলোকে মানুষ বানিয়েছে।

এ ধরনের ছোটখাট অমার্জনীয় অপরাধকে ক্ষমা করে দিলে ১৯৬২'র সিনেমাটাকে অত খারাপ লাগে না। ওদের কথা বলার টান থেকে শুরু করে সবার চেহারার মাঝে অদ্ভুত মিল দেখে মজা লাগে। ক্যামেরার টেকনিকগুলোও বেশ সুন্দর। দশ বছরের মেরি ব্যাডহ্যামের করা স্কাউটের অভিনয় চমৎকার, যেভাবে ভেবেছিলাম, ঠিক সেরকম! গ্রেগোরি পেকও এ্যটিকাসের মতই ছিলো। বাকি চরিত্রগুলোর ব্যাপারেও একই কথা মনে হয়েছে।

আজকালকার চিত্তরঞ্জনের জন্য হলিউড-বলিউড বাদ দিয়ে উপর্যুক্ত বইটি পড়া ও মুভিটি দেখা অতি উত্তম উপায়। এইতো, এভাবেই তো কেটে গেলো সারা ছুটি!
১৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×