আমার প্রিয় পোস্ট

ভাস্কর্য বনাম মূর্তি: পাঠ ও পরিবেশনের রাজনৈতিক ব্যাকরণ

১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:২২

শেয়ারঃ
0 4 0

বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ ধার্মিক বলে একটা সরল সাধারণীকরণ বাজারে ব্যাপকভাবে প্রচলিত আছে। এ সাধারণীকরণটা আমার কাছে অতি সরল বলে মনে হয়। অন্তত নিজের পর্যবেক্ষণে। কিন্তু একই সাথে এটি সত্য যে, এখানকার মানুষদের মনোজগতে ঐতিহাসিকভাবে ধর্মের ব্যাপারে একটি সফট কর্ণার বর্তমান। অতীত থেকে আজ অবধি। মূলত: সাধারণ মানুষের ধর্মের ব্যাপারে বিরাজমান এ সফট কর্ণারটাই বারাবার সা¤প্রদাযিক রাজনীতির পুঁজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এর সর্বশেষ উদাহরণ বিমানবন্দর থেকে নির্মিয়মান লালন সহ বাউলদের ভাস্কর্য সরাবার ঘটনা এবং একে ঘিরে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক মোর্চাগুলোর কর্মকান্ড।

লালনের ভাস্কর্য সরাবার ঘটনাটিকে আপাত দৃষ্টিতে অনেকেই রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখতে নারাজ। পরিবর্তে তাঁরা এটিকে ধর্মান্ধতা হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। এ রকম দেখা-দেখির মধ্যেও একই সরল সমীকরণটি নিহিত। আমার মতে এটি সা¤প্রদায়িক রাজনৈতিক কর্মকান্ডেরই ধারাবাহিকতা। এখানে বলা দরকার যে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং অন্যান্য লোকজ ঐহিত্য ও সংস্কৃতির উপাদানগুলো নিয়ে মৌলবাদ ও সা¤প্রদায়িক শক্তির অবস্থান একেবারে সুস্পষ্ট। কিন্তু প্রকাশে তারা বেশ কৌশলী। বাংলাদেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে যতবেশি মুক্তিযুদ্ধ কেন্দ্রীক ও অসা¤প্রদায়িক লোকজ ধারার উপাদানগুলো থাকবে, চর্চা হবে তত বেশি মৌলবাদ ও সা¤প্রদায়িক রাজনীতি পিছিয়ে পড়বে এ বিষয়টি তারা খুব ভাল করে জ্ঞাত। ফলে যেকোন মূল্যে এ ধরনের শিল্প-সংস্কৃতির চর্চার প্রতিরোধে তারা বদ্ধপরিকর। কিন্ত এ সব বিষয়নিয়ে বিপরীত কর্মকান্ড পরিচালনার ধরন সব সময় এক নয়। এটি নির্ভর করে নির্দিষ্ট সমযের রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর।

মৌলবাদী ও সা¤প্রদায়িক শক্তি খুব ভাল করেই জানে লালনের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা এবং তার অসা¤প্রদায়িক অবস্থান। সুতরাং লালনের ভাস্কর্য মানেই হলো অসা¤প্রদায়িক চেতনারই লালন-পালন। অন্তত শিল্প-সংস্কৃতির দিক থেকে, যার একটি রাজনৈতিক ফলাবর্তনও রয়েছে এবং এ ফলাবর্তন থাকতে বাধ্য। মৌলবাদ ও সা¤প্রদায়িক শক্তির ভয়টা মূলত এখানেই। সুতরাং এ রাজনৈতিক ভয় থেকেই মূলত লালন ভাস্কর্যের সরিয়ে ফেলার আকাঙ্খা ও উদ্যোগ। এ উদ্যোগটা মৌলবাদ ও সা¤প্রদায়িক রাজনৈতিক শক্তি সচেতনভাবেই নিয়েছে। আর আগের মতোই সাধারণ জনগণের ধর্মের প্রতি বিদ্যমান সফট কর্ণারটাকে পুঁজি করে ধর্মটাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার নিমিত্তে এটিকে হাজিদের মূর্তি দর্শনের কল্পিত সম্ভাবনার সাথে যোগসূত্র স্থাপন করে পরিবেশন করা হয়েছে। ভাস্কর্যকে মূর্তি হিসেবে পরিবেশনের এ রাজনৈতিক ব্যককরণ ব্যবহার করে এর পেছনে ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, তৎপরতা এবং দলীয় পরিচিতিগুলো আড়ালে রাখার চেষ্টা চালানো অপেক্ষাকৃত সহজ। দ্বিতীয়ত জরুরি অবস্থার মধ্যদিয়েও এ ধরনের তৎপরতা ধর্মের মোড়কে পরিবেশিত ও চর্চিত হয় বলে পার পাওয়া যায় সহজে। ভাস্কর্যকে মূর্তি হিসেবে পরিবেশনের অন্তর্নিহিত অর্থ হচ্ছে এ সব ভাস্কর্য হিন্দু ধর্মের আচার-আচরণের অংশ। ইসলাম যেহেতু মূর্তি পূজার বিরুদ্ধে সেহেতু সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ নিজেরা ধর্ম চর্চা না করলেও নিজ ধর্মের প্রতি সফট কর্ণার থাকার সুবাধে বিষয়টিকে কোন মৌলবাদী রাজনৈতিক তৎপরতা হিসেবে দেখে না। দেখে মূর্তির বিরুদ্ধে জিহাদ হিসেবে। ফলে নিজেরা অংশ না নিলেও নিরবতার সংস্কৃতি অবলম্বন করে। এতে মৌলবাদী ও সা¤প্রদাযিক শক্তি জনগণের একটি বিরাট অংশকে নিজেদের পক্ষে নিতে না পারুক, অন্তত প্রতিবাদের পথ থেকে সরাতে সমর্থ হয়।
সুতরাং আমরা যারা এর বিপক্ষে অবস্থান করছি বা করতে চাই আমাদের সংবাদ পরিবেশনের এ মৌলবাদী রাজনীতিটাও তুলে ধরতে হবে। সাধারণের কাছে। তাদের অনুসৃত প্রক্রিয়াটা এত সহজ এবং ভয়াবহ যে তারা মসজিদ-মাদ্রাসা-মক্তব থেকে শুরু করে মৌলবাদী পত্র-পত্রিকা, প্রকাশনা এমনকি টিভি মিডিয়া পর্যন্ত ব্যবহার করে। সুতরাং এ প্রক্রিয়াটার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে না পারলে সা¤প্রদায়িকাতা ও মৌলবাদ কৌশলে বিকাশিত হতে থাকবে। তাতে বাউল-লালনদের সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা আরও বাড়বে। একটুও কমবে না। আগ্রহীদের জন্য আরেকটি লিংক

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): মৌলবাদসাম্প্রদায়িকতা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ামুক্তিযুদ্ধ  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:০৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:০৪
বিবর্তনবাদী বলেছেন: সাম্প্রতিক ভাস্কর্য সংক্রান্ত ঘটনাকে আমরা অনেকেই অনেক ভাবে ব্যাখ্যা করলাম। দেশে ভবিষ্যত, সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি, ইতিহাস সব কিছুই টানাটানি করলাম। হঠাৎ খানিক্ষণ আগে মাথায় একটা জিনিস খেলল।

মুজাহিদের মামলা এবং সাম্প্রতিক ভাস্কর্য সংক্রান্ত ঘটনা এই দুইয়ের সম্পর্ক থাকার সম্ভবনা কতটুকু? ভাস্কর্যকেন্দ্রি কাঠমোল্লাদের এই জিহাদী চেতনা কতটুকু লম্বা হয়, সেটা দেখলেই হয়ত সম্পর্কটা ধরা যেতে পারে।

আপনার কি মনে হয়?
১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:১৩

লেখক বলেছেন: প্রথমত সম্পর্কটা উড়িয়ে দেয়া যায় না। যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সারা দেশ মোটামুটি মনের দিক থেকে উজ্জীবিত তখন একই কায়দায় নারী উন্নয়ন নীতিকে কোরনা বিরুধী হিসেবে পরিবেশন করা হয়েছে। এবং মাঠ-ঘাট উত্তপ্ত করা হয়েছে। সরকারের ওপর যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ইসূটি নিয়ে ক্রমশ চাপ তৈরি হচ্ছিল ঠিক তখনই নারী উন্নয়ন নীতি নিয়ে একই কায়দায় মাঠে নেমেছিল। সুতরাং এ ধরনের প্রায়োগিক কৌশল তাদের বেশ রপ্ত। এবং সচারাচর ব্যবহার করেও।
আপনাকে ধন্যবাদ।

২. ১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:১৯
নুশেরা বলেছেন: "ভাস্কর্যকে মূর্তি হিসেবে পরিবেশনের এ রাজনৈতিক ব্যাকরণ ব্যবহার করে এর পেছনে ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, তৎপরতা এবং দলীয় পরিচিতিগুলো আড়ালে রাখার চেষ্টা চালানো অপেক্ষাকৃত সহজ। দ্বিতীয়ত জরুরি অবস্থার মধ্যদিয়েও এ ধরনের তৎপরতা ধর্মের মোড়কে পরিবেশিত ও চর্চিত হয় বলে পার পাওয়া যায় সহজে।"

যথার্থ বিশ্লেষণ।
১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:২৩

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ...............
চারিদিকে দমিয়ে দেয়ার যে আয়োজন চলছে তাতে মনটা ভীষণ খারাপ। ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করে আমাদের শাসনের একটি আয়োজন চলছে। এ আয়োজন সফল হলে শিল্প-সংস্কৃতি বলে আর কিছু থাকবে না।

৩. ১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:৩০
বিবর্তনবাদী বলেছেন: টপাটপ মাইনাস দিতেছে কারা?
২০ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৮:১৯

লেখক বলেছেন: ব্লগীয় রাজাকার জন্ম নিতে কোন বায়োলজিক্যাল প্রক্রিয়ার দরকার হয় না। একজন অনেক নিকে রাজাকারিতা করতে পারে। সুতরাং বুঝতে পারছেন???????????????

৪. ২০ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৮:২৮
১৯৭১ আমার চেতনা বলেছেন: মাইনাস।

মন্দিরের মূর্তি ছাড়া সকল মূর্তি ভেংগে ফেলা হোক।
২০ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৯:১৪

লেখক বলেছেন: আপনার আদর্শিক ও রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে আমি ব্যাখ্যাটি দিয়েছি। সুতরাং দেশের কোথাও মূতি নেই। ওগুলো মূর্তি হিসেবে স্থাপিত হয় নি। আমি আপনাকে বিনীত একটি প্রশ্ন করতে চাই। হজ্ব এর সময় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ কিংবা হাজরে আসওয়াদে চুমু খাওয়ার যে রিসুয়াল আছে তার সাথে আপনি কোন ধননের সাযুজ্য খুজে পান.........ওগুলোর কোন কোনটি ঐতিহাসিক ভাবে অভিযোজিত হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এ অভিযোজনের মধ্যে কোন অপরাধ দেখি না। শুধু আপনার জবাবের জন্য বিষয়টি উত্থাপন কররাম............।

৫. ২০ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৯:২৮
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: জিনিসটা নিয়ে নানান ব্যাখ্যা, নানান রাজনীতি চলছেই ... তবে একদম সরলীকৃত যে ব্যাখ্যাটা আমি গ্রহন করেছি সেটা হলো বাংলাদেশের এই মোল্লাশ্রেনীর হিন্দুবিদ্বেষ ... দেশের বিমানবন্দরের সামনে মূর্তিস্থাপন করে হিন্দুদের প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে -- এই বিদ্বেষ থেকেই এসবের উৎপত্তি ... এই সহজ সত্যটাকে আগে মেনে নেয়ার মতো প্রস্তুতি থাকতে হবে সাধারণ মুসলিমদের ... তা নাহলে "মূর্তি না ওটা ভাস্কর্য" বলে কোনভাবে যদি লালনের গাস্কর্যটিকে টিকিয়েও রাখা যেত, মূর্তিবিদ্বেষ (যেটা প্রকারান্তরে হিন্দুবিদ্বেষ), সেটাকে ঠিক আগের জায়গায়ই রেখে দেওয়া হতো

আপনাকে প্রশ্ন করতে পারি, এটা যদি আপনার সংজ্ঞামতে ভাস্কর্য না হয়ে মূর্তিই হতো (আমি যদিও ভাস্কর্য আর মূর্তির ব্যবধানের রেখাটা কোথায় বুঝছিনা), তাহলে কি মোল্লাদের আস্ফালনটা ন্যায়সঙ্গত হয়ে যেত বলে মনে করেন?
২০ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১০:১৮

লেখক বলেছেন: আপনার মতামতের জন্য ধন্যবাদ।
আপনার শেষ প্রশ্নটি দিয়েই শুরু করছি। না। কিছুতেই সেটা ন্যায় সঙ্গত হতো না। এবং আমি কিন্তু সেটি বলতেও চাইনি। হয়তো আমার পরিবেশনে কোথাও ঘাটতি রয়েছে। ওখানে মূর্তি হিসেবে কিছু বসানের কোন সুযোগই নেই। সে একই কারণে। যেটি আপনি বলেছেন। তথা কথিত হিন্দু আধিপত্য তৈরি করা হচ্ছে এ রকম ভাবনা ও ব্যাখ্যার জন্য। এ রকম ভাবনার উৎস সাম্প্রদায়িক শিক্ষা এবং সাম্প্রদায়িক সামাজিকায়ন প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত।
আপনি যে হিন্দু বিদ্বেষ এর কথা বলেছেন তাও শিক্ষা ও সামাজিকাযন প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত। এটি ঐতিহাসিকভাবে বর্তমান। এ উপাদানটির রাজনৈতিক ব্যবহারটাও হচ্ছে। যেটি আমি বলতে চেয়েছি। জনগণের মনে এ রকম একটি ভাবধারা তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে যে ভাস্কর্য স্থাপন করে হিন্দু আধিপত্য তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু তাদের অনেকেই জানে, বিশেষ করে যারা রাজনীতি সচেতন, এটি হিন্দু আধিপত্য নয়, এখানকার লোকজ সংস্কৃতির প্রমোশন। এ লোকজ সংস্কৃতিটটা ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি ও সামাজিকায়ন এর পক্ষে। এটি তাদের জন্য বেশি হুমকি। এ হুমকিটাকে ঠেকানোর জন্য তারা সব কিছুকেই মূর্তি হিসেবে পরিবেশন করছে। সংখ্যাগরিষ্ট মুসলিমদের হিন্দুদের বিরুদ্ধে দাড় করিয়ে দেবার জন্য। এতে তাদের মূল উদ্দেশ্যটাকে পর্দার আড়ালে রাখা সহজ হয় বলে।
বিজেপির কায়দায় আমিনী ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, আগামী নির্বাচন হবে মূর্তির পক্ষে-বিপক্ষে। এখানে আসলে মূর্তি বলে কিছু নেই। তার মানে হচ্ছে নির্বাচনটা ইসলাম ধর্মের সাথে অন্যান্য ধর্মের হবে। ভারতের নির্বাচনে বিজেপি যেমন বলেছিল, নির্বাচন হচ্ছে বাবরী মসজিদের জায়গায় মন্দির স্থাপন অথবা না স্থাপননের নির্বাচন।
আমি এ রাজনীতিটা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। শব্দ ব্যবহারেরও যে একটি সাম্প্রদায়িক রাজনীতি রয়েছে, এবং সেটিকেই ব্যবহার করা হচ্ছে অন্যান্য উপাদানের সাথে এখানে কাজ করছে। আর আপনি যে সমীকরণ এর কথা বলেছেন তাও সত্যি। সেটিও কাজ করছে। আসলে সম্ভাব্য গোষ্ঠীতে যে ভিন্ন ভিন্ন ভাবনা হতে পারে সে ভাবনা বিষয়ে তারা রাজনৈতিকভাবে সচেতন। এবং সচেতন বলে সবগুলোই এ সাম্প্রদায়িক শক্তির ব্যবহারের চেষ্টা করছে।
আপনার মতামতের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

৬. ২০ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১০:৩৫
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: আপনার প্রতিমন্তব্যটা পড়লাম, আপনার উপলব্ধিটা ভালো লাগলো।

সেটাই, মূল সমস্যাটা সামাজিক শিক্ষায় যে সাম্প্রদায়িকতার ছাপ রয়েছে সেখানে ... যেমন প্রশ্ন করা যেতে পারে, এই যে মোল্লাদের এই আস্ফালন, এটা কি নিজধর্মের প্রতি ভালোবাসার কারণে, নাকি অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষের কারণে ... এই বিশ্লেষণটাই সমস্যার মূল নির্ধারণ করবে বলে আমার বিশ্বাস

আর এই সামাজিক কুশিক্ষার যে রাজনৈতিক ব্যবহার, যেটা সম্ভবতঃ আপনার পোস্টের মূল বক্তব্য, তার সাথে আমি একমত।

শুধু যে জায়গাটায় আরো স্ট্রেইট-ফরোয়ার্ড দেখতে চাই সবাইকে, সেটা হলো,
"এটা ভাস্কর্যই হোক, মূর্তি হোক, তাতে কি আসে যায়? তোমাদের তো কেউ বাধ্য করছেনা যে এর উপাসনা করতে, তাতেই তো যথেষ্ট!!!"

এই এ্যাপ্রোচ নিয়ে না এগুলে এটা ভাস্কর্য না মূর্তি তা নিয়ে জামাতীরা ত্যানা প্যাঁচাবেই বলেই আমার মনে হয় ...

২০ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:৩৭

লেখক বলেছেন: Thanks..............
Again I am expecting your opinion regarding the issues described below

৭. ২০ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১২:৪০
মুনীর উদ্দীন শামীম বলেছেন: জ্বিনের বাদশা বলেছেন: "এটা ভাস্কর্যই হোক, মূর্তি হোক, তাতে কি আসে যায়? তোমাদের তো কেউ বাধ্য করছেনা যে এর উপাসনা করতে, তাতেই তো যথেষ্ট!!!"
.............................................................................................
আপনার মতামতের সাথে সর্ম্পর্ণ একমত। কিন্তু এটি যথেষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলাম ধর্মের দু'টি ভিন্ন ধারার বিকাশের কারণে। এটি সুফিবাদের সাথে সম্পর্কিত। এটি হয়তো এখানকার মূলধারা। কিন্তু অনেক দূর্বল। এ ধারাটি প্রবল হলে আপনার যে প্রত্যাশা সেটি সত্য হতে পারতো। অপর ধারাটি ইসলামের রাজনৈতিক ধারা। বিগত কয়েক দশকে এখানে যে রাজনীতির অন্ধকারাচ্ছন্ন মেরুকরণ হয়েছে, এবং চর্চা হচ্ছে তাতে রাজনৈতিক ইসলাম অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। এর জন্য সহায়ক প্রতিষ্ঠানও তৈরি হয়েছে। এর একটি শক্ত অর্থনীতিও দাঁড়িয়ে গেছে। সরাসরি রাজনৈতিক ইসলাম নিয়ে যারা কাজ করে তাদের সাথে মডারেট ইসলামের ধারক বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ যুক্ত হয়েছে। ক্ষমতাকেন্দ্রীক রাজনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবিদার দলটিও পিছিয়ে থাকে নেই। বরং কত বেশি ইসলামিক সেটি প্রমানের চেষ্টা করেছে। বিভিন্ন সময়। একই সাথে রাজনৈতি ইসলামের সাথে তারা আপোষও করেছে (যেমন শা'বিতে যখন হলের নাম করণ নিয়ে আন্দোলন হয় তখন রাজনৈতিক ইসলামের সাথেই তারা একমত পোষণ করেছে অথবা আপোষ করেছে)।
একটু আগে বলেছিলাম। রাজনৈতিক ইসলামের একটি অর্থনীতি এখাদে দাঁড়িয়ে গেছে। এটি প্রতিদিন রিইসভেস্ট হচ্ছে। মুনাফা তৈরি করছে। শিক্ষা ও মিডিয়ার প্রবল বাণিজ্যাকায়নের সুবাধে এ অর্থনীতিটা ব্যবহৃত হচ্ছে একটি সাম্প্রদায়িক মনোজগত তৈরির কাছে। খুব কৌশলে। সুতরাং ব্যাখ্যায় ধর্মটাই আগে আসছে। ধর্মটাই ব্যবহার হচ্ছে। এভাবে একটি ধর্মকে অন্য ধর্মের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেয়া হচ্ছে।মুক্তবাজার অর্থনীতির হাত ধরে প্রত্যাশা অনুযায়ী এখানে ইহজাগতিকতার বিকাশ হওয়ার কথা। সেটি হয়নি। কারণ পুঁজি তার বিকাশের স্বার্থে ধর্মটাকে বেশি ব্যবহার করেছে। ফলে এখানে ইহজাগতিকতার পরিবর্তে সাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক উপাদান অনেক বেশি বেড়েছে। এবং সেটি বাড়ানো হয়েছে রাজনৈতিক ফায়দার জন্য।
আপনাকে ধন্যবাদ।
৮. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১১:৪৯
নাসিমূল আহসান বলেছেন:
বাঙারির গালে একটা চমৎকার থাপ্পর দিল হুজুরেরা । আর আমাগোর রাষ্ট্র মৌলবাদিদের পিছেন যাইয়া থাপ্পরের শব্দ শুনিল আর বগল বাজাইলো।
২১ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১:০৩

লেখক বলেছেন: ভাল বলেছেন!!

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৮৩৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
লড়াই টা যখন মুক্তির.....,
চিন্তার মুক্তির,
বুদ্ধির মুক্তির,
শৃঙ্খল মুক্তির
এবং অবশ্যই সংখ্যাগরিষ্ঠ গণমানুষের........
তখন এ লড়াই
পৃথিবীর প্রাচীনতম লড়াই,...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ