আমাদের বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, আমরা মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও আমাদের আচার-আচরণ, চাল-চলন, উঠা-বসা, কথা-বার্তা ইত্যাদি
বিষয়ে শরীয়তের বিধি-নিষেধের চরম লঙ্ঘন হচ্ছে। এই সীমা লঙ্ঘনের ফলে আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবরিক, সামাজিক তথা একজন মুসলমানের জীবনের প্রতিটি স্তরে
অনুপ্রবেশ করেছে হারাম-বিদায়াত-বেশরা সংস্কৃতি আর আমাদের থেকে বিলুপ্ত হয়ে
গেছে আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনেক সুন্নত। এরকম একটি সুন্নত হচ্ছে ক্বাছিদা আবৃত্তি, ক্বাছিদা রচনা, ক্বাছিদা শ্রবণ করা
তথা সামা মাহফিল।
কেননা হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে- হযরত আয়িশা ছিদ্দিক্বা আলাইহাস সালাম-উনার থেকে বর্ণিত, উনি বলেন- আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম-উনি হযরত হাসসান বিন ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার জন্য মসজিদে নববী শরীফ-এ একটি মিম্বর শরীফ স্থাপন করেছিলেন। তিনি উক্ত মিম্বর শরীফ-এর উপর দাঁড়িয়ে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার পক্ষ হতে
গৌরবময় ক্বাছিদা অথবা কাফিরদেরকে ভৎসনা করে বিদ্রুপাত্মক ক্বাছিদা আবৃত্তি
করতেন। আর আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি বলতেন, নিশ্চয় আল্লাহ পাক হযরত হাসসান বিন ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম উনার দ্বারা সাহায্য করেন। যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার পক্ষ হতে গৌরবময় ক্বাছিদা
অথবা কাফিরদেরকে ভৎসনা করে বিদ্রুপাত্মক ক্বাছিদা আবৃত্তি করতে থাকেন। (বুখারী শরীফ, মিশকাত শরীফ)
এই হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, ক্বাছিদা আবৃত্তি, ক্বাছিদা রচনা, ক্বাছিদা শ্রবণ করা সবই সুন্নত-এর অন্তর্ভূক্ত। তাছাড়া আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি নিজেও ক্বাছিদা রচনা এবং ক্বাছিদা আবৃত্তি করেছেন। যেমন- হাদীছ শরীফ-এ এসেছে, হযরত জুনদুব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, কোন এক জিহাদে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার আঙ্গুল মুবারক রক্তাক্ত হয়েছিল। তখন তিনি এই ক্বাছিদা পাঠ করেছিলেন, ’হে অঙ্গুলী! তুমি অঙ্গুলী ছাড়া আর কিছু নও। তুমি রক্তাক্ত হয়েছো বটে, তবে যা কিছু হয়েছে তা আল্লাহ পাক উনার পথেই হয়েছে।’ (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)
অন্যদিকে আমাদের সমাজে প্রচলিত সর্বপ্রকার গান-বাজনা, বাদ্যযন্ত্র ইসলামে
সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নাজায়িয। যেমন হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে- হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- গান-বাজনা হারাম। এর স্বাদ গ্রহন করা কুফরী এবং এর মজলিশে বসা ফাসেকী ও গুণাহের কাজ।
হাদীছ শরীফ-এ বাদ্যযন্ত্র সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে- হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত- হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ফেরেশতারা ঐসব কাফেলার সঙ্গী হয় না, যার সাথে কুকুর অথবা ঘণ্টা থাকে।
(মুসলিম শরীফ)
হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে- হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত- হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ঘণ্টা শয়তানের বাদ্যযন্ত্রের অন্তর্ভূক্ত। (মুসলিম শরীফ)
হাদীছ শরীফ-এ ঘণ্টা সম্পর্কে আরো ইরশাদ হয়েছে- সর্বপ্রকার ঘণ্টার সাথে শয়তান থাকে। (আবু দাউদ, মিশকাত)
হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে- হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত- হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা মদ, জুয়া, তবলা ও সারেঙ্গী হারাম করেছেন। (আহমদ, আবু দাউদ)
হাদীছ শরীফ-এ অন্যত্র আরো ইরশাদ হয়েছে- হযরত আবু উমামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা
আনহু থেকে বর্ণিত- হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমার সেই মহান পরাক্রমশালী রব, বাদ্যযন্ত্র ধ্বংস করার জন্য আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। (আহমদ, মিশকাত)
হাদীছ শরীফ-এ অন্যত্র আরো ইরশাদ হয়েছে- হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেছেন, আমি বাদ্যযন্ত্র ও মূর্তিসমূহ ধ্বংস করার জন্য প্রেরিত হয়েছি।
তাহলে আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়া এই হারাম কাজটির মূলোৎপাটন করে ক্বাছিদা তথা সামা মাহফিল করা অতীব জরুরী। আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে সংশোধিত জীবন যাপনের তাওফিক দান করুণ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



