বীথির সবুজ চুল
১৪ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১২:১১
কালোবাজারির টাকায় নির্মিত হাইরাইজের পাশ ঘেঁষে আসা ফাটকা বাতাস যখন বীথির চুল নিয়ে খেলছিল, তখন অদূরেই প্রান্তরে দাঁড়ানো একলাগাছের নিচে দেশলাইয়ে একটা বিড়ি ধরাতে আমি প্রাণান্ত করছিলাম, বীথি আমার কেউ না আবার কেউও, সুন্দরী মেয়ে শত্রুকন্যা হলেও যেমন তার পক্ষে দাঁড়ায় পাড়ার মাস্তান, তেমনি আমিও খানিক এগিয়ে গিয়ে বাঁহাতে ফাটকাটার ঘাড় ধরে বলি, দূর হ বেয়াড়া, হঠাৎ সে একটা আলোড়ন ওঠায় বনজুড়ে, উচ্চৈঃস্বরে হুংকার দিয়ে একটা ছোটখাটো বাকুল্লা ওঠায়, তারপর ঝরাপাতার মতো পথে পড়ে থাকাদের একখানে জড়ো করে গলায় বাঁধা লাল রুমাল হাতে নিয়ে খেলতে খেলতে ভবনের ওপারে হারিয়ে যায়, চোখেমুখে লাগা ধুলো ঝেড়ে ফের যখন আমি আমার মতো হয়ে উঠি, তখন আয়েস করে আরেকটা বিড়ি ধরাই, ততক্ষণে উড়ন্ত পত্রকুল আবারো ল্যান্ড করে এসে পথে পথে
আমি একাকীবীথির কাঁধে হাত রাখি, তার সবুজ চুলে নাক ডুবিয়ে স্বস্তি চিবাতে চিবাতে বলি, চুল বেঁধে রাখ না কেন গো মেয়ে, সে একটা ঢেউ খেলানো হাসি দিয়ে বলে, আমার তো চুল বাঁধার কোনো ক্লিপই নেই
বলি, নেবে
নিতে পারি, কিন্তু চুলে কী করে ক্লিপ লাগাতে হয়, সেটাও জানি না যে
আমি তারপর শক্ত করে তার হাত ধরে বলি, চল আমিই খুঁজে এনে দেব তবে দিশে
হাইরাইজের আড়ালে ছিল ছোট মুদিঘর, যেদিকে মিলিয়ে গেছে বেয়াড়া বাতাস, ওকেসহ বীরের মতো গিয়ে মাপমতো ক্লিপ কিনে নিজহাতে পরাই বাসনা, সেটা ছিল একাগাছতলা, ফাটকা বেয়াড়া বাতাসেরা পরে বহুবার হামলা করেও বীথির গোছানো চুলে বাড়াতে পারে নি কোনো ক্ষয়ক্ষতি
আমরা এখন ঘনিষ্ঠ দুজন, ওর ছায়াতলে বসে নিতিদিন বিড়ি ফুঁকি আর ওকে নিয়ে রাশি রাশি কবিতা লিখি, ও শুধু চোখ দিয়ে কথা বলে আর মিটিমিটিয়ে হাসে, যে হাসির তোড়ে আমার পৃথিবী ভেসে যায় একটা মন কেমন করা বন্যায়
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): উভলিঙ্গ রচনা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: অজ্ঞাতকুলশীল বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১২:১৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
কালো চুলে কি কাব্য লেখা অসম্ভব?
লেখক বলেছেন: ফাহমিদ ভাই, কালো চুলে কাব্য হয়, হবে না কেন? কিন্তু বীথির চুল তো কালো হয় না, সে তো কেবলই সবুজ।
লেখক বলেছেন: খাইছে রে! এত?
লেখক বলেছেন: হুম। কালোর সৌন্দর্য কিন্তু অসাধারণ।
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
এইরে, এতক্ষণে বুঝলাম। কবিদের লেখা পড়ে প্রায়শই বোকা বনে যাই।
লেখক বলেছেন: কবিতার স্বাভাবিক প্রবণতা প্রায়শই দ্ব্যর্থকতা, ত্র্যর্থকতা বা তাকেও ছাড়িয়ে অনেকার্থকতার দিকে ধাবমান। এজন্যই মূলভাব নিয়ে একটা খটকা লাগে। বড়ো কবিদের কবিতায় দেখবেন অনেকার্থকতার দেখা মেলে বেশি।
আপনি জানেন, এই কারণেই কবিতার ব্যাখ্যা জনে জনে ভিন্ন হয়। সেটাই ভালো। কবি কবিতার ব্যাখ্যা করলে কবিতার সম্ভাবনা নষ্ট হবার উপক্রম হয়।
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
ছবিটা বীথির না এঁকে নারীর আঁকলেন কেন?
লেখক বলেছেন: তাহলে একেবারেই রহস্যমুক্ত হয়ে যায়।
তাছাড়া এখানে মানবীর ধারণাও বিল্টইন আছে যে!
লেখক বলেছেন: শূন্যতা রহস্যের জন্মদাতা। ওই-ই মানুষকে কবি করে তোলে, দার্শনিক করে তোলে। কালো যেহেতু রহস্যময়, তাকে তাই হয়ত শূন্যতাও ভাবা যায়। আর মনে রাখলে ভালো যে, অন্ধকারের উৎস হতেও আলো উৎসারিত হয়। কাজেই বলা যায়, ওতে আছে সৌন্দর্যের অফুরন্ত খনি।
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
আ মরণ। তাহলে তো প্রথমে পুরোপুরি ভুল করিনি। আপনার এটি ছিল দ্ব্যর্থক ... তাহলে আপনি বড়ো কবি নন, হে হে হে
লেখক বলেছেন: সেটাই দাড়াচ্ছে এবং সেটাই সত্য। আমি তো দ্ব্যর্থকতা থেকে ত্র্যর্থকতা মাড়িয়ে অনেকার্থকতার দিকে যাব বলে কোশেশ করে যাচ্ছি মাত্র।
কালপুরুষ বলেছেন:
চমৎকার। লাল নীল আর সবুজের মিশ্রণ কালো। শুধু পরিমাণের তারতম্য। লাল রং উত্তেজনার প্রতীক। নীল বেদনা বা কষ্টের। সবুজ প্রশান্তির প্রতীক। তাই মন থেকে উত্তেজনা আর কষ্ট/বেদনা উবে গেলে প্রশান্তি থাকে। তাই লাল আর নীল উধায়। কালো চুল মনের অজান্তেই সবুজাভ হয়ে ওঠে। ভাল লাগলো হাইরাইজের মাঝে কাব্যিক সারপ্রাইজ।
লেখক বলেছেন: বীথির চুল কেন সবুজ তার ভালো ব্যাখ্যাই দিলেন আপনি পদার্থবিজ্ঞান আর আচরণবিজ্ঞান মিশিয়ে। ধন্যবাদ।
প্রচেত্য বলেছেন:
গ্রেট
লেখক বলেছেন: ইজ ইট এ থ্রেট?
লেখক বলেছেন: চমৎকৃত হবার মতো কথা।
েমাঃ ইিলয়াস েহােসন বলেছেন:
ভাল তবে বিড়ি বেশি টানলে ক্যান্সার হতে পারে।
লেখক বলেছেন: আপনি টানবেন না দয়া করে। আমার ক্যান্সারের রাস্তা ইতোমধ্যে পরিষ্কার।
প্রচেত্য বলেছেন:
ওরে বাবা !আমি থ্রেট দিব আপনাকে ?
যার জন্য শ্রদ্ধা, সম্মান জমিয়ে রেখেছি, তাকে .................
লেখক বলেছেন: হাহাহা। আরে মজা করেছি! গ্রেট মানে তো গ্রেটই, থ্রেট হবে কেন! তবে ওভাবে কেউ বললে আমার ভয় হয় যে বাইরে এরকম বলছে ভিতরে আবার অন্য কথা না তো!
প্রণব আচার্য্য বলেছেন:
কালো যেহেতু রহস্যময়, তাকে তাই হয়ত শূন্যতাও ভাবা যায়। আর মনে রাখলে ভালো যে, অন্ধকারের উৎস হতেও আলো উৎসারিত হয়। কাজেই বলা যায়, ওতে আছে সৌন্দর্যের অফুরন্ত খনি....চমৎকার বিশ্লেষণ
ভালো লাগলো
লেখক বলেছেন: আমার বিশ্লেষণে হয়ত একটা গোঁয়ারতুমিও ছিল। আপনার ভালো লাগাটা আমাকে কেমন যেন সংশয়ী করে তুলল।
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
এত সুন্দর......।খুব ভালো লাগলো ।(সবুজ কেনো লাল,নিল,গোলাপী সব রং এর চুলের মেয়েদের দেখি ।
চোখের পাতাও রং করা........বিভিন্ন বাহারী কাপড় পড়ে ওরা।)
আপনার চোখের সবুজ যে রং করা নয় তা জানি তবু মনে এলো।
"যে হাসির তোড়ে আমার পৃথিবী ভেসে যায় একটা মন কেমন করা বন্যায়"................।
দারুন .......
মন কেমন করা কবিতা আসলে।
শুভেচ্ছা ।ভালো থাকবেন।
লেখক বলেছেন: একটা মন কেমন করা মন্তব্য করলেন সাজি।
ভালো আছেন আপনি ? অনেক দিন ব্লগে আসতে পারি নি। সময় করে আপনার দুয়ারে যাব।
দারুন!!
কিন্তু মুজীব'দা আমি মূর্খ-সুর্খ মানুষ। আমার জানার অনেক কিছু আবশ্যই বাকি। এই মুহুর্তে খুব জানতে ইচ্ছে করছে......কবিতার লাইনগুলো গদ্যের মত লাগছে কেন? এই ব্যাপারটা একটু শিখান প্লিজ- মানে এর বৃত্তান্ত কি? এই স্টাইলটার কি কোন আলাদা নাম আছে? বিস্তারিত বলেন প্লিজ।
লেখক বলেছেন: এই লেখাটার একটা ট্যাগিং দেয়া আছে 'উভলিঙ্গ রচনা'। আপনি এটিকে কবিতা করে পড়লেও সই, অন্য কিছু মনে করে পড়লেও। পুরোটাই নিজ দায়িত্বে। এই ধারণার উপরে গড়ে ওঠা আমার বইও আছে। এখানে দেখুন :
http://mmbristigachertolay.blogspot.com/
(দুঃখিত, মন্তব্যে লিংক দেয়া শিখি নি এখনো)
কবিতার বাক্য গদ্যের মতো করে বিন্যস্ত হতে পারে, হয়ও। এটার চর্চা শুরু হয়েছে তা এক দু' দশকের কথা নয়, কথা অনেক দিনের। আমার 'মমি উপত্যকা' গ্রন্থের এক তৃতীয়াংশ এবং 'ময়দানের হাওয়া' গ্রন্থের পুরোটাই এই আঙ্গিকে বিন্যস্ত। কিন্তু বাক্যের বিন্যাস গদ্যের মতো হলেও কবিতার বাক্যে কবিত্ব থাকতে হবে এটাই শেষ কথা।
বস্তুতপক্ষে আমি যখন লিখি তখন কেবলই লিখি। লিখিত হবার পরে কখনো মনে হয় এটা কবিতা থেকে একটু দূরে এসে ফিকশনাল ভ্যালুও লাভ করেছে বা ওইদিকেই এর ঝোঁক বেশি কিংবা বাক্যগুলো প্রবন্ধের চরিত্র লাভ করেছে। তখন তাকে আর কবিতা বলে দাবি করি না আমি। এটা-সেটা বলি। 'উভলিঙ্গ রচনা' টার্মটা ওই এটা-সেটারই একটি।
কবিতা হিসেবে দেখলে এই লেখাটাকে একটু ল্যুজ মনে হতেও পারে। হয়তবা এটা গদ্যই। কিন্তু গদ্যটা কার বেশি নিকটবর্তী, কবিতার না গল্পের না প্রবন্ধের সে সিদ্ধান্ত পাঠকের, মানে আপনার।
মৈথুনানন্দ বলেছেন:
ক্রেয়েটেভ রায়টিনে কোনো মজ্যুল করা থাকলে ঠিকটা ঝ্যাট করে ধরে ফেলতুম। সেরম কিছু পালক যখন টুপিতে গোঁজা নেই, ত্যাখোন নিজের ভুল ধারণাটাই ধারণাটাই বলি, কেমন? তাই তো - বীথির চুল শুধু সবুজই হতে হবে কেন?
হরিতের রূপকল্পে মনে হয় কোনো এপেফ্যানে আছে নির্ঘাত। এই অশান্ত বাংলাদেশকে - যেন পারলে সব কিছু একেবারে ঠিক ঠাক করে গুছিয়ে দেবেন, পরম ভালোবাসায় প্রিয়াজ্ঞানে, এমনটিই জানাতে চেয়েছেন জনক।
( লেখক-কবি...ইত্যাদি ডিলিমটরগুলো আমার একেবারেই পছন্দ নয়, রুমি যেমন বলেছেন, আমায় যখনি ট্যাগ করলে তখনই অনেক সম্ভাবনা সঙ্কুচিত ও বিনষ্ট হয়ে গেল। )
তবে এটা না বোঝার দায় আমার ওপরে একেবারেই বর্তাবে না। কারণ আমি সরল সাধাসিধা লোক। জটিল লেখা বুঝবো কি করে, টেল টেল, হাউ হাউ?
লেখক বলেছেন: 'হরিতের রূপকল্পে মনে হয় কোনো এপেফ্যানে আছে নির্ঘাত। এই অশান্ত বাংলাদেশকে - যেন পারলে সব কিছু একেবারে ঠিক ঠাক করে গুছিয়ে দেবেন, পরম ভালোবাসায় প্রিয়াজ্ঞানে, এমনটিই জানাতে চেয়েছেন জনক।'
খুবই বড়ো জায়গা দিয়ে দিয়েছেন লেখাটিকে। এতটা এ লেখা দাবি করতে পারে না হয়ত। কিন্তু আপনি যেরকম করে ভেবেছেন, সেরকম ভাবিয়ে তুলবার যোগ্যতাটা যদি এই লেখা ধারণ করে থাকে, তাহলে সেটা এ লেখার শক্তি নয়ত কী!
বীথি যদি বাংলাদেশ হয়, আর গলায় লাল রুমাল বাঁধা বেয়াড়া বাতাস যদি হয় সমস্ত আগ্রাসী শক্তির প্রতীক তো সমস্যা কী! বিড়িখোর আমি সেক্ষেত্রে শুভবাদী দেশপ্রেমিকদের প্রতিনিধি, যারা আছে বলেই দেশটা এখনো আছে।
সুতরাং বীথির চুল সবুজ হতেই হবে এমন কোনো কথা নেই।
লেখক বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ মুজিব-দা,
লিংক এখনি চেক করছি। আপনার পুরো উত্তর মনযোগ দিয়ে পড়লাম। বুঝতে পারলাম। ব্যাপারটা ভালোও লাগল। এভাবে দেখিনি তো কখনো?
ধন্যবাদ আবারো।
লেখক বলেছেন: ওই বলাটা মোটেই কোনো তত্ত্বীয় ভিত্তির উপর দাঁড়ানো না, ওটা আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা মাত্র, যা হয়ত কেবল বাস্তবতাকেই ছুঁয়ে থাকে।
মাছরাঙ্গা বলেছেন:
কবিতার এই এক আনন্দ এতে মুহূর্তের উপলব্ধি প্রকাশ করা যায়। বিভিন্ন রূপকের কাপড়চোপড় থেকে যখন প্রকৃত বস্তুটি খোলাসা হয় তখন সে উলঙ্গ রূপ কি আশ্চর্যই না লাগে। গদ্যে বিশাল রচনায় মুহূর্তিক অসাধারণ অনুভূতিগুলো লোপাট হয়ে যায়।
লেখক বলেছেন: কিন্তু আমরা তো আসলে উলঙ্গ রূপটিকে চাই না, চাই কেবল কবিতাটিকেই। উলঙ্গ অবস্থায় আলাদা আলাদা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সম্পর্কে ধারণা মিলে এটা ঠিক, কিন্তু প্রকৃত সৌন্দর্য হয়ত ধরে সজ্জিত অবস্থাটিই।
লেখক বলেছেন: সেই।
লেখক বলেছেন: মারাত্মক কেন? ওটা কি বীথির মতো লাগছে না আদৌ?
বীথিলতা বলেছেন:
আপনার কাছে লাগছে তো? তাইলেই চলবে। আমার লাগা না লাগাতে কি যায় আসে মশায়!তবে ছবিখানা...মাইরি বলছি...হা হা হা..........
লেখক বলেছেন: আমার কাছে তো লেগেছেই। পাশাপাশি আপনার কাছেও যদি লাগত, তাহলে একঅর্থে পুলকিত হবার কারণ ঘটত। হাজার হোক আপনার নামের সঙ্গে বীথি শব্দটা আছে।
নবজন্ম বলেছেন:
বীথিলতা বলেছেন: বাহ! খুব ভালো...খুব ভালো!..আর ছবিখানা তো মারাত্মক!!!----------------------------------
লেখক বলেছেন: এটা আপনার কততম জন্ম গো নবজন্ম?
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















