রবিবার সকালে নিপিয়ান নদীর পাশে মেঘ দেখতে গিয়েছিলাম। সবুজ ঘাসের পাহাড় বেয়ে নামতে ও উঠতে যত কষ্ট লাগুক, সচ্ছ পানিতে মেঘের পাশাপাশি গাছপালা এতো সুন্দর লাগে, যে ঐ কষ্টটা ঠিকই ভুলে থাকা যায়।
তার পরের দিনই আরও আশ্চর্যরকমের সৌন্দর্য্য দেখার সুযোগ এলো। সী ক্লিফ ব্রিজ থেকে একটু দূরে পাহাড়ের মাথায় গাড়ি থামানো হলো। উদ্দেশ্য ছিলো আকাশের সাথে সাগরের মিলন স্থান দেখার। বের হয়ে দেখলাম... কিছু দেখলাম না। একটু পরে বোঝা গেলো আমরা পাঁচজন মেঘের মাঝে দাঁড়িয়ে আছি! ধোঁয়াটে বস্তুটা আমাদের ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে, কিন্তু ভিজিয়ে দিচ্ছে না। মুগ্ধ হয়ে দেখলাম পায়ের বেশ নিচে সাগরের ওপর এক টুকরো মেঘ ঘোরাঘুরি করছে। এতো ভালো লাগছিলো তখন!
স্যান্ডেল খুলে অযত্নের ঘাসগুলো মাড়িয়ে একটু নিচে নামলাম। ততক্ষনে আমার মুখ ও ঠোঁট দুটোই গোলাকার ধারন করেছে - ও এর মতন। সাগরের কাছে উপত্যকায় ছোট্ট বাড়ি। বাড়ির আশেপাশে হালকা হলুদ বালি। ও-মুখ নিয়েই ধপ করে বসে পড়লাম ও পাশ থেকে অন্যমনষ্কভাবে ঘাসফুল ছিঁড়লাম। প্রেমে পড়লে মানুষ কেন কবিতা লেখে তা বুঝেছি।
বেসুরে গলায় আমি:
ঘাসফুল,
কে বললো তুমি একা?
আকাশে দেখো ঐ মেঘের রেখা,
তোমরা তো হতে পারো বন্ধু।
ঘাসফুল,
তুমি হবে কি মেঘের সখা?
এর পরের লাইনগুলোতে ঘাসফুল বলবে, মেঘ তো উড়ে চলে যাচ্ছে এখুনি। চলে গেলে আমার কি হবে? তখন আমি বলবো, তুমিও তো মরে যাবে। তখন মেঘের কি হবে? তারপর ব্যাপারটা বেশ জটিল হয়ে গেলো তাই গান গাওয়া বন্ধ করে উঠে পড়লাম। গাইতে গাইতে গান বানানো খুব মজা, কেও না শুনলেই হলো।
সেদিন রাতে প্রচন্ড মাথা ব্যাথা নিয়ে বিছানা।
পরদিন আরেকটা আশ্চর্য্যজনক কান্ড ঘটলো। স্কুল থেকে আসার পর আমাকে বলা হলো আমার জন্য 'গন্দম' পাঠানো হয়েছে। চিক-ফ্লিকের ব্লন্ড মেয়েদের মতো দু'মিনিট আ-আ-আ-ও-মাহ-গড করলাম। দু'দিন পর ইকোনমিকস পরীক্ষা, তো? রাতে পড়তে পড়তে ঘুমালাম ও সকালে পড়তে পড়তে উঠলাম। বারো ঘন্টায় নাওয়া-খাওয়া ও বাকি সবকিছুর পাশাপাশি বই শেষ, শুধু পড়াশুনাটাই হলো না (বই শেষ করে আবারও আ-আ)। আবারও বৃহস্পতির বলয় ঘুরতে ঘুরতে শ্রান্তক্লান্ত হয়ে রাত আটটার মধ্যে চোখের পাতা এক হয়ে গেলো। এলার্ম দিলাম রাত দু'টোয় বাজার জন্য।
ঘুম চোখে এলার্ম বন্ধ করে এক কাপ কফি বানিয়ে পড়তে বসলাম। এর নাম হচ্ছে ক্র্যা-এ্যা-এ্যা-মিং। আগে থেকে না কে শেষ মূহুর্তে জোর করে মাথায় ঢোকানো। এই পদ্ধতি আমাকে এস. সি. পার করিয়েছে, কিন্তু আর বেশিদিন পার করাতে পারবে না।
পরীক্ষার বাকি ছিলো সাত ঘন্টারও কম। এমন সময়েও পড়তে পড়তে, পড়তে ইচ্ছা করছিলো না। কি সমস্যা! গান শুনি, আঁকি, ছুটির প্ল্যান করি, কিন্তু পড়াটা আর হয় না। এর মধ্যে একটা কবিতাও লিখে ফেলেছি।
আমি একটা আস্ত গাধা
পড়াশুনা করতে বাঁধা
দেয় আমার এই শুকনো মনটা
আছে মাত্র কয়েক ঘন্টা
আজকে Eco র বাজবে বারো
সমস্যা তো নেই যে কারোও
বোঝা বাড়বে নিজের ঘাড়েই
বাজনা হবে ছেঁড়া তারেই
বাজনা, কিসের বাজনা বললা?
দুঃখের সুরের মন-বেহালা।
ঢুকছে ভয় হার্টের ফাঁকে
প্যানিক এটাক কাছে ডাকে।
ভালো হবে এবার গেলে
বিরক্তিকর ভাবনা ফেলে।
(২৮/০৩/০৮, অনেক-গভীর-রাত ৩.২০ থেকে অনেক-গভীর-রাত ৩.২৯)
যাহা হউক, আবারও তিনি আমাকে উদ্ধার করলেন। খাতা ফেরত দেওয়া হয়নি, কিন্তু অত বেশি খারাপ হয় নি মনে হচ্ছে।
কাল-পরশু? সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা বাসা দেখি নি।
বুধবার কেমিস্ট্রি ও বৃহস্পতিবার ফিজিক্স পরীক্ষা। রসায়নের রস আর ভাল্লাগে না বাবা! আরও কিছুদিন ক্র্যামিং করলে মাথা জ্যাম হয়ে যাবে।
ওহ ইদানিং আমার মেঘ অসম্ভব রকমের ভালো লাগে। বন্ধুদের সাথে হাটতে হাটতে হঠাৎ করে থেমে বলি, 'মেঘগুলো কি সুন্দর!!' ওরা মাথা নাড়ে।
ছবি: ঐ প্রিয় মেঘগুলো। (আমার নাকি আপুনির তোলা ভুলে গেছি, খুব সম্ভবত: আমার

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


