somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আর নয় - এবার থামুন

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকটা বাধ্য হয়েই আমি এই পোস্ট লিখতে বসেছি। বিড়ম্বনা, বিব্রতবোধ - এই শব্দগুলোর সাথে আমার খুব বেশি সখ্যতা নেই। তবে গত কয়েকদিনে এ শব্দগুলোর স্বাদ একটু হলেও চাখতে আমায় হয়েছে।

ব্লগে গত কয়েকদিন ধরেই দেখতে পাচ্ছি বেশ কয়েকজন ব্লগার আমাকে নিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন, প্রশংসা করছেন। আচ্ছা ভালো কথা, পোস্ট দিতেই পারেন, প্রশংসা করতেই পারেন। কিন্তু চিনি বেশি হয়ে গেলে যেমন তিতা লাগে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রশংসা বাক্যও ঠিক তেমনই মনে হয়। আমার ৬ মাসের ক্ষুদ্র ব্লগীয় জীবনে আমাকে নাপিষ, নাফিষ, নাপিত আরো অনেক রকম উপাধি দেয়া হয়েছে। বলাই বাহুল্য, আমি এগুলো খুবই উপভোগ করি। বোঝা যায় ব্লগে অনেকেই আমাকে খুব পছন্দ করেন। কিন্তু আমাকে বস, গুরু এসব ডাকলে খুবই বিব্রত বোধ করি আমি। ফান করে ডাকলে সেটা ঠিক আছে, কিন্তু সিরিয়াসলি মোটেও নয়। কারন আমি জানি, আসলে যাদেরকে বস, গুরু প্রভৃতি ডাকা প্রয়োজন তাদের চুল সমতুল্যও আমি নই - আমার বিনীত স্বভাবের দরুন বলছি না, আসলেই নই। আমার মনে হয় ব্লগাররা আরো ভালো বলতে পারবেন বিষয়টা।

আমি মূলতঃ ফানপোস্ট দেই। আরো একটু পরিষ্কার করে বলতে গেলে সামহোয়্যারের দৈনন্দিন ঘটনাবলীই আমার পোস্টর মূল উপজীব্য। কেউ যদি বলে আমি সামহোয়্যার ব্যবসায়ী - সামহোয়্যারকে বেঁচে খাই, তবে তা মোটেও অতুক্তি হবে না। কথাটার যুক্তি আছে বটে। অনেকেই আমার পোস্ট পড়ে মজা পান, ভালো লাগে তাদের। কারনটা খুব সহজেই অনুমেয়। সামহোয়্যারে রোজ প্রচুর জটলা হয় - রাজনৈতিক, ধর্মীয়, ব্লগীয় রাজনৈতিক, আরো কতো জটলা। কোন ব্লগার অপর ব্লগারের মুখোশ টেনে খুলে ফেলতে চানতো, কেউবা শতখানি নিকের আড়ালে নিজেকে লুকোতে চান। খুবই আজব কিন্তু মজার জায়গা সামহোয়্যার। এতোকিছুর মধ্যে ফানপোস্টগুলো সবাইকে হাসির একটু সুযোগ করে দেয়। আর তাই এটুকু হাসির প্রতি লোভ থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

গত কয়েকদিন ধরে ব্লগে আমাকে নিয়ে বেশ কয়েকটি পোস্ট হয়েছে। কোনটা আমাকে প্রশংসার তেলে চুবিয়ে কোনটা বা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে গিয়ে ছ্যাবলামির আসর বসিয়ে। কোনটা বা আমাকে হেঁয় প্রতিপন্ন করতে। খুব অবাক হলাম ব্লগে অনেকেরই ধারণা আমার একাধিক নিক আছে। হ্যাঁ, কথাটা মিথ্যা নয়। আমার আরেকটি নিক আছে, কিন্তু ঐ একটিই। সে নিকটির নাম "অনিন্দ্য" যা আমার ডাকনাম দিয়ে খোলা। নিকটি আমার ব্লগ জীবনের একদমই প্রথম দিনে খুলেছিলাম। তাই "নাফিস ইফতেখার" আর ঐ নিকটির বয়সও সমান। নিকটি খুলে আমি বাংলা লিখতে পারছিলাম না, তাই নাফিস ইফতেখার নামে আরেকটি নিক খুলেছিলাম। নোবেলজয়ী - যে আমাকে ব্লগে নিয়ে আসে, সে পরে আমার বাংলা সেটিংস ঠিক করে দেয় ও অতঃপর আমি নাফিস ইফতেখার নিকটি নিয়েই ব্লগিং করতে থাকি। অনিন্দ্য নিকটির কথা আমি বেমালুমই ভুলে যাই। ওটা দিয়ে আমি কোনোদিন কোথাও কোন পোস্ট দেইনি, কমেন্ট বা রেটিং দেইনি এমনকি আমি জানিও না আমি আদৌ প্রথম পাতায় এ্যাকসেস পেয়েছি কিনা। অনেকেতো ব্যান খেলে তার অন্য নিকটি নিয়ে ব্লগিং করে। জীবনে একবারই ব্যান খেয়েছি, আমি তাও করিনি।

ব্লগে ৬ মাস ব্লগিংয়ে আমি ব্লগের অনেকগুলো সত্য উপলব্ধি করেছি। তার মধ্যে অন্যতম হলো একাধিক নিক থাকার বিষয়টা। এখানে একই ব্লগারের একাধিক নিক থাকাটা এতোই প্রচলিত যে কেউ যদি বলে যে তার আর কোন নিক নেই তাহলে সবাই হাসিতে ফেটে পড়ে। এমন না যে একাধিক নিক থাকাটা খারাপ কিছু। সামহোয়্যার কর্তৃপক্ষ তাদের নীতিমালায় আনুষ্ঠানিকভাবে একাধিক নিক থাকাটাকে সমর্থন করেন। সমস্যা হচ্ছে অনেকেই এই একাধিক নিক নিয়ে ব্লগে নিজেকে বিখ্যাত করার চেষ্টা করেন, কেউবা ব্লগে রীতিমতো যুদ্ধ বাঁধিয়ে একেকটা নিককে তার একেক সৈন্য বানান, নিজেকে রক্ষা করেন, নিজের মতবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। কেউবা আবার একটি নিক ব্যান খেলে অপরটি দিয়ে ব্লগিং করেন। আর তাই ব্লগে একাধিক নিক থাকাটাকে অনেকে ভন্ডামি হিসেবেই ধরেন। অনেকেই আবার দিব্যি বলে বেড়ান তার একধিক নিক। ব্যাক্তিগতভাবে আমি একাধিক নিক থাকাটাকে ভালো বা খারাপ কোন চোখেই দেখি না, স্বাভাবিকভাবেই দেখি।

সমস্যা হচ্ছে আমি যেখানে জানি আমি মাত্র একটি নিকেই ব্লগিং করি সেখানে কেউ যখন বলে যে আমার একাধিক নিক তখন একটু খারাপই লাগে। খুব স্বাভাবিক, কারন যা আমি নই বা যা আমার নেই তাই আমার ওপর জোর করে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। আমি অন্ততঃ এ ধরনের দাবীতে খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবো না। অনেকেই সারাদিন "নাফিস নাফিস" করেও ক্ষান্ত হন না। ব্যাপারটা প্রথমে বেশ উপভোগ করেছি, মিথ্যে বলবো না। প্রশংসা কার না ভালো লাগে বলুন? আমারো লাগতো। ব্যাপারটা ততোক্ষণ পর্যন্ত ঠিক ছিলো যতোক্ষণ পর্যন্ত না তা মাত্রা ছাড়িয়ে যেতো। গত কয়েকদিন ধরে দেখছি অনেকেই পোস্ট দিচ্ছেন - নাফিস হ্যান করসে, ত্যান করসে, অমুক করসে, তমুক করসে, নাফিস দ্যা গ্রেট, নাফিসের সাক্ষাৎকার.........এসবের কি প্রয়োজন? আপনাদের যদি আমাকে ভালো লাগে তাহলে তা মন্তব্যের মাধ্যমে জানান বা মেইল করুন। আমি কি কোন মহাপুরুষ নাকি সাধক? লেখার ভক্তকূল থাকতে পারে, খুব স্বাভাবিক। বরং আমি মজা পাই এটা ভেবে যে আমার আর নোবেলজয়ীর আবিষ্কৃত ক্যাতার ট্রেন্ডটা ব্লগের সবারই খুব ভালো লাগে। কিন্তু তাই বলে মুরিদ হয়ে যাবেন না। এতে করে দু'টো ক্ষতি হবে। প্রথমতঃ আমি বিব্রত বোধ করবো এবং আপনারা প্রশংসা করলেও তা আমার কাঁটার মতো বিঁধবে, যারা আমাকে সত্যিই পছন্দ করেন তারা এক সময় বিরক্ত হয়ে যাবেন। দ্বিতীয়তঃ সবাই বলবে নাফিস ছাগুরামের মতো নিক ফ্যাক্টরি খুলে ব্লগে ব্যবসা খুলে বসেছে, নিজেই নিজের হিট বাড়াচ্ছে এবং আপনাদের নিককে আমার সাথে বারংবার জড়ানো হবে। এতে করে আপনারা যেমন পরিচিতি সংকটে পড়বেন, তেমনিভাবে আমিও পড়বো।

এই পোস্টটা ড্রাফট থেকে বের করে এনে প্রথম পাতায় প্রকাশ করার জন্য আমাকে অনেকবার ভাবতে হয়েছে। আমার বারবারই মনে হয়েছে এতে করে ব্লগে অনেকে হয়তো আমার প্রতি রুষ্ট হবেন। কিন্তু আমার এই পোস্টটি ব্লগের সবাইকে উদ্দেশ্য করে দেয়া নয়, বরং কিছু ব্লগারকে উদ্দেশ্য করে দেয়া - আশা করি যাদেরকে কথাগুলো বললাম তারা রাগ করবেন না। পোস্টটা অনেকটা কোন জনদরদী নেতার ভাষণের মতো হয়ে গিয়েছে, কিন্তু ঐ যে বললাম - বাধ্য হয়েছি দিতে.......

সবশেষে ক্রিকেট আর মিডিয়া দিয়ে শেষ করছি। আমাদের দেশে অনেক নতুন ক্রিকেটারের উত্থান আমরা দেখেছি। হয়তো কোন একজন খেলোয়াড় এসে তার প্রথম ম্যাচেই ১০০ করলেন বা ৫ উইকেট নিলেন। খুব স্বাভাবিকভাবেই মানুষ তার প্রশংসা করে। কিন্তু মিডিয়া শুধু প্রশংসা করেই ক্ষান্ত হয় না। তারা খেলোয়াড়কে প্রশংসার কলাগাছে চড়ান ও সেই কলাগাছের পরিচর্যা করতে থাকেন। কিন্তু যে মুহূর্তে ঐ খেলোয়াড় বাজে ফর্মে চলে যান সেই মুহূর্তে মিডিয়া গাছের তলা থেকে মইটা সরিয়ে নিয়ে প্রস্থান করেন। ফলাফল? পতন! আশা করবো নাফিসকে আপনার নাফিস থাকতে দেবেন। আর আমি আপনাদেরকে বিনোদিত রাখার চেষ্টা অব্যাহত রাখবো......
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১:১৬
৬২টি মন্তব্য ৫৯টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×