somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লাভ-ক্ষতি

২২ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকদিন পর পর ব্লগ লেখার মজা হচ্ছে, লেখার বিষয়ের জন্য মগজ হাতড়ে (বানান ভুল হলো কিনা সেটা দেখার জন্য পাঁচ মিনিটের মতো সময় নষ্ট করলাম। এখনও বুঝতে পারছি না।) অনেক কিছু পাওয়া যায়। তবে ভাবনাগুলো গোছাতে গিয়ে কি ভাবছিলাম সেটাই ভুলে যাচ্ছি। তাই আবারও এলোমেলো লেইম কথাবার্তা বের হলে ক্ষমা চাচ্ছি।

এখন আকশাতার সাথে কথা বলছি। লেটেস্ট আপডেট: জেসন আরেকজনের সাথেও প্রেম করছিলো। আকশাতা জেনে ফেলেছে। ভালোবাসা টালোবাসা সব মিথ্যা, ছেলেটা একটা লুজার - এ দু'টো তথ্য বার বার জানিয়ে দিচ্ছে আমাকে। আপাতত সে আমাকে জেসন হিসেবে অভিনয় করতে বলছে ও ঝাড়ি দিচ্ছে। আমার কথা শুনছে না। আমি প্রথমেই বলেছিলাম নিজের অনুভুতিগুলো নিজের কাছে রাখতে। তারপর যখন সে সন্দেহ করা শুরু করলো, তখন বলেছিলাম জে'র সাথে একা একা কথা বলা একদম বন্ধ করে দিতে, আবার দুর্বল হয়ে যাওয়ার বদলে। সেটাও শুনলো না! এখন বুঝো ঠ্যালা!

আজকালকার ছেলে মেয়েরা সমস্যায় পড়েও উঠে আসতে চায় না। হয়তোবা-ভালোবাসার পেছনে ছুটতে গিয়ে জীবন থেকে অনেকগুলো মুহূর্ত নষ্ট করে সেগুলো ঠিক করতে চায় না। ভালোবাসতে হলে জানতে হয়। You don't fall in love, you grow in love. -- (একজন বুদ্ধিমান, ভালো মানুষের থেকে চুরি করা)

সেই বুদ্ধিমান ভালো মানুষটা আরও অনেক সত্যি কথা বলেছে, যা শোনার পর আমার মনে হয়, এগুলো আগে মাথায় আসেনি কেন? গত শনি-রবিবার একটা কোর্সে যাওয়ার ফল। ওটাতে যাওয়ার পর নিজেকে খুব ছোট লাগে। বিশাল পৃথিবীতে, তারচেয়েও বিশাল মহাকাশ ও তারচেয়ে অনেক, অনেক অনেক বিশাল সৃষ্টিকর্তার আমাকে দরকার নেই। তবুও সৃষ্টিকর্তা দয়া করে ক্ষুদ্র আমাকে এতোকিছু করার সুযোগ দিচ্ছে। কয়েকদিন আগে গালে হাত দিয়ে টিভি দেখছিলাম। গলার কাছাকাছি হাত লেগে যেতে চমকে উঠলাম। মুষ্ঠির সমান হৃদপিন্ডটা টিক টিক করছে। এ যন্ত্রটা আপাতত বাঁচিয়ে রেখেছে, কিন্তু আর ক'দিন রাখবে? যে কোন সময় থেমে যেতে পারে। অনেকের জন্য যায়ও। কথা বলতে বলতে, হাসতে হাসতে, খেতে গিয়ে যেখানে মরে যাচ্ছে মানুষ, অন্ধভাবে আমি সেখানে ভবিষ্যতকে নিয়ে নিশ্চিত থাকি।

অনেকগুলো ভাষা শিখতে ইচ্ছা করে। পৃথিবী ঘুরতে ইচ্ছা করে। পৃথিবী ঘুরে মানুষের কথা বুঝতে ইচ্ছা করে। ঐ অসাধারন বইটা ভালোভাবে, পরিমান মতো ভালোবাসা ও সম্মান দিয়ে পড়তে ইচ্ছা করে। তারপর, শেষ নিঃশ্বাস ফেলে নতুন জীবন অসাধারন ভাবে শুরু করতে ইচ্ছা করে। মাঝে মাঝে খুব উৎসাহ নিয়ে ইচ্ছাগুলোর পেছন পেছন দৌড়াই। ইচ্ছাপুরণকারীকে খুব, খুব জিজ্ঞাসা করি সেগুলো সত্যি বানিয়ে ফেলতে। তবে দু'দিন পর হাঁপিয়ে উঠে থেমে যাই। নিজেকে নিয়ে খুব কষ্ট হয় তখন।

আমার অনুভুতিগুলো খুব গাঢ় হয় মাঝে মাঝে। আজকাল ইংলিশ ক্লাসগুলো খুব ঘৃনা করছি, যদিও গত বছর ইংলিশই আমার সবচেয়ে প্রিয় ছিলো। এর কারন হচ্ছে, গত বছর আমার অসম্ভব ভালো একটা টিচার ছিলো, যে আমাকে ইংলিশ নিয়ে স্বপ্ন দেখাতে পারতো। জীবনের ফিলোসফিতে অনেকগুলো ছোট ছোট জানালা খুলে দিয়েছিলো। আর এ বছর আমাকে দু'টো টিচার ইংলিশ এক্সটেনশন করতে মানা করেছে। ক্লাসে গেলেই নিজেকে অনীপ্সিত (এ শব্দটা নতুন শিখেছি!) লাগে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমি ম্যাথস এক্সটেনশন ট্ব নিচ্ছি। তার মানে আগামী বছরের দুই তৃতীয়াংশ সময় অংক করে কাটাতে হবে। অথচ গত বছর অংক একদম পছন্দ করতাম না, টিচার বাজে ছিলো, তাই। এক একজন মানুষ আমার জীবনে আসে, আর এক একটা বিরাট ছাপ ফেলে যায়।

ভালোবাসা জিনিষটা বড়ই অদ্ভুত! অনেকে বলে ভেবে চিন্তে ভালোবাসা আসে না, প্রথম দেখায় হয়ে যায়। তাদের জন্য মায়া হয়। তারাই সারা জীবন সখিদের জিজ্ঞাসা করে বেড়ায় ভালোবাসা কারে কয়। তারপর ব্যর্থ হয়ে ভেবে বসে সেটা কেবলই যাতনাময়।

You grow in love!
৮টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×