আমার প্রিয় পোস্ট

প্রতিদিনকার চলা মমি করে রেখে যাই ওয়েবের পিরামিডে

পাঠাভ্যাস বিষয়ে 'যদ্যপি ছফার গুরু'র দেয়া সূত্র পাঠ করে

২৭ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:১৮

শেয়ারঃ
0 0 0

পাঠবস্তুর থেকে দ্রুত ভুলে যাবার নিশ্চয়তা আদায় করে তবে পড়ো, পড়ো আর হারাও নিজের ভেতরে এবং সতত ভুলে যাও, পড়ে-পড়ে বারেবারে ভুলে যেতে পারা হলো দারুণ মজার, বিশল্যকরণী খুঁজে বয়ে আনা গন্ধমাদন, কোনো কাজের কথা নয়

কবির বিশালব্যাপ্ত মনের ভেতরে থাকে এক চিনিকল, তাপিত আবেগ যোগে চিনি হয়ে আহরিত রস, স্বাদোৎপাদন করে, কিছু তার বাইরে গড়ায়, কিছু তার পরের গোপন ছোঁয়, উত্তেজিত করে

যারা ছোবড়া বহন করে তাদেরকে বলা হয় জ্ঞানী, জ্ঞানী লেখে কবিতা-না কবিতারঞ্জনী

Image from: http://bmetcertcanada.ncf.ca/

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): কবিতা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: দগ্ধদিনের রূপমাদুলি  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:৫৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৭ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:২১
হাসিব মাহমুদ বলেছেন: রাজ্জাক স্যারের কথা এগুলি ? হেডিঙটা ঠিক পরিস্কার বুঝি নাই ।
২৭ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:৩২

লেখক বলেছেন: না না রাজ্জাক স্যারের কথা নয় এগুলো। তবে প্রসঙ্গত রাজ্জাক স্যার এখানে উপস্থিত আছেন। রাজ্জাক স্যারকে নিয়ে আহমদ ছফার বইয়ের নাম ছিল 'যদ্যপি আমার গুরু'। কিন্তু বইয়ের নামের মাঝখানে ইটালিকে 'ছফার' বলে আমি দু'জনকেই এখানে হাজির রাখতে চাচ্ছি।

বাকি সব শব্দ যেভাবে বিন্যস্ত আছে সেভাবেই অর্থ করে এটুকু তথ্য যুক্ত করে দেখলে হেডিংটায় আর কোনো অস্পষ্টতা থাকবে না আশা করি।

২. ২৭ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:২৪
সুতরাং বলেছেন: ভেবেছিলাম আমার প্রিয় একটি বই ‌'যদ্যপি আমার গুরু' নিয়ে কিছু লিখলেন। কিন্তু পড়তে গিয়ে ঠিক ঠাহর করতে পারলাম না-এটা কী জিনিস! কবিতাও তো মনে হয় না। তাহলে?
২৭ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:৪০

লেখক বলেছেন: ওই বইটা আমারও খুব প্রিয় শাওন। তবে ওর কোনো আলোচনা নয় এটা। বইটা নিয়ে একটা আলোচনা লিখেছিলাম '৯৮-এ ওটা যখন প্রথম পড়ি তখন। সেসময় কয়েকমাস আমি খুব এলোমেলো ছিলাম। তাতে ছাপবার জন্য লেখাটা কারো কাছে দেবার আগেই হারিয়ে ফেলি। পরে আর লেখা হয় নি।

এটা একটা মুক্ত লেখা। যেভাবে নিতে পারেন নেন। কবিতা মনে না হলে কবিতা নয়, অন্যকিছু।

৩. ২৭ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:৩৯
মুকুল বলেছেন: যারা ছোবড়া বহন করে তাদেরকে বলা হয় জ্ঞানী, জ্ঞানী লেখে কবিতা-না কবিতারঞ্জনী

কথাটা পুরোপুরি না বুঝলেও কেন জানি পছন্দ হৈছে।
২৭ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:৪২

লেখক বলেছেন: পছন্দ যখন হইছেই তখন আর বুঝাবার চেষ্টা করা একদমই বৃথা।

৪. ২৭ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:৫৫
মুয়ীয মাহফুজ বলেছেন: বইটি পড়েছি।

যারা ছোবড়া বহন করে তাদেরকে বলা হয় জ্ঞানী, জ্ঞানী লেখে কবিতা-না কবিতারঞ্জনী।

মজার লাইন তবে কবির কোনো আউটলাইন আছে বলে মনে হয়না।কেউ প্রচুর জ্ঞানী হয়েও কবি হতে পারে আবার জ্ঞানী না হয়েও কবি হবার অনেক দৃস্টান্ত রয়েছে।আমার মনে হয় জ্ঞান,প্রজ্ঞা এইসব বিষয়াদি দিয়ে কবি ও কবিতাকে বিচার করা যায়না।কবিরও ততটুকু জ্ঞানী অবশ্যই যতটুকু ধারণ করলে সে জীবনযাপন করতে পারবে,আবার জ্ঞানের ক্ষেত্রে কবিদের উপর কিছু বর্ডার দিয়ে দিতে চাইলে একধরণের ফ্যালাসি হয়ে যায়।কেননা যে জ্ঞানী,তার যেন অনিবার্য ভাবেই অনুভুতিশীলতা নস্ট হয়ে যাবে বলে ভয় করা হচ্ছে:এই বিষয়টি কেমন যেন প্রতিক্রিয়াশীল বাক্য বলে মনে হলো।কারণ এটা কি কখনো নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে জ্ঞানীদের কবিতা লেখার মত অনুভু্তিশীলতা নেই?
২৮ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:৫৭

লেখক বলেছেন: কবি জ্ঞানী হতে পারেন। সাধারণত কবিরা জ্ঞানী হনও, তবে খুব একটা পণ্ডিত হন না। কেউ কেউ অবশ্য পণ্ডিতও হন। যেমন জীবনানন্দ জ্ঞানী ছিলেন, কিন্তু বুদ্ধদেব বসু পণ্ডিত ছিলেন। পণ্ডিততুল্য যে জ্ঞান, সেটা বোধকরি কবিতার জন্যে খুব দরকারি হয় না। সে জ্ঞান হিসেব-নিকেশ, যোগ-বিয়োগ বেশি বোঝে, প্রয়োজনীয় সীমা লঙ্ঘনকেও সমীহ করে না অত।

এখানে যাকে ছোবড়া বলা হচ্ছে সেটা অনেকটা ফটোগ্রাফিক নিষ্ঠতা, ওটা বোধকরি কবিতার ক্ষতি করে। কিন্তু যেটা জ্ঞানের রস সেটাই কবিতার প্রকৃষ্ট উপকরণ। ওর সঙ্গে কল্পনার রঙ মিশিয়ে সে যেমন খুশি আকার দিতে পারে তার কবিতাকে। কবিতা এজন্য জ্ঞানবস্তু হয়ে ওঠে না, হওয়া উচিতও নয়। জ্ঞানের ইঙ্গিত থাকতে পারে কেবল, সর্টকার্ট থাকতে পারে নানা জ্ঞানকাণ্ডের।

রবীন্দ্রনাথের কোনো একটা গদ্যে (চিঠিতেও হতে পারে) কখনো এরকম একটা কথা পড়েছিলাম যে, তুমি যদি কোনো একটা গাছ নিয়ে কবিতা লিখতে চাও, তাহলে গাছটাকে দেখমাত্র, মুখস্থ করো না। কল্পনার অবকাশ রাখ। আর যদি প্রবন্ধ লিখতে চাও তাহলে দেখ, মুখস্থ কর এবং গঠনের ভালোমন্দটা বিশ্লেষণ কর, ইত্যাদি।

এই মাত্র। এটা প্রতিক্রিয়াশীলতা হবে কেন?

৫. ২৮ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:০৩
কাল্‌বেলা বলেছেন:
যারা ছোবড়া বহন করে তাদেরকে বলা হয় জ্ঞানী, জ্ঞানী লেখে কবিতা-না কবিতারঞ্জনী--

............ কথাটা বোধয় কোন একটা বিশেষ পরিপ্রেক্ষিতে বলা মানান সই। সার্বজনীন করে বলা যায় কি? কবি মাত্রই কি কিছুটা হলেও জ্ঞানী নন? - জ্ঞানীত্বের মাত্রাটুকুতে ফারাক- কম বা বেশি । অবশ্য জ্ঞনীর সংগাই বা কি ------সেটা নিয়েও আবার গোড়া থেকে প্রশ্ন উঠতে পারে............।(আচ্ছা থাক, গুরু আলোচনা আমার আসে না)
২৮ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১:০০

লেখক বলেছেন: সর্বজনীন অবশ্যই নয়। কবিও যে কিছুমাত্রায় জ্ঞানরাজ্যেরই অধিবাসী মুয়ীজ মাহফুজের জবাবে সেরকমই বলতে চাইলাম। কিন্তু এটা মনে রাখি যে, কবিতায় জ্ঞানের শাসন নেই।

৬. ২৮ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১:০১
সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন:


কবির বিশালব্যাপ্ত মনের ভেতরে থাকে এক চিনিকল, তাপিত আবেগ যোগে চিনি হয়ে আহরিত রস, স্বাদোৎপাদন করে, কিছু তার বাইরে গড়ায়, কিছু তার পরের গোপন ছোঁয়, উত্তেজিত করে



আহ আহমদ ছফা! খুব শাদা মনের একজন মানুষ ছিলেন।










'জ্ঞান' শব্দটা যা বুঝায়, তা কবিদের কম বেশি থাকে। কবিরা তো অনুসন্ধিৎসু থাকেন আমৃত্যু। তবে জ্ঞানের নিরীখে কবিদের শ্রেণী বিন্যাস করা যেতে পারে। ম্যাটাফিজিক্যাল কবিদের অন্তর্দৃষ্টির প্রাখর্য্য বেশি থাকে।
আবার এমনও দেখা যায়, ইংরেজি উইজডম শব্দটির বাংলা প্রজ্ঞা, এই প্রজ্ঞাবান কবি'র সংখ্যা খুবই কম হয়ে থাকেন যুগে যুগে।

২৮ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১:৩৭

লেখক বলেছেন: ১. উপাত্ত, ২. তথ্য, ৩. জ্ঞান, ৪. বোধ, ৫. প্রজ্ঞা

কবির সম্ভবত এই প্রজ্ঞার স্তরে উন্নীত হতে হয়। It is the essence of philosophical probing। এই স্তরে জন্ম নেয়া প্রশ্নের সরজ সরল জবাব হয় না। এটি কম মানুষেরই থাকে। এই স্তরে অবস্থানকারী কবির সংখ্যাও সঙ্গত কারণে কম হয়। তবু মানুষ প্রজ্ঞাবান হন, কম্পিউটার হয় না।

৭. ২৮ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১:১৩
মুজিব মেহদী বলেছেন: 'যদ্যপি আমার গুরু'তে পাঠ বিষয়ে রাজ্জাক স্যারের অবিস্মরণীয় বক্তব্যটি ছিল এরকম যে তুমি একটা বই পড়েছ বলে দাবি করতে পার কেবল তখনই যখন তুমি নিজের ভাষায় বইটি আবার লিখতে পারবে। ভয়ানক কথা। হয়ত এরকমই হওয়া উচিত প্রকৃত পাঠ। যে গ্রন্থগুলো একজন লেখকের ভিত্তি রচনায় ভূমিকা রাখে সেসব ওরকম করেই পড়া দরকার। কিন্তু সব বই কি এভাবে পড়ে উঠতে পারি আমরা?

সবকিছু আমি এরকম করে পড়তে চাই না। কিছুকে করতে চাই কেবল অবলোকন, কিছুকে পাঠ, কিছুকে নিবিড় পাঠ এবং কিছুকে অধ্যয়ন।

আর কিছু জিনিসে চোখ বুলাতে চাই রবীন্দ্রনাথ কথিত ওই গাছ দেখার মতো করে, উপরি উপরি।
৮. ২৮ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১:৪৫
মৈথুনানন্দ বলেছেন: কতোটা পাপ পেরিয়ে এসে তবে কবি হওয়া যায়?
২৮ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ২:০৮

লেখক বলেছেন: পেরিয়ে এলে আর কবি হওয়া হবে না গো, পাপ-পংকিলে পুরোটাই নিমজ্জিত হতে হবে। এবং ওর থেকে ওঠে আসারও চেষ্টা করা যাবে না, ঘরদোর করে ওখানেই থেকে যেতে হবে।

তবেই না কবি!

৯. ২৮ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১:৫১
সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন:


আপনার জবাবটা সুন্দর হয়েছে।




মেহেদী ভাই আমার লাস্ট পোস্টের কবিতাটির ব্যাপারে কিছু বলুন। আজকাল কবিতার শরীর নিয়ে দ্বিধায় আছি। থেরাপী দেন।
২৮ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ২:১৩

লেখক বলেছেন: নিজের লেখা নিয়ে দ্বিধা বুঝি কোনোদিনই যাবার নয়! অবশ্য মন ঠিক থাকলে শরীর নিয়ে অত চিন্তার কিছু নেই বলে মনে করি।

কী যে বলেন না আপনি! আমি কবিতা বিষয়ে থেরাপি দেবার কে?

১০. ২৮ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ২:০৯
মুয়ীয মাহফুজ বলেছেন: তবে কবিকে যদি ফিলসফিক্যাল টার্মে প্র্রজ্ঞাবান হবার কথা থাকে তবেও একটা সমস্যা আছে।যেমন:-সক্রেটিসের একটা বাক্য আছে যে
"study for wisdom"
তবে এ wisdom বা প্র্রজ্ঞা একটা Rational বা বুদ্বিবাদী বা ভাববাদী টার্মে ব্যবহার করা হয়।যেমন বুদ্বিবাদ অনুযায়ী সে-ই প্র্রজ্ঞা পেয়েছে যে তার অভিজ্ঞতার জগৎ পেরিয়ে ঈশ্বরের দেখা পেয়েছে।

বলা বাহুল্য যে কবিরা দার্শনিক টার্মে প্র্রজ্ঞার ধারও ধারে না।

আর কিছু জিনিসে চোখ বুলাতে চাই রবীন্দ্রনাথ কথিত ওই গাছ দেখার মতো করে, উপরি উপরি।-এক্ষেত্রে আমিও একমত।
গাছ যদি হয় জ্ঞানবস্তু তবে কবির আসলেই তা দরকার নেই,তবে যেখানে পরিবর্ধনের সুযোগ আছে সেখানেই কবির আবিস্কার।

আর আমি এ ডায়লগটিকে প্রতিক্রিয়াশীল বলেছিলাম একারণে যে এ বাক্যটি একপ্রকার ভুডু বিশ্বাসের মত হয়ে গেছে,যেন এর ব্যতিক্রম নেই।(অজ্ঞানতার কাউন্টার মনে হয় যেন)।জ্ঞান একটি বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়,কবিতাও তাই।দুটি বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে যে বিরোধ তাও বুদ্ধিবৃত্তিক-বলা যায় তবে এটাও একধরণের জ্ঞানসম্পর্কীয় স্বগতোক্তি-তাই না।

তবে আপনার একথাটিও সত্য যে পান্ডিত্য যদি সৃজনসংহারী হয় তবে তা পরিত্যাজ্য হয়,তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমি দেখেছি জ্ঞান সৃজনশীলতার একটি মাত্রা বর্ধনে সহায়কমাত্র,আমার মনে হয় জ্ঞান সৃজনশীলতার একটি উপাদান ছাড়া আর বেশী কিছু হবার যোগ্যতা রাখে না।
২৮ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ৩:২৫

লেখক বলেছেন: দার্শনিকের একটা মানেই করা হয় 'প্রজ্ঞার প্রেমিক' বলে। এই প্রজ্ঞা শব্দটি দিয়ে কেবল ঈশ্বর সন্ধানই করা যায় বা করা হয় তা নয়, যদিও এর দার্শনিক ব্যবহারের বড়ো অংশটাই এরকম।

এটা হলো লভ্য জ্ঞানের সর্বোৎকৃষ্ট ব্যবহার। বস্তুতপক্ষে প্রজ্ঞা অর্জনের বিভিন্ন এভিনিউ আছে। কিছু চিন্তক মনে করেন প্রজ্ঞা আসে অভিজ্ঞতা থেকে। এক্ষেত্রে ঈশ্বর দর্শনের সম্ভাবনা শূন্যে উপনীত হয়।

তবে হ্যাঁ, দার্শনিক অর্থে শব্দটায় যথেষ্টই বিপদ আছে। যেহেতু প্রজ্ঞার প্রশ্ন আসলেই প্রথমে সামনে এসে দাঁড়ায় গ্রিক দর্শন।

এর বাইরেও শব্দটার জগৎ আছে। সে জগৎ আমাদের কাছেই--

বৌদ্দ্ধদর্শনের অষ্টাঙ্গিক মার্গগুলির তিনটি অঙ্গ হলো শীল বা সাধুচরিত্র, ধ্যান বা সমাধি এবং প্রজ্ঞা বা তত্ত্বজ্ঞান। এই তিনের মিলনই দুঃখাবসান ঘটায়। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের জ্ঞান ও কর্মের সাহায্যে, আত্মপ্রয়াস ও আত্মসংযমের দ্বারা, অবিদ্যা ও বিষয়ভাবনার মূলোচ্ছেদ করে তার জীবনে দুঃখের অবসান ঘটাতে পারে। যিনি এভাবে দুঃখের অবসান ঘটান তিনি লাভ করেন পূর্ণপ্রজ্ঞ, পূর্ণশীল ও পূর্ণপ্রশান্তি, যাতে অতিপ্রাকৃত শক্তি বা ঈশ্বরের কোনো হাত নেই।


'বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমি দেখেছি জ্ঞান সৃজনশীলতার একটি মাত্রা বর্ধনে সহায়কমাত্র,আমার মনে হয় জ্ঞান সৃজনশীলতার একটি উপাদান ছাড়া আর বেশী কিছু হবার যোগ্যতা রাখে না।'

কখনো কখনো জ্ঞান সে যোগ্যতাও রাখে। সৃজনশীল কর্মে ছোবড়াজ্ঞান ফুলের চেয়ে কাঁটার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।

১১. ২৮ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ২:২২
বিবর্তনবাদী বলেছেন: টাইটেল দেখে মনে হল, আমার অন্যতম প্রিয় একটি বইয়ের প্যারোডি হচ্ছে নিশ্চয়ই। তাই মাইনাস দিতে এলাম। লেখা পড়ে যদিও তেমন কিছু বুঝি নাই, তবে এটুকু নিশ্চিত এই পোস্ট + এর দাবিদার।


বিধায় +।
২৮ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ৩:৩০

লেখক বলেছেন: প্রফেসর রাজ্জাক বা আহমদ ছফা বা তাঁর কোনো বই নিয়ে প্যারোডি করব এমন ইচ্ছা যেন আমার কখনোই না হয়।

তবে কখনো যদি জ্ঞানী হই (!) তাদের কোনো কোনো মতের বিরুদ্ধে ভিন্নমত প্রতিষ্ঠা দেবার চেষ্টা করে দেখতে পারি।

আপনার বোধবুদ্ধিকে সেলাম।

১২. ২৮ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ৩:৫৩
মুয়ীয মাহফুজ বলেছেন: এর বাইরেও শব্দটার জগৎ আছে। সে জগৎ আমাদের কাছেই--
বৌদ্ধ দর্শন সম্পর্কে আপনার কথাটি ঠিকই আছে,

তবে বুদ্ধের প্রজ্ঞা অর্থে যেটা প্রচলিত সেটা কিন্তু নির্বাণ।
ধ্যানের পরে যেটা চুরান্ত অর্জনীয় তা তাদের মতে হলো নির্বাণ,আরেকটি হলো মহানির্বাণ বা মৃত্যু।মুলত এ দুঃখ নিবারণের জন্য মানুষকে নির্বাণ অজন করতে বলেছেন ভিক্ষু।আর সেটা হলেই মানে জীবদ্দশায় নির্বাণ বা জাগতিক জগৎ সম্পর্কে স্থবিরতা লাভ করলেই বারবার পুনর্জন্মের হাত থেকে বাঁচা যাবে এবং নির্বাণের পর যে মৃত্যু হবে সেটা মহানির্বাণ।অর্থাৎ এর পর আবার পৃথিবীতে অবিদ্যার কারণে জন্ম নিয়ে দুঃখ ভোগ করতে হবে না।

আবার ইন্ডিয়ান অন্যান্য দর্শন যেমন চার্বাক দর্শনে একেই বলা হয় মোক্ষ।

এ ধরণের প্রজ্ঞার কথা কিন্টু ভারতীয় নাস্তিক দর্শনে বলা হয়।(ভারতীয় দর্শনে যেসব দর্শন প্রাচীন ও উপনিষদের স্বতঃবাক্য কে অস্বীকার করে তাদের নাস্তিক দর্শন বলে যেমন,বৌদ্ধ,চার্বাক,জৈন ইত্যাদি)এজন্য এই নির্বান বা মোক্ষে ঈশ্বরের অবস্হান নাই।এপ্রোচটা বস্তুবাদী হলেও দেখুন মুল বিষয়টি কিন্তু ভাববাদী।

তাই ভারতীয় দর্শন গুলো জ্ঞান প্রক্রিয়ায় শেষমেষ সবগুলোই ধর্ম হিসেবে প্রতিভাত হয়।

তবে একই শব্দ যে বিভিন্নার্থে ব্যভার করা যায় এটাও স্বীকার করছি।
২৮ শে মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১২:১৯

লেখক বলেছেন: নির্বাণপ্রাপ্তের হাতে যে কবিতা, সে তো জাগতিকরস মুক্ত হতে বাধ্য। ও কবিতা দিয়া আসলেই আমরা কী করব? কবি দুঃখমুক্ত হয়ে গেলে কবিতার কপালে দুঃখ আছে।

মোক্ষলাভের ভিতর দিয়ে ভারতীয় দার্শনিকেরা যে ভাববাদী জায়গায় উপনীত হয়েছেন, শেষমেষ সেখানে পৌঁছবার আমাদের আর সুযোগ নেই বস্তুত। কারণ ধর্মপ্রবর্তনের সম্ভাবনা এ যুগে শূন্য। তবু আমাদের সে ঝুঁকিবিন্দুতে ইন্ধন যুগিয়ে লাভ কী? আমরা বরং প্রজ্ঞাকে 'প্রকৃষ্ট জ্ঞান', 'নিগূঢ় জ্ঞান' এরকম আভিধানিক অর্থেই দেখি। যেভাবে আমরা কোনো বিশিষ্ট জ্ঞানীজনকে প্রাজ্ঞজন বলে থাকি। জ্ঞানের এ স্তর, ধারণা করি, অন্তত ছোবড়াবাহী নয়।

১৩. ২৮ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৬:০০
শফিউল আলম ইমন বলেছেন: হুমম..........মুজিব ভাই, এখনো পিচ্চি তাই কথার প্যাচ ঠিকমত ধরতে পারিনা:( তবে ভাল্লাগছে:)
ভালো থাকুন।
২৮ শে মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১:৩৫

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, বেশ প্যাঁচই আঁকা হয়ে গেল বটে।
কবিতায় জ্ঞানের শাসন কেমন থাকবে না-থাকবে তা বলতে গিয়ে বেশ জ্ঞানের কথাবার্তাই হয়ে গেছে দেখছি।

২৮ শে মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১:৩৬

লেখক বলেছেন: এটার মানে কী?
বুঝলাম না তো কিছু।

১৫. ২৮ শে মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১:৪৬
মুজিব মেহদী বলেছেন: পড়া না-পড়া বিষয়ে Pierre Bayard লিখিত How to talk about the book you haven't read নিয়ে চমৎকার একটা আলোচনার অনুবাদ বেরিয়েছে আজ প্রথম আলোয়।

লিংকটা এখানে থাকুক :
Click This Link

মূল আলোচনাটা এখানে :
Click This Link
১৬. ২৯ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ৮:১৯
ফকির ইলিয়াস বলেছেন: তাপিত আবেগ যোগে চিনি হয়ে আহরিত রস, স্বাদোৎপাদন করে, কিছু তার বাইরে গড়ায়, কিছু তার পরের গোপন ছোঁয়, উত্তেজিত করে

--- যদ্যপি আমার গুরু/ আহমদ ছফা '' --- আমার পঠিত প্রিয় বই।

ড হুমায়ুন আজাদ তা নিয়ে যদিও বিতর্ক পেতেছিলেন।
২৯ শে মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪৪

লেখক বলেছেন: ড. আজাদ বিতর্ক তুলতেই পারেন, তার ভিন্নমতের জায়গাও ওখানে থাকতে পারে। তবু একটি প্রিয় বই অপ্রিয় হয়ে যেতে পারে না, তাই না?

আজাদ স্যারের অনেক বইও বহুল বিতর্কিত, কিন্তু অবশ্যই সেগুলোও ভালো বই।

২৯ শে মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪৬

লেখক বলেছেন: বুঝলেন বলে খুশি হলাম।

১৮. ২৯ শে মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১২:২৭
মাজুল হাসান বলেছেন: মুজিব ভাই, ছফা'র
অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরীর ভাষায় বা তার পয়েন্ট অব ভিউয়ে কোনো উটকো পুরুষতান্ত্রিকতার গন্ধ কি পেয়েঠেন?
২৯ শে মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫১

লেখক বলেছেন: এই বইটি পাঠের স্মৃতি মনে করতে পারছি না। তসলিমা নাসরিনকে নিয়ে লেখা বইটি কি এটি? না বোধহয়।

আমার জানামতে, আহমদ ছফার দৃষ্টিভঙ্গিতে পুরুষতান্ত্রিকতার বীজ ছিল।

১৯. ২৯ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ৮:১৫
মৈথুনানন্দ বলেছেন: এখন আমি এক জন সাধারণ মানুষ, আলুর চপ ভাজি, কি শান্তি গো! :) গত জন্মে জ্ঞানী ছিলুম, পান্থজনের রূদ্ধসখা-টায়প বইফই পড়ে মাথা টাশকি খেয়ে গিয়েছিল, আপনাকে পাপীর পাণ্ডুলিপি দেখাচ্ছি - এক্ষুণি পিয়েম করলুম। তবে কথা হলো, প্রেমই সর্বশ্রেষ্ঠ, মধুসূদনদাদাকে পেতে গেলে অন্তরের আকুলতা দিয়ে ডাকতে হয় - জ্ঞান পুরো নিকম্মা সেখানে!!!!!
২৯ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ৯:০১

লেখক বলেছেন: জ্ঞানী মানুষের লেখা 'পাপীর পাণ্ডুলিপি' পেয়েছি। কিন্তু দাদা (নাকি দিদি) অতবড়ো লেখা অত ছোট ফন্টে পড়তে আমি রাজি নই গো। চোখটা এখনো আছে বলে তাকে যথেচ্ছ নির্যাতন করতে আমি রাজি নই। এই চোখ দিয়ে আরো অনেক কিছু দেখতে চাই।

 

মোট সময় লেগেছে ১.৬৪৪৯ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
m.mehdy@gmail.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ