তুমি অপমানে ভরা গ্লানিকর সব
অট্টালিকার আড়ালে
হা হুতাশ করা কুলি মজুরের
দিবা রাত্রির চোখে মুখে এই অতৃপ্তি
আর স্নেহ-খুধা ভাঙ্গা কান্ডারী।
নাকি পিঞ্জরে বাধা কলংকিনীর
নিদহীন চোখে কষ্টগুলোর
একাগ্র কোনো দয়াময় স্রোতা।
তুমি চৈতি হাওয়ায় মৌমাছিদের
গুনগুন করে ভেসে আসা সব
বাতায়নে বসে শব্দগুলোর
সঞ্চিতায় এক নতুন প্রয়োগ।
নাকি উদাসীর বুকে দুষ্ট হাওয়ার
হুঁহুঁ করে চলা, যৌবন ব্যথা
আক্রোশ আর আর্তনাদের
সুষম বিয়োগ।
তুমি সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী
দানব দেবতা, হুর পরীদের
অতৃপ্ত মনবাসনা।
ইহজগতের পংকজ তুলে
গেঁথে দাও যত বাগান বিলাস
বড় বড় সব অট্টালিকার
টবে টবে কর উত্থান, ওরা
করে মানুষের উপাসনা।
তুমি দারিদ্র্য আর রোগ তাপ শোকে
ক্ষুধার্ত এক পথিকের মুখে
খাদ্য-পনীর ভান্ডার।
আর হাতে নিয়ে যত ঋষি-দরবেশ
মনুষ্যত্বের ফুঁড়ে উঠা কোনো
নব ধর্মের কলা কারবার।
তুমি হিমালয় হতে বহে আসা
এক শীতল পরশ
জ্বালাময়ী কোনো গ্রীষ্মের বুকে
পিঠে চড়ে ঐ ধারালো বোরাক।
আবার মুমূর্ষূ কোনো
কিশোরের পাশে ছল করে বসে
বাঁচবার যত অভিপ্রায়ের
দামাল খোরাক।
তুমি যত পাপাচার, অবিচার আর
অত্যাচারের গুপ্ত ঘাতক।
অনন্তকাল বিস্মিত হবে
আমার মতন তোমার যত
নবীন পাঠক ।।
( আমার প্রিয় কবি কাজী নজরুলের জন্মবার্ষিকীতে নজরুলকে উৎস্বর্গকৃত )
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মে, ২০০৯ রাত ৩:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

