আত্মপক্ষ সমর্থনের মাত্রাতিরিক্ত সুযোগ থাকাটাই স্বমূল্যায়নের সবচে' বড়ো সীমাবদ্ধতা
২৫ শে মে, ২০০৮ রাত ৯:২০
বয়সানুপাতে এক্সপোজড কাজবাজ এত কম কেন ? এ কথা ভাবতে গেলেই বাইশ সংখ্যাটা খুব মনে পড়ে, আসলে একুশ, লোকজন কেন যে একুশ-আঙুলেদের মিছে বাইশ-আঙুলে বলে ডাকে, আগে কখনো তা ভেবেও দেখি নি, বলতেন তিনি, শুয়ে কখনো অঙ্ক কষবি না দোহাই, অথচ তাঁর প্রিয় ছাত্রদের একজন হয়েও, শুয়ে শুয়ে ভেবে, তুচ্ছ এ কবিজীবনের আমি, ১১টা ৫৮ প্রায় বাজিয়ে ফেলেছি, এবার আমার, কী বলো, নিশ্চয়ই ফেরা দরকার কোনো টেবিলের দিকে
'বয়স কেবল সময় দিয়েই বাড়ে'-- এরকম এক বিকলাঙ্গ সত্যের সাথে আমরা বিনাবাক্যব্যয়ে বহুদিন সংসার করে যাচ্ছি, এবার ওকে জানান দেয়া দরকার যে ভ্যালিড আরো ফ্যাক্টর আছে, বয়স কত হলে এক্সপোজার কত চাই, এরও অবশ্য কোনো মানদণ্ড নেই, সর্বজনগ্রাহ্য, নানা মত ও ভাবকে আমলে নিয়ে আমরা গণতন্ত্রের ঢেকুর সামলাতে ভিতর দিক থেকে এত ব্যস্ত হয়ে পড়ি যে শিল্পসুনাম প্রযোজিত মানুষ এবং মানুষ প্রযোজিত শিল্পসুনামের মধ্যে কোনটি বেশি অর্থবহ শিল্পীর জীবনে, মত স্থির করতে করতে সে সিদ্ধান্তে, বেলা বেশ বেড়ে যায়
ভাষাটাই বড়ো ব্যর্থতা ব্যর্থ লেখকের, সব বলবার কথা ধরা দেয় না সব ভাষায়, এ কথা যে যত আগে বোঝে, সে তত পথ হাঁটে দাপটের সাথে, বেশি মশলায় কষানো অখাদ্যের সামনে একবারও পড়ে নি, এমন মানুষের সাথে আমার মোলাকাত এখনো বাকিই রয়ে গেল, আভরণের অতি ঘটা নারীকে প্রায়ই খুব কৃত্রিম ও অসুন্দর করে তোলে, কবিতাকেও, জনৈক নারী-কলিগের বিয়ের দাওয়াতে গিয়ে একবার ঢুকে পড়েছিলাম আমি ভুল কমিউনে, উদ্ভট সব সাজগোজের ভিতর থেকে ওকে খুঁজে-পেতে শেষে একটি রোস্টাহারের সময়ও আর বাঁচাতে পারি নি, আমাদের মধ্যে যারা ভেবেছে যে এক কলমে সারাজীবন লিখে যাবে, তাদের সঙ্গে মদীয় অভিজ্ঞতার খুব একটা মিল নেই, কলমকে প্রায়শই বদলানো লাগে, ভিন্ন শৈলীর দিকে মুখ করা, তাইজন্যে চমৎকার দেখতে এক কলমদানিও লাগে, অসংখ্য অপশনের একটি প্রতীকী উৎসরূপে
আমার লেখার ইচ্ছেগুলো, জানাবোঝার ইচ্ছের কাছে হারতে হারতে, মাঝে মাঝে সশব্দে দাঁত কিড়মিড় করে, বুঝেও সব আমি বলি না কিছুই, জানি যে কাউকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দেয়া তার অধিকারে বাঁ'হাত, দেখার ইচ্ছেটা যেদিন হাঁসফাঁস করবে ক্লান্তিতে, কব্জিতে জোর থাকলে সেদিন, লেখার ইচ্ছেটা করতে পারে যা খুশি তাই, দু'য়ে মিলে এক হয়ে থাকাটাই সঙ্গত, এটাও এক দাম্পত্য ধরন, তবে প্রচলিত জায়া-পতি ধারণা এখানে নেই, একের খবর অন্যে নেয়া জরুরি খুব, বাট ডমিনেশন নট এলাউড, গৃহ-সহিংসতার কোনো বালাই নেই, একত্রবাস ফুটফুটে সব পোলাপান দেয়, দেয়ও না কখনো, এক বা দু'পক্ষেরই যদি সমস্যা থাকে, নিষেকোচিত
ফের যেদিন শুরু করলাম, সেটা বহুদিন পরে ভিতরের টানে, বাইরের চাপ ছিল বদার করি নি, যেসব বন্ধু ব্রাহ্মণের পৈতা পরে বাঁশের মাচাঙে বসে গ্রহদের উত্থান-পতন দেখছে খালিচোখে এবং যেসব বন্ধু খ্যাতির দুয়ারে দাঁড়িয়ে গোঁফে তা দিতে দিতে একটা তীর্যক দৃষ্টি রাখছে লুপ্তপ্রায় বিরল প্রাণীদের ওপর, তাদের কারোর সাথেই আমার প্রতিযোগিতায় যাবার ইচ্ছে নেই, দরকারও নেই, কেউ কেউ ভাবে, পথ একটাই ওপরে ওঠার, স্বর্গে যাবার তারা একটা মার্গই মাত্র চেনে, অথচ জানা কথা যে অজস্র পথ আছে নানাদিকে ছড়ানো ছিটানো, 'ভিন্নপথে যাত্রা করে শাস্ত্র মেলে একস্থান', এইকথা বাংলার লোকধর্মও বলে, অবশ্য পতনের পথ একটাই, নিষিদ্ধ ফলভক্ষণ, বর্ণে-গন্ধে লোভনীয় সে ফলের দিকে রসনাপূজারীদের বেপরোয়া গতিবিধি দেখে, সঙ্গত হাসিটা থামাতে আমি দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে থাকি, অস্পৃশ্যতাবাদী ব্রাহ্মণ ও নিষ্ঠাবান লোভীদের সাথে একত্রে পথচলা বড়ো ঝামেলার, এদের একদল মাথার ওপর দিয়ে চিল উড়ে গেলে ভাবে জঙ্গিবিমান, আরেকদল শূকরের মতো নাক ডুবিয়ে ড্রেন থেকে উঠিয়ে আনে বর্জ্যবাহার, এদের কারোর সাথেই, জেনেশুনে, চা-পানকালীন খণ্ড কোনো বচসায়ও আমি আর রাজি নই, ওরা ওদের মতো থাকুক, একটা পিঁপড়েও কেননা সমান দরকারি এই ইকোসিস্টেমে
'যাহা সত্য, তাহা সুন্দর, তারেই বাসো ভালো', এই মন্ত্র আমি বরাবরই জানি, তবে মঞ্চে চরিত্রমুখে বিশেষ পরিবেশে এ কথা শুনলে পরে নারী হলেও তাকে 'প্রেরিত পুরুষ' বলে মনে হয় আমার, সমাজেতিহাস বিষয়ে যৎপরোনাস্তি জানাশোনা, 'প্রেরিত নারী'র স্থলে 'প্রেরিত পুরুষ'-বন্ধটিই এখানে অনুমোদন করে কিঞ্চিৎ সমালোচনাসহ, বন্ধটি হরিচরণে নেই, কোনো পয়দাদেশই কেননা বর্ণিত নয় নারী পয়গম্বরের মুখে, ঈশ্বরও অঙ্কিত নানা পুরুষের রূপে, যেহেতু ধর্মপুরাণ বড়োবেশি পুরুষতান্ত্রিক, তবে কথা সেখানে নয়, আমি 'বিনোদিনী' দেখতে গেছি মানে কিন্তু নয় শুধু নটী বিনোদিনী, আমার কলাবেচার অধিকারের প্রতি করা উপেক্ষাপ্রয়াসটুকু মনে থেকে যাবে, গিফট মানে শুধু শুধু বস্তুভাবই নয়, বিনা মনোত্তাপে ওটা বোরো ধানের চিটা
মাসোহারা একটা বাতিঘর, কর্মজীবীদের, ওদিকে তাকিয়ে সংসার সমুদ্রে ভাসা নাবিকেরা, বুকে সাহস নিয়ে এগিয়ে ভি চলে, দায় ও মাল কীভাবে খালাস হবে তার নকশাপত্র আঁকে, আমার মতোদের ঠিক মাঠে মারা যেতে হবে, হঠাৎ সুনামি এসে ভেঙে গেলে বাতিঘর, ঘটিবাটি নিয়ে ঠিক ভেসে যেতে হবে, ভাসাটা চিরকালই মজাদার বটে, ভয় যত মোহনার পাকচক্রটিকে, যে দায়গুলো আমার পড়ে আছে নিজের ও অন্যের কাছে, সেসবের প্রেক্ষিত মনে এলে হঠাৎই নিজেকে খুব হিজড়া হিজড়া লাগে, ভাবি যে যতদূর নাগাল মেলে ওইদিকে, ততবড়ো ক্রসচিহ্ন এঁকে এক, চোখ দু'টো মুদে রাখি চুপে, কিন্তু 'অন্ধ হলেও প্রলয় বন্ধ থাকে না' মনে হয়ে যাওয়ায়, ক্রসচিহ্নজনিত ডিজেস্টারের থেকে এ যাত্রা প্রাণে রক্ষা পাই, এসব হলো গিয়ে লোকশিক্ষা, প্রয়োজনীয় খুব, তৃতীয় শ্রেণির অঙ্ক শিক্ষকের মতো, রামধনু দেখে বেড়াবার বেলায়ও, বিকেলে, আঙিনায় পেয়ে বলে বসে, হারে, তেরর কোঠার নামতাটা শিখেছিস বাছা! স্থানকালপাত্র সম্পর্কিত সাপেক্ষ জ্ঞানে খানিকটা ঘাটতি আছে মনে হলেও, লোকশিক্ষা প্রায়শই কাজে দেয়, ইনস্ট্যান্ট
সবাই ঘুমিয়ে গেলে রাতে আমি আনন্দে জাগি, লিখিপড়ি, পেছনে বাজতে থাকে মৃদুসুর, ভোরকোমলা, ফিল্মে বুঁদ হয়ে থাকি, কখনো বা বন্ধুদের কল দেই, এ আনন্দের হাত-পা কেমন যারা বুঝতে পারে, তাদের সংখ্যা দেখি ক্রমশই বাড়ছে, অথচ আমার ডি-জুস প্যাকেজ নেই, দুরু দুরু বুকে তাই কনভারসেসন পিছলে যায় রঙ ইন্টারপ্রিটেশনের দিকে, গাঁটের পয়সা খুইয়ে যেদিকে যাওয়া একেবারে অর্থহীন, মনোমতো প্রতিমা নেই, নতুন ছবিটবি খেলে না সে তীর্থে, জাগে না ছবিকল্পও, ঘুমার্দ্র যারা স্কুল ছেড়ে গেছে, কণ্ঠে ক্লান্তিভার, তাদের মায়া কাটিয়ে উঠি ডিফেন্সি বাঁশিতে, অন্ধকারকে ওরা থরথর কাঁপিয়ে দেয়, মনে হয় সবাই কখনো যায় না ছেড়ে চলে, হাইবারনেশন থেকে জেগে উঠে কেউ কেউ খোঁজ নেয়, খবরও তো, কাচ্চাবাচ্চা হলো কি না কোনো, কিংবা, এবারে ওইদিকে এডিসের ধারাওড়া কেমন, পাঁচতলায় খুব একটা মশা নেই বলে আমরা শঙ্কামুক্ত বেশ, আনন্দিতও, তবু এডিস কী এডিস নয়, তা আমরা কেমনে বুঝব গো, যদি দুয়েকটা থাকেও, নিরাপদে থাকতে আমরা লেবু বা বেলির টবে খুব একটা জমতে দেই না পানি, ডেঙ্গু কী ভয়ানক চিজ সেটা সুচাঘাত খেতে খেতে বছর চারেক থেকে খানিকটা বুঝি, ওটারই এক স্বচ্ছ স্মারক, তুমি তো জান, বহন করছি আজো বেদনাভিঘাতী
ভররাতে সহসা ফুরালে সিগারেট, তড়িঘড়ি ছাদে যাই, গিয়ে হাতেকলমে, আসলে চোখেকানে, আমাকে বোঝাই যে মুদি দোকানগুলো সব বন্ধ হয়ে গেছে আজকের মতো, রাস্তাঘাট অন্ধকার, পাঁচতলা থেকে নামাওঠার শব্দে এখন, গোটাবাড়ি, বালিশ থেকে মাথা তুলে খরগোশের মতো উৎকর্ণ হয়ে যাবে, তাতে মন বুঝ মানে, মনে মনে মনকলা খেতে মন রাজি হয়, খুশি হয়ে ওকে আমি নিয়ে আসি ঘরে, ফ্রিজ খুলে বলি, পানি ঢালো যত পার গলায়, বস্তু বদলে হয় মানুষ বদল, কিন্তু তোমার মনের বদল আমি কিছুতে পারি নি ঘটাতে বন্ধু, আমাকে যদি একদলা বস্তুই ভাবো, আমার বদলে তবে মনের বদল তোমার হতে পারে ভাবি, এটি হলে মনে হয় নানাদিকে এই আমার এক্সপোজার বেড়ে যাবে আরো
Image from: http://chambermusictoday.blogspot.com/
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): উভলিঙ্গ রচনা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: বৃষ্টিগাছের তলায় বিভাগে ।
লেখক বলেছেন: বেশ তো।
ইফতেখার ইনান বলেছেন:
দুইবার পড়লাম... আরো একবার বোধহয় পড়তে হবে.. +
লেখক বলেছেন: ইস, এত কষ্ট করছেন!
লেখাটা না টানলে আবার পড়বেন কেন? টানলে অবশ্যই পড়বেন। পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
দস্যু বনহুর বলেছেন:
সেভ কইরা রাখলাম। আপাতত পেলাচ।
লেখক বলেছেন: পড়ে পরে মত জানালে খুশি হব।
মুকুল বলেছেন:
বস্তু বদলে হয় মানুষ বদল, কিন্তু তোমার মনের বদল আমি কিছুতে পারি নি ঘটাতে বন্ধু...
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, পারিই নি আসলে।
রিয়াজ শাহেদ বলেছেন:
ভাই রে ভাই কী পোস্ট!কিন্তু মুজিব ভাই শিরোনামটাতে মনেহয় ভুল আছে? মাত্রাতিরিক্ত হবে তাইনা?
লেখক বলেছেন: ছি ছি! সারছে।
ভুলটা ধরিয়ে দিয়ে খুব উপকার করলেন শাহেদ। একটা 'রি' বেশি টাইপ হয়ে গিয়েছিল।
কিন্তু লেখাটা সম্পর্কে কিছু বললেন না তো!
কৌশিক বলেছেন:
পোস্ট ফেভারিটে না নিয়ে উপায় নাই।
লেখক বলেছেন: ভালোমন্দ কিছু না শুনে ফেভারিটে আমার আস্থা নেই জনাব। কিছু তো বলেন।
কথনভঙ্গি, বিষয়ী বিন্যাস, মাঝে মাঝে কাব্যময়তা মিলিয়ে একটা এটোমিক গদ্য হয়ে গেলো কবি।
আপনেরে একখান প্লাস
লেখক বলেছেন: এজন্যই এটা উভলিঙ্গ রচনা। ট্যাগিংটা তো তাহলে বৃথা যায় নি দেখছি।
কৌশিক বলেছেন:
পড়ার পরে অনুভূতি কেমন হয়েছে সেটা লিখতে গেলে, বা পড়তে পড়তে কোথায় গেলাম সেটা বলতে গেলে আপনাকে আবার এই লেখাটা পড়ে নিলেই হবে।
লেখক বলেছেন: লেখাটা প্রথম খসড়া থেকে শুরু করে এখানে পোস্ট করা পর্যন্ত, সন্দেহ নেই, আমি অজস্রবার পড়েছি। আমার লেখা নিয়ে আমার অনুভূতি তো তাৎপর্যহীন। বৈচিত্র্যসন্ধানেই আপনারটা জানতে চাচ্ছিলাম।
হতাশ করছেন কেন?
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
আপনার এই লেখা আত্মজৈবনিক নি:সন্দেহে। যেন নিজের সাথে বারবার পরিকল্পনা ঠিক করা। আর এর মধ্য দিয়েই আপনার অবস্থান পরিষ্কার হচ্ছে। একইসাথে আপনার জীবনের জিনিওলজিকাল ট্র্যাজেকটরিও। ভাষার দাপট তো আত্মপরিচয় নির্মাণের এবং সদম্ভ প্রকাশের একালের সবচেয়ে ভাল রাস্তা। যদিও প্রাচীন ভারতের জ্ঞানীরা বলতেন কথা শেষ না করে উহ্য রাখতে যাতে নানা মতে ও বক্তব্যে এর বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পায় এবং উত্তরের পূনরাবৃত্তি না ঘটে। কিন্তু এইকাল ক্যারিশমার। আপনার না থাকলে কিনে নিন বা শিখে নিন এই সামাজিক পুঁজি।আপনিও কিন্তু একভাবে আত্মপক্ষ সমর্থনই করলেন। তবে উপলব্ধি মূলক শিরোনাম আকর্ষনীয়। যদিও আপনার তীব্র বন্ধুরা যা বলবে বলে অনুমান করি তা হল, তোমার কোমলতার পথটা অনেক পিছলা বন্ধু, কেমন য্যান সূফী সৃফী লাগে।
আমার ভাল লাগল। তীব্রতা মাঝে মাঝে খুব জলো হতে পারে এমন অনুমান থেকেই।
প্রিয় পোষ্ট।
লেখক বলেছেন: শরৎদা, বোঝাই যাচ্ছে আপনি পোস্টটি অনেক মনোযোগ দিয়ে পড়েছেন।
আপনার অনেক আবিষ্কারই সঠিক এক্ষেত্রে। ওই যে বলছেন আত্মজৈবনিক, পরিকল্পনা ঠিক করা এবং তার ভিতর দিয়ে স্বঅবস্থান পরিষ্কার করা। এগুলো এ লেখার অবশ্যবৈশিষ্ট্য। জিনিওলজিকাল ট্র্যাজেকটরি ব্যাপারে আমি স্বচ্ছ নই, এটার প্রকাশ সজ্ঞানে নিয়ন্ত্রণের দরকার হয় না হয়ত, অজ্ঞানে ও অবচেতনেও ঘটতে পারে। তাই বলা যায় ঘটলে ঘটেও থাকতে পারে। আর ভাষা ব্যাপারে তো এই পোস্টেই কিছু চিন্তা স্থাপিত আছে। বলেছি 'ভাষাটাই বড়ো ব্যর্থতা ব্যর্থ লেখকের'। ওই ব্যর্থতা তো আমারও আসলে।
এই সিরিজের লেখাগুলোর নামকরণে কোনো লুকোছাপা নেই। বস্তুতপক্ষে লেখাটায় আমি স্বমূল্যায়নেই উপগত হয়েছি এবং মূল্যায়ন শেষে যখন দেখলাম আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগটা অনেকটা বেশিই নেয়া হয়ে গেছে, তখনই শিরোনামের উপলব্ধিটা এসেছে।
বন্ধুরা তো তাদের মতো করেই ভাববে, ভাবুক। আপনিও যেমন আপনার মতো করেই ভাবলেন। কিন্তু ভাবনাগুলোতে যদি ফাঁকি না থাকে তাহলে তার সবই আমি নিতে রাজি। আমি এমনকি জলোতেও আপত্তি করছি না, কারণ আপনাতে ফাঁকি ছিল না।
অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
মৃদুল মাহবুব বলেছেন:
মুজিব ভাই,সবাইতো নিজ নিজ জীবন উপলব্ধি করি, কিন্তু সেই উপলব্ধ জীবন শব্দের দঁড়িতে বেঁধে কবিতার খাতায় ঝুলিয়ে রাখা কঠিন। সেই কঠিনের কোমলতা পেলাম লেখাটির ভেতর।
অনেক ভালো লেগেছে লেখাটি। হতাশা আর দুঃখই কি তবে পুথিবীর শ্রেষ্ট সুর? গভীর হতাশা আর ব্যাপক কোন দুঃখের উপস্থিতিই কেন বারবার এতা শিল্পিত হয়ে ওঠে কলমের রঙে?
প্রিয় পোষ্টে রাখলাম।
লেখক বলেছেন: মৃদুল, বরাবর এটাই হয়ে এসেছে দেখা যায়। সুখের চেয়ে বেদনাই শিল্পের প্রগাঢ়তাকে বেশি করে স্পর্শ করতে পারে।
সুখকে আমরা হয়ত সুখে সুখে খাবলা মেরে ধরি, আর অন্যদিকে দুঃখকে কষ্টে কষ্টে গভীর করে ছুঁই। এই-ই সম্ভবত ব্যাপার, আমার এ মুহূর্তের ধারণায়।
ভালো লাগল আপনার মন্তব্য পেয়ে।
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
আমি এমনকি জলোতেও আপত্তি করছি না, কারণ আপনাতে ফাঁকি ছিল না।......আপনি আমার কমেন্টরে জলো কইলেন? ধু:খ পাইলাম।আসলে ভাষার শয়তানী করলাম একটু। লেখা পড়ে অনেক ভাল লাগছে।
লেখক বলেছেন: এই রে, তা কইলাম কই?
আফনে যে কইলেন 'তীব্রতা মাঝে মাঝে খুব জলো হতে পারে এমন অনুমান থেকেই' লেখাডা আফনের ভালা লাগছে-- এই 'জলো'তেও আমি আপত্তি করি নাই কইছি। কথা প্যাঁচাবেন না কইলাম, আমি অহন ঘুমাইতে যামু।
সামী মিয়াদাদ বলেছেন:
আমার কাছে এটি বহুমুখী রচনা মনে হচ্ছে। কখনো কবিতা, কখনো আত্মজীবনী, কখনো ছোটগল্প
ইহার একই অন্গে শতরূপ

শতরূপে রূপান্বিত হন কবি
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, শিল্পের নানা ফরম একত্রে মিশে থাকার একটা লক্ষণ এই সিরিজের রচনাগুলোতে স্পষ্ট। এরকম বিবেচনা থেকেই এগুলোকে উভলিঙ্গ রচনা (androgynous text) নামে ডাকি আমি। আসলে বলতে চাই এগুলো লিঙ্গহীন টেক্সট। কিছুই না অথবা ম্যালা কিছু। আপনি জায়গাটা শনাক্ত করতে পেরেছেন দেখে ভালো লাগল।
লোকশিক্ষবাদীলিঙ্গ/ভাববাদীলিঙ্গঃ
কিন্তু 'অন্ধ হলেও প্রলয় বন্ধ থাকে না' মনে হয়ে যাওয়ায়, ক্রসচিহ্নজনিত ডিজেস্টারের থেকে এ যাত্রা প্রাণে রক্ষা পাই, এসব হলো গিয়ে লোকশিক্ষা, প্রয়োজনীয় খুব.....
বস্তবাদীলিঙ্গঃ
তোমার মনের বদল আমি কিছুতে পারি নি ঘটাতে বন্ধু, আমাকে যদি একদলা বস্তুই ভাবো, আমার বদলে তবে মনের বদল তোমার হতে পারে ভাবি....
আক্ষরিক অর্থেই উভলিঙ্গ। যে যেমন বুঝে ঠিকই বুঝে। দারুণ।
লেখক বলেছেন: জনাব মহাজাগতিক, আপনি তো দেখছি নতুন নতুন লিঙ্গের সন্ধান দিতে লেগেছেন। বাহ, আমি আনন্দিত। এহেন লিঙ্গবহুলতা তো লেখাটির জন্যই নতুন নতুন মহিমা প্রস্তাব করতে চাইছে যেন। তা যাহোক, আপনার দেখার ভঙ্গি আমার খারাপ লাগে নি।
হ্যাঁ তাই, 'যে যেমন বুঝে (হয়ত) ঠিকই বুঝে।'
লেখক বলেছেন: লেখকের ব্যাখ্যা তো লেখার সর্বনাশ করে। আমি তা করতে চাই না বস্তুত। কিন্তু জবাব করতে যেয়ে যত কার্পণ্যই করি না কেন, একটা দৃষ্টিভঙ্গি কোনো-না-কোনোভাবে প্রকাশিত হয়ে পড়ে। সে বিবেচনায় মনে হয় জবাবে উদ্যোগী না হওয়ায়ই ভালো। আবার এটাও ঠিক যে, যোগাযোগ অর্থময় হয় কেবল তখন, যখন বার্তাকে উদ্দীপিত করে কোনো সাড়া। তো এটা করতে গিয়েই কিছু ক্ষেত্রে নগ্ন হতে হয়, হইও। কারণ ব্লগকে আমি একটা পরীক্ষাগার হিসেবে দেখি। মতবিনিময়ের ভিতর দিয়ে ওই পরীক্ষাটা পূর্ণাঙ্গ হয়।
গড় বিবেচনা পিছে রেখে একটু এগিয়ে আপনার থিমেটিক্যাল লিঙ্গভেদ বরং একটা নতুন ভাবনাবলয়ে ঠেসে দিতে চাচ্ছে আমাকে। ওখানে হয়ত রচয়িতার জন্যে নিহিত আছে এক মঙ্গলঘাট। ওই ঘাটে গিয়ে হয়ত বসবও কখনো।
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন:
ভাষায় ভাসলাম, এই ভাসাটা মজাদার বটে। (বদার শব্দটা পালটানো যায়? কেন জানি কানে লাগলো)
লেখক বলেছেন: বদার করি নি, বদার করি নি... কয়েকবার পড়লেও কি লাগে কানে?
তখন বিকল্প পাই নি, সেভাবে খুঁজিনিও আসলে। দেখব।
ধন্যবাদ। তাছাড়া আমি যখন গল্পের এই অংশটিকে নিউক্লিয়াস ভেবেনিয়েছিলাম তখন পাঠের অন্তরালে একটি পাঠ পেলাম..
... হঠাৎ সুনামি এসে ভেঙে গেলে বাতিঘর, ঘটিবাটি নিয়ে ঠিক ভেসে যেতে হবে, ভাসাটা চিরকালই মজাদার বটে, ভয় যত মোহনার পাকচক্রটিকে, যে দায়গুলো আমার পড়ে আছে নিজের ও অন্যের কাছে, সেসবের প্রেক্ষিত মনে এলে হঠাৎই নিজেকে খুব হিজড়া হিজড়া লাগে, ভাবি যে যতদূর নাগাল মেলে ওইদিকে, ততবড়ো ক্রসচিহ্ন এঁকে এক, চোখ দু'টো মুদে রাখি চুপে....
জীবনের এ বোঝাপড়ার মোক্ষম সময়টিকেই যদি গল্পের কেন্দ্রবিন্দু ধরি তাহলে তো এ এক অন্তরালের পাঠ। অস্তিত্বের সুনামি পর্যায়ে হঠাৎ উপলদ্ধিকেই তো 'সত্য' বলে মানতে মন চায়। এ এমন এক সময় যখন জীবনকে দেখতে পাই জীবেনর গন্ডির বাহিরে থেকে। তাই "..যতদূর নাগাল মেলে ওইদিকে, ততবড়ো ক্রসচিহ্ন .." টিকেই গল্পের নিউক্লিয়াস ভেবে নিলে তো পাঠের অন্তরালে একটা রিভার্স পাঠ পেয়ে যাই। যে পাঠে 'ক্রস'টাই নিউক্লিয়াস' আর গল্পের নিউক্লিয়াস কে কেন্দ্র করে যা কিছু আবর্তিত তা সবই জীবনের মাঝে ডুবে যাওয়া চেতনার মোহময়তা।
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, জীবনই তো খাওয়াচ্ছে এতসব নাকানিচুবানি। ওরই সব তলানি হাতড়ে ওঠা নুড়িমালা, এইসব। দূর থেকে শুধু বুদবুদটাই নজরে আসে, কাছে এলে টের পাওয়া যায় এরকম নাড়ির স্পন্দন।
নিন, নিয়ে যান, যেদিকে ইচ্ছে। 'যে যেমন বুঝে (হয়ত) ঠিকই বুঝে।'
আর এ অন্তরালের পাঠের সমর্থনে যদি এ অংশটিও যোগ করি তাহলে কেমন হয়?
....আমাকে যদি একদলা বস্তুই ভাবো, আমার বদলে তবে মনের বদল তোমার হতে পারে ভাবি, এটি হলে মনে হয় নানাদিকে এই আমার এক্সপোজার বেড়ে যাবে আরো....
আবার,
এটি হলে মনে হয় নানাদিকে এই আমার এক্সপোজার বেড়ে যাবে আরো....
বস্তঘনিষ্ঠ হতে চাওয়ার এ প্রবণতা তো কোন আদর্শিক মূল্যায়ন দাবী করে না, বরং তা যেন এক্সপোজার বাড়তি, ফলতঃ বিপননে কাটতি এবং ফলতঃ অর্থনৈতিক স্বস্তি। শেষ অংশটুকু এভাবে বুঝলে তা আবার আমাকে গল্পের মাঝঅংশে নিয়ে গিয়ে ফেলে দেয়। যেখানে..
...মাসোহারা একটা বাতিঘর, কর্মজীবীদের, ওদিকে তাকিয়ে সংসার সমুদ্রে ভাসা নাবিকেরা, বুকে সাহস নিয়ে এগিয়ে ভি চলে...
এভাবে গল্পটি যেন এক পৌনপুণিক জীবনযাত্রা। এ যেন এই আটপৌরে জীবন স্বয়ং। আর 'ক্রস' টিও যেন আটপৌরেই. কারণ জীবন যতক্ষণ আটপৌরে ক্রসও ততক্ষণ আটপৌরে।
লেখক বলেছেন: সব এক্সপোজারই কি বিপণনবর্ধক, সব বিপণনই কি আর্থিক স্বস্তি? হয় কি এরকম?
হবেও বা হলে, না হবে না হলে।
'যে যেমন বুঝে (হয়ত) ঠিকই বুঝে।'
লেখক বলেছেন: ঠিক শেষ মন্তব্যে এসে আবার আপনার প্রথম মন্তব্য থেকে পড়ে আসতে ইচ্ছে হচ্ছে।
অলমিতিতে আপনি পরিষ্কার হলেন।
ধাঁধায় ফেলেছেন বেশ, এখন আর কীভাবে খুব করে না ভেবে কথা বলি?
লেখক বলেছেন: ভেবে দেখলাম, আপনার কথিত ওই একরৈখিক বিবেচনাটিই ঠিক।
'যে যেমন বুঝে (হয়ত) ঠিকই বুঝে।'
মিথ্যা করে না বললে আমাকে বলতেই হবে যে, প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে আমি চাই শ্রমবাজারে আমার মজুরি বাড়ুক, সাহিত্যবাজারে আমার চাহিদা বাড়ুক, সম্পর্কবাজারে আমার কদর বাড়ুক। 'পণ্যবাজারের উপযুক্ত করে গড়ে তোলার মত ব্যাপার' বললে সায় দিতে প্রথমে মন চায় না হয়ত পণ্য শব্দটির জন্যই। কিন্তু পরক্ষণে ভেবে দেখি, আমিও আসলে পণ্য বৈ তো নই। আপনিও নন, সেও নয়। মুখোশ আমাদের যাই থাকুক। আমাদের পার্থক্য এই যে, সবাই এক বাজারে বিকোই না। উত্তমর্ণের এক বাজার, অধমর্ণের আরেক। কিন্তু বাজার সবারই আছে, আছে দরকষাকষি।
তখনই মনে হয় এ জীবন আরোও পূর্ণ হতে পারতো !
অথবা সেটুকুনই বা কজন পারি !!!!!
লেখক বলেছেন: জীবনের অপূর্ণতার তো আর শেষ নেই ইলিয়াস ভাই। সে আমার মতো অখ্যাত জনের যেমন আছে, তেমনি আছে খ্যাতিমানদেরও।
আন্দালীব বলেছেন:
দীর্ঘ রচনা, কিন্তু কোথাও শ্লথ হয়ে যায়নি। ভাবি - কতো সাবলীল আপনার ভাষাভঙ্গী! একে যাই বলা হোক - মুক্তগদ্য, দীর্ঘকবিতা, বয়ান বা যেকোন কিছু,
এইযে পাঠকের কাছে নিত্যনতুনভাবে নিজেকে মুদ্রন করা - এটাই খুব ভালে লাগে। খুব বেশীজনকে তো এদিকে সফল দেখিনা।
অভিনন্দন কবি।
লেখক বলেছেন: এই লেখাগুলো লিখিত হওয়ার সময় আমি সচেতন ছিলাম না যে কী লিখছি। এ সিরিজের প্রায় সমস্ত লেখাই খুব স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়েছে। লেখবার শেষে দেখেছি কেমন কেমন যেন হয়েছে এগুলো, ঠি কারো মতো না, যেন কোনো জাতেই পড়ে না তারা। কোনো একটা বিশেষ ছক/আঙ্গিকের প্রতি মৌলবাদীমার্কা কট্টর সমর্থন থাকলে আমি এই লেখাগুলোকে হয়ত অনুমোদনই করতে পারতাম না কখনো। ভাগ্যিস, আমার সেরকম বদ্ধমূল ছকবিশ্বাস নেই।
ধন্যবাদ আন্দালীব।
আন্দালীব বলেছেন:
ভালে= ভালো
লেখক বলেছেন: এটা কোনো ব্যাপার না প্লিজ।
ফাহমিম বলেছেন:
ভাই...আপনার বর্ণনার ভঙ্গী অসাধারন।আমি ছোট মানুষ,এর বেশী কিছু বললে বেয়াদবি হবে।
লেখক বলেছেন: বেয়াদবি নেবেন না-- এই অভিধা বড়ো ভারী হে, আমি এর যোগ্য নই।



















ভালো লাগলো খুব।
+++++