somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

(একটি রিপোস্ট) ভ্রমণং গমনং ১ সুন্দরবনের সুন্দরী আর আমার সমুদ্দুর দেখা...

২২ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাস মেলা উপলক্ষে সুন্দরবন গিয়েছিলম। দুবলার চরে। এটাই আমার প্রথম সুন্দরবন ট্যুর। ঢাকা থেকে সোহাগ পরিবহনে খুলনা। খুলনা থেকে লঞ্চে করে গিয়েছি সুন্দরবনে। মাঝখানে লঞ্চ থেকে নেমেছি কটকায়। বনের ভেতরে ঢুকেছিলাম। সুন্দরবনের অপরূপ সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়েছিলাম। এই ছবিটা লঞ্চে ওঠার পর। তখন সকাল। ছাদে দাঁড়িয়ে রুপসা নদী দেখছিলাম।

লঞ্চ ছেড়েছিল সকাল দশটায়। বন্ধুবর গোলাম রাব্বানী রূপসা নদীর জল ঘোলা কেন সেইটা নিয়া গবেষণা করতাছে।

আমাদের সঙ্গে ছিল স্বস্ত্রীক অভিনেতা স্বাধীন খসরু ভাই। এই কিউট পিচ্চিটা স্বাধীন ভাইয়ের একমাত্র কন্যা। পিচ্চিটা সবসময় আমাদের সঙ্গেই ছিল। ওর নাম প্রার্থনা।

লঞ্চের ছাদে আরাম কইরা বইসা প্রকৃতি দেখতেছিলাম। আহা কী সুন্দর আমাদের এই দেশ। কত কিছু যে অদেখা রয়ে গেল।


আমরা যাচ্ছি মংলার উপর দিয়া। নদীর তীরে অনেক কলকারখানা। ছবির এইগুলা নাকি সিমেন্ট ফ্যাক্টরী। লঞ্চের এক পোলায় কইলো।

লঞ্চের পেছনে একটা ইঞ্জিন নৌকা বাঁধা। এটা সঙ্গে নেওয়ার কারণ এটা দিয়ে মাঝ নদী থেকে আমরা তীরে যাবো। লঞ্চতো আর তীরে ভেড়াতে পারবে না তাই।

পিচ্চিটাকে একলা ছেড়ে দিয়ে ছবি তুলতেছিলাম। পিচ্চির মায়ে চিল্লায়ে কয় ‘আমার কিন্তু দশটা না পাঁচটা না একটা মাইয়া। সাবধানে রাইখেন।’ মা বইল্যা কথা।

সুন্দরবনে প্রবেশ করার আগে ফরেস্ট অফিস থেকে অনুমতি নিতে হয়। নৌকায় কইরা ওনারা অনুমতি নিতে যাইতাছে। লঞ্চ নোঙর কইরা রাখছে।

যতদুর চোখ যায় বন আর বন। সুন্দর বন যে এত বড় আর এত সুন্দর দেইখ্যা প্রাণডা ভইরা গেল।


লঞ্চ থেকে তোলা সুন্দরবনের ছবি।

একটা জাহাজ নোঙর কইরা রাখছে। আমরা পাশ দিয়া চইল্যা গেলাম।

জাহাজের ছটিটা একটু আর্টিস্টিকভাবে তুললাম আর কি!

স্বাধীন ভাই আর রাব্বানী। দুই জনের বাড়ী বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে বইল্যা দুই জনের মধ্যে ভাব একটু বেশি।

লুঙ্গি কবি। ওর যুক্তি লুঙ্গি পইড়া নাকি অনেক আরাম। হুম আমাগো বাপ দাদারা তো তাই পড়তো। আমরা না শর্টস কালচার পাইছি।

নৌকায় উইঠ্যা শুটিং করতাছে। চ্যানেল আইয়ের ‘বাংলালিংক বাংলার পথে’র শুটিং ইউনিট। এই টিংকু ভাইয়ের আমন্ত্রণেই আমি আর রাব্বানী সুন্দরবনে গেছিলাম। আমাদের সঙ্গে টিংকু ভাবীও ছিল।

ইনি নববধূ। মাস কয়েক হইলো এনার বিবাহ হইয়াছে। আমাদের সফরসঙ্গী। আমার দৃষ্টিতে আমাদের লঞ্চের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে। তার একটা ছবি দিয়া দিলাম।


এই ছবিগুলো সুর্যাস্ত এবং সূর্যোদয়ের। অসাধারণ দৃশ্য। চিরদিন মনে থাকবে।

একটি ভাতঘুমের ছবি।

খুব ভোড়ে আমরা নৌকা করে সুন্দর বনের ভেতরে প্রবেশ করার জন্য যাচ্ছি। এক দল রওয়ানা দিছে। আমরা যাচ্ছি জামতলা বলে একটা এলাকায়। কটকার পাশেই।

পরের দলে আমি এবং অন্যরা।

নৌকা থেকে আমাদের লঞ্চটা দেখা যাইতাছে। আমরা এইডারে শিপ কইয়া ডাকছি।

সকালের সুন্দর বন।

নৌকা থেকে দেখা সুন্দরবনের গোল পাতা। আমরা এর ফলও খেয়েছিলাম।

এই পথে খাল থেকে আমরা সুন্দরবনের মাটিতে পা রাখি। অন্যরকম একটা শিহরণ হইছিল প্রথম পা রাখার সময়। বাঘের ভয়তো ছিলই। এইটার নাম হলো জামতলা।


আমরা লাইন ধইরা যাইতাছিলাম।

সুন্দরবনে যারা যায় সবাই বাঘ না দেখে বাঘের পায়ের ছাপ দেখে আসে। আমরাও এর ব্যতিক্রম নই। বাঘ দেখি নাই বাঘের পায়ের ছাপ দেখে এসেছি। আমাদের গাইডের কথামতো এটা নাকি বাঘের পায়ের ছাপ। সত্য মিথ্যা জানি না।

জামতলা টাওয়ার থেকে দেখা সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা।

ছবি তোলায় ব্যস্ত কয়েকজন।

সুন্দর বন।


আমরা যাচ্ছি বাদামতলা সৈকতে। বনের গভীরে প্রবেশ করার আগে।

গভীর বনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি।

হাতে লাঠি নেওয়ার কারণ বাঘ ঠেকানো আর কি...!!!



দুই বছর পার হলেও সিডরের ক্ষত এখনো শুকায়নি।

বাদামতলা সৈকত। এই সৈকতেই এগার জন ছাত্র গোসল করতে নেমে একসঙ্গে সাগরে ভেসে গিয়েছিল।

সাগর তীরের ক্ষত বিক্ষত সুন্দর বন।

সাগরের গর্জন আর ঢেউ...

সাগরের সৈকতে আমরা সবাই...

কেউ কেউ সাগরে নামছে...

আমাদের ভ্রমণসঙ্গী এই ছেলেটা ছিল অনেক মজার। নিজেই নিজের নাম দিয়েছে সে পাথর বাবা।

নির্জন সৈকত। কোথাও কেউ নেই।

একটা গাছের গুড়ির ওপরে আমি নিজে।

আমরা সৈকত থেকে ফিরছি।

সুন্দরবনের ছন। এই ছন বনেই বাঘ থাকে বেশি।

বনের দৃশ্য।

এটার নাম টাইগার ফার্ন।

আমরা জামতলা থেকে ফিরছি।

এইটা দুবলার চরে। একটু গাছের শেকড় পরে আছে সৈকতে।

দুবলার চরের শুটকি পল্লী।

দুবলার চরের সুর্যাস্ত।

(এরপর আমার ক্যামেরার ব্যাটারীর চার্জ ফুরিয়ে যায়। ফলে আর কোনও ছবি তুলতে পারিনি। মূল উদ্দেশ্য রাস মেলার ছবি তুলতে পারিনি। সবাই ভালো থাকবেন।)
১২টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×