অচেনা বন্দরের প্রতি প্রেম হলো আবিষ্কারেচ্ছার জনয়িত্রী
১৭ ই মে, ২০০৮ সকাল ১১:৩৩
প্রথমেই চোখে পড়ে ঘাসায়িত ছায়া, যে দুপুরে বাতাস ছিল মৃদু কম্পনসহ, কুহুটুহু তো ছিলই, মননের মূর্ছনামুহূর্তব্যাপে বাহারি উল্লাস, দিগন্ত জেগে ওঠে আত্মআয়নায়, এটি কোনো রন্ধনকার্য বা প্রণালি নয় তাকাগি ক্যায়জুর, আগুনে মূর্তিত ধাপ ধাপ সিঁড়ি, এক পদে দুই পদে চূড়া, চূড়া থেকে পৃথিবীর রূপারূপ ছোট হয়ে যায়
অহঙের ব্যাখ্যা হয় আত্মজনোচিত
২.
এরপরও কিছু কাজ বাকি থেকে যায়, এরপরও, সৃজনী পাথরগুলো একে একে গেঁথে নিয়ে যে প্রাসাদ স্বপ্নে গড়েছি এতকাল, তারে দিতে হবে দৃশ্যগুণ, দূর পাহাড়ের থেকে পাখা মেলে যে পাখিরা এইদিকে, বাতাসের পাশাপাশি ধাবমান, তাদের বিশ্রাম লাগি উপরে বানাতে হবে কূজনিত চূড়া
হাজার বছর ধরে জমা যত মানুষের সুখ, যা ছিল হাস্য-আনন্দফুল, আর যত দুঃখকথামালা, আশাবরি পাখা, আমার প্রাসাদে ওরা রয়ে যাবে, আমি কান পেতে রব, আমি ঘুমাব না, মানুষের এতকিছু সুখ-দুখ, এতকিছু কামনা-বাসনা যদি আমার প্রাসাদে থাকে, পাথরখণ্ড জুড়ে যদি থাকে স্পর্শেরা, নিজের করে কিছু চাই না হে
এ-ও ভাবি, এতসব গীতিময় হাহাকার পৃথিবীর, এতসব চিৎকার চ্যাঁচামেচি পায়ে ঠেলে আমি একা গোপন প্রাসাদ গড়ে কোন সে সুখের দেব ডিম, হা-হা ডিম, হাতি নয় ঘোড়া নয় মানুষের ডিম, সেই ডিমে কোন সে মানুষী এসে তাপ দেবে, সেবা দেবে, তার থেকে বের হয়ে তেপান্তরের মাঠে উড়ে যাবে কেমন সে পাখি, তারে ধরব কেমনে বল বাঁধব কেমনে
পাখিদের পাখা হলো সব, পাখার মুক্তি তার বৃথা গেলে, মিছে হয় পাখির জনম, এই হলে আমি তবে ডিম দিয়ে করব কী, করছি কী, এর চেয়ে হাতে পায়ে শিকল প্যাঁচিয়ে থাকা ঢের ভালো, আরো ভালো নিজে উঠে পরকে বসতে দেয়া, ডিম নয় পাখি নয় নিজেদের করে, অপরের সবগুলি কান্নাকণামালা, নিজস্ব বোধ দিয়ে ছুঁয়ে ছেনে দেখা, বাহারি প্রাসাদ গড়া ও অন্যকে ছেড়ে দিয়ে দরোজায় সযতনে নির্ঘুম থাকা, এইসব কাজ আমার বাকি রয়ে গেছে
৩.
থামো মুঠো মুঠো, রাশি জল রাশি আলো, কেন্দ্রিত ছিলে যাহা জগদীশ্বরে, নিসর্গ চুম্বিত বনে, বর্ণিল বহু আলেখ্য গানে, বাঁকে বাঁকে তেলে আর জলে, যাকে বলে মিইয়ে পড়া ভবিষ্যৎ, যাকে বলে মরে পড়ে থাকা, স্তব্ধ বেহুশ ঘুমে আলুথালু, মনের মরমিপনা চেপে রেখে, আলোর চেরাগগুলো দুইহাতে স্থির
কী তবে মুখর দিনের ভোরে জেগে উঠে বাতাসে সৃজনবীণা বাজানো, মহীয়ান কীসে হওয়া তবে, কর্মগাথাগুলো বিস্ময়ে সাধা, সুরকণা ভাঁজে ভাঁজে যদি থাকবে না, কোন আড়ে গাঁথা তবে সৃজনের চাবি, চালের বুতায়, কলকল নদীর সাম্পানে, ধোঁয়ার জ্বালা লুকিয়ে গতরে তবু, ঠমকে চমকে বেড়ে ওঠা, জেগে-ফুঁসে মহীয়ান নই যদি, আমি তবে ঘোরগুলি কীসে অনূদিব, গাইব কীসের গান, কেন গাব, যদি মহিমাই চিত্রিত নেই, শুচিবায়ুগ্রস্ততা নেই যদি...
আনি শুভ্রতা নদীর তীরের দেশে ঘুমুতে বানের জলে, এইকথা কানে কানে শোনা গেছে, স্বপ্ন রচনা করতে ফিরে গেছে পিতার জেদের ঘুড়ি, মাঝপথে সুতা ছেঁড়া একটি গাছের জন্ম প্রশ্নের মুখোমুখি ফেলে রেখে নিষিদ্ধ আনন্দ লাগি রাত জাগি, সবাই নেশার পাগল যদি কাজ তবে কারা করে যাবে
কোনো বলা-কওয়া নেই, বাচালতা নেই, লিখে যেতে হবে, লিখে লিখে কোনোমতে, ঘোর জন্মের মতো, কল্লোল জাগাতে হবে বনে বনে, কাহালু হৃদয় স্রোতে, রূপসংকট বেলায়, স্বরূপের মহিমাই বড় হয়ে ওঠে
শহুরে কুকুরকুলের গলাবাজিগীতি, তার সাথে পেরে ওঠা লাগে, অচিৎকৃত সুরে সুরে ভাসানো মন্দিরে ফুল হাতে দাঁড়িয়ে থাকে বাসন্তী দিন, ফাগুন ভরা দিঘিতে নেমে ডুব দেয় গহন কষ্টেরা, তবু হৃদয় দেবার বেলা আশঙ্কায় কলাপাতা মন কাঁপে, ঠিক সন্ধ্যাবেলা বুকে এসে লাগে ঘোর ছ্যাঁকা, ঠিক বুকে লাগে, রক্তপ্রবাহে ভেসে যায় অবিনাশী হৃদয় ফোরাত, কী করে মিটবে তবে দূরাগত পথিকের পানীয় তৃষ্ণা
৪.
জয় হে মঙ্গলাচরণ, জয় হে নিজাধীন মন সদা প্রফুল্লতা, জয় সৃজনে ডুবে থাকা টুটি চাপা রাত, জয় তথাকথিত আনন্দ ক্ষণের স্তন
যে যারে ভালো জানে সে উৎসাহী চঞ্চল, যে যারে জেগে রয় ভাবে সে রুচিবাগীশ, যে যারে অবজ্ঞা হানে সে যোগ্য নয়, হেন কাজে মক্ষিকা গুন গুন, বাগান ত্যাগিয়া আসে নিবিড় সঙ্গমে, দূর নয় কাছে, রূপার কলসিতে সুপেয় যে জল, সে জল পিয়াতে লাগে হ্রাসিত বেদনা, সহজে বিকিয়ে যাওয়া উত্তাপ নিয়ে বনের ভাদরগুলো, চনমন স্বস্তির গায় ভেজা গান
রক্তিম জানান যেটা, আমিও মশগুলা চারপাশে, আমিও তাড়িয়ে খুঁজি পথ, পথ মানে সামনে চলা যুদ্ধ করে করে, রাত জেগে এইসব পথচলা গবেষণা জরুরিই, প্রয়োজন বিশাল প্রান্তরে নিজেকেই অশেষ সন্ধান, নিজেকে জানার এই চেষ্টাটা কালে কালে ছিল, সবাই কেননা বুঝে নেয় তার মতো করে, এরা সব পায়ে ঠেলে, নিজেই নিজেরে ধরে মারে, সবার জন্য মাগে দাঁড়িকমাশ্বাস, উল্লাস ঘনঘোর, শেষে নিজের জন্যে শুধু 'কিছুই না' থাকে
Image from: http://www.linesandcolors.com
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): উভলিঙ্গ রচনা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: বৃষ্টিগাছের তলায় বিভাগে ।
লেখক বলেছেন: সব বুঝতেই হবে তা তো নয়। উপলব্ধিতে এলেই তো হলো। তবে এটা ঠিক সব জিনিসের ভিতরে সব সময় ঢোকা যায় না। মন কত জায়গায় ভ্রমণ করে আমাদের।
এত বড়ো পোস্টটি যে কষ্ট করে পড়লেন এজন্য ধন্যবাদ।
ছবিটার সংযুক্তিতে সমস্যা হচ্ছিল। এখন ঠিক হয়েছে।
কৌশিক বলেছেন:
আমি এই পোস্টকে স্টিকি করার জন্য অনুরোধ করছি। বারবার পড়তে হবে, বারবার বুঝতে হবে। কর্তৃপক্ষ, প্লিজ, এমন চমৎকার একটা লেখা বেশিক্ষন ফ্রন্টপেজে ধরে রাখুন।
লেখক বলেছেন: ধ্যুৎ, কী যে বলেন কৌশিক! এই লেখা স্টিকি করলে লোকজন ঢিল দেবে। সেটা কার গায়ে গিয়ে লাগবে তার একদম ঠিকঠিকানা নেই।
কৌশিক বলেছেন:
নির্বাচিত পোস্টে কোন বৈচিত্র নাই। প্রত্যুর চমৎকার একটা লেখা ছিল মা দিবসে। মাঝেমাঝে অনেক ব্লগার বিভিন্ন বিষয়ে নানা চমৎকার লেখা লেখেন। আপনার এই লেখাটাও সর্বাঙ্গে সুন্দর তেমন একটা। কেন যে কর্তৃপক্ষ এসব লেখাগুলোকে কিছুদিন স্টিকি করে সামহোয়ারের বৈচিত্র সংরক্ষণ করে না, বুঝিনা!
লেখক বলেছেন: নির্বাচিত পোস্টে বৈচিত্র্য আছে কি নাই আমার অতটা জানা নেই, কারণ আমি কখনো কোনো নির্বাচিত পোস্টে ঢুকি না। কোন পোস্টটা পড়া দরকার না দরকার সে ব্যাপারে আমার সিদ্ধান্তটা আমি নিজেই নেই, কর্তৃপক্ষ বা অন্য কারো সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করতে পারি না, নির্ভর করিও না।
বুঝতে পারছি, আপনি কর্তৃপক্ষের অংশ হলে হয়ত এরকমটা করতেন, তা আবার অন্য কারো কারো পছন্দও হতো না। যাক সে কথা, আপনার এরকম প্রস্তাবের জন্য ধন্যবাদ। আর আমার প্রস্তাব হলো পোস্টটা যেরকম আছে সেরকমই থাকতে দেয়া।
হাবীব ইমন বলেছেন:
আপনার লেখাটি বৈচিত্র্যতা অনুভব করছি। অনুভূতির জায়গাটায় ছুঁয়ে গ্যাছে। ভাষাময়তা স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন।
জাদু আছে সামনে নিয়ে যাওয়ার। ধন্যবাদ আপনাকে।
লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যটি স্ক্যান করলে লেখাটি সম্পর্কে যে বিশেষণগুলো উদ্ধার করা যায়, তা হলো এটি বৈচিত্র্যপূর্ণ, অনুভূতিস্পর্শী, স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও পাঠস্বচ্ছন্দ। এতগুলো গুণে লেখাটি গুণান্বিত কি না সে ব্যাপারে আমার সন্দেহ আছে।
আপনার মত জানাবার স্বাধীনতা অবশ্য আপনার আছে। ধন্যবাদ আপনাকে।
মৃদুল মাহবুব বলেছেন:
ভালো লাগলো। অন্য রকমরে।আপনার লেখালেখির অপর একটা রূপ বললে কি ভুল বলা হবে মুজিব ভাই। মনে হচ্ছে লেখা গুলো কোন নিদির্ষ্ট একটা বইয়ের জন্য লেখা হয়েছে। এই চারটি লেখা একই বৈশিষ্ট্যে অগ্রসর ফলে তাই মনে হচ্ছে।
লেখক বলেছেন: আমার অন্যসব লেখালেখি থেকে হয়ত একটু অন্যরকম এটি। তবে নির্দিষ্ট কোনো বইয়ের জন্য এগুলো পরিকল্পনা করে লিখিত হয়েছে, এই তথ্যটা সঠিক নয়। প্রকৃত ঘটনা হলো এরকম যে, চারটি লেখারই আলাদা আলাদাভাবে চারসময়ে খসড়া তৈরি হয়। 'বৃষ্টিগাছের তলায়'-এর জন্য নির্বাচিত হবার পর চারটি একটি সূত্রে গ্রথিত হয় ও একটি নির্দিষ্ট শিরোনামের আওতায় আসে। তবে লেখাগুলোর উপর পরে যতবার কাজ করা হয়েছে, ততবারই এগুলোকে একটা অখণ্ড সত্তা কল্পনা করা হয়েছে। এ কারণেই পরস্পরের মধ্যে কোনো অন্তর্গত সূত্র প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকতেও পারে, যে কারণে মনে হচ্ছে এগুলো একই বৈশিষ্ট্যের।
রবিউলকরিম বলেছেন:
বেশ ভালো লাগল। আমার তো ০ ও ২ পড়ে ঈশ্বরের মতো মনে হলো।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
এগুলো লেখার সময় তো ঈশ্বরই ছিলাম। তাই ওরকম মনে হলে হতেই পারে।
মাজুল হাসান বলেছেন:
প্রিয়তে রাখলাম।
লেখক বলেছেন: প্রিয় মাজুল, এটা তো লেখাটির জন্য মায় আমার জন্যও খুবই আনন্দের ব্যাপার। আপনাদের মতো তরতাজা তরুণদের কাছে যদি লেখাটি প্রিয় হয়ে উঠতে পারে তো, তা এটির জন্য অনেক বড়ো প্রাপ্তি।
লেখক বলেছেন: লেখাটা সম্পর্কে কি কিছু বলা যায় মাজুল?
সোমেশ্বর অলি বলেছেন:
আমিও প্রিয়তে রাখলাম।
লেখক বলেছেন: সোমেশ্বর অলি, আমি আনন্দিত।
লেখক বলেছেন: আর কিছু বলার নেই?
মুকুল বলেছেন:
উভলিঙ্গ রচনাটা মারাত্মক হইছে!!! যদিও সবকিছু বুঝি নাই (সত্য কথাই কইলাম) তবে মনের মধ্যে একটা আলোড়ন হইছে। ধন্যবাদ কবি।
*****
লেখক বলেছেন: লেখাটা যে আপনার মনের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারল এতেও এর সার্থকতা নিহিত।
ধন্যবাদ মুকুল।
মজনু শাহ বলেছেন:
আশাবরি পাখা...আহা পেতাম যদি একখানা !পাঠক কেন যে শুধু পড়ে না-বোঝার বেদনার কথা বলেন,
অনুভবের জিনিস কে কবে বুঝেছে জগতে !
লেখক বলেছেন: পাঠক একবারে পুরোটা পেতে চান এবং একবার পড়ে পাট চুকিয়ে দিতে চান। তারা হয়ত বৈষয়িকভাবে দেখেন ব্যাপারটা, এত সময় কই বারেবারে একটা রচনার প্রতি ফিরে দেখার।
ধরুন, জীবনানন্দের কোনো কোনো রচনার দিকে আমরা কতবার করে ফিরে যাই, ফিরে ফিরে যাই। আবার ফিরে আসি সমান তৃপ্তি নিয়ে রহস্যময়। কিন্তু বৈষয়িকভাবে দেখলে তো এটা মহাক্ষতির কারণ। তাই না!
তবু পাঠক মহান। তার জন্যেই তো লেখকের সবকিছু। তারাই তো লেখকের জন্য লিখবার ইন্ধন যোগান।
রাশেদ বলেছেন:
পড়লাম।
লেখক বলেছেন: পড়াই শেষ কথা।
লেখক বলেছেন: প্রিয় করলেন কি অপ্রিয় তা জানার চেয়ে লেখাটার ব্যাপারে জানা বেশি জরুরি ছিল আমার দিক থেকে।
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
দারুনননননন....ঘাসায়িত ছায়া ...... মাথায় জুড়ে গেলো।
প্রিয়তে থাকলো.........শুভেচ্ছা অনেক।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা আপনাকেও।



















ভাল লাগলো, যদিও সবটুকু বুঝতে পারিনি
ছবিতো নেই পোষ্টের সাথে। ধন্যবাদ ভাইয়া