somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভাস্কর্য বনাম মূর্তি: পাঠ ও পরিবেশনের রাজনৈতিক ব্যাকরণ

১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ ধার্মিক বলে একটা সরল সাধারণীকরণ বাজারে ব্যাপকভাবে প্রচলিত আছে। এ সাধারণীকরণটা আমার কাছে অতি সরল বলে মনে হয়। অন্তত নিজের পর্যবেক্ষণে। কিন্তু একই সাথে এটি সত্য যে, এখানকার মানুষদের মনোজগতে ঐতিহাসিকভাবে ধর্মের ব্যাপারে একটি সফট কর্ণার বর্তমান। অতীত থেকে আজ অবধি। মূলত: সাধারণ মানুষের ধর্মের ব্যাপারে বিরাজমান এ সফট কর্ণারটাই বারাবার সা¤প্রদাযিক রাজনীতির পুঁজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এর সর্বশেষ উদাহরণ বিমানবন্দর থেকে নির্মিয়মান লালন সহ বাউলদের ভাস্কর্য সরাবার ঘটনা এবং একে ঘিরে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক মোর্চাগুলোর কর্মকান্ড।

লালনের ভাস্কর্য সরাবার ঘটনাটিকে আপাত দৃষ্টিতে অনেকেই রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখতে নারাজ। পরিবর্তে তাঁরা এটিকে ধর্মান্ধতা হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। এ রকম দেখা-দেখির মধ্যেও একই সরল সমীকরণটি নিহিত। আমার মতে এটি সা¤প্রদায়িক রাজনৈতিক কর্মকান্ডেরই ধারাবাহিকতা। এখানে বলা দরকার যে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং অন্যান্য লোকজ ঐহিত্য ও সংস্কৃতির উপাদানগুলো নিয়ে মৌলবাদ ও সা¤প্রদায়িক শক্তির অবস্থান একেবারে সুস্পষ্ট। কিন্তু প্রকাশে তারা বেশ কৌশলী। বাংলাদেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে যতবেশি মুক্তিযুদ্ধ কেন্দ্রীক ও অসা¤প্রদায়িক লোকজ ধারার উপাদানগুলো থাকবে, চর্চা হবে তত বেশি মৌলবাদ ও সা¤প্রদায়িক রাজনীতি পিছিয়ে পড়বে এ বিষয়টি তারা খুব ভাল করে জ্ঞাত। ফলে যেকোন মূল্যে এ ধরনের শিল্প-সংস্কৃতির চর্চার প্রতিরোধে তারা বদ্ধপরিকর। কিন্ত এ সব বিষয়নিয়ে বিপরীত কর্মকান্ড পরিচালনার ধরন সব সময় এক নয়। এটি নির্ভর করে নির্দিষ্ট সমযের রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর।

মৌলবাদী ও সা¤প্রদায়িক শক্তি খুব ভাল করেই জানে লালনের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা এবং তার অসা¤প্রদায়িক অবস্থান। সুতরাং লালনের ভাস্কর্য মানেই হলো অসা¤প্রদায়িক চেতনারই লালন-পালন। অন্তত শিল্প-সংস্কৃতির দিক থেকে, যার একটি রাজনৈতিক ফলাবর্তনও রয়েছে এবং এ ফলাবর্তন থাকতে বাধ্য। মৌলবাদ ও সা¤প্রদায়িক শক্তির ভয়টা মূলত এখানেই। সুতরাং এ রাজনৈতিক ভয় থেকেই মূলত লালন ভাস্কর্যের সরিয়ে ফেলার আকাঙ্খা ও উদ্যোগ। এ উদ্যোগটা মৌলবাদ ও সা¤প্রদায়িক রাজনৈতিক শক্তি সচেতনভাবেই নিয়েছে। আর আগের মতোই সাধারণ জনগণের ধর্মের প্রতি বিদ্যমান সফট কর্ণারটাকে পুঁজি করে ধর্মটাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার নিমিত্তে এটিকে হাজিদের মূর্তি দর্শনের কল্পিত সম্ভাবনার সাথে যোগসূত্র স্থাপন করে পরিবেশন করা হয়েছে। ভাস্কর্যকে মূর্তি হিসেবে পরিবেশনের এ রাজনৈতিক ব্যককরণ ব্যবহার করে এর পেছনে ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, তৎপরতা এবং দলীয় পরিচিতিগুলো আড়ালে রাখার চেষ্টা চালানো অপেক্ষাকৃত সহজ। দ্বিতীয়ত জরুরি অবস্থার মধ্যদিয়েও এ ধরনের তৎপরতা ধর্মের মোড়কে পরিবেশিত ও চর্চিত হয় বলে পার পাওয়া যায় সহজে। ভাস্কর্যকে মূর্তি হিসেবে পরিবেশনের অন্তর্নিহিত অর্থ হচ্ছে এ সব ভাস্কর্য হিন্দু ধর্মের আচার-আচরণের অংশ। ইসলাম যেহেতু মূর্তি পূজার বিরুদ্ধে সেহেতু সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ নিজেরা ধর্ম চর্চা না করলেও নিজ ধর্মের প্রতি সফট কর্ণার থাকার সুবাধে বিষয়টিকে কোন মৌলবাদী রাজনৈতিক তৎপরতা হিসেবে দেখে না। দেখে মূর্তির বিরুদ্ধে জিহাদ হিসেবে। ফলে নিজেরা অংশ না নিলেও নিরবতার সংস্কৃতি অবলম্বন করে। এতে মৌলবাদী ও সা¤প্রদাযিক শক্তি জনগণের একটি বিরাট অংশকে নিজেদের পক্ষে নিতে না পারুক, অন্তত প্রতিবাদের পথ থেকে সরাতে সমর্থ হয়।
সুতরাং আমরা যারা এর বিপক্ষে অবস্থান করছি বা করতে চাই আমাদের সংবাদ পরিবেশনের এ মৌলবাদী রাজনীতিটাও তুলে ধরতে হবে। সাধারণের কাছে। তাদের অনুসৃত প্রক্রিয়াটা এত সহজ এবং ভয়াবহ যে তারা মসজিদ-মাদ্রাসা-মক্তব থেকে শুরু করে মৌলবাদী পত্র-পত্রিকা, প্রকাশনা এমনকি টিভি মিডিয়া পর্যন্ত ব্যবহার করে। সুতরাং এ প্রক্রিয়াটার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে না পারলে সা¤প্রদায়িকাতা ও মৌলবাদ কৌশলে বিকাশিত হতে থাকবে। তাতে বাউল-লালনদের সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা আরও বাড়বে। একটুও কমবে না। আগ্রহীদের জন্য আরেকটি লিংক
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:০৮
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তিনি বাংলাদেশী জাতির জনক

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



বঙ্গবন্ধৃ শেখ মজিবুর রহমানকে জাতির পিতা মানে বাংলাদেশী নাগরিকগণের একাংশ। ১৯৭১ সালের পূর্বে বাংলাদেশী নামে কোন জাতি ছিল না। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের নাগরিকগণের একাংশ পশ্চিম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামায়াতের পরিচয়হীনতার আদর্শ ও তার ধারক-বাহক ২.০ রাজাকার প্রজন্ম

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৩

৭১ পরবর্তী জামায়াতী রাজাকারদের ২.০ প্রজন্মের শাবকেরা যারা ৭১ এর মুক্তিসংগ্রাম নিয়ে সন্দেহ পোষন করে, যারা সেই মুক্তিসংগ্রামে ভারতীয় ষড়যন্ত্র খোঁজে তাদের অবস্থা ওইরকম সন্তানদের মতোই যারা নির্দ্বিধায় তাদের বাবাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাগেনি সুন্দর

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫১

লাগেনি সুন্দর
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তারে দেখিতে লাগেনি সুন্দর
তাঁর কথা শুনে উৎফুল্ল অন্তর!
সে দ্বীনদার কন্যা, সে অনন্যা
তাঁর গুণাবলী জ্যোতি যা প্রেরণা।

ফজরের পূর্বে উঠে করে সিজদা।
বুদ্ধিমতি তাকে জেনে আমি ফিদা।
নিয়মিত আদায় করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউনূস স্যার ক্ষমতায় থাকলে রোহিঙ্গারা এই বছর ঈদ করত মিয়ানমারে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:০৭


সেদিন উখিয়ার তপ্ত বালুর ওপর দাঁড়িয়ে প্রফেসর ইউনূস যখন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক টানে ঘোষণা করলেন—"তোয়ারা আগামী ইঁদত নিজর দেশত ফিরি যাইবা", তখন মনে হচ্ছিল মুহূর্তের জন্য পুরো বিশ্বটা বুঝি স্ট্যাচু... ...বাকিটুকু পড়ুন

হেল্প পোস্ট : বারডেম হাসপাতালে পরিচিত কেউ কি আছেন?

লিখেছেন ডার্ক ম্যান, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৫৮

আমার এক পরিচিত মানুষ অসুস্থ। বারডেম হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা নিতে চাচ্ছেন। চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে হেল্প করতে পারবেন এমন কোন ব্লগার বন্ধু কি আছেন। যদি কেউ হেল্প করতে পারেন, তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×