প্রতীক্ষিত প্রকৃতির টানে
ছুটে গেলাম দূরদেশে অচেনা কোন নীড়ে
শুধু তুমি পাশে ছিলে না
শত মুখ-মানুষের ভীড়ে।
তুমি পাশে ছিলে না কলকাতায় -
বিদ্যুতের ট্রামে বসে
হলুদ আলোয় মাখা শহরের সৌন্দর্যে দিশেহারা আমি
পাশে শুধু পরে ছিল মায়ামাখা শুন্য আসন।
ছিলে নাকো তুমি।
তুমি পাশে ছিলে না
যখন দূর থেকে দূরান্তে ছুটে গেল ট্রেন
বিহার,লকনৌ কিংবা উড়িষ্যার অপরুপ মায়ার চাদর -
ঘিরে একা একা বসে ছিলাম আমি
শুন্য হৃদয় নিয়ে চোখদুটো খুজেছিল কাকে
জানে মোর অন্তর্যামী।
স্বপ্নের রানী হয়ে তুমি পাশে ছিলে না
যখন মহাপ্রেমিক সম্রাট পেয়েছিল তাজ।
তাই আগ্রার জমকালো মহলের দিকে
প্রানভরে দেখবার অভিপ্রায় জাগে নাই মনে -
ঐ আশ্চর্যের যত কারুকাজ।
কতজন ছিল সাথে বন্ধু স্বজন
তবু যেন উন্মন মন, তোমাকেই ভেবে ভেবে
কেটেছিল সাজ, কেটেছিল সন্ধ্যা-সারাখন।
ফোর্টের লাল ইটে ঘেরা যে আসন আমি দেখেছিলাম
তারই চারিপাশে -
কতজন এল গেল,নর্তকী নাচে
আমিও সে আসনে বসে বিষন্ন মনে
হয়তো রাজার বেশে রাজরানীবিনে
নিশ্চুপ নিস্তব্ধ এক প্রান,
তুমি পাশে ছিলে না, বাজে নাই হৃদয়ের গান।
অসহনীয় রৌদ্রের তাপে পুরে গেল অধর
জলের তেষ্টায় বুক ফেটে চৌচির,
সবকিছু মিটে গেল যখন ফিরি রেস্তোরা নীড়ে
তবু তোমাকে কাছে পাবার ছিল যে তৃষ্ণা,
তোমার লাবন্যে পুরে গেল যে প্রাণ,
সে পাওনা রয়েই গেল তোমারই কাছে
তা তো কভু আসেনাই ফিরে।
পাহাড়ের ঢাল বেয়ে সিমলায় উঠেছিল চাঁদ
আশেপাশে কত গিড়ি খাঁদ, অন্ধকার রাতে
হাত রেখে তোমারই হাতে
আর, কোলে মাথা রেখে তুমি
দাও নাই ও চাঁদে তাকাতে।
তুমি ওগো ছিলে না যে পাশে।
চোখ মোর উঠেছিল মানালীর কত উচুদেশে
বরফের রাস্তায় কত আলপনা,
হিমালয়ের আচল ঘিরে কাটিয়েছি প্রহর
তবু উষ্ণ হৃদয়মাঝে বহে নাই হিমেল বহর,
তবু তুমি পাশে ছিলেনা গো নদী
যন্ত্রনায় পুরে গেছি আমি নিরবধি।
এমনি কোনো কাল যদি আসে
এ জীবন মাঝে, হোক যত লীলা,
তোমার ছোয়া পেতে ইচ্ছে করে
তোমাকে ভালবাসতে ইচ্ছে করে
তোমাকে কাছে পেতে ইচ্ছে করে
হে আমার হৈমন্দ্রিলা।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

