কালকে খুব 'ঈদ ঈদ' লাগছিলো। অনেকদিন 'ঈদ ঈদ' লাগেনি।
ছোটবেলায় মহা উৎসাহে চাঁদ দেখতে বের হওয়া, হাতে মেহেদী দেওয়া, নতুন জামার গন্ধ শুঁকে পরের দিনের স্বপ্ন দেখা - এ ব্যাপারগুলো ঈদের আগের দিন থেকেই হৃদপিন্ডের ধাম ধাম শুরু করে দিতো। আমি যেহেতু ছোট, বাসার কাজ কিছুই করতে হতো না। ' ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে সকলের ভালোবাসাবাসি আহা ভালোবাসাবাসি' টাইপের গান শুনতে শুনতে অস্থির হয়ে হাটাহাটি করতাম - কখন যে 'কালকে' শুরু হবে! ঈদের দিন বাবা আর ভাইয়্যূন নামাজ থেকে আসলেই পাড়া বেড়াতে বের হতাম। মাঝে মাঝে বাসায় এসে টেবিল থেকে যা ইচ্ছে তাই খেতাম। তারপর ঘন্টার পর ঘন্টা বকা না খেয়ে টিভি দেখতাম।
পরশুদিন আমাদের আশেপাশের কিছু মেয়েরা 'হেনা পার্টি' করেছে - সবাই এখানে সেখানে বসে গান শুনতে শুনতে মেহেদী দিলাম। সুম যেই গানগুলো ছেড়েছিলো, সেগুলো আগে কখনও শুনিনি। সবচেয়ে ভালো লেগেছে 'সংস অফ ইনোসেন্স' - একটা ঘুম পাড়ানির গান।
And I gaze at you in wonderment
How your heart is filled with innocence.
You'll never know the joy you bring to me
How your touch and smile dispel my every grief
May you never lose your innocence
With life's bittersweet experience
And when the time comes, remember this:
Wisdom is the refinding of innocence.
আমার বাম হাতে বই দেখে খুব সুন্দর করে মেহেদী দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর ডান হাতে তের বছরের সুম-এর এক্সপেরিমেন্ট। এখন ডান হাত ধোওয়ার প্রতিটা সুযোগ লুফে নিচ্ছি।
তারপর বাসায় এসে রাতে শোয়ার আগ পর্যন্ত ঘর গোছালাম। ঈদের জামাটা যদিও ঠিক করা ছিলো, তবুও একশবার করে দেখলাম সেটা এখনও পাঁচ মিনিট আগের জায়গায়ই আছে নাকি। ছোটবেলায় লাল রংটা ভীষন বাজে লাগতো, কিন্তু মার কাছে লাল সবসময়েই ভালো লাগে। একদিন হঠাৎ করে খেয়াল করলাম আমিও লাল পছন্দ করা শুরু করেছি। এটা নাকি বুড়ো হওয়ার লক্ষন! যেটাই হোক, ঈদের কাপড় ছিলো লাল আর কালো। অনেকদিন পর লাল কাঁচের চুড়ি পরার সুযোগ হলো! এবার হিজাবটা আমি একটু ভিন্ন ভাবে পরেছি। কানের দুল পরেও গলা ও চুল যে ঢাকা যায়, ও আবায়ার মধ্যেও যে একটা শাড়ি-শাড়ি-ভাব তৈরী করা যায়, এটা আবিষ্কার করে নিজের উপর বেশ খুশি ছিলাম।
ঈদের দিন বাবার ডাকে সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই দেখি অরার এসএমএস, সকাল চারটায় পাঠানো - Assalamu Alaikum beautiful, eid mubarak. May Allah bless and guide you and give you a sweet eid. with love and salam. Xoxo.
মনটা আরও ভালো হয়ে গেলো।
এরপর তাড়াহুড়ো করে গোসল করা, ফজর পড়া, রেডি হওয়া, খাওয়ার টেবিলে এসে বসা, খেজুর খাওয়া, অন্য খাবার খাওয়া, বের হওয়া, আবার কিছু ভুলে গিয়ে ভেতরে এসে নেওয়া, গাড়িতে বসা হলো। এবার অন্য একটা মাঠে নামাজ পড়তে গিয়েছিলাম। মুসল্লিদের যখন চোখে পড়ে, তখনই ঈদের আমেজটা আর একটুখানি বেড়ে গেলো।
তারপর আবার পাঁচজন গাড়িতে উঠে ঘুরতে বের হলাম। অনেক খেয়ে, অনেক হেসে, অনেক কথা বলার পর বাসায় আসলাম দু'টোর দিকে। নামাজ পড়ে সবাই কাত। আমি অযু রাখার জন্য বসে বসে টিভি দেখলাম। আবার অযু করতে গেলে কাজল নষ্ট হয়ে যাবে তাই!
সারাদিন অনেকেই আমাদের বাসায় আসলো। এর মধ্যে আমার খুব আংটি পড়ার সখ হলো। মাকে গিয়ে বলাতেই মা একটা বাক্স বের করে দিলো। আমি দুটো নিলাম, মা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে দুটোই হীরের। আমার জিনিষ হারানোর স্বভাবের কথা সবারই জানা। কিন্তু চেয়েছি তাই না করতে পারেনি। কিন্তু ব্যাপার হলো, আমি জানতামও না যে ও দুটো হীরের, তবুও ভালো লেগেছে। আর আমার জন্ম মাস হচ্ছে হীরের মাস। এই জনই বলি আমার যে একটা হীরের আংটির সখ সেটা খুব অস্বাভাবিক না।
তারপর, তারপর, তারপর।
আমাদের বাসায় একটা বাবু আসলো। ওর আম্মুকে না দেখতে পেয়ে ও কান্না শুরু করলো। কিন্তু আমি ওকে নিয়ে চেয়ারে বসে ঘুরতে শুরু করার পর হঠাৎ করে কান্না থেমে গেলো। ও আমার দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো। তারপর আমার মালার পাথর নিয়ে মুখে দেওয়ার চেষ্টা করলো। বাবুটা অনেক্ষন আমার কোলে ছিলো। বাচ্চাদেরকে আমার এত্তো ভালো লাগে!
রাত এগারোটায় আমরা পাঁচজন আবার বের হলাম একটা আন্টির বাসায় যাওয়ার জন্য। আন্টিটা খুব ভালো রান্না করতে পারে। দিন শুরু করেছিলাম এরকম আরেকটা আন্টিকে দিয়ে। তাই সারাদিনে পেট ভরে টাম্বুশ হয়ে গেলো।
বি.দ্র: রাত সাড়ে বারোটায় ঘুমিয়ে সকালে দেড়ি করে উঠলাম, তাই আজকে আর স্কুলে যাওয়া হয়নি।
বি.বি.দ্র: আমি এখনও আংটিগুলো হারাইনি।
বি.বি.বি.দ্র: এক পায়ে নুপুর পরার চেয়ে দুই পায়ে নুপুর পরলে আরও অনেক বেশি ভালো লাগে।
বি.বি.বি.বি.দ্র: দিনটা এতো ভালো গেলো!
বি.বি.বি.বি.বি.দ্র: লেখাটা কেমন ছন্নছাড়া হয়ে গেলো?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


