বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন বলুন আর প্রশাসনিক অঙ্গন বলুন, সর্বত্রই বিরাজ করছে এক ধরণের অস্থিরতা।
রাজনৈতিক অঙ্গনে সরকার বিরোধী আন্দোলনের ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি বিএনপি। তারা স্পষ্টতই জানিয়ে দিয়েছে, সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তারা প্রস্তুত। বিএনপি নেত্রী কিছুদিন আগে এক জনসভায় বলেছেন, তারা আওয়ামীলীগের কাছ থেকে শিখছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে আওয়ামীলীগকে কোর্টের বারান্দায় দৌড়াবেন দিন-রাত।
বিরোধীয় নেত্রীর এমন বক্তব্যে মনে হয়, আগামী সরকার তাদেরই। তারাই সরকার গঠন করবেন। সরকারের দুর্নীতির নানা খতিয়ান তিনি তুলে ধরেন জনসভায়। যা অনেকাংশেই সত্য। সেই কথায় পরে আসছি।
এদিকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রস্তুতিতে জামায়াত অনেক আগে থেকেই রাজনৈতিক ময়দানকে গরম করে রেখেছে। তারা মিছিল, মিটিং করে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের চেষ্টা করছে।
পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত সচিত্র সংবাদ থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামীলীগের নেতাদের নানা অপকর্মের কাহিনী। ছাত্রলীগ কর্তৃক ছাত্রীদের ধর্ষণ, চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী। যুবলীগ কর্তৃক টেণ্ডারবাজী, চাঁদাবাজী, হত্যা-রাহাজানী। দলীয় কর্মীদের হাতে দলীয় কর্মী হত্যার সংবাদও পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। এমন সংবাদ বর্তমান সরকারেরও জন্যও মনে হয় সুখকর নয়। তাই তো সরকারের মধ্যে চলছে এক ধরনের অস্থিরতা।
সরকারের যে পাঁচ বছর মেয়াদ তার মধ্যে মাত্র দুবছর পেরুতে না পেরুতেই সরকারে এ ধরনের অস্থিরতায় মনে হয়, বর্তমান সরকারের মধ্যে যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার, আল বদর, আল সামস বাহিনীর লোকজন প্রবেশ করছে এবং তারা কাজ করছে নিরবে-নিভৃতে। এতোদিন শোনা গিয়েছিল, ছাত্রলীগে শিবিরের ছাত্রদের অন্তর্ভুক্তির সংবাদ। যা রাজনৈতিক অঙ্গনকে করেছিল সরগরম। আবার সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার জন্য নিয়োজিত তদন্তকারী লোকও শেষ পর্যন্ত শোনা যায় জামায়াতের সাবেক ছাত্র সংগঠনের লোক।
শুনলে হাসি পায়, বর্তমান সরকার কি তাহলে ঘুমের ঘোরে বাস করছে। তারা কি তাদের আসল লোকদেরকেও আজ চিনতে পারছে না।
সরকারকে আজ দলীয় লোকদের যাচাই বাচাই করার সময় এসেছে। দলীয় লোকদের আসল পরিচিতি তাদের অবশ্যই জানা দরকার। আত্মীয়করণ আর দলীয়করণের মধ্যে যে একটা তফাৎ আছে, সেই বিচারও বর্তমান সরকারকে উপলব্ধি করা জরুরি। সরকারকে আজ জানতে হবে, কারা তাদের লোক আর কারা সুবিধাবাদী। সময়ের প্রয়োজনে যারা খোলস পাল্টিয়েছে তাদের থেকে অবশ্যই সাবধান হওয়া জরুরি।
কিছুদিন যাবত টিভি চ্যানেলগুলোর সংবাদে দেখা যায়, পুলিশের উপস্থিতে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের রাস্তার মধ্যে ফেলে সরকার দলীয় লোকজন পেটাচ্ছে। যা দেখে জনগণের মধ্যে ভয়ের সঞ্চার করে। আর মনে করিয়ে দেয়, বিগত চারদলীয় সরকারের সময়ের কথা।
তাহলে কি আমরা ধরে নেবো, যারা পেটায় তারা সব সময়ই সরকার দলীয় লোক হয়। ওরা তাদের রূপ সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে পাল্টায়। যা সরকারের জন্য সব সময় বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি করে। নাকি সরকার তাদের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতে ওইসব লোকদের পোষে তাদের নিজেদের বারোটা বাজানোর স্বার্থে।
এই বিষয়গুলো বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক সরকারই মনে হয় উপলব্ধি করতে পারেনি। আর বর্তমান সরকারও
পারছে না। সরকার কি জানে না, দুর্নীতিবাজরা আজ তাদের খোলস পরিবর্তন করে আওয়ামীলীগের লোক হলেও কাল সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে তাদের খোলসে লেপ্টে যাবে জাতীয়তাবাদী লেবাস।
যারা দুর্নীতিবাজ, যারা রাস্তার মধ্যে ফেলে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের পেটায় তারা কখনই কোন রাজনৈতিক দলের কর্মী হতে পারে না। তারা চিরদিনই দুর্নীতিবাজ, তারা পিটুয়াবাহিনী। তারা কেবলই খোজে নিজেদের আখের গোছানো সুযোগ।
বর্তমান সরকার যত দ্রুত এই বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারবে ততই দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গল।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মে, ২০১০ বিকাল ৫:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



