
প্রবাসে বসে গত ৭ বছরে ঠিক কতদিন চাদ দেখেছি টা বোধকরি হাতে গুনে বলা যাবে ... তবে যতবারই দেখেছি ততবার্ই খুব অল্প সময়ের জন্য দেখা হয়েছে.... কারন প্রতিবার ই গাড়ি ড্রাইভের সময় চোখের কোনে দেখতে পেয়েছি ... আর সাথে সাথে মনের কোনে ভেসে উঠেছে বাংলাদেশের কোন গ্রামের মাঠে দাড়িয়ে অথবা ঢাকার বাড়ীর ছাদে অন্ধকার রাতে জোছনার আলোতে সিক্ত হওয়ার মধুর স্মৃতি.... চলন্ত গাড়ী থামিয়ে জোসনা দেখার মত সময় হাতে নেই, আর গন্তব্যে পৌছানোর পরে চারিদিকের চোখ ঝলসানো আলোতে প্রতিবারই জোসনার আলোর কথা বেমালুম ভুলে গিয়েছি .....
আজ হঠাৎ করে এক বন্ধু অফলাইন মেসেজ দিলো --- আজ যাই হোক না কেন, চাদ দেখতে ভুলবিনা কিন্তু ...
আরেকজন লিখেছে --- দেখিস তো, আজকের চাদটাকে কেমন দেখা যায় ?
আমার এক প্রকৃতিপ্রেমী বন্ধু তো আরো রোমান্টিক হয়ে উঠেছিল আজকে .... সে মেসেজ দিলো .....আমরা তো অনেক দূরে আছি... তবুও, চল না আজকে চাদের আলোয় মনের দেশে হাত ধরাধরি করে সবুজ ঘাসে এট্টু হাটি ............
মেসেজগুলো পড়ে তখন্ই ঠিক করে রেখেছিলাম আজকে চাদ দেখবো ...... কিন্তু যে লাউ সেই কদু টাইপ অবস্থা আমার.... সময়মত ঠিকই ভুলে গেছি চাদ দেখতে ....
এখন রাত বাজে ২টা .... কিছুক্ষন আগে হঠাৎ মনে পড়লো.... তাইতো আজকে না চাদ দেখার কথা ছিলো ...... তক্ষুনি তাকালাম ডানদিকের জানালা দিয়ে আকাশ পানে .... নাহ , কিছুই টো দেখিনা ...... এবার পাশের রুমে গিয়ে দেখলাম.... একই অবস্থা..... ড্রইংরুমের একপাশে পুরোটাই কাচ দিয়ে ঘেরা..... সেখান থেকেও কিছু দেখতে পেলাম না ..... পরে মনে হলো..... চারপাশের বড় বড় বিল্ডিং গুলোর জন্য মনে হয় চাদ দেখতে পাচ্ছিনা ..... বাইরে গিয়ে দেখে আসি ..... ৮° সে: এর মধ্যে সাত পাচ না ভেবেই একটা টি সার্ট আর ট্রাউজার পরে রাস্তায় বের হলাম চাদ দেখতে ....
দরজা বন্ধ করে আকাশপানে তাকিয়ে চাদের সন্ধানে বের হতেই দেখি আমার পাশে পুলিশ ১ মামু আর ১ মামানী হাজির..... জিগ্গেস করলো -- আকাশের দিকে তাকিয়ে হাটছি কেন .... বললাম ঘরের ভিতরে চাদ খুজে পাচ্ছিলাম না .... তাই বাইরে এসে খুজছি ....
এই কথা শুনে মামানী কেমন করে যেন তাকালো আমার দিকে .... বললো কোন বাসায় থাকো..... দেখিয়ে দিলাম আংগুল দিয়ে --- ঐ খানে...... পরে বললো -- নিজে নিজে যেতে পারবা নাকি দিয়ে আসতে হবে? ..... বললাম -- আমি যেতে পারবো, ধন্যবাদ.... পরে বললো --- তাহলে এক্ষুনি বাসায় যাও ....... আমি বললাম -- এখনো চাদ দেখলাম না তো ...... আমার কথা শুনে মামার মনে কি চিন্তা আসলো.... পকেট থেকে একটা কিম্ভুতকিমাকার বস্তু বের করে বললো --- এতে মুখ লাগিয়ে ফু দাও..... দিলাম ফু ....... আবার বললো --- আরো জোরে ..... দিলাম আরো জোরে ফু ..... এবার বললো বুক ভরে নি:শ্বাস নিয়ে জোরসে দাও ..... মেজাজটা গেল বিগড়ে..... জানের মায়া ত্যাগ করে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে ফু দিয়ে বললাম ..... আমি তো ড্রিংক করিনা .... তৎখনাত উত্তর পেলাম -- তাহলে রাতের বেলা আকাশের দিকে তাকিয়ে হাটছো কেন? ..... বললাম আজকে নাকি পুর্নিমা
শেষমেষ কোনভাবেই তাদেরকে বুঝাতে না পেরে চাদ না দেখেই অগত্যা বাসায় ফেরত আসতে হলো ...... মেজাজটা চরম খারাপ হয়ে গেল ...... দিলাম ঘরের সব লাইট বন্ধ করে .... জ্বলে থাকল শুধু পিসি মনিটরটা ...... একটু পরেই খেয়াল হলো আরে আমার ঘরে দেখি হালকা আলোটা একরকম পূনিমার আলোর মতই লাগছে ......
এত কিছুর পরে ও পূর্নিমার আলোতে স্নান করা হলো না ..... বরং দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাবার মতো মনিটরের আলোর মাঝে আজকে পূর্নিমাকে খোজ করছি .....
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মে, ২০০৯ দুপুর ১২:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



